ব্যবসা
টানা পতনের মুখে পুঁজিবাজার, তিন দিনে সূচক কমেছে ৪০ পয়েন্ট
সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে তিন দিনই পতন হয়েছে ঢাকার পুঁজিবাজারে। চলতি সপ্তাহের এ কয়দিনের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ৪০ পয়েন্ট।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) ডিএসইতে লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় সূচকের উত্থান হলেও দিনের শেষে এসে কমেছে প্রধান এবং শরীয়াভিত্তিক সূচক।
এতে করে গত সপ্তাহে ৫১৬৬ পয়েন্ট নিয়ে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ডিএসইএক্সের সূচক টানা তিন দিনের পতনে কমে হয়েছে ৫১২৬ পয়েন্ট।
একদিনের লেনদেনে ডিএসইএক্স কমেছে ৩ পয়েন্ট। শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস কমেছে ৪ পয়েন্ট। তবে সূচক বেড়েছে বাছাইকৃত শেয়ারে। ব্লুচিপ ডিএস-৩০ বেড়েছে ২ পয়েন্ট।
সূচক কমলেও দিনের লেনদেনে দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির। লেনদেন হওয়া ৪০২ কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৩, কমেছে ১৫২ এবং অপরিবর্তিত আছে ৭৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এ ক্যাটাগরিতে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ২২২ কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৯১, কমেছে ৮৭ এবং অপরিবর্তিত আছে ৪৪ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
বি ক্যাটাগরিতে দাম কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির। ৯১ কোম্পানির মধ্যে ৩৩ কোম্পানির দাম বাড়লেও, কমেছে ৪০ কোম্পানির দাম। আর অপরিবর্তিত আছে ১৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
দাম বাড়ার তালিকায় আনুপাতিক হারে এগিয়ে আছে জেড ক্যাটাগরি। এই ক্যাটাগরির ৮৫ কোম্পানির মধ্যে ৪৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ২২ কোম্পানির। দাম অপরিবর্তিত আছে ১৫ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
লেনদেন হওয়া ৩৬ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে বেশিরভাগ কোম্পানির দাম ছিল অপরিবর্তিত। ৯ কোম্পানির দাম বেড়েছে, কমেছেও ৯ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
আরও পড়ুন: পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে
ব্লক মার্কেটে ১৭ কোম্পানির ১৮ লাখ ৫৯ হাজার শেয়ার ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকায় লেনদেন হয়েছে।
খাতভিত্তিক শেয়ারে সর্বোচ্চ সিরামিক খাতের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অন্যান্য খাতের মধ্যে খাদ্যশিল্প, টেক্সটাইল, টেলিকমিউনিকেশন, কাগজশিল্প, ইন্স্যুরেন্স, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং করপোরেট বন্ডের দাম বেড়েছে।
উল্লেখযোগ্য বাকি খাতে চামড়াশিল্প, প্রযুক্তিখাত এবং পাটশিল্প কেন্দ্রিক কোম্পানির শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। বেশিরভাগ কোম্পানির দাম বাড়লেও ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানখাতে সার্বিক মূল্যমান নেমেছে নেতিবাচকের ঘরে।
ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বি ক্যাটাগরির কোম্পানি ওমিক্স ইলেকট্রোড লিমিটেড। একদিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। সর্বশেষ ওমিক্সের প্রতিটি শেয়ার ২৮ টাকা দরে লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ দাম কমে দরপতনের শীর্ষে উঠে এসেছে এডিএন টেলিকম লিমিটেড। একদিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০৮ দশমিক ১০ টাকা উঠলেও লেনদেশ শেষ হয়েছে ৯৭ দশমিক ৮০ টাকায়।
মঙ্গলবার লেনদেনে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ পেয়েছে ১০ কোম্পানি থেকে। এদের মধ্যে পুঁজিবাজারে মূলধন জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বিনিয়োগকারীদের শেয়ারপ্রতি ২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
আইসিবি ২০১৫ সালে বিনিয়োগকারীদের শেয়ারপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা ক্রমাগত কমতে কমতে ২০২৩ সালে ২ দশমিক ৫০ শতাংশে এসে ঠেকেছে। ২০২৪ সালে এসে এই লভ্যাংশ কমলো আরও দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীদের পছন্দের তালিকায় থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস শেয়ারপ্রতি ১১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। গত এক দশকে প্রতিষ্ঠানটি এবারই সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দিলো বিনিয়োগকারীদের।
স্কয়ার গ্রুপের আরেক কোম্পানি স্কয়ার টেক্সটাইল পিএলসি বিনিয়োগকারীদের ৩২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৩০ শতাংশ। কোম্পানিটি এক দশকে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ২০২২ সালে।
গত দশ বছরে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দিয়েছে কহিনূর কেমিক্যালস কোম্পানি। ২০২৪ সালে কোম্পানিটি ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ বণ্টন করেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৪০ শতাংশ। এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম উঠেছিল সর্বোচ্চ ৮৩০ টাকা এবং দাম কমে সর্বনিম্ন ৪৫৯ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছিল। লভ্যাংশের ঘোষণা দিলেও মঙ্গলবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে সর্বশেষ ৫৩৪ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।
লোকসান হওয়ার পরেও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বোর্ড সভায় কোম্পানিটি ২০২৪ সালে বিনিয়োগাকারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ডিএসসিকে দেয়া হিসাবে গত বছর সিঙ্গারের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ৯১ পয়সা, যেখানে আগের বছর শেয়ারপ্রতি ৫ টাকা ২৪ পয়সা আয় হয়েছিল।
লোকসানের কারণ উল্লেখ করে সিঙ্গার জানিয়েছে, ব্যাংকঋণের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় বেড়েছে কোম্পানির অর্থায়নের। ২০২৩ সালে অর্থায়ন ব্যয় (ফাইন্যান্সিয়াল কস্ট) ৬০ কোটি ৪০ লাখ থাকলেও ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ১৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়গে নতুন নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
এদিকে সূচক বেড়েছে চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে। একদিনের লেনদেনে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক বেড়েছে ২১ পয়েন্ট।
লেনদেন হওয়া ১৮৬ কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৬, কমেছে ৭০ এবং অপরিবর্তিত আছে ৩০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে সূচক বাড়লেও গতদিনের তুলনায় কমেছে লেনদেন। সারাদিন সিএসইতে ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা পূর্বের কর্মদিবসের তুলনায় ২১ কোটি টাকা কম।
৪৯২ দিন আগে
পুঁজিবাজারে সূচকের পতন, বেড়েছে লেনদেন
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা-চট্টগ্রাম দুই পুঁজিবাজারে সূচকের পতন হলেও গতদিনের তুলনায় বেড়েছে লেনদেন। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা থেকেই সূচক কমতে থাকে দুই পুঁজিবাজারে। বিনিয়োগকারীরা বড় ধসের শঙ্কা করলেও দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ২ পয়েন্ট।
ডিএসইর অন্য দুই সূচক শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস এবং ডিএস-৩০ এ আসেনি তেমন কোনো পরিবর্তন। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে ২৯ পয়েন্ট। চট্টগ্রামের বাজারে সূচক কমলেও এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
সিএসইতে দিন শেষে মোট ৩২ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। সারাদিনের লেনদেনে দাম বেড়েছে ৬৪, কমেছে ১০৫ এবং অপরিবর্তিত আছে ২০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
আরও পড়ুন: প্রথম কার্যদিবসে বড় পতনের মুখে দেশের দুই পুঁজিবাজার
ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৯ কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪০, কমেছে ১৭৮ এবং অপরিবর্তিত আছে ৮১ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৭৯ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ১০৪ এবং অপরিবর্তিত আছে ৩৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ২৫ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৪৯ এবং অপরিবর্তিত আছে ১৬ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সূচক কমলেও তুলণামূলক ভালো অবস্থানে আছে ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি। ৮৫ জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩২, কমেছে ২৫ এবং ২৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত আছে।
মিচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ৬, কমেছে ১৬ এবং অপরিবর্তিত আছে ১৫ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সোমবার ব্লক মার্কেটে ৩৭ কোম্পানির ৪১ লাখ ৯৬ হাজার শেয়ার ৩৫ কোটি ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ডিএসইতে মোট ৩৪৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিনের তুলনায় ২৬ কোটি টাকা বেশি।
ঢাকার পুঁজিবাজারে দরবৃদ্ধিতে শীর্ষে আছে শার্প ইন্ডাজট্রিজ পিএলসি। একদিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে দরপতনে শীর্ষে উঠে এসেছে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ৬ শতাংশের বেশি।
ডিএসইতে সারাদিনের লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের গত বছর তৃতীয় প্রান্তিকের লভ্যাংশ দিয়েছে ৯ কোম্পানি।
এর মধ্যে সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড শেয়ারপ্রতি ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। বিগত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ৫৯৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১২১ টাকা ২০ পয়সায় নেমে এসেছিল। সোমবার সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার ১৩২ টাকায় লেনদেন হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রথম ঘণ্টায় ঢাকার পুঁজিবাজারে সবকটি সূচকের পতন
অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসি ২১ শতাংশ, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসি ১৬ শতাংশ, আর্গন ডেনিমস লিমিটেড ১০ শতাংশ, এপেক্স ট্যানারি লিমিটেড ৫ শতাংশ, মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারি লিমিটেড ৩ শতাংশ, এভিন্স টেক্সটাইল লিমিটেড ২ দশমিক ৫০ শতাংশ, রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড ২ শতাংশ এবং লেগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেড শেয়ারপ্রতি ১ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দিয়েছে।
এর বাইরে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের নাম বেস্ট হোল্ডিং পিএলসিতে পরিবর্তন করার অনুমোদন দিয়েছে ডিএসই।
৪৯৩ দিন আগে
এডিবির সহায়তায় প্রথম 'গ্রিন ডাটা সেন্টার' স্থাপন করবে বাংলাদেশ
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বাংলাদেশে প্রথম সবুজ ডাটা সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রলল্পটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
এ লক্ষ্যে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) এডিবি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিসিএল এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।
আজ ঢাকায় পিপিপিএ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পিপিপিএ’র মহাপরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এ কে এম আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন পিটিডির অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ সালেহদ্দিন এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
চট্টগ্রামে বিটিসিএলের মালিকানাধীন একটি অবকাঠামোতে অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টারটি স্থাপন করা হবে এবং উচ্চ প্রাপ্যতা এবং পরিচালন সক্ষমতার মাপকাঠি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক মানে নির্মিত হবে।
এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে চলবে। বিটিসিএলের অভ্যন্তরীণ ডেটা স্টোরেজ চাহিদা পূরণের সময় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক সমষ্টিগত পরিষেবা সরবরাহ করবে।
আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাংক ও এডিবির ১.১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা অনুমোদন
হোয়ে ইয়ুন জিয়ং বলেন, 'এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ডিজিটাল ভিশন অর্জন, দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে সহায়তা করার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং টেকসই অনুশীলনগুলোকে একীভূত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
প্রকল্পটি ইনফোটেক (তথ্য প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত রূপ) খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পিপিপি মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে শিগগিরই লেনদেন পরামর্শমূলক পরিষেবা (টিএএস) চুক্তি সই হবে।
এডিবির টিএএস সহায়তার মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প কাঠামো, দরপত্র এবং অংশীজনদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যা তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
আরও পড়ুন: তিন সংকট মোকাবিলায় এডিবির সহযোগিতা চান পরিবেশ উপদেষ্টা
৪৯৩ দিন আগে
জানুয়ারির ২৫ দিনে ১৬৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পেল বাংলাদেশ
চলতি জানুয়ারির প্রথম ২৫ দিনে বৈধভাবে ১৬৮ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)।
এতে প্রতিদিন গড়ে ছয় কোটি ৭০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশের সর্বশেষ রেমিট্যান্স হালনাগাদ তথ্য বলছে, এভাবে যদি রেমিট্যান্স আসা অব্যাহত থাকে, তাহলে চলতি মাসে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসতে পারে।
কেন্দ্রিক ব্যাংকের এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এ মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ডলার, একটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে সাত কোটি ৪৪ লাখ ডলার, প্রাইভেট ব্যাংকের মাধ্যমে ১২৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার ও বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে।
আর আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে একটি পয়সাও রেমিট্যান্স আসেনি বাংলাদেশে। সেগুলো হলো: বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, পাকিস্তানি হাবিব ব্যাংক ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩৭৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। আগের বছর একই সময়ে এক হাজার ৮০ কোটি ডলার এসেছে। অর্থাৎ এ সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৯৮ কোটি ডলার।
৪৯৪ দিন আগে
ঋণ খেলাপির সময়সীমা বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের কাছে ঋণ খেলাপির সময়সীমা ৩ মাস থেকে বাড়িয়ে ৯ মাস করার দাবি জানিয়েছে ব্যাবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। যার মধ্যে রয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার স্থিতিশীল রাখা, ডলারের যোগান স্বাভাবিক রাখাসহ অনিচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের নীতিসহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থনীতিতে পূনর্বাসন করা।
এর বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প-কারখানাকে নীতিসহায়তা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি মোকাবেলায় উদ্যোক্তাদের সহায়তা, সময়মত এক্সপোর্ট বিল পরিশোধ, এসএমই এবং কৃষি খাতের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণসহ দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই।
খেলাপি ঋণের সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ব্যবসায়ী নেতারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানান, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
এ সময়ে অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহযোগিতা আহ্বান করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি আবুল কাশেম হায়দার, সাবেক পরিচালক আব্দুল হক, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী (খোকন), প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এসএম ফজলুল হক, এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর, এফবিসিসিআইর সাধারণ পরিষদ সদস্য জাকির হোসেন নয়ন ও জাকির হোসেন প্রমুখ।
৪৯৪ দিন আগে
কর্মকর্তাদের অসদাচরণের বিরুদ্ধে কঠোর হবে এনবিআর: চেয়ারম্যান
দুর্নীতি ও কাজে অবহেলার ব্যাপারে কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, অতীতের মতো এ ধরনের কোনো আচরণ বা কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে এনবিআর মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা খুব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি, আমাদের কর্মকর্তারা যদি তাদের আগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন তবে তাদের গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
‘অতীতের মতো কোনো ধরনের গড়িমসি বা আপোষের মনোভাব আমরা বরদাশত করব না। এমন কিছু দেখলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এনবিআর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ পেলে তা নিয়ে সংস্থাটির কাছে অভিযোগ জানাতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারি, তবে কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসে না।’
আরও পড়ুন: হয়রানি কমাতে অনলাইন কর পদ্ধতি সংস্কারের পরিকল্পনা এনবিআরের
এ সময় ব্যবসা সম্প্রসারণের নামে কর অব্যাহতির প্রবণতা থেকে ব্যবসায়ীদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি প্রবণতা রয়েছে যে, ট্যাক্স-ভ্যাট অব্যাহতি ছাড়া ব্যবসা বাড়বে না। তাদের এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
ভ্যাট ও কর অব্যাহতি না থাকার পরও উন্নত দেশগুলো কীভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ করুন। তারপর যদি সেটা আপনার পক্ষে সম্ভব বলে মনে হয় তবে সেই ব্যবসায় যান, নাহলে বাদ দিন।’
ব্যবসায়িক স্বার্থে যেকোনো মূল্যে কর অব্যাহতি আদায় করতেই হবে—এমন মনোভাব পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে আমাদের সুশাসন। আমরা আমাদের সব ব্যবসার জন্য বিভিন্ন খাত উন্মুক্ত করতে পারি না।’
খাতগুলো উন্মুক্ত করে এসব খাতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যদি প্রতিযোগিতা বাড়ানো যায়, তাহলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘অনেক ব্যবসা খাতেই দেখা যায়, হাতেগোনা কয়েকজন খেলোয়াড়। আমরা এখান থেকে সরে আসতে চাই। এই খেলোয়াড়রা অন্যদের ঢুকতে দিচ্ছে না। এই জায়গাটি আমরা উন্মুক্ত করতে পারি।’
৪৯৪ দিন আগে
প্রথম কার্যদিবসে বড় পতনের মুখে দেশের দুই পুঁজিবাজার
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা-চট্টগ্রাম দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের বড় পতন হয়েছে। দাম কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির। চট্টগ্রামে লেনদেন বাড়লেও কমেছে ঢাকার বাজারে।
রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনের প্রথম ঘণ্টা থেকেই দেশের দুই পুঁজিবাজার সমানতালে সূচক হারাতে থাকে। অবশেষে সূচকের পতনের ধারা অব্যাহত রেখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩৪ পয়েন্ট এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে ৬৫ পয়েন্ট।
সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৪০৩ কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে ২৬১, বেড়েছে ৭৫ এবং অপরিবর্তিত আছে ৬৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে ১৮৮ কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে ১০৩, বেড়েছে ৫৫ এবং অপরিবর্তীত আছে ৩০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
গেল কার্যদিবসের তুলনায় ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৩৮ কোটি টাকা। সিএসইতে সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে ৭ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: পুঁজিবাজারে পতন, কমেছে সবকটি সূচক
ঢাকার পুঁজিবাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৩১৮ কোটি টাকা, যা গত কার্যদিবসে ছিল ৩৫৬ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
ডিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরির ২২৪ কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে ১৪৭, বেড়েছে ৩৬ এবং অপরিবর্তিত আছে ৪১ কোম্পানির শেয়ারের দাম। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে দাম কমেছে ৫৯, বেড়েছে ২৩ এবং অপরিবর্তিত আছে ২৩ কোম্পানির শেয়ারের দাম। ‘জেডে’ দাম কমেছে ৫২, বেড়েছে ১৫ এবং অপরিবর্তিত আছে ১৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
লেনদেন হওয়া ৩৭ মিচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম কমেছে ২১, বেড়েছে ৩ এবং অপরিবর্তিত আছে ১৩ কোম্পানির শেয়ারের দাম। ব্লক মার্কেটে ১৫ কোম্পানির ৩২ লাখ ২৬ হাজার ৩৯৪ শেয়ার বিক্রি হয়েছে ১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকায়।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া সিমেন্ট, সিরামিক, টেলিযোগাযোগ এবং পাটখাতের কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়েনি। ব্যাংকখাতে ১৭ কোম্পানির দাম অপরিবর্তিত এবং কমেছে ১৬ কোম্পানির শেয়ারের দাম। ওষুধশিল্প খাতে শেয়ারের দাম কমেছে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। খাতটিতে ৭ কোম্পানির দাম বাড়লেও, কমেছে ২৭ কোম্পানির দাম।
পতনের বাজারে তুলণামূলক ভালো অবস্থানে আছে প্রযুক্তি, আবাসন, টেক্সটাইল এবং পর্যটনখাত। আইটিখাতে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির মধ্যে দুটিরই দাম বেড়েছে।
ডিএসইতে ৬ কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের গত বছর তৃতীয় প্রান্তিকের লভ্যাংশ দিয়েছে। এছাড়া আরেক কোম্পানি ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম দুই পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু পতন দিয়ে
সারাদিনের লেনদেনে ডিএসইতে দরবৃদ্ধিতে শীর্ষে আছে শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। একদিনের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ।
অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে উঠে এসেছে কেয়া কসমেটিকসের নাম। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে ১০ শতাংশ। ডিএসইকে কোম্পানিটি জানিয়েছে পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় কারখানা বন্ধ করে দিলেও আপাতত কোম্পানিটির অন্যান্য কার্যক্রম চলমান থাকবে।
ডিএসইর এসএমই খাতেও অব্যাহত আছে পতনের ধারা। এসএমই খাতে একদিনে সূচক কমেছে ১৭ পয়েন্ট। তালিকাভুক্ত ১৮ কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে ১৩, বেড়েছে ৪ এবং অপরিবর্তিত আছে একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
৪৯৪ দিন আগে
সপ্তাহ ব্যবধানে সূচক বাড়লেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ব্যাংকখাত
এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৩৩ পয়েন্ট। প্রধান সূচক বাড়লেও ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন আসেনি ব্যাংক খাতে।
বাংলাদেশের প্রধান এই শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পাঁচ কার্যদিবসে ব্যাংকখাতে শেয়ারের দাম এবং লেনদেনের পরিমাণ দুটিই কমেছে।
তালিকাভুক্ত ৩৬ ব্যাংকের দাম কমেছে গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ। দাম কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ আট শতাংশ কমেছে। এই খাতে শেয়ারের দাম কমায় আগ্রহ হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারী এতদিন ব্যাংকখাতকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করলেও গত কয়েক সপ্তাহের পতনে এই খাতের ওপর আর ভরসা রাখতে পারছেন না।
আরও পড়ুন: শেয়ার বাজারে টানা দুই কার্যদিবস সূচকের পতন
এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যাংকখাতে লেনদেন হওয়া শেয়ারের পরিমাণ কমেছে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অন্যান্য ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি পুরো সপ্তাহজুড়ে এসআলম সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ শেয়ারের দাম ছিল নিম্নমুখী।
ব্যাংকখাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারেরও বেহাল দশা। এই সপ্তাহে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। খাতভিত্তিক লেনদেনে কাগজ, আবাসন, ওষুধ, সিমেন্ট এবং প্রকৌশল শিল্প নিজেদের ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে।
সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গড় লেনদেন বেড়েছে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। গত সপ্তাহে বাজারে গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭৪ কোটি টাকা, যা পাঁচ কার্যদিবসে বেড়ে হয়েছে ৪১২ কোটি টাকা। ডলারের হিসাবে এক সপ্তাহে বাজারে লেনদেন বেড়েছে ১৪ মিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন: দুই শেয়ারবাজারেই দরপতন, ডিএসইর সূচকে কমেছে ৩৫ পয়েন্ট
সাপ্তাহিক লেনদেনে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দামবৃদ্ধির তালিকায় আছে ২০১ কোম্পানি। এছাড়া দাম কমেছে ১৫০ এবং অপরিবর্তিত আছে ৪৬ কোম্পানির। সপ্তাহ ব্যবধানে মার্কেট রিটার্ন এসেছে দশমিক ৩৫ শতাংশ।
৪৯৭ দিন আগে
বাজারে ৩ হাজার কোটি টাকার ইসলামি বন্ড ছাড়বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
শিগগিরই বাজারে বাংলাদেশ সরকারের পঞ্চম বিনিয়োগ সুকুক বা ইসলামি বন্ড আনার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মার্চ মাসের একটি সামাজিক প্রকল্পের বিপরীতে ৩ হাজার কোটি টাকার সুকুক ইস্যু করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ভিত্তিক প্রকল্পের বিপরীতে এই সুকুক ইস্যু করা হবে।
দেশি-বিদেশি ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের সুকুকে উৎসাহিত করতে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, বীমা কোম্পানির অনুকূলে ৭০ শতাংশ, কনভেনশনাল ব্যাংকগুলোর ইসলামিক ব্রাঞ্চ ও উইন্ডোজের অনুকূলে ১০ শতাংশ এবং ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারী, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ডিপোজিট ইন্সুরেন্সের অনুকূলে ২০ শতাংশ সুকুক বরাদ্দের হার পুনঃনির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বিপরীতে এই সুকুক ইস্যু করা হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রকল্প এলাকার আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ও অকৃষি পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সহজীকরণ ও ব্যয় হ্রাস এবং স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সুকুক ক্রয়ে সকল তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানি শর্তসাপেক্ষে নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে নির্ধারিত শ্রেণি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন না পাওয়া গেলে অবশিষ্ট সুকুক আনুপাতিক হারে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে স্থায়ী বসবাসরত ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারীরা তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সুকুকে বিনিয়োগ করতে পারবে।
আর প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে কার্যরত যে কোনো ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্টের বৈদেশিক মুদ্রা বা টাকার মাধ্যমে সুকুকে বিনিয়োগ করতে পারবে। সুকুকে বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ করলে মুনাফা, বিক্রয়লব্ধ অর্থ ও মেয়াদপূর্তিতে প্রাপ্ত আসল বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং খাতের তারল্যকে সরকারের ঘাটতি অর্থায়নে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি বন্ড বা সুকুক চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
যারা সুদযুক্ত টি-বিল, বন্ড ও অন্যান্য সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে আগ্রহী না, তাদের অব্যবহৃত অর্থ বিনিয়োগে সুকুককে ভালো মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৪৯৭ দিন আগে
পুঁজিবাজারে পতন, কমেছে সবকটি সূচক
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেনে ঢাকা-চট্টগ্রাম দুই পুঁজিবাজারের সূচকের পতন হয়েছে। এক্সচেঞ্জ হাউস দুটির প্রধান সূচক থেকে শুরু করে সবকটি সূচক কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১০ পয়েন্ট। এছাড়া শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস ৪ এবং ব্লু-চিপ ডিএস-৩০ এর সূচক কমেছে ৬ পয়েন্ট।
লেনদেন হওয়া ৩৯৮ কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির। ১০৫ কোম্পানির দাম বাড়লেও কমেছে ২০৪ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৮৯ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৩, কমছে ১১৯ এবং অপরিবর্তিত আছে ৪৬ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
‘বি’ ক্যাটাগরিতে দাম বেড়েছে ২৯, কমেছে ৪৭ এবং অপরিবর্তিত আছে ১৫ কোম্পানির শেয়ারের দাম। ‘জেডে’ দাম বেড়েছে ২৩, কমেছে ৩৪ এবং অপরিবর্তিত আছে ২৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
নতুন ৪ কোম্পানি ‘এন’ ক্যাটাগরির সবকটি শেয়ারের দাম কমেছে। ৩৭ মিচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ৫, কমেছে ১০ এবং অপরিবর্তিত আছে ২২ কোম্পানির শেয়ারের দাম। দুটি করপোরেট বন্ডের মধ্যে একটির দাম কমেছে, আরেকটির বেড়েছে।
ব্লক মার্কেটে ২৯ কোম্পানির ২১ লাখ শেয়ার ৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে।
খাতভিত্তিক শেয়ারে তালিকাভুক্ত ৩৬ ব্যাংকের মধ্যে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিল অপরিবর্তিত। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭ এবং কমেছে ১০ ব্যাংকের শেয়ারের দাম। ব্যাংকখাতে দরবৃদ্ধির শীর্ষে আছে মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং দরপতনের শীর্ষে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।
লেনদেন হওয়া খাতে টেক্সটাইলের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ। এছাড়া ব্যাংক, সিমেন্ট এবং করপোরেট বন্ড খাতে দাম বেড়েছে। খাতভিত্তিক দরপতনে কাগজশিল্প, আইটি খাত, আবাসন এবং টেলিযোগাযোগ খাতের শেয়ারের দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে দাম বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে আছে মালেক স্পিনিং মিলস। এক দিনের লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে দরপতনে শীর্ষ কোম্পানি ওইমেক্স ইলেকট্রোডের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
একদিনের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৫৭ কোটি টাকা। লেনদেনের পাশাপাশি কমেছে শেয়ার বেচাকেনার পরিমাণও। ডিএসইতে মোট ৩৫৬ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ৪১৩ কোটি টাকা।
একইভাবে পতনের ধারা বজায় আছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। বৃহস্পতিবার সিএসই'র সার্বিক সূচক কমেছে ৬৯ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ১৯২ কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৯, কমেছে ১০৪ এবং অপরিবর্তিত আছে ২৯ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে ২০ লাখ ২১ হাজার শেয়ার ১ হাজার ৮০২ বার হাতবদল হয়ে মোট ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।
লভ্যাংশ বণ্টন
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে মোট সাতটি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের পূর্বঘোষিত ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় সিংহভাগ কোম্পানির দেয়া লভ্যাংশের পরিমাণ কমেছে।
এর মধ্যে এসিআই লিমিটেড বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৪০ শতাংশ। আরেক কোম্পানি ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের ২০২৪ সালের হিসাবে ৬০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৮০ শতাংশ।
অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এডিএন টেলিকম লিমিটেড ১০ শতাংশ, বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাস্টিক, সাইহাম কটন মিল এবং সাইহাম টেক্সটাইল ৫ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিয়েছে।
৪৯৭ দিন আগে