ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার বাসে চড়ে ভোট দিতে গন্তব্যে যাওয়া মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। যাত্রীরা জানান, সাধারণত ঈদের সময় ব্যতীত এমন ভিড় মহাসড়কে দেখা যায় না।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাকিজা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, ষাটোর্ধ্ব সুলতান মিয়া তার দুই মেয়েকে নিয়ে দিনাজপুরের উদ্দেশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।
আলাপকালে তিনি জানান, তার মেয়েরা সাভারে পোশাক কারখানায় কর্মরত। ভোট দিতে তারা ঘোড়াঘাট উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। এ উপলক্ষে গতকাল (সোমবার) গ্রাম থেকে তিনি মেয়েদের নিতে এসেছিলেন। দুই ঘণ্টা ধরে তারা বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন, কিন্তু ব্যাগ-ব্যাগেজ একটু বেশি হওয়ায় কোনো বাস তাদের নিতে চাচ্ছে না। এই বৃদ্ধের অভিযোগ, বাস কর্তৃপক্ষ জনপ্রতি দুই শত টাকা বাড়তি ভাড়া চাচ্ছে।
একই স্থানে কথা হয় আরেক যুবক তানজিল ও তার স্ত্রী কুলসুম আকতারের সঙ্গে। তারা দুজনেই সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন একটি ডায়িং কারখানায় কর্মরত। তানজিল জানান, তারা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাসিন্দা। ভোট দিতে তারা গ্রামে যাচ্ছেন, কিন্তু বাস সংকটের কারণে এক ঘণ্টার বেশি তারা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন।
রংপুরগামী একটি বাসচালক আয়নাল হক জানান, দূরপাল্লার বাস মালিক ও চালকরা নির্বাচন উপলক্ষে এত ভিড় হবে তা আগে থেকে বুঝতে পারেননি।
সাভার বাসস্ট্যান্ডের হানিফ কাউন্টারের মালিক রমিজ উদ্দিন জানান, সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনই যাত্রীদের বেশ চাপ ছিল। সাভার বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর, বাইপাইল, ডিইপিজেড, শ্রীপুর, জিরানিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় থেমে থেমে চলছে যানবাহন।
স্থানীয়রা জানান, সাভারে প্রায় ১৫টি বাসস্ট্যান্ডে মঙ্গলবার সকাল থেকে এ দৃশ্য দেখা গেছে।
ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল জানান, সড়কে সোমবার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত যানবাহনের অত্যন্ত চাপ ছিল, যা সাধারণত রোজার ঈদ বা কুরবানির ঈদে দেখা যায়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মহাসড়কে যানবাহন সুন্দরভাবে চলাচলের জন্য কাজ করছেন বলে জানান তিনি।