বাংলাদেশ
দুর্গাপূজার ছুটি ৩ দিন করার দাবি
দুর্গাপূজার ছুটি কমপক্ষে তিনদিন করার দাবিসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও সুরক্ষায় একাধিক প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সমস্যাগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের সকল সমস্যার কথা ধৈর্য সহকারে শুনেছেন এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানেরও আশ্বাস দিয়েছেন।
সন্তোষ শর্মা জানান, বৈঠকে হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— অর্পিত সম্পত্তি আইন কার্যকর বাস্তবায়ন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পরিবর্তে ফাউন্ডেশন গঠন, দেবোত্তর সম্পত্তি আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু কমিশন গঠন।
এছাড়া দুর্গাপূজার ছুটি কমপক্ষে তিনদিন করার দাবি জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সন্তোষ শর্মা বলেন, ৫ আগস্টের পরে আমাদের সম্প্রদায়ের যে সমস্ত লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে, সেই মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। আমাদের লোকজনের জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার বিচার দাবি করে তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে নানারকম মিথ্যা প্রচারণার অভিযোগে যে সমস্ত হত্যাকাণ্ড, লুটপাট এবং ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, সেগুলোর বিচার চেয়েছি আমরা। উনিও বলেছেন এগুলোর পর্যায়ক্রমে বিচার করা হবে।
৬৩ দিন আগে
এলপিজির দামে বড় লাফ, ১২ কেজির সিলিন্ডারে বেড়েছে ৩৮৭ টাকা
ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা, যা আগের তুলনায় ৩৮৭ টাকা বেশি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিইআরসি জানিয়েছে, ভ্যাটসহ ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৪৪.০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম মার্চের ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বেড়ে এপ্রিল মাসে ১ হাজার ৭২৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দরে সাড়ে ৫ কেজি সিলিন্ডার ৭৯২ টাকা, সাড়ে ১২ কেজি ১ হাজার ৮০১ টাকা, ১৫ কেজি ২ হাজার ১৬১ টাকা, ১৬ কেজি ২ হাজার ৩০৫ টাকা, ১৮ কেজি ২ হাজার ৫৯৩ টাকা এবং ২০ কেজি সিলিন্ডার ২ হাজার ৮৮১ টাকায় বিক্রি হবে।
এছাড়া ২২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ১৬৯ টাকা, ২৫ কেজি ৩ হাজার ৬০১ টাকা, ৩০ কেজি ৪ হাজার ৩২১ টাকা, ৩৩ কেজি ৪ হাজার ৭৫৩ টাকা, ৩৫ কেজি ৫ হাজার ৪১ টাকা এবং ৪৫ কেজি সিলিন্ডার ৬ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে মার্চ মাসে এলপিজির দাম অপরিবর্তিত ছিল। তবে ২৩ ফেব্রুয়ারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা করা হয়েছিল, যা সর্বশেষ সমন্বয় পর্যন্ত বহাল ছিল।
এদিকে, এপ্রিল মাসের জন্য অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের মূল্য মূসকসহ প্রতি লিটার ৭৯.৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ১৭.৯৪ টাকা বেশি।
এর আগে ২ মার্চ অটোগ্যাসের দাম সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়, তখন ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটারে ৩ পয়সা কমিয়ে ৬১.৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
৬৩ দিন আগে
জ্বালানি নিয়ে এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ: জ্বালানি বিভাগ
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী আমদানি অব্যাহত থাকায় এপ্রিল মাসে কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। তবে পাম্পে সাময়িক চাপের পেছনে ‘প্যানিক বায়িং’ (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) ও মজুদ প্রবণতাকে দায়ী করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি হিসাব করে দেখেছি, আমাদের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কোনো সংকট নেই। ডিজেলের ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা নেই। আমরা মাসভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আমদানি করছি। এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ।’
বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজ সকালেও মিটিং করেছি। বর্তমান মজুদ এবং ইনকামিং শিপ—সব অন টাইম আছে। ফলে কোনো অসুবিধা হবে না, ইনশাআল্লাহ।’
জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন। অকটেন ও পেট্রোল মিলিয়ে বছরে প্রয়োজন হয় প্রায় ৭০ হাজার টন। দৈনিক হিসাবে পেট্রোল-অকটেনের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২০০ টন এবং ডিজেলের প্রায় ১ হাজার ৪০০ টন।
পাম্পে তেল না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন একই উত্তর দিচ্ছি—গত বছর যা সরবরাহ করেছি, এ বছরও তাই করছি। পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছে, এটাও আমরা দেখছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে এখনও প্যানিক বায়িং বন্ধ হয়নি। এর ফলে সরবরাহ চেইনে মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটছে। মজুদর প্রবণতাও রয়েছে। তবে স্বাভাবিক সরবরাহে কোনো সংকট নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাম্পে তেল না পাওয়ার বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত সরবরাহ করছি।’
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
অবৈধ মজুদ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘মন্ত্রী ইতোমধ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। কোম্পানির কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
তবে এত অবৈধ মজুদের তেল উদ্ধার হলেও ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চার ধরনের ডিলারশিপ আছে। কোথা থেকে মজুদ হচ্ছে, সেটা নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।’
কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে সকালেও মন্ত্রী তিন এমডিকে (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন এবং আমি সকালবেলা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সভা করেছি। আমাদের ক্লিয়ার ইন্সট্রাকশন (পরিষ্কার নির্দেশনা) হচ্ছে যে কৃষকদের সার ও ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
‘আমি জেলা প্রশাসকদের একজন একজন করে জিজ্ঞেস করেছি। নির্দেশনাটা এরকম যে কোনো ব্লক সুপারভাইজার যেটাকে এখন বোধয় ইউনিয়ন কৃষি সহকারী কর্মকর্তা এরকম কিছু বলে, তাদের কাছে কৃষকের তালিকা থাকে। অথবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কোনো প্রত্যয়ন নিয়ে যে কৃষক ডিজেল চাইবে, তাকে যাতে এটা প্রদান করা হয়; এটা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
ভিআইপিদের জন্য আলাদা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টা ঠিক এইভাবে আমার জানা নেই। তবে এরকম কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। আমার মনে হয় না যে আলাদা করে কাউকে এই সুযোগ এই মুহূর্তে অন্তত দেওয়ার সুযোগ আছে।’
জ্বালানি সংকট না থাকলেও সবার জায়গা থেকে সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়া প্রয়োজন।
৬৩ দিন আগে
আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টেকে সংহতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি
সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দেশটির নেতৃত্ব ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে পাঠানো এক চিঠিতে এ সংহতি জানান। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত চিঠিটি হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে সাম্প্রতিক হামলায় প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি ও আহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে দেশটির সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের জন্য চিঠিতে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
৬৩ দিন আগে
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত ২০ জন
এবারের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৫ দিনে দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত হয়েছেন, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সময়ে নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী ও ৬৭ জন শিশু রয়েছে।
যানবাহনভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১১৬ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৩৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া ৪৭ জন পথচারী (১৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ), বাস যাত্রী ৪১ জন (১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ) ট্রাক-পিকআপ আরোহী ১৩ জন (৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২০ জন (৬ দশমিক ৭১ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৫০ জন (১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম) ৯ জন (৩ দশমিক ০২ শতাংশ) এবং বাইসাইকেলআরোহী ২ জন (.৬৭ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
এ সময় ১১টি নৌ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ২৩ জন আহত ও ২ জন নিখোঁজ এবং ২৯টি রেল দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত ও ২০৯ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩০ দশমিক ৮৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৩ দশমিক ১৬ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ১২ দশমিক ৮৬ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে এবং ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ শহরের সড়কে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০ দশমিক ৭৫ শতাংশ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ২৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ সংঘর্ষে এবং ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ পথচারীকে চাপা দেওয়ার ঘটনায় ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এ অঞ্চলে ৯৩টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন ১২ জন নিহত হয়েছেন। জেলা হিসেবে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৪৩টি দুর্ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদে রাজধানী ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ বাড়ি ফিরেছেন এবং সারাদেশে প্রায় চার কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকলেও অব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকটি বড় দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে— সদরঘাটে দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে দুইজন নিহত, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সেতু উল্টে চার শিশু নিহত, কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে রেলক্রসিংয়ে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত এবং দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে ২৬ জন নিহত। এসব ঘটনাকে প্রতিবেদনে ‘কাঠামোগত ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের একই সময়ে ১১ দিনে ২৫৭টি দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সে তুলনায় এ বছর দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ, তবে প্রাণহানি কমেছে ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে এই হ্রাসকে প্রকৃত উন্নতির সূচক নয় বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালনাকে দায়ী করা হয়েছে।
সংস্থাটি নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ, রেল ও নৌপথ উন্নয়ন, গণপরিবহন বাড়ানো, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের সুপারিশ করেছে।
৬৩ দিন আগে
লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭৫ বাংলাদেশি
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৫ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় আনা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ফিরে আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ত্রিপলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১১৩ জন এবং বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ৬২ জন ছিলেন।
প্রত্যাবাসিতদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রত্যাবাসিতদের তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা প্রত্যেক প্রত্যাবাসিতকে পথখরচা, খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৬৪ দিন আগে
নিবন্ধন সনদ ছাড়া ট্রাভেল এজেন্সি চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার
নিবন্ধন সনদ গ্রহণ এবং নবায়ন ছাড়া ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করলে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে সরকার। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাভেল এজেন্সির মেয়াদোত্তীর্ণ নিবন্ধন সনদ নবায়নের জন্য সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন-২০২১ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২২ অনুযায়ী নিবন্ধন সনদ না নিলে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ নিবন্ধন সনদ নবায়ন ছাড়া ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনা করলে তা আইনের পরিপন্থি। তাছাড়া নিবন্ধন সনদ নবায়ন না করায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ছাড়াও মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনাকারী সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (www.regtravelagency.gov.bd) জরুরিভিত্তিতে নিবন্ধন সনদ নবায়নের আবেদন দাখিল করার অনুরোধ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ এবং নিবন্ধন সনদ নবায়ন ছাড়া যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৬৪ দিন আগে
‘আপনি এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত’, অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতে ইতালীয় স্থপতি নভেমব্রে
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জীবন্ত দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত ইতালীয় স্থপতি ও ডিজাইনার ফাবিও নভেমব্রে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইউনূস সেন্টারে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। বাংলাদেশে নিজের প্রথম সফরে নভেমব্রে এই সাক্ষাৎকে তার ‘দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অধ্যাপক ইউনূস এবং তার কাজের অনুরাগী। ইতালিতে সম্প্রতি ‘ব্যাংকার টু দ্য পুওর’ বইটির অষ্টাদশ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটির ব্যাপক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে নভেমব্রে বলেন, ‘আপনি আমাদের জন্য এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত।’
ইউনূস সেন্টারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘ বছরের কাজের পেছনে অনুপ্রেরণার উৎস সম্পর্কে নভেমব্রের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সাধারণ মানুষই তার কাজের প্রধান অনুপ্রেরণা। তরুণ প্রজন্মের গুরুত্ব এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে তাদের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার স্বপ্নের কথা তুলে ধরে বলেন, এটি এমন এক প্রতিষ্ঠান যা চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং উদ্যোক্তা তৈরি করবে। আমাদের এমন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে যা বেকার চাকরিপ্রার্থী তৈরি করবে না। বর্তমানে মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, ডিগ্রি নেয় এবং তারপর চাকরির সন্ধান করে। আমি মনে করি এটি ভুল পদ্ধতি।
তিনি আরও বলেন, নির্দেশ পালনের চাপে মানুষ প্রায়ই তাদের কল্পনাশক্তি হারিয়ে ফেলে। অথচ মানুষের জীবন শুরু হয় কল্পনা দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত মানুষকে সৃজনশীল হতে সাহায্য করা এবং তাদের আইডিয়াগুলো বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করা।
এ সময় অধ্যাপক ইউনূস ইতালির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সেখানে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে কাজ করাসহ বিভিন্ন ইতালীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। আলোচনায় ইতালির পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার নেটওয়ার্কসহ বিশ্বজুড়ে ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস উদ্যোগের প্রসারের বিষয়টিও উঠে আসে।
সাক্ষাৎ শেষে শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে নভেমব্রে অধ্যাপক ইউনূসকে ইতালো কালভানোর লেখা ‘ইনভিজিবল সিটিজ’ বইটি উপহার দেন।
বৈঠকে ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ এবং ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসের বাণিজ্য প্রতিনিধি দোনাতেল্লা দি ভার্জিলিও উপস্থিত ছিলেন।
৬৪ দিন আগে
রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে শিশুদের হামের টিকা কার্যক্রম
আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভির (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) কাছ থেকে ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ হামের ভ্যাকসিন নিয়ে দেওয়া হবে। এটা ধার নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এটা তাদের দিয়ে দেওয়া হবে।
এ কর্মসূচি পরিচালনায় আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমরা আগামী রবিবার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করব। এ উলক্ষ্যে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে আমরা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সমস্ত ছুটি আমরা প্রত্যাহার করে নিলাম। এখন কোনো ছুটি থাকবে না। ভ্যাকসিন যারা দেবেন, তারা সবাই স্থানীয় কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তারা থাকবে মাঠে থাকবেন এবং কাজ করবেন।
বুধবার ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে যেসব উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত, সেগুলোসহ প্রত্যেকটা উপজেলায় এসব টিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী দুইদিনের ভেতরে ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জ আমরা গ্রামাঞ্চলে পাঠিয়ে দেব। রবিবার সকাল থেকে আমরা নিজেরা বিভিন্ন জায়গায় এটার উদ্বোধন করব ইনশআল্লাহ।
হাম মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত বলেন, যত ভয়াবহভাবে হাম আমাদের আক্রমণ করেছে, আমরা তার তার চেয়ে দ্রুতগতিতে ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেছি। কিছু প্রাণহানি হয়েছে, তারপরও বলব—এটা আমাদের অনেকটা সার্থকতা।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় সঠিকভাবে ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছি। অতি তড়িৎ গতিতে বেসরকারি খাত থেকে ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করেছি, বাচ্চারা যাতে অক্সিজেনের অভাবে মারা না যায়।
মন্ত্রী জানান, হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া আক্রান্তদের মৃত্যুহার বেশি। নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে ফুসফুসের ভেতর শ্লেষ্মা হয়। যার ফলে ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় যা রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
হামের প্রাদুর্ভাব ও এর আনুষঙ্গিক নিউমোনিয়াজনিত শিশুমৃত্যু রোধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আইসিডিডিআরবি যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আইসিডিডিআরবির পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যা শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের সংক্রমণ বাড়ছে। হাম নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হাম আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
৬৪ দিন আগে
৬ বাংলাদেশি জাহাজকে হরমুজ পারাপারে অনুমতি দিয়েছে তেহরান
হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজকে পার হয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা পরিষদ।
বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জাহাজগুলোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও ইরান যৌথভাবে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলে পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের কবলে ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের পেতে রাখা ‘ফাঁদে’ পা দেয়নি। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্ররোচনায় সেই ফাঁদে পা দিয়েছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই অঞ্চলের মুসলিমরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
জলিল রহিমি আরও উল্লেখ করেন, ইরান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গত মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান একটি চিঠি লিখেছেন। দুই দেশের সম্পর্ককে ভ্রাতৃপ্রতিম উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান বাংলাদেশকে বন্ধু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং কঠিন সময়ে পারস্পরিক সমর্থন প্রত্যাশা করে।
জাতিসংঘের সনদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এক রাষ্ট্রের ওপর অন্য রাষ্ট্রের আগ্রাসন অবৈধ এবং ইরান এ ধরনের আগ্রাসনের শিকার। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং জাতিসংঘ ও ওআইসির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এই আগ্রাসন এবং নারী ও শিশু হত্যার তীব্র নিন্দা জানাবে বলে প্রত্যাশা করে তেহরান।
৬৪ দিন আগে