বাংলাদেশ
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত মান্টিটস্কির সাক্ষাৎ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভিকেনতিয়েভিচ মান্টিটস্কি।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রাশিয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসকে অভিনন্দন জানায়।
আরও পড়ুন: ধৈর্য ধরুন, রাতারাতি এই পর্বতসম পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন: অধ্যাপক ইউনূস
একই সঙ্গে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সহায়তা বিনিময় জোরদার করতে সরকারি পর্যায়ে গঠনমূলক যৌথ কাজের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে দেশটি।
অধ্যাপক ইউনূসকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় রুশ ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন বলেন, 'এটি সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ান ফেডারেশন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে পূরণ করে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্ক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনায় বিকশিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে বিদেশ সফর শুরু হবে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের
৬৪৬ দিন আগে
২৪ ঘণ্টায় আরও ১ জনের করোনা শনাক্ত
সোমবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। তবে এসময় নতুন করে একজনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৩৮২ জনে। এছাড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৯৯ জনের।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ জনের করোনা শনাক্ত
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ সময়ে শনাক্তের হার ছিল ৫ শতাংশ।
মোট করোনা পরীক্ষায় এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মোট মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন একজন। এ নিয়ে করোনা থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ২০ লাখ ১৯ হাজার ৬৯ জনে।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ জনের করোনা শনাক্ত
৬৪৬ দিন আগে
গুরুতর নির্যাতনের বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্তে বাংলাদেশের সহযোগিতা চায় এইচআরডব্লিউ
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গুরুতর নির্যাতনের তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের আসন্ন অধিবেশনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একটি প্রস্তাব চাওয়া উচিত।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছে লেখা এক চিঠিতে এ কথা বলেছে সংস্থাটি।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) থেকে পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং কাউন্সিলে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত। ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৫৭তম অধিবেশন শুরু হবে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ তদন্ত কার্যক্রম শুরুর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত ওএইচসিএইচআর এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করা।
এই অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াটিকে জাতিসংঘের সহায়তা এবং পর্যবেক্ষণের সঙ্গে কাজ করা উচিৎ, যাতে এর স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড মেনে চলা নিশ্চিত করা যায়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বাইডেন-মোদির আলোচনা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় গুরুত্বারোপ
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জেনেভায় জাতিসংঘের উপপরিচালক লুসি ম্যাককার্নান বলেন, ‘গণবিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর অতীতের হিসাব-নিকাশের গুরু দায়িত্ব দেশকে অধিকার-সম্মানজনক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাওয়া।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত সাম্প্রতিক নির্যাতনের বিষয়ে মানবাধিকার কাউন্সিল সমর্থিত তদন্তকে সহযোগিতা করা এবং সাবেক সরকারের ১৫ বছরের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে স্বাধীন অভ্যন্তরীণ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের সমর্থন চাওয়া।’
এতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বেসামরিক তদারকি আনা, কুখ্যাত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ভেঙে দেওয়া, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং অবমাননাকর আইন সংশোধন করার পদক্ষেপ জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা।
শেখ হাসিনার পতনের আগে বিক্ষোভ দমন-পীড়ন ছিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে কমপক্ষে ৪৪০ জন নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়েছে। যার বেশিরভাগই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অতিরিক্ত বল প্রয়োগ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছাত্র ও যুব সংগঠনের সহিংসতার কারণে নিহত ও আহত হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, ৫ আগস্টের পর আনুমানিক আরও ২৫০ জন মারা গেছে, যাদের বেশিরভাগই শেখ হাসিনার সমর্থকদের সহিংস প্রতিশোধের শিকার।
এতে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এমন কর্মকর্তাদের বদলি করেছে, যারা রাজনৈতিক পক্ষপাতের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। পদত্যাগের দাবিতে করা বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। হাসিনা সরকারের পতনের পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভেঙে পড়েছিল। হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সহিংসতার ঝুঁকিতে ফেলেছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছে বেশিরভাগ পুলিশ স্টেশন এখন কাজ করছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, তবে মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকসহ আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং যথাযথ প্রক্রিয়া ও আইনি পরামর্শের যথাযথ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে পূর্ববর্তী সরকারের ন্যায় অপব্যবহারের পুনরাবৃত্তি করছে।
ইউনূস প্রশাসন প্রকাশ্যে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, সহিংসতা দমনের জন্য কাজ করেছে এবং বিক্ষোভ দমনে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের জন্য দায়ীদের তদন্ত ও বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিক্ষোভের সময় আটক রাজনৈতিক বন্দিদেরও দ্রুত মুক্তি দিয়েছে, কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে, গুম থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত জোরপূর্বক গুমের ৭০০টিরও বেশি ঘটনা তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গাদের ন্যায় বিচারের দ্বার উন্মোক্ত হয়েছে: এইচআরডব্লিউ
এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, অত্যন্ত বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি কার্যকরভাবে অনুসরণ করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত মানবাধিকার কাউন্সিলকে একটি স্বাধীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে বলা। যা ঘটনার তদন্ত,তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ করবে এবং প্রমাণ বিশ্লেষণ করবে। একই সঙ্গে জুলাই ও আগস্টের সহিংসতা এবং এর মূল কারণগুলোর বিষয়ে জবাবদিহিতার জন্য বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বাধীন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিচার বিভাগকে সহযোগিতা করার একটি বিস্তৃত ম্যান্ডেট সহ একটি স্বাধীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে বলা উচিত।
মানবাধিকার কাউন্সিলের নির্দেশিত তদন্ত বাংলাদেশিদের কাছে সর্বাধিক স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে। যারা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিশ্বাস করে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এড়াতে পারে। এটি সম্পূর্ণরূপে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপকে দুর্বল করতে পারে।
এতে বলা আরও হয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং নিয়মিত প্রতিবেদন দিতে ওএইচসিএইচআরকে বাধ্যমূলক করা উচিত কাউন্সিলের প্রস্তাবটিতে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি যে অসমভাবে বণ্টন করা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ তারই প্রতিফলন। সবার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক সুরক্ষার সংস্কার করা উচিত। ঘুষ দিতে অক্ষমতার কারণে বা সামাজিক বা রাজনৈতিক সংযোগের অভাবের কারণে কেউ যাতে নাগরিক সুবিধা থেকে বাদ না পড়ে তা নিশ্চিত করা উচিত।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, দীর্ঘস্থায়ী মানবাধিকার পরিবর্তন আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রতিষ্ঠান, সুরক্ষা খাত এবং এর বিচার ও আইনি ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। যা পূর্ববর্তী সরকার এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের অধীনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এতে বলা হয়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত সব নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর শক্তিশালী মানবাধিকার প্রশিক্ষণ প্রটোকল বাস্তবায়ন করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অপব্যবহারের দায়মুক্তি দেয় এমন আইন বাতিল করা।
ম্যাককার্নান বলেন, 'স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জাতিসংঘের সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশের কষ্টার্জিত অগ্রগতি সহজেই হারিয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘ ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত সত্যানুসন্ধান ও জবাবদিহিতার পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন এবং অধিকারভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক ও নিরাপত্তা খাতের সংস্কারে বিনিয়োগ করে সব বাংলাদেশির প্রতি তাদের সমর্থন প্রদর্শন করা।’
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের ওপর ২০১৭ সালের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের
৬৪৬ দিন আগে
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের রিট খারিজ চাইলেন অ্যাটর্নি জেনারেল
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ চেয়ে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজের আবেদন জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি রিট খারিজ চান।
আরও পড়ুন: ৩৮৮ জন আনসার সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ
শুনানিতে অংশ তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের। সংবিধানে রাজনৈতিক দল পরিচালনার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা খর্ব করবে না সরকার। বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের অনেক অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছে মানুষ। সেগুলোর বিচারের জন্য আইন ও আদালত রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের যারা নেতাকর্মী রয়েছেন তারা দলের মতাদর্শ ধারণ করেন। এজন্য দল নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘যিনি রিট করেছেন তার কোনো এখতিয়ার নেই এটা করার। রিটে আওয়ামী লীগকে বিবাদী করা হয়নি। সারডা নামের সংগঠন যে রিট করেছে তার গঠনতন্ত্রও এ ধরনের রিট করার অনুমোদন দেয় না। অতীতে অনেক রাজনৈতিক বিষয়কে কোর্টে টেনে আনা হয়েছে। যার মূল্য আমাদেরকে দিতে হয়েছে। যে গণঅভ্যুত্থানটি হয়েছে তা বিচার বিভাগের ওপরেও এসেছে। কোর্টে কোনো ঘটনা হলে আইনজীবী হিসাবে আমার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়। এজন্য মাঠের রাজনীতি মাঠেই থাকুক। সেজন্য রিট সরাসরি খারিজ করে আবেদনকারীর ওপর কষ্ট (খরচ) আরোপ করা হোক। পরে রিটকারী সময় চাইলে ১ সেপ্টেম্বর আদেশে দিন ধার্য করে দেন। রিটের পক্ষে রিটকারী আরিফুর রহমান মুরাদ ভূঁইয়া নিজেই শুনানি করেন।’
আরও পড়ুন: সাবেক বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে সিলেটে মামলা
এর আগে, ছাত্র-জনতাকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন বাতিল চেয়ে গত ১৯ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন সারডা সোসাইটির পক্ষে নির্বাহী পরিচালক আরিফুর রহমান মুরাদ ভূঁইয়া রিটটি করেন। রিটে যেসব প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনার নামে রয়েছে সেগুলোর নাম পরিবর্তনও চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রিটে দেশ সংস্কারের লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সর্বনিম্ন তিন বছর চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বিদেশে পাচার করা ১১ লাখ কোটি টাকা ফেরত আনতে এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বদলি চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জামিনে মুক্ত
৬৪৬ দিন আগে
সাম্প্রতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহজ শর্তে ১৯০০ কোটি টাকা ঋণ চেয়েছে বিজিএমইএ
সাধারণ ছুটি ও ভয়াবহ বন্যার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকায় সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকার সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ইআরডি কার্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি জানান বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
আরও পড়ুন: ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানায় নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চাইল বিজিএমইএ
বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তারা উপদেষ্টার কাছে এক মাসের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চেয়েছেন, যা এক বছরে পরিশোধ করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো ছাড়াও আরও কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’
আগে কোনো উদ্যোক্তা পরপর ছয় কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সেটি ক্লাসিফাইড হতো, এখন তা তিন কিস্তিতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমরা আবার ছয় কিস্তিতে পরিশোধ করার সুবিধার দাবি জানাচ্ছি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার পরিবর্তন করা যেতে পারে।’
উপদেষ্টা খুবই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং বিজিএমইএকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: পদত্যাগ করলেন কচি, বিজিএমইএর নতুন সভাপতি খন্দকার রফিকুল
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা তাকে আশ্বস্ত করেছি যে, আমরা যদি ঘুরে দাঁড়াতে পারি তাহলে আমাদের রপ্তানি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। আমাদের শুধু সবার সহযোগিতা প্রয়োজন, বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীল হওয়ায় আমাদের ওপর এখন বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এখন আরও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে চলে আসবে।’
সহজ শর্তে ঋণের বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও ভয়াবহ আকস্মিক বন্যাসহ বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে গত ৪৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তারা পুরোদমে কাজ করতে পারেনি।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় বিজিএমইএর নতুন কমিটি নিয়ে এখন কোনো সমস্যা নেই।
বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিকালে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ড ফোরামের সঙ্গে বসবেন বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: পোশাক শিল্পের কাস্টমস ও বন্ড সমস্যা সমাধানে এনবিআরকে বিজিএমইএর আহ্বান
৬৪৬ দিন আগে
বাইডেন-মোদি ফোনালাপে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা বিবৃতিতে এড়িয়ে গেল হোয়াইট হাউজ
বাইডেন ও মোদি ফোনালাপে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ নিয়েও আলোচনা করেছেন- এমন তথ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে এই ফোনালাপ নিয়ে বিবৃতিতে এ বিষয়টি এড়িয়ে গেল হোয়াইট হাউজ।
হোয়াইট হাউস জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ফোনালাপে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক পোল্যান্ড ও ইউক্রেন সফরের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির পোল্যান্ড ও ইউক্রেনে ঐতিহাসিক সফর প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতসহ চলমান মানবিক সহায়তা এবং তার শান্তি বার্তার জন্য প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য তাদের সমর্থন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন দুই নেতা।
এছাড়াও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে কোয়াডের মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতির ওপরও জোর দেন তারা।
৬৪৬ দিন আগে
৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা আয়োজনে জাতীয় কবিকে স্মরণ করছে জাতি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা সাহিত্যে সীমাহীন অবদানের জন্য এই দিনে তাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছে জাতি।
'বিদ্রোহী কবি' হিসেবেও খ্যাত কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলা সাহিত্যে পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কবির ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার জীবন ও কর্ম স্মরণে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন কবির পরিবারের সদস্যরাও।
এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধি জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।
বিদ্রোহী কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলও।
পরে জাতীয় জাদুঘর, নজরুল গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ, নজরুল একাডেমি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, সুরসপ্তক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বাঁশরী- নজরুল গবেষণা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠন কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
জাতীয় কবির জীবন ও কর্ম স্মরণে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও ও অনলাইন প্লাটফর্ম বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এ ছাড়া নজরুল তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশে তার বিপ্লবী এবং দর্শনীয় সাহিত্যকর্মের জন্য ব্যাপকভাবে সম্মানিত।
কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, নজরুলের ২১ বছরের সাহিত্যিক জীবনে তিনি ২ হাজার ৬০০টি গান, ৬০০টি কবিতা, ৩টি বই এবং ৪৩টি প্রবন্ধ তৈরি করেছিলেন।
শৈশবে বাবা মারা গেলে পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয় নজরুলকে। এ কারণে মসজিদে তত্ত্বাবধায়ক ও মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করতে হয়েছিল তাকে। পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় একটি পেশাদার ‘লেটো’ গানের দলে কাজ করার জন্য ৯ বছর বয়সে স্কুল ছেড়েছিলেন তিনি।
দলটির সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হন। এক বছর পরে তিনি আবার স্কুলে যান এবং মাথারুন ইংলিশ স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু তার আর্থিক দুরবস্থার কারণে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে আরও একবার বাদ পড়েন।
কিছু সময় পর পুলিশ অফিসার কাজী রফিজুল্লাহ তাকে নিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালে তার বাড়ির কাছে দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করান।
১৯৭১ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে চাকরি শুরু করার কয়েক বছরের মধ্যে নজরুল তার সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন।
তিনি ১৯২১ সালে তার কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহী’ (দ্য রিবেল) লেখেন এবং ১৯২২ সালে ‘ধূমকেতু’ (দ্য ধূমকেতু) একটি মাসিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে ঘন ঘন জাতীয়তাবাদী জড়িত থাকার কারণে নজরুল ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের খপ্পরে পড়েন। তিনি কারাবন্দি থাকা অবস্থায় ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ (একজন রাজনৈতিক বন্দির জবানবন্দি) লেখেন।
তার কাজগুলো পরে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং তার কবিতাগুলো অনেক বাঙালি ও জাতীয়তাবাদীকে পাকিস্তানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
স্বাধীনতা, মানবতা, প্রেম ও বিপ্লব নজরুলের অসাধারণ সাহিত্য বার বার এসেছে। তিনি মৌলবাদ ও সব ধরনের বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ছিলেন।
নজরুল ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধও প্রকাশ করেছেন। যদিও তার গান ও কবিতা সমালোচকদের কাছ থেকে সর্বাধিক প্রশংসা পেয়েছে। তিনি তার লেখায় আরবি ও ফারসি শব্দের উদার ব্যবহার এবং বাংলা গজল সুর জনপ্রিয় করার জন্য বিখ্যাত।
তিনি ‘নজরুল গীতি’ নামে পরিচিত তার নিজস্ব সংগীত ধারা আবিষ্কার করেছিলেন। যার মধ্যে অনেকগুলো ভিনাইল ও এইচএমভি রেকর্ডে প্রকাশিত হয়েছিল।
নজরুল যখন ৪৩ বছর বয়সে একটি অজ্ঞাত রোগে ভুগছিলেন এবং ১৯৪২ সালে তিনি তার কণ্ঠস্বর এবং স্মৃতিশক্তি হারাতে শুরু করেন।
ভিয়েনার একটি মেডিকেল টিম বলে তার রোগটি ছিল ‘পিকস ডিজিজ’। একটি বিরল ও মারাত্মক নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ।
বাংলাদেশ সরকার এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমন্ত্রণে নজরুলের পরিবার বাংলাদেশে চলে আসেন এবং ১৯৭২ সালে ঢাকায় স্থায়ী হন। একই বছর বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘জাতীয় কবি’ খেতাবে ভূষিত করেন।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তার অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডিলিট এবং ১৯৭৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট বিদ্রোহী কবি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
৬৪৬ দিন আগে
৭ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে 'ভিত্তিহীন' মামলার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিরা
বাংলাদেশে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা 'ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' হত্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)।
অভিযুক্ত সাংবাদিকরা হলেন- মোজাম্মেল হক বাবু, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, আহমেদ জোবায়ের, মুন্নী সাহা, ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ ও নাঈমুল ইসলাম খান।
গত ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলন চলাকালে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত এসব অভিযোগ শুধু অযৌক্তিকই নয়, চরম অন্যায়ও বটে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, সানারপাড়ের রওশন আরা ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী নাঈম হাওলাদারের মৃত্যুর ঘটনায় এসব সাংবাদিকসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৯২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীতে কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নাঈমের মৃত্যু হয়। গত ২২ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন: সাবেক বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে সিলেটে মামলা
পূর্ব উত্তরা থানায় দায়ের করা পৃথক হত্যা মামলায় শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপা বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
বিশিষ্ট ফরাসি মানবাধিকারকর্মী এবং জেএমবিএফের প্রধান উপদেষ্টা রবার্ট সাইমন বলেন, ‘সাংবাদিকদের মিথ্যা অভিযোগ ও আইনি হয়রানি করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আক্রমণ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে এবং বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’
জেএমবিএফের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আইনজীবী শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা মানে বাকস্বাধীনতাকে দমন করা, সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরকে দমন করা, স্বাধীন সাংবাদিকতাকে থামিয়ে দেওয়া, গণমাধ্যমকে ভয় দেখানো এবং বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ভিত্তিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা। অবিলম্বে এই চর্চা বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সব সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাহার, শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপাকে মুক্তি এবং কোনো প্রকার ভয় ছাড়াই সত্য প্রকাশের সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে জেএমবিএফ।
এছাড়াও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত, সব সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেএমবিএফ।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে শেখ হাসিনাসহ ৮৫ জনের নামে হত্যা মামলা
৬৪৭ দিন আগে
ওয়ার্ল্ড মিডিয়া সামিটে আমন্ত্রণ পেলেন ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েতউল্লাহ খান
ষষ্ঠ ওয়ার্ল্ড মিডিয়া সামিটে (ডব্লিউএমএস) অংশগ্রহণ করতে আমন্ত্রিত হয়েছেন ইউনাইটেড নিউজ অফ বাংলাদেশের (ইউএনবি) প্রধান সম্পাদক এনায়েতউল্লাহ খান। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর এই সামিট হতে যাচ্ছে।
২০০৯ সালে সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, তাস ও কিয়োডো নিউজের মতো শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক মিডিয়া সংস্থাগুলো মিলে ওয়ার্ল্ড মিডিয়া সামিট প্রতিষ্ঠা করে। এটি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতার জন্য একটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।
এবারের সামিটের প্রতিপাদ্য ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মিডিয়া ট্রান্সফরমেশন'। গণমাধ্যমে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে এবারের সামিটে আলোচনা করা হবে। সংবাদ সংগ্রহ, উৎপাদন এবং বিতরণকে এআই কীভাবে নতুন রূপ দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এআইয়ের কারণে গণমাধ্যমকে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে ও যেসব সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে সেসব বিষয়ে আলোচনা করবেন সামিটে অংশগ্রহণকারীরা।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনের গুয়াংডং ও ইউনান প্রদেশে আয়োজিত হয় ৫ম ওয়ার্ল্ড মিডিয়া সামিট। এই আয়োজন বেশ প্রশংসিত হয় যার ফলে এবছরের আয়োজনের ওপর প্রত্যাশা আরও বেশি।
বিশ্বের প্রধান প্রধান গণমাধ্যম, সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং হাই-টেক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সামিটে যোগ দেবেন ইউএনবির প্রতিষ্ঠাতা এনায়েতউল্লাহ খান। ইউএনবি প্রতিষ্ঠার পর একে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড বেসরকারি সংবাদ সংস্থায় পরিণত করেছেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয় সাপ্তাহিক ঢাকা কুরিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে তিনি বাংলাদেশে ডিজিটাল সাংবাদিকতার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
প্রতিনিয়ত বিশ্ব গণমাধ্যম যেসব সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে সেগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে পরিণত হয়েছে ওয়ার্ল্ড মিডিয়া সামিট। এ বছরের সামিটে এআই ও গণমাধ্যমের রূপান্তরকে মূল আলোচ্য করা হয়েছে, যা বিশ্ব গণমাধ্যমের গতিশীলতা ও স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে উদ্ভাবনের ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরে।
৬৪৭ দিন আগে
বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বাইডেন-মোদির আলোচনা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় গুরুত্বারোপ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
দুই নেতা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সোমবার (২৬ আগস্ট) ফোনালাপে মোদী ও বাইডেন ইউক্রেন ও কোয়াড ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেওয়ার গুজব ও ভুয়া ভিডিও প্রত্যাখান দিল্লির
তারা ইউক্রেন পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
মোদি বলেন, 'আমি শান্তি ও স্থিতিশীলতা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
আরও পড়ুন: ভারতীয় ভিসা সেন্টারে বিক্ষোভ: নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ভারতের
৬৪৭ দিন আগে