সারাদেশ
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় গোপালগঞ্জের জনজীবন স্থবির
বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) গোপালগঞ্জ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৬টায় জেলার তাপমাত্রা ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা ও টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে কোটালীপাড়া উপজেলায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
গোপালগঞ্জে গত পাঁচ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে দিনমজুররা কাজে বের হতে পারছেন না। কৃষকেরা দেরিতে মাঠে যাচ্ছেন। যে কারণে নিচু জলাভূমি অধ্যুষিত কোটালীপাড়ার একফসলি জমিতে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আবু সুফিয়ান জানান, আজ সকাল ৬টায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
দুপুরের পর শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও অতিরিক্ত ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। তীব্র শীতে কাজে না যেতে পেরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শীতে কষ্টে রয়েছে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশু-পাখি। পাশাপাশি ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছেন শিশু ও বয়স্করা।
৬৫ দিন আগে
বেনাপোল বন্দরে আজ আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। তবে দুদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, সারা দেশে আজ সাধারণ ছুটি থাকায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে সকাল থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে যথারীতি এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, সাধারণ ছুটিতে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।
৬৫ দিন আগে
খালেদা জিয়া চলে গেলেন, রয়ে গেল তার রোপিত নিমগাছটি
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর ইহলোকে নেই। আজ বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবন ও রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তিনি না থাকলেও তার রোপণ করা নিমগাছটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফেনীর ফুলগাজীর পৈত্রিক বাড়ির দরজায়।
২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তার পৈত্রিক বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে এলে বাড়ির দরজার সামনে দক্ষিণ শ্রীপুর দিঘির পাড়ে নিজ হাতে একটি নিমগাছ রোপণ করেন। পরিচর্যায় গাছটি বড় হলে গোড়া পাকা করে খালেদা জিয়ার নামটি খোদাই করে লিখে দেওয়া হয়। সেই গাছটি এখন কেবলই স্মৃতি।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে শোকাহত ফেনীবাসী।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেককে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায়। খালেদা জিয়ার পৈত্রিক ভিটায়ও চলছে শোকের মাতম। এ সময় সবাই খালেদা জিয়ার হাতে লাগানো নিমগাছটির সঙ্গে ছবি তোলেন। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়া না থাকলেও তার হাতে লাগানো নিমগাছটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে মজুমদার বাড়িতে।
এই বাড়িতে খালেদা জিয়ার অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। ঘরের ভেতরে বসার চেয়ার, বিশ্রাম নেওয়ার ছোট্ট খাট, খাবারের টেবিল—সবকিছুতেই লেগে আছে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর হাতের ছোঁয়া।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্র জানায়, ২০০৮ সালেও ফেনীর ফুলগাজীতে বাবার বাড়িতে এসে দাদা সালামত আলী মজুমদারের কবর জিয়ারত করে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর খবরে আজ সেই বাড়িতেই নেমে এসেছে রাজ্যের নীরবতা। শোকে মুহ্যমান বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।
বেগম জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম হোসেন মজুমদার বলেন, ‘বাড়িতে এলে তিনি বড়দের যেমন শ্রদ্ধা করতেন, তেমনি ছোটদের অনেক আদর করতেন। তাকে হারিয়ে দেশ-জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সে ক্ষতি কখনো পোষাবে না।’
৬৫ দিন আগে
সিলেটে তাপমাত্রা নেমেছে ১২ ডিগ্রিতে
সিলেটে শীত আরও বেড়েছে। কমেছে তাপমাত্রা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সিলেটের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রিতে নেমে গেছে।
শীতের সঙ্গে দেখা দিয়েছে ঘন কুয়াশা। আজ (বুধবার) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে কনকনে ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের উপ-সহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানান, সিলেটে আজ সকালে তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
৬৫ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ, ৮ ডিগ্রিতে নেমেছে তাপমাত্রা
মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে হঠাৎ করেই তীব্র শীতের কবলে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিরও বেশি কমে গিয়ে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আরও দু-একদিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রায় হঠাৎ করেই বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
আজ ভোর থেকে ঘন কুয়াশা ও হিমশীতল বাতাসে সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা ছিল। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে ঠান্ডা উপেক্ষা করে কাজে বের হতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের। রাস্তায় বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে খড়কুটা, কাঠ ও পুরনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অনেককে।
ভ্রাম্যমাণ মুরগি বিক্রেতা ইয়ারুল আলি বলেন, ভোরে শহরে বের হই, কিন্তু তীব্র শীতে মানুষ কম বের হওয়ায় মুরগির বিক্রি কমে গেছে।
দিনমজুর ও ভ্যানচালকেরা জানান, ঠান্ডায় কাজ করতে কষ্ট হলেও উপার্জনের জন্য বাইরে বের হতে হচ্ছে। সকালে যাত্রী ও কাজের চাপ কম থাকায় উপার্জনও কমে গেছে।
অন্যদিকে, শীতের প্রভাব পড়েছে জেলার জনস্বাস্থ্যেও। সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডাজনিত জ্বর ও নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি আরও দু-একদিন থাকতে পারে। এ সময় রাত ও ভোরে শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৬৫ দিন আগে
পাঁচ মিনিটের বিলম্বে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারলেন না পিরোজপুরের ২ প্রার্থী
নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট পরে পৌঁছানোয় পিরোজপুরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি পিরোজপুর-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাসুম বিল্লাহ এবং পিরোজপুর- ২ আসনের গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী আনিসুর রহমান মুন্না।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সময়মত উপস্থিত না হতে পারায় এ ঘটনা ঘটে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে না পারায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি পিরোজপুর-১ (সদর, ইন্দুরকানী, নাজিরপুর) আসনের ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাসুম বিল্লাহ এবং পিরোজপুর- ২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনের গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী আনিসুর রহমান মুন্না।
মনোনয়নপত্র জমা না দিতে পারার বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের আনিসুর রহমান মুন্না বলেন, আসার পথে আমার গাড়িটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে সঠিক সময় আসতে পারিনি। আমি বিকেল পাঁচটার এক থেকে দুই মিনিট পরে এসেছি তবে মাত্র এক থেকে দুই মিনিট পরে আসার পরও আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমি আদালতের কাছে জানতে চাইব, মাত্র দুই মিনিটের জন্য কেন আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি?
তবে এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বা দলটির কোনো দায়িত্বশীল নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, আমাদের নির্বাচনি আইন হলো, বিকেল ৫টার মধ্যে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থী উপস্থিত হওয়া। যারা জমা দিতে পারেননি, তারা কেউই ৫টার মধ্যে আসেন নাই, এসেছেন ৫টা ১৫ বা ২০-এর পরে। এ সময়ে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার কোনো বিধান নাই।
এ বিষয় পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, বিকেল ৫টার মধ্যে জেলা রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকার কারণে উল্লিখিত দুজনের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
৬৬ দিন আগে
সুনামগঞ্জের শতবর্ষী হিজল বাগান দখলদারদের ইউএনওর হুঁশিয়ারি
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের রংচী গ্রামের শতবর্ষী হিজল বাগান দখল ও ধ্বংসের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায়।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলা উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সিদ্দিকীসহ গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে রংচী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হিজল বাগান পরিদর্শন করেন ইউএনও।
অভিযানকালে বাগানের ভেতরে অবৈধভাবে মাটি অপসারণ, গাছ কাটার চিহ্ন ও কৃষিকাজের প্রস্তুতির আলামত দেখতে পান তিনি। তারপর বনের ভেতরে জায়গা নির্ধারণ করে চাষাবাদের জন্য সমতল করা জমিতে চলমান কাজ বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্টদের কড়া ভাষায় সতর্ক করেন তিনি।
একইসঙ্গে বাগানের ভেতরে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কৃষিকাজ বা গাছ কাটার ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
ইউএনও বলেন, রংচী গ্রামের শতবর্ষী হিজল বাগান শুধু একটি বন নয়; এটি এই এলাকার প্রাকৃতিক ঢাল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে অবৈধভাবে গাছ কাটা, মাটি তোলা কিংবা চাষাবাদ করার কোনো সুযোগ নেই। যারা এই বাগান দখলের চেষ্টা করবে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উজ্জ্বল রায় আরও জানান, হিজল বাগানটি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে বাগানটি ঘিরে সীমানা চিহ্নিতকরণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নতুন হিজল চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় স্থানীয়রা ইউএনওর এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের দ্রত পদক্ষেপ না এলে ঐতিহ্যবাহী হিজল বাগানটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেত। বাগানটি সংরক্ষণে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।
৬৬ দিন আগে
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত
নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাকচাপায় একটি কাভার্ডভ্যানের চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে বড়াইগ্রাম উপজেলার মানিকপুর এলাকার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নাটোরের নলডাঙ্গার সোহাগ হোসেন (৩০) ও টাঙ্গাইলের নাগরপুরের বিপ্লব হোসেন (৩২)।
পুলিশ জানায়, ভোরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ঢাকা থেকে নাটোরগামী একটি কাভার্ডভ্যান পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে কাভার্ডভ্যানের চালক সোহাগ হোসেন (৩০) ও তাকওয়া ফুড কোম্পানির এসআর বিপ্লব হোসেন (৩২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে।
৬৬ দিন আগে
সাত দিন সূর্যের দেখা নেই, লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে শীত
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় শীত জেঁকে বসেছে। গত ৭ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে তিস্তা পাড়ের হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। শীতের দাপটে প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলের মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও আজ সূর্যের দেখা মেলেনি।
রাজারহাট আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, সামনে শীতের প্রকোপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ঠান্ডা ও কুয়াশার মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
৬৬ দিন আগে
শেবাচিমে চিকিৎসকের অবহেলায় বীর প্রতীকের মৃত্যুর অভিযোগ
বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট রত্তন আলী শরিফ বীর প্রতীকের (৮২) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে হাসপাতালের পঞ্চম তলার ৫০০৩ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগ থেকে কয়েকবার কর্তব্যরত চিকিৎসককে ডাকতে গেলেও চিকিৎসকরা কেবিনে গিয়ে চিকিৎসা দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের।
শনিবার বিকেলে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। রত্তন আলী বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।
তার মেয়ে তানজিলা আক্তার ইমু বলেন, গত কয়েক দিন ধরে আমার বাবার ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শনিবার বিকেলে বাবাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করি। ভর্তির পর কেবিনে এসে একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যান। পরের দিন, অর্থাৎ গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একজন চিকিৎসক দেখে যান। এরপর গতকাল দুপুরে আমার বাবার অক্সিজেন লেভেল কমে যায়। ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ায় তিনি অচেতন হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে আমি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ডাকতে গেলে চিকিৎসক কেবিনে না এসে বাবাকে ওয়ার্ডে, নয়তো প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলেন।
তিনি বলেন, তারপর বাবার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তখনও চিকিৎসককে ডাকতে গেলে সেবারও তিনি আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। আমার বোন এক জ্যেষ্ঠ সচিবকে ফোনে ধরিয়ে দিলে তারপর কেবিনে আসেন চিকিৎসক। ততক্ষণে আমার বাবা মারা গেছেন।
রত্তন আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করেও বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন। সরকারের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে, এ ঘটনার পরপরই শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মাহাবুবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, এ রোগীকে আমার তত্ত্বাবধানে কেবিনে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসা অবহেলার বিষয়টি আমি নিশ্চিত নই। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত করে বলা যাবে।
৬৭ দিন আগে