খেলাধুলা
পগবাকে অপহরণ মামলায় ভাইয়ের ৩ বছরের জেল
নিজের ভাইকে অপহরণ ও চাঁদাবাজির দায়ে ফরাসি ফুটবলার পল পগবার ভাই মাথিয়াস পগবাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) প্যারিসের অপরাধ আদালত মাথিয়াসকে মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেয়।
আগে থেকেই জেলে থাকা মাথিয়াসকে অবশ্য তিন বছরই শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে না। দুই বছর তিনি জেল খাটায় বাকি এক বছর এখন তাকে গৃহবন্দি ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পুলিশি নজরদারিতে থাকতে হবে।
ঘটনাটি ২০২২ সালের। ওই বছরের মার্চে বন্দুকের মুখে পগবাকে তুলে নেয় কয়েক ব্যক্তি। এরপর তার কাছে ১৩ মিলিয়ন ইউরো দাবি করে তারা।
ফরাসি গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, মাথিয়াস এবং পগবার শৈশবের বন্ধুরা মিলে তাকে অপহরণ ও চাঁদাবাজির ষড়যন্ত্র করে। এরপর তিনি তাদের ১ লাখ ইউরো দিলেও তারা আরও টাকার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকে।
এমনকি ভাইয়ের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেবেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে হুমকিও দেন মাথিয়াস। শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন ফরাসি মিডফিল্ডার।
আরও পড়ুন: আমি প্রতারক নই: ডোপ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পগবা
এ ঘটনায় মাথিয়াস ছাড়া আরও পাঁচজনের নামে মামলা হয়। দুই বছর পর ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাদের মধ্যে থেকে রুশদেন নামের একজনকে প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অন্য চার অভিযুক্তকেও চার থেকে আট বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ওই ঘটনায় পল পগবা আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়েছে বলে জানায় আদালত। আদালতের রায় অনুযায়ী, সে সময় তার মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ইউরো আর্থিক ক্ষতি হয়। এছাড়া যে মানসিক যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে তাকে ওই সময় পার করতে হয়েছে, আর্থিক মূল্যে তার পরিমাণ ৫০ হাজার ইউরো নির্ধারণ করেছে আদালত। এই অর্থের মোট অঙ্ক মাথিয়াস ছাড়া বাকি পাঁচজনকে পরিশোধ করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার শুনানিতে প্রকাশ পায়, মাথিয়াস ওই ষড়যন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অবশ্য মাথিয়াসের আইনজীবী এই শাস্তিকে অত্যন্ত কঠোর বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
আইনজীবীর দাবি, মাথিয়াসকে এই ষড়যন্ত্রে জড়িত হতে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল।
২০২৩ সালে ডোপ টেস্টের ফল পজিটিভ আসায় পেশাদার ফুটবলে নিষিদ্ধ হন পল পগবা। তারপর সম্প্রতি তার শাস্তি কমানো হলেও এরই মধ্যে তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে ইউভেন্তুস।
তবে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে শিগগিরই মাঠে ফেরার প্রত্যয় ঝরেছে ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা ফুটবলারের কণ্ঠে।
৪৪১ দিন আগে
ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের ইতিহাস
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করে দারুণ এক প্রতিশোধ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে টি-টোয়েন্টি নিজেদের অর্জনের মুকুটে যোগ হয়েছে নতুন পালক।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে লিটন দাসের দল। এর আগে প্রথম দুই ম্যাচে ৭ ও ২৭ রানে জয় পায় টাইগাররা।
এদিন টস জিতে শুরুতে ব্যটিং করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৬.৪ ওভারেই ১০৯ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়দের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে ৪১ বলে সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন রান আউট ভেবে ড্রেসিংরুমে চলে গিয়ে আবার ফেরা জাকের আলি অনিক। এছাড়া ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ২১ বলে ৩৯ এবং মেহেদি হাসার মিরাজ করেন ২৩ বলে ২৯ রান।
দুই উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফলতম বোলার রোমারিও শেফার্ড। একটি করে উইকেট নেন আলজারি জোসেফ, রোস্টন চেস ও গুদাকেশ মোটি। এছাড়া রান আউটের শিকার হন শামীম হোসেন ও শেখ মেহেদী।
অপরদিকে, ১৯০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দ্বিতীয় বলেই ইউকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর ফলে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেনি বাংলাদেশি বোলারদের।
লোয়ার মিডল অর্ডারে নামা শেফার্ডের ২৭ বলে ৩৩ রানই তাদের ইনিংস সর্বোচ্চ। এছাড়া ২৩ রান করেন ওপেনার জনসন চার্লস।
টাইগারদের পাঁচ বোলারই আজ উইকেটের দেখা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিয়েছেন রিশাদ, দুটি করে উইকেট তুলেছেন তাসকিন ও শেখ মেহেদী এবং বাকি দুই উইকেট পেয়েছেন তানজিম সাকিব ও হাসান মাহমুদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১৮৯/৭ (জাকের আলি ৭২, ইমন ৩৯, মিরাজ ২৯; শেফার্ড ২/৩০, চেস ১/১৫)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১০৯/১০ (শেফার্ড ৩৩, চার্লস ২৩, পুরান ১৫; রিশাদ ৩/২১, মেহেদী ২/১৩, তাসকিন ২/৩০)।
ফলাফল: বাংলাদেশ ৮০ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জাকের আলি।
ম্যান অব দ্য সিরিজ: শেখ মেহেদী।
৪৪১ দিন আগে
হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দিলেন অশ্বিন
বোর্ডার–গাভাস্কার টেস্ট সিরিজ চলাকালে হুট করেই অবসরের ঘোষণা দিয়ে বসলেন ভারতীয় স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিন। ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ভারতের একাদশে ছিলেন না তিনি, তার আগে জায়গা হয়নি পার্থে প্রথম টেস্টেও। মাঝে অ্যাডিলেডে গোলাপি বলের দিবারাত্রির টেস্টটিই দেশের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ হয়ে রইল।
ব্রিসবেন টেস্টের শেষে অধিনায়ক রোহিত শর্মার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই অফ স্পিনার। তখনই বোঝা যাচ্ছিল, কিছু একটা ঘোষণা দিতে চলেছেন তিনি। আর তা সত্যি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন তিনি।
‘ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব সংস্করণে এটিই আমার শেষ দিন। ক্রিকেটার হিসেবে যদিও কিছুটা তাড়না আমার ভেতর এখনও আছে, তবে সেটি দেখাতে চাইব ক্লাব পর্যায়ের ক্রিকেটে।’
‘আমার অনেক স্মৃতি থাকবে রোহিতসহ সবার সঙ্গে, আমরা শেষ কয়েকজন বুড়ো যারা ড্রেসিং রুমে ছিলাম (হাসি)।’
‘অনেককেই ধন্যবাদ দিতে হয়। বিসিসিআই ও সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালে আমার দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করা হবে না। তাদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করতে চাই। দীর্ঘ এই পথচলায় কোচ হিসেবে যাদের পেয়েছি (সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা)। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোহিত, বিরাট (কোহলি), আজিঙ্কা (রাহানে), (চেতেশ্বর) পুজারা… যারা ব্যাটের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে অনেক ক্যাচ নিয়েছে এবং এত বছর ধরে আমাকে এত উইকেট নিতে সহায়তা করেছে, সবাইকে ধন্যবাদ।’
আরও পড়ুন: এক বছরের ব্যবধানে ফের অবসরে ইমাদ ওয়াসিম
সংবাদ সম্মেলনে এত বড় ঘোষণা দিলেও এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বের সুযোগ রাখেননি অশ্বিন।
‘এমনিতেই অনেক সময় নিয়ে ফেললাম। এটা আমার আবেগী মুহুর্ত, কারো কোনো প্রশ্ন এখন নিচ্ছি না। আমার মনে হয়, প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর দেওয়ার মতো অবস্থায় আমি নেই। এজন্য আমাকে ক্ষমা করবেন।’
ক্যারিয়ারজুড়ে ১০৬ টেস্ট খেলে ৫৩৭ উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন অশ্বিন। ভারতের হয়ে সাদা জার্সিতে অনিল কুম্বলের (৬১৯) পর তিনিই সবচেয়ে বেশি উইকেটশিকারী। এছাড়া একদিনের ১১৬ ম্যাচে বল হাতে ১৫৬ এবং ৬৫ টি-টোয়েন্টিতে ৭২ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
টেস্টে ৩৭ বার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন অশ্বিন, মুত্তিয়া মুরালিধরনের (৬৭) পর শেন ওয়ার্নের সঙ্গে যা যৌথ সর্বোচ্চ। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন ৮ বার, কুম্বলের সঙ্গে যা যৌথভাবে ভারতের সর্বোচ্চ ও টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ।
এছাড়া টেস্টে সবচেয়ে বেশিবার (২৬৮) বাঁহাতি ব্যাটারদের আউট করার রেকর্ডও রয়েছে তার।
আরও পড়ুন: টেস্ট ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে অবসরে ইমরুল কায়েস
তবে শুধু বোলিং নয়, ব্যাট হাতেও তিনি ক্রিকেট রাঙিয়েছেন। টেস্টে ৬টি সেঞ্চুরি ও ১৪টি ফিফটিতে ২৫.৭৫ গড়ে ৩ হাজার ৫০৩ রান করেছেন এই অলরাউন্ডার। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ অলরাউন্ডারও হয়েছেন অশ্বিন।
টেস্টে ৩০০ উইকেট ও ৩ হাজার রান সংগ্রহ করা ১১ ক্রিকেটারের একজন তিনি। একই টেস্টে পাঁচ উইকেট ও সেঞ্চুরি করার নজির চারবার রেখেছেন তিনি, যা ইয়ান বোথামের (৫ বার) পর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এ ছাড়াও ওয়ানডেতে ১১৬ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ১৫৬টি; টি-টোয়েন্টিতে ৬৫ ম্যাচে ৭২টি। ভারতের ২০১১ বিশ্বকাপ ও ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের সদস্য ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
আসন্ন আইপিএলে তাকে চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে খেলতে দেখা যাবে। এবারের নিলামে তাকে ৯ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছে চেন্নাই।
৪৪৩ দিন আগে
সৌম্যর আঙুলে ৫ সেলাই, রংপুর রাইডার্স শিবিরে দুঃসংবাদ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ জয়ের দিন দুঃসংবাদ শুনল বাংলাদেশ। এই ম্যাচে আঙুলে চোট পেয়ে বেশ কিছুদিনের জন্য ছিটকে গেছেন টাইগারদের বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য সরকার।
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ হলেও টানা দুই ম্যাচ জিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ৭ রানে প্রথম টি-টোয়েন্টি জেতার পর বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে ২৭ রানের জয় পেয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে লিটন দাসের দল।
এদিন ১৩০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে সপ্তম ওভারে তানজিম হাসানের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন রভম্যান পাওয়েল। আগে নিকোলাস পুরানের ক্যাচ নিলেও পাওয়েলকে তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন সৌম্য। এ সময় আঙুলে বলের আঘাত লাগায় ব্যথায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
পরে ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার। তার কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।
আরও পড়ুন: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
এ বিষয়ে বিসিবির এক বিবৃতিতে জাতীয় দলের ফিজিও বায়জেদুল ইসলাম জানান, সৌম্যর আঙুল কেটে যাওয়ায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এক্স-রে করে দেখা গেছে, আঘাত পাওয়া জায়গায় হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে। সুস্থ হতে তার তিন-চার সপ্তাহ লাগতে পারে।
এর ফলে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি তো বটেই, আসন্ন বিপিএলের শুরুর দিকের কিছু খেলাও মিস করবেন সৌম্য। ফলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর শুরু হতে চলা বিপিএলের এবারের আসরের শুরুতে তাকে পাবে না রংপুর রাইডার্স।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দলে ছিলেন না সৌম্য। পরে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে রান না পেলেও শেষ ম্যাচ থেকে ছন্দে ফিরতে শুরু করেছেন এই ব্যাটার। তৃতীয় ম্যাচে ৭৩ বলে ৭৩ রান করেন তিনি। এরপর প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৩২ বলে ৪৩ রান করেন। আর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রানআউট হওয়ার আগে করেন ১১ বলে ১৮ রান।
৪৪৩ দিন আগে
তিন সংস্করণেই ক্যারিবীয়দের কোচ ড্যারেন সামি
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পর এবার ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ হচ্ছেন ক্যারিবীয়দের দুবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক ড্যারেন সামি।
গত বছরের মে মাস থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাদা বলের ক্রিকেটে কোচের দায়িত্ব পালন করে আসছেন সামি। এবার লাল বলের দায়িত্বও দেওয়া হলো ২০১২ ও ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে উইন্ডিজের নেতৃত্ব দেওয়া সামির ওপর।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট দলের বর্তমান কোচ আন্দ্রে কোলির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। আগামী এপ্রিল মাস থেকে টেস্ট দলের দায়িত্ব নেবেন ৪০ বছর বয়সী এই কোচ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রেসিডেন্ট ড. কিশোর শ্যালো বলেছেন, ‘দলের দায়িত্ব নিয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে অভূতপূর্ব নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন ড্যারেন সামি। তার দূরদর্শিতা, নিবেদন ও খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতাই সব সংস্করণে তাকে (কোচ হিসেবে) উপযুক্ত ব্যক্তি করে তুলেছে।’
‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় তুলতে এই নিয়োগ একটি সাহসী ও রোমাঞ্চকর পদক্ষেপ।’
ক্যারিবীয়দের লাল বলের কোচ হিসেবে আগামী বছরের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সামির যাত্রা শুরু হবে। তার আগে জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজই হবে আন্দ্রে কোলির শেষ সিরিজ।
আরও পড়ুন: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
সামির অধীনে ৩৫টি টি-টোয়েন্টি খেলে তার ২০টি জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মধ্যে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে হারিয়ে সিজির জিতেছে তার দল। দায়িত্ব নেওয়ার পর টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের নবম স্থানে থাকা ক্যারিবীয়দের পঞ্চম স্থানে তুলেছেন তিনি।
ওয়ানডেতেও তার জয়ের পাল্লা ভারী। সাবেক এই অলরাউন্ডারের অধীনে ৭টি ওয়ানডে সিরিজ খেলে চারটি জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৪৪৩ দিন আগে
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
আর্নোস ভেল গ্রাউন্ডে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৭ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিন ম্যাচের সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
২০১৮ সালের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়।
ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হতাশাজনক হারের পর সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সফরকারীরা টাইগাররা।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ধীর ও স্যাঁতসেঁতে পিচে ছন্দ ধরে রাখতে হিমশিম খায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক লিটন দাস (১০ বলে ৩) আকিল হোসেনের বলে স্টাম্পড হয়ে বিদায় নিলে ৮ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারিয়ে শুরুতেই সমস্যায় পড়ে বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুশৃঙ্খল বোলিংয়ের মোকাবিলায় টপ অর্ডার তানজিদ হাসান (২), সৌম্য সরকার (১১) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (২৬) হোঁচট খেয়ে শুরুটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। ফলে ১৪তম ওভারে ৬ উইকেটে ৭২ রান করে মনে হচ্ছিল হতাশাজনক স্কোরের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।
তবে শামীম হোসেনের একটি সতর্ক ইনিংস ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান মাত্র ১৭ বলে দুটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৫ রান করে বাংলাদেশকে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৯ রান তুলে দেয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি উইকেট নেন গুদাকেশ মোতি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
১৩০ রানের সামান্য লক্ষ্য অর্জন করতে নেমে বাংলাদেশের সুশৃঙ্খল বোলিংয়ের চাপে শুরুতেই নড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস।
তাসকিন আহমেদ তার প্রথম ওভারেই ব্রেন্ডন কিং (৮) ও আন্দ্রে ফ্লেচারকে (০) আউট করে স্বাগতিকদের ১৯ রানের মাথায় দুটি উইকেটের পতন ঘটান। এরপর মেহেদী হাসান ও রিশাদ হোসেন মিলে মিডল অর্ডারের নিকোলাস পুরান (৫) ও রোভম্যান পাওয়েলকে (৬) মাঠ ছাড়া করেন।
স্বাগতিকদের ভরসা ছিল রোস্টন চেজের ওপর। তিনি ৩৪ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলে দারুণ লড়াই করেন। আকিল হোসেইন চূড়ান্ত পর্যায়ে ৩১ বলে ৩১ রানের লড়াকু স্কোর যোগ করলেও অপর প্রান্তে উইকেট পড়তে থাকায় তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
হোসেইনকে আউট করে ১৮ ওভার ৩ বলে ১০২ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসকে গুটিয়ে দেন তাসকিন।
আরও পড়ুন: এক বছরের ব্যবধানে ফের অবসরে ইমাদ ওয়াসিম
৪৪৩ দিন আগে
আপিল খারিজ, সবার জন্য সমান বিচার চাইলেন ফ্লিক
রেফারির প্রতি আপত্তিকর প্রতিক্রিয়া জানানোর শাস্তি হিসেবে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তবে একই ধরনের আচরণে অন্য কোচদের প্রতিও সমান বিচার করতে রেফারিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত শনিবার রিয়াল বেতিসের মাঠে খেলতে গিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বার্সেলোনার জার্মান কোচকে। ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিতর রকেকে ডি-বক্সের মধ্যে ফাউল করে বেতিসকে পেনাল্টি দেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং।
ভিএআর মনিটরে অনেকটা সময় নিয়ে রিভিউ দেখে এই সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। তখন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানোয় লাল কার্ড দেখেন ফ্লিক।
ম্যাচ শেষে রেফারি আলেহান্দ্রো মুনিয়েস রুইস অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ফ্লিক চিৎকার ও আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করে তার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য বার্সা কোচ বলেন, তার ওই প্রতিক্রিয়া রেফারির উদ্দেশে ছিল না।
‘আমি কাউকে কিছু বলিনি। এটি কেবল আমার নিজের একটি প্রতিক্রিয়া ছিল।’
তবে তাতে মুক্তি মেলেনি এই কোচের। লাল কার্ডে পর লিগের পরবর্তী দুই ম্যাচের জন্যও তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় লা লিগায় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: এক ম্যাচ পর ফের বার্সেলোনার হোঁচট
এই শাস্তি থেকে রেহাই পেতে আপিল করেছিল বার্সেলোনা, কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে ফ্লিকের ওপর শাস্তি বহাল রেখেছে লিগ কর্তৃপক্ষ। ফলে আগামীকাল লেগানেস ও তার পরের ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ডাগআউটে দেখা যাবে না বার্সা বসকে।
লেগানেস ম্যাচের আগে শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ফ্লিকের শাস্তির প্রসঙ্গটি তোলেন এক সাংবাদিক। উত্তরে নিজের শাস্তি মাথা পেতে গ্রহণ করেছেন বলে জানান এই জার্মান কোচ।
তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিক্রিয়া যে সঠিক ছিল না, তা আমি মেনে নিচ্ছি। মৌসুমের শুরুতে আমি নিজেই বলেছিলাম, রেফারির সঙ্গে তর্ক করা ঠিক নয়। কারণ রেফারি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তা আর পরিবর্তন হয় না। ফলে তর্ক করে শক্তি ও সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।’
‘তাই লাল কার্ড ও শাস্তি মেনে নিচ্ছি। (লা লিগায়) আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ড খেয়ে বসলাম। বিষয়টি নিয়ে আর কিছু বলার নেই। আমার হয়তো নিজের আচরণের ওপর কাজ করতে হবে।’
শাস্তি মেনে নিলেও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে অন্য কোচদের সঙ্গেও যেন সমান বিচার করা হয়, সেই আবেদনও জানিয়ে রাখলেন ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ।
‘আমি চাই, অন্য দলগুলোর সঙ্গেও রেফারিরা একই কাজ করুক। তবে (এক্ষেত্রে) রেফারিদেরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। আমরা সবাই মানুষ এবং ভুল করে থাকি। আমি লাল কার্ড দেখেছি এবং তা মেনে নিয়েছি। আবেগের ওপর আমার আরও নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।’
আরও পড়ুন: দ্বিতীয়ার্ধের চরম নাটকীয়তা শেষে ডর্টমুন্ড বধ বার্সেলোনার
ফ্লিকের অধীনে দুর্দান্তভাবে মৌসুম শুরু করলেও সম্প্রতি সেই ছন্দ হারিয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগায় সবশেষ পাঁচ ম্যাচের মাত্র একটিতে জিততে পেরেছে তারা, বাকি চার ম্যাচের দুটি হেরেছে ও দুটি ড্র করেছে।
তারপরও লিগ টেবিলে শীর্ষে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি। ১৭ ম্যাচে ১২ জয় ও দুই ড্রয়ে ৩৮ পয়েন্ট অর্জন করেছে কাতালান জায়ান্টরা। এক ম্যাচ কম খেলা রিয়াল মাদ্রিদ রয়েছে মাত্র দুই পয়েন্ট পেছনে।
আজ রাতে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে মাঠে নামবে বর্তমান লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচতি জিতলে ১ পয়েন্টের ব্যবধানে বার্সাকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
৪৪৭ দিন আগে
বেনজেমার চোখে মৌসুম-সেরা ফরাসি ফুটবলার নন এমবাপ্পে!
টানা দ্বিতীয়বারের মতো মৌসুমের সেরা ফরাসি ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি ক্রীড়া সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল গত সপ্তাহে তাকে এই সম্মানে ভূষিত করেছে।
অতীতে এই পুরস্কার জেতা ফুটবলারদের ভোটে প্রতি বছর দেশের সেরা ফুটবলার নির্বাচন করে থাকে ফ্রান্স ফুটবল।
২০২৩-২৪ মৌসুমের সেরা ফুটবলার নির্বাচনে মাত্র ৫ ভোটের ব্যবধানে আর্সেনাল অধিনায়ক উইলিয়াম সালিবাকে (৫১ ভোট) হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সেরা হয়েছেন এমবাপ্পে (৫৬ ভোট)। এ নিয়ে মোট চারবার দেশের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হলেন পিএসজি থেকে চলতি মৌসুমে রিয়ালে যোগ দেওয়া এই ফুটবলার।
২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের পর সে বছর প্রথমবার ফ্রান্স-সেরা হন ২৫ বছর বয়সী এমবাপ্পে। এরপর ২০১৯ ও ২০২৩ সালেও এই খেতাব জেতেন তিনি।
আরও পড়ুন: এমবাপ্পেকে নিয়ে রোনালদোর ২ মাস আগের মন্তব্য আলোচনায়
তবে এবারের ভোটে বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারের ভোটন পাননি এমবাপ্পে। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা। দেশসেরা ফুটবলার নির্বাচন করতে তিনজনকে ভোট দিতে পারেন সাবেক বিজয়ীরা। বেনজেমার পছন্দের তালিকায় এই তিনজনের মধ্যে জায়গা হয়নি এমবাপ্পের।
গত মৌসুমে পিএসজিতে খেলা এমবাপ্পের পরিবর্তে বেনজেমার প্রথম পছন্দ ছিলেন তারই রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। এছাড়া পিএসজির প্রতিভাবান তরুণ ব্রাদলে বারকোলা ও ওয়ারেন জাইরে-এমেরিকে বাকি দুই ভোট দিয়েছেন তিনি।
শুধু তা-ই নয়, তাকে ভোট দেননি বেনজেমার বর্তমান ক্লাব সতীর্থ এন’গলো কান্তেও। আল-ইত্তিহাদের এই মিডফিল্ডার ভোট দিয়েছেন যথাক্রমে সালিবা, বার্সেলোনা ফুলব্যাক জুল কুন্দে ও কামাভিঙ্গাকে।
এই তালিকায় রয়েছেন আন্তোয়ান গ্রিজমানও। তবে আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফুটবলার এমবাপ্পেকে ভোট দিয়েছেন তার দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে। তার প্রথম ও তৃতীয় পছন্দ ছিলেন ফরাসি ক্লাব ব্রেস্তের আলেকজান্ডার লাকাসেত ও দেল কাস্তিয়ো।
আরও পড়ুন: এবার এমবাপ্পেকেই ছাড়াই ফ্রান্সের দল ঘোষণা
অন্যদিকে, সালিবার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও আর্সেনাল মিডফিল্ডারকেই সেরার ভোট দিয়েছেন এমবাপ্পে। তার বাকি দুই ভোট ছিল ক্লাব সতীর্থ কামাভিঙ্গা ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির জন্য।
গত মৌসুমের সেরাদের তালিকায় এমবাপ্পে ও সালিবার পর রয়েছেন যথাক্রমে এসি মিলান গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ (২৪), কামাভিঙ্গা (১৭) ও চুয়ামেনি (১৬)। আর ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ব্রেস্তের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার পিয়েরে লিস-মেলুর সঙ্গে যৌথভাবে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছেন গ্রিজমান।
৪৪৭ দিন আগে
অবশেষে ইউরোপের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ড্র অনুষ্ঠিত
বেশ আগে থেকে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের খেলা শুরু হয়ে গেলেও ইউরোপ অঞ্চলের খেলা তো দূরের কথা, এ বিষয়ে কোনো আলোচনাই ছিল না। অবেশেষে এই অঞ্চলের বাছাইপর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বিশ্বকাপের ইউরোপ অঞ্চলের বাছাই পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০২৬ সালে প্রথমবার আয়োজন করা হবে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। এর মধ্যে ইউরোপ থেকে মোট ১৬টি দেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। এই ১৬টি স্পটের জন্য ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে ৫৩টি দেশ।
১২টি গ্রুপের সব গ্রুপে অবশ্য সমান প্রতিপক্ষ নেই। ছয়টি গ্রুপ সাজানো হয়েছে চারটি করে দল নিয়ে। অন্য ছয়টি গ্রুপে রাখা হয়েছে পাঁচটি করে দল। গ্রুপের প্রতিটি দল নিজেদের মধ্যে একটি করে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। গ্রুপের শীর্ষ ১২টি দল সরাসরি বিশ্বকাপের মূলপর্বের টিকিট পাবে।
আরও পড়ুন: ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের ভেন্যুতেই হবে ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনাল
বাকি চার দল বাছাই করতে গ্রুপগুলোর দ্বিতীয় সেরা ১২ দলের সঙ্গে যুক্ত হবে উয়েফা নেশন্স লিগ খেলা চার দল। নেশন্স লিগের গ্রুপ বিজয়ীদের মধ্যে সেরা, কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে- এমন চারটি দলসহ মোট ১৬ দলের প্লে-অফ অনুষ্ঠিত হবে।
এই ১৬টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করে নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মাধ্যমে বিশ্বকাপের জন্য একেকটি দল নির্বাচিত করা হবে।
বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ২১-২৫ মার্চ, ৬-১০ জুন, ৪-৯ সেপ্টেম্বর, ৯-১৪ অক্টোবর এবং ১৩-১৮ নভেম্বর। ২০২৬ সালের ২৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্লে-অফ পর্বের ম্যাচগুলো আয়োজন করা হবে। এরপর ওই বছরের ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপের মূল আসর।
২০১৬ সালের ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ আসরের পর্দা নামবে।
আরও পড়ুন: ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনে ১ বিলিয়ন ইউরো ঋণ নেবে মরক্কো
এক নজরে ইউরোপ অঞ্চলের গ্রুপগুলো
গ্রুপ এ: জার্মানি/ইতালি (নেশন্স লিগের ম্যাচ জয়ী), স্লোভাকিয়া, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গ।
গ্রুপ বি: সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, স্লোভেনিয়া ও কসোভো।
গ্রুপ সি: পর্তুগাল/ডেনমার্ক (পরাজিত), গ্রিস, স্কটল্যান্ড ও বেলারুশ।
গ্রুপ ডি: ফ্রান্স/ক্রোয়েশিয়া (জয়ী), ইউক্রেন, আইসল্যান্ড ও আজারবাইজান।
গ্রুপ ই: স্পেন/নেদারল্যান্ডস (জয়ী), তুরস্ক, জর্জিয়া ও বুলগেরিয়া।
গ্রুপ এফ: পর্তুগাল/ডেনমার্ক (জয়ী), হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড ও আর্মেনিয়া।
গ্রুপ জি: স্পেন/নেদারল্যান্ডস (পরাজিত), পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া ও মাল্টা।
গ্রুপ এইচ: অস্ট্রিয়া, রোমানিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সাইপ্রাস এবং সান মারিনো।
গ্রুপ আই: জার্মানি/ইতালি (পরাজিত), নরওয়ে, ইসরায়েল, এস্তোনিয়া ও মলদোভা।
গ্রুপ জে: বেলজিয়াম, ওয়েলস, নর্থ মেসিডোনিয়া, কাজাখস্তান ও লিখটেনস্টেইন।
গ্রুপ কে: ইংল্যান্ড, সার্বিয়া, আলবেনিয়া, লাটভিয়া ও অ্যান্ডোরা।
গ্রুপ এল: ফ্রান্স/ক্রোয়েশিয়া (পরাজিত), চেক প্রজাতন্ত্র, মন্টিনিগ্রো, ফারাও আইল্যান্ড ও জিব্রাল্টার।
৪৪৮ দিন আগে
এক বছরের ব্যবধানে ফের অবসরে ইমাদ ওয়াসিম
এক বছরের ব্যবধানে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন ইমাদ ওয়াসিম। তবে ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন ৩৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইমাদ।
তিনি লিখেছেন, ‘অনেক চিন্তাভাবনা ও পর্যবেক্ষণের পর আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জীবনের জন্য সর্বোচ্চ সম্মানের। আর সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানোর প্রতিটি মুহূর্ত অবিস্মরণীয়।’
‘এই অধ্যায় শেষ করে আমি ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এগিয়ে চলার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। আশা করি, নতুন উপায়ে সবাইকে বিনোদন দিয়ে যাব।’
আরও পড়ুন: টেস্ট ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে অবসরে ইমরুল কায়েস
গত বছরের নভেম্বরে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেন ইমাদ। তবে চার মাসের মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন তিনি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে আলোচনার পর গত মার্চে তিনি অবসর ভেঙে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফেরেন।
মূলত গত বছরের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দুর্দান্ত ফর্মের কারণেই তাকে অবসর ভেঙে মাঠে ফেরায় পিসিবি। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার। আসরের তিনটি প্লে-অফ ম্যাচেই ম্যাচসেরা হন তিনি।
দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইমাদকে ফেরাতে ভীষণ আগ্রহী ছিল পিসিবি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া আসরে একদমই ভালো করতে পারেনি পাকিস্তান। সুপার এইটে উঠতে ব্যর্থ হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায় তারা। এরপর আর দলে ডাক মেলেনি তার।
পাকিস্তানের হয়ে প্রায় এক দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি ইমাদের। ৫৫টি ওয়ানডেতে ৯৮৬ রানের পাশাপাশি ৪৪টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে ২০২০ সালের পর এই সংস্করণেও আর খেলার সুযোগ পাননি তিনি। ৭৫টি টি-টোয়েন্টি খেলে তিনি ৫৫৪ রান ও ৭৩টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন।
৪৪৮ দিন আগে