সারাদেশ
রুপগঞ্জে স্টিল মিলে ভাট্টি বিস্ফোরণে ৩ শ্রমিক দগ্ধ
রূপগঞ্জে বিক্রমপুর স্টিল লিমিটেডের লোহা গলানোর ভাট্টি বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার(২৫ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন- বেল্লাল (৩৫), রোমান (৩০) ও রাব্বানী (৩৫)।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিস্ফোরণে দগ্ধ অবস্থায় তিনজনকে ভোরের দিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে বিল্লাল হোসেনের শরীরের ২০ শতাংশ, রোমানের শরীরের ৩৬ শতাংশ ও রাব্বানী শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা বিক্রমপুর স্টিল লিমিটেডের আরিফ খান জানান, সকালে লোহা গলানোর ভাট্টি লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের তিন শ্রমিক দগ্ধ হয়। বর্তমানে তারা তিনজন জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
২২৪ দিন আগে
নাঙ্গলকোটে গরুর ঘাস খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৪, আহত ১০
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গরু ছুটে গিয়ে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে গ্ৰামবাসীর দুপক্ষের সংঘর্ষে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধরা হলেন- রোকন আলীর স্ত্রী শরিফা বেগম (৬০), জাকির হোসেনের ছেলে ওসমান (১৬), জাকির হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫০), বশির আহম্মেদের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৫৫)। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত ডা. শিমা মজুমদার জানান, দুপুর ২টার পর তিন নারী ও এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীসহ পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
২২৪ দিন আগে
রংপুরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে মব-নাশকতার চেষ্টা ছাত্রলীগের
রংপুরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অনুপ্রবেশ করে মব সৃষ্টি ও অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে— এমন তথ্য রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে। এনএসআইয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, কিছুদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রবেশ করছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে মব সৃষ্টিসহ নানা অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় রংপুরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সামনের সারিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকটি গ্রুপ রংপুরে এসে আন্দোলনের ভেতরে ঢুকে নাশকতা তৈরির চেষ্টা করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীরা চিহ্নিত। তাদেরকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
অন্যদিকে তদন্ত সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে, এসব অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদে থাকা ছাত্রলীগ থেকে আসা কয়েকজন নেতা।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ট্র্যাজেডি ইস্যুতে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রংপুর মহানগরীতে আন্দোলন ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মহানগরীর কাচারি বাজারের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ভিতরে একজন কাফনের কাপড় পড়ে দাঁড়িয়ে যান। তাতে একহাতে উঁচিয়ে লেখা ছিল লাল প্লাকার্ডে বিচার। অপর হাতে নিচু করে তাতে দাড়িপাল্লার একপাশে একটি কফিন আরেক পাশে টাকা ও পিস্তল। এনিয়ে তোলপাড় তৈরি হয় পুরো নগরীতে।
পড়ুন: নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে বিএনপি নেতাকে গাছের সঙ্গে বাঁধল গ্রামবাসী
ওই ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করে একটি পোস্ট দেন রংপুর মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি। ওই পোস্টে ইমতি লেখেন ‘একটু আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা এভাবেই দাঁড়িয়েছিল রংপুর ডিসি অফিসের সামনে, এতো নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালানোর পরও যাদের মাঝে বিন্দু পরিমাণ অনুশোচনা বোধটুকু নেই। তারা আসছে বিচারের নামে প্রোপাগান্ডা চালাতে। ১০ মিনিট দাঁড়ায় থাকার হ্যাডাম হলো না?’
ইমতি লেখেন, ‘২৪ বিপ্লবে শহীদ হওয়া আমার ভাইবোনদের রক্তের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করে বলছি, রংপুরের মাটিতে এভাবে আর কখনো ফ্যাসিস্ট কোনো শক্তি দাঁড়ানোর সাহস দেখালে পুলিশ প্রশাসনকে লাগবে না, আমি লড়বো তাদের বিপক্ষে, ইনশাআল্লাহ। বিশ্বাস রাখি, রংপুরের বিপ্লবী ছাত্র-জনতা পাশে থাকবে এবং তাদের সমূলে প্রতিহত করবে।’
পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘সেখানে যিনি দাঁড়িয়েছিলেন তার নাম মোহাম্মদ তানভীর হোসেন রিদম। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করছেন চলতি বছরে। তার বাসা নগরীর সেনপাড়া এলাকায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কী পদবি—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।’
এদিকে শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগের দাবিতে গত মঙ্গলবার (২২ জুলাই) নগরীর কাচারি বাজার এলাকায় শিক্ষা অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান ও বক্তব্য দেয়।
এ প্রতিবাদ কর্মসূচির সামনের সারিতে দেখা যায় পীরগাছার অন্নদাগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বিজয়কে। আন্দোলনকারীরা জানায়, ‘এ সময় আতাউর শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করতে একাধিকবার উসকানিমূলক স্লোগান দেয় এবং শিক্ষা অফিসে মব তৈরির চেষ্টা করেন। এছাড়া এ কর্মসূচিতে থাকা অনেককেই অচেনা বলে জানান আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীরা।
পড়ুন: ভারতে প্রবেশের সময় ৭ মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা আতাউর রহমান বিজয়ের ছবি এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ জুলাই যোদ্ধারা। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ছবি পোস্ট করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
এ বিষয়েও ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি। ওই পোস্টে ইমতি লেখেন, ‘আমার রংপুরের কোমলমতি ভাইবোনদের আন্দোলনের মাঝে ছাত্রলীগ ঢুকেছে, আপনারা সকলেই জানেন এই শোকাবহ সময়ে পুরো বিষয়টাকে নোংরাভাবে উপস্থাপন এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে আন্দোলনের মাঝে ঢুকেছিল ছাত্রলীগ।’
ইমতি আরো লেখেন, ‘রংপুরেও তাদের পরিকল্পনা ছিল আন্দোলন উসকিয়ে দিয়ে শিক্ষা অফিসে ভাঙচুর করা। প্রশাসনের বিচক্ষণতায় সেদিন তা সামলানো গেছে। কোনোভাবেই আমরা চাই না আমাদের স্নেহের ভাইবোনদের কোনো বিপদের কারণ এই সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ হোক। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবিতে আমরা তাদের সঙ্গে সামনের সারিতে থাকব, ইনশাআল্লাহ। তবে এই লীগের দেখা পেলে তাদের সঙ্গে আর কোনো আপস হবে না।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে, এরই মধ্যে রংপুরে ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রংপুরে এসে অবস্থান নিয়েছে। তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের নাশকতার করতে পারে।সূত্রগুলো জানায়, ২২ জুলাই পীরগাছার ছাত্রলীগ নেতা আতাউর রহমান বিজয় আন্দোলনে যোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের উসকে মব তৈরির মাধ্যমে শিক্ষা অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ায় বিজয়সহ বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়।
পড়ুন: শ্যামপুরে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী গ্রেফতার
গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, রংপুরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশের পেছনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের মধ্যে থাকা ছাত্রলীগ থেকে আসা নেতাদের প্রশ্রয়ের প্রমাণও পেয়েছেন তারা। তাদের সকল কর্মকাণ্ড মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের সকল ডিজিটাল ডিভাইস ও অ্যাকাউন্টে কড়া নজরদারিও রাখছে গোয়েন্দা বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি বলেন, ‘এখন মাইলস্টোন ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে রংপুরকে অস্থিতিশীল করতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা তৎপর। তারা ছদ্মবেশে অত্যন্ত কৌশলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়ছে এবং মব তৈরি করে নাশকতার চেষ্টা করছে। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্য করছি না।’
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ রংপুর মহানগর কমিটির মুখপাত্র (গেল বছর ১৬ জুলাই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে প্রথম উদ্ধারকারী) সিয়াম আহসান আয়ান বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ পরিকল্পিতভাবে আমাদের শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে সরকারের সংস্কার আন্দোলনকে অন্যদিকে ঘুরানোর অপচেষ্টা করছে। আমরা এজন্য সতর্ক অবস্থায় আছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলবো আপনারা তৎপরত হোন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এই অপচেষ্টা রংপুরে জিরো টলারেন্সে আমরা প্রতিহত করব।’
রংপুর মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা রংপুরের নানা কর্মসূচিতে অনুপ্রবেশ করে মব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এটি অশনি সংকেত। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরও তৎপর হতে হবে। প্রতিহত করতে হবে ফ্যাসিস্টদের। আমরা বিএনপির প্রতিটি সদস্য সজাগ রয়েছি।
এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী জানান, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কৌশলী ঢুকে পড়াদের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে আমরা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি।
২২৪ দিন আগে
এবার ২১ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঠেলে দিল বিএসএফ
ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইন থামছেই না। এবার শেরপুরে নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে রাতের আাঁধারে ২১ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে নাকুগাঁও সীমান্ত এলাকার ১৪১৬ নম্বর সীমানা পিলারের মাঝখানের ৩ নম্বর সীমান্ত গেইট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।
পুশইন করা সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। তাদের মধ্যে ৫ জন বয়স্ক পুরুষ, ৫ জন নারী ও ১১টি শিশু রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি হাসান।
তিনি জানিয়েছেন, পুশইন হওয়া আটককৃতদের নাকুগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমকিভাবে তারা রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে। তাদের বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই এবং পরবর্তী কার্যক্রমের প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ভারতের মেঘালয়ের কিল্লাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা গতকাল গভীর রাতে ২১ জন রোহিঙ্গাকে পুশইন করেন। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের হাতিপাগার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করে নাকুগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখেন।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণা সীমান্তে ৩২ জনকে পুশ ইন বিএসএফের
বিজিবি জানিয়েছে, আটককৃতরা ৬টি পরিবারের সদস্য। তারা ২০১৭ সালে কক্সবাজারের উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে পালিয়ে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে যায় এবং সেখানে শ্রমিক হিসেবে হোটেলে ও বাসাবাড়িতে কাজ করতে শুরু করে। এক মাস আগে ভারতীয় পুলিশের অভিযানে অবৈধভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পে ছিল বলে পরিচয় দেয়। ভারতীয় পুলিশ পরে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তাদের মেঘালয়ের ডালু সীমান্তে কিল্লাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পে আনা হয় এবং মধ্যরাতে রাতে নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকার ৩ নম্বর সীমান্ত গেইট দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই একইভাবে নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষকে পুশইন করে বিএসএফ।
২২৪ দিন আগে
ফেনীতে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ২
ফেনীতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানকে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি বাস ধাক্কা দেওয়ায় ঘটনায় দুই ভাই নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— পাঁছগাছিয়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীয়ারা উজালীয়া কাজী বাড়ীর শাহ আলমের ছেলে মোশারফ হোসেন (২৯) ও একরাম হোসেন (১৮)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি পিকআপ ভ্যান সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ পেছন দিক থেকে একটি দ্রুতগামী বাস এসে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুই ভাই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মোশারফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করে।
একরামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।
আরও পড়ুন: সমাবেশে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, ফরিদপুরে দুই জামায়াত নেতা নিহত
নিহতের জ্যাঠাতো ভাই মো. সুজন বলেন, মোশারফ আলভী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি পরিবহন কোম্পানিতে চাকরি করে। তাদের একটি পিকআপ রাস্তার পাশে পড়ে গিয়েছিল। এরপর সেখানে গিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করতে আলভী এন্টারপ্রাইজের মালিক তাকে খবর দেয়। রাত ৩টার দিকে মোশারফ তার ছোট ভাইকে নিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করতে যায়। গাড়িটি তুলে রাস্তার পাশে দাঁড়ও করায়। এরপর সে পেছনে চাকার যোগান দিতে যায়। এমন সময় হঠাৎ পেছন থেকে নোয়াখালীগামী লাল সবুজ নামের একটি বাস পিকআপটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোশারফের মৃত্যু হয়, আর তার ছোট ভাই একরাম গুরুতর আহত হয়।
মহিপাল হাইওয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনুর রশিদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
২২৪ দিন আগে
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনা: কুষ্টিয়ায় পাশাপাশি দাফন একই পরিবারের চারজনকে
নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। নিহত আটজনের মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ধর্মদহ গ্রামের একই পরিবারের পাঁচজন ও গাড়িচালক। নিহত অপর দুইজন তাদের স্বজন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুর দুইটার দিকে দৌলতপুরের ধর্মদহ ফরাজীপাড়া গোরস্থানে একই পরিবারের চারজনের একসঙ্গে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় গ্রামের হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।
দুর্ঘটনায় নিহত জাহিদুল ইসলামের দুই ছেলে সোহান ও সাগর সিঙ্গাপুর থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বেলা ১০টার দিকে গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছানোর পর দুপুর ২টার দিকে একসঙ্গে পরিবারের চারজনের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেপ্তার
নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৫৫), তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৫০), তার ভাই শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন আন্না (৫৫),তার ভাই মিজানুর রহমানের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন আনু (৫০), নিহত জাহিদুলের বোন প্রাগপুর গ্রামের রফেজ চৌধুরীর স্ত্রী ইতি খাতুন (৪০), একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাহাব হোসেন (৩৫), মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আঞ্জুমানারা (৭৫) এবং মেয়ে সীমা খাতুন (৩৫)।
নিহতরা মাইক্রোবাসে করে বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জে অসুস্থ রোগীকে দেখতে যাচ্ছিলেন।
নিহত জাহিদুল, তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন, ভাইয়ের স্ত্রী আন্না ও আনুর লাশ বুধবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের তৈরি হয়। পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের শোক আর কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
একই গ্রামের বাসিন্দা ও নিহত গাড়িচালক সাহাবের লাশও বুধবার রাতে ধর্মদহ গ্রামে পৌঁছায়। এরপর স্থানীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে জাহিদুল ইসলামের বোন ও পার্শ্ববর্তী প্রাগপুর গ্রামের রফেজ চৌধুরীর স্ত্রী ইতি খাতুন (৪০), জাহিদুলের শ্বাশুড়ি ও শ্যালিকা অর্থাৎ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আঞ্জুমানারা (৭৫) এবং মেয়ে সীমা খাতুনের(৩৫) লাশ তাদের নিজ নিজ গ্রামে আনা হয় বুধবার রাতে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
নিহত জাহিদুলের চাচাতো ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জানারুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকাল ৭টার দিকে মাইক্রোবাসে করে সিরাজগঞ্জে রোগী দেখতে যাচ্ছিলেন সবাই। জাহিদুলের ছেলে সোহানের অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে যাচ্ছিলেন তারা। এ সময় ট্রাকের ধাক্কায় আটজন মারা গেছেন। ধর্মদহ গ্রামের পাঁচজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজন মাইক্রোবাসের চালক। বাকি চারজন একই পরিবারের সদস্য। এছাড়াও নিহত জাহিদুলের বোন প্রাগপুর গ্রামের ইতি, গাংনীর বসতবাড়িয়া গ্রামের জাহিদুলের শাশুড়ি ও শ্যালিকা মারা গেছেন।
আরও পড়ুন: নাটোরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮
জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তরমুজ পাম্প এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। বাকি দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ওই দুজনেরও মৃত্যু হয়।
২২৫ দিন আগে
কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন। তাদের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভুন্দুর চর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— আনোয়ার হোসেনের ছেলে নুরুল আমিন ( ৪০), গোলাম শহিদের ছেলে বলু মিয়া ( ৫৫) ও ফুলবাবু ( ৫০)।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শাহাজাহান মিয়া ও রাজু মিয়া পক্ষের মধ্যে ৫০ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। জমিটি নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শাহাজাহান মিয়ার লোকজন ওই জমিতে সেচ দিতে গেলে রাজু মিয়ার পক্ষের লোকজন বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। তারা সবাই শাহাজাহান মিয়ার অনুসারী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং নিহত তিনজনের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান ওসি লুৎফর রহমান।
২২৫ দিন আগে
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ আলী গ্রেপ্তার
সিলেট মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সুরুজ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শেখ সুরুজ আলী ছয়টি মামলার পলাতক আসামি। এর মধ্যে রয়েছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা এবং অন্যান্য মামলা আরও কয়েকটি অপরাধ-সংশ্লিষ্ট মামলা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি গা ঢাকা দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাসহ অন্যান্য মামলাসহ সর্বমোট ছয়টি মামলার আসামি শেখ মো. সুরুজ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হবে।’
২২৫ দিন আগে
চিকিৎসককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে সুনামগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার সদস্যপদ স্থগিত
সুনামগঞ্জ শহরের একটি ক্লিনিকে ঢুকে গোলাম রব্বানী সোহাগ নামে এক চিকিৎসকের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর রায়হান নামের এক নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাতে আনিসা হেলথ কেয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ক্লিনিকের পরিচালক রুহুল আমিন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
অভিযুক্তরা হলেন— সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান উদ্দিন এবং ছাত্রদল নেতা শাহনেওয়াজ সৌরভ মুবিন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’
এদিকে ঘটনার পর রায়হানের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ স্থগিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রায়হান উদ্দিন তার স্ত্রীকে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইউরিন টেস্টের জন্য ওই ক্লিনিকে নিয়ে যান। ক্লিনিকের আল্ট্রাসনোগ্রাম রুমের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা নিয়ে রায়হানের সঙ্গে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহাগের কথাকাটাকাটি হয়।
সে সময় চিকিৎসক বলেন, ‘ভেতরে অন্য রোগীর পরীক্ষা চলছে, আপনি দরজা থেকে সরে দাঁড়ান। এ ঘটনায় তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। পরে ক্লিনিকের লোকজন রায়হান উদ্দিনকে শান্ত করেন।’
এদিকে, স্ত্রীর শারীরিক পরীক্ষা শেষে রায়হান ও তার স্ত্রী বাসায় চলে যান। বাসায় যাওয়ার প্রায় আধ ঘণ্টা পর রায়হান আবারও ওই চিকিৎসকের চেম্বারে ফিরে আসেন। এবার তিনি আগের ঘটনার জন্য চিকিৎসককে ‘সরি’ বলতে বলেন। তিনি তা না বলায় রায়হান ও তার সহযোগী তাকে বেধড়ক মারধর করে মাটিতে ফেলে ছুরিকাঘাত করেন। একপর্যায়ে ক্লিনিকের লোকজন সোহাগকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে রায়হান উদ্দিন ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন দ্রুত ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান।
আহত ডা. গোলাম রব্বানী সোহাগ বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান উদ্দিনের দাবি, আল্ট্রাসনোগ্রাম রুমে চিকিৎসকের সঙ্গে ডায়াগনসিসের সিরিয়াল নম্বর নিয়ে তার কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় ওই চিকিৎসক তার স্ত্রীকে চেয়ার থেকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। ঘটনাটি তার স্ত্রী তাকে জানালে তিনি ভেতরে ঢুকে এর কারণ জানতে চান। তবে চিকিৎসক গোলাম রব্বানী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। চেম্বারের কলম দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করাও শুরু করেন। কলমের আঘাত প্রতিহত করার সময় তিনি (চিকিৎসক) আহত হন।
তিনি বলেন, ‘তাকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
ঘটনার পর স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানের নির্দেশে দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সই করা চিঠিতে অভিযুক্তের সাংগঠনিক ও প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বেচ্ছাসেবক দল সুনামগঞ্জ জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান উদ্দিনের প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কারও ব্যক্তিগত অন্যায় আচরণের দায় সংগঠন নেবে না। যে কেউ অন্যায় করলে গঠনতন্ত্র মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
২২৫ দিন আগে
ঘরে ঝুলছিল গৃহবধূর দেহ, দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে উধাও স্বামী
নড়াইল সদর উপজেলার নিজ ঘর থেকে মাধবী বিশ্বাস (৩৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী হীরামন বিশ্বাস ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সুদেবী পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, নিহত মাধবী বিশ্বাস কালিয়া উপজেলার শুক্ত গ্রামের অরবিন্দু বিশ্বাসের মেয়ে এবং হীরামন বিশ্বাসের প্রথম স্ত্রী। ১৮ বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। সাত-আট মাস আগে হীরামন দ্বিতীয় স্ত্রী সুদেবীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন, এরপর থেকেই পারিবারিক কলহ বাড়তে থাকে।
বুধবার বিকালে হীরামন তার চাচাতো ভাই মিঠুনকে ফোন করে জানান, তিনি ছোট বউকে বাপের বাড়িতে দিতে যাচ্ছেন।
এ সময় বড় বউ মাধবীকে মারধর করেছেন জানিয়ে মিঠুকে তিনি আরও বলেন, বাড়িতে গিয়ে যেন তিনি দেখেন যে বড় বউ গলায় ফাঁস নিয়েছেন কি না। পরে সন্ধ্যায় মাধবীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
আরও পড়ুন: গোলাপগঞ্জে জঙ্গল থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
মাধবীর ফুফাতো ভাই শ্মশান বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বোনকে নিয়মিত তার স্বামী হীরামন মারধর করত। দ্বিতীয় বিয়ে করে আনার পর থেকে বোনের ওপর অত্যাচার বাড়িয়ে দেয়। আমার বোনকে পিটিয়ে মেরে ঝুলিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে পাালয়ে গেছে। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা চাই।’
তবে মাধবীকে ‘হালকা’ মারধরের কথা স্বীকার করলেও হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হীরামনের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, হত্যা নয় মাধবী আত্মহত্যা করেছেন।
তবে ঘটনার পর থেকে হীরামন ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সুদেবী পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ছাড়া তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২২৫ দিন আগে