খেলাধুলা
সাফজয়ী দলকে বিসিবিও দেবে আর্থিক পুরস্কার
নেপালকে তাদের মাটিতেই টানা দ্বিতীয়বার হারিয়ে সাফের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অসামান্য এই কীর্তির পর নানা দিক থেকে প্রশংসায় ভাসছেন সাবিনা-ঋতুপর্ণারা। তবে শুধু প্রশংসা নয়, আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণাও আসছে।
এশিয়ার মঞ্চে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করায় সাফজয়ী বাংলাদেশ দলকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকেও ঘোষণা করা হয়েছে আর্থিক পুরস্কার। পুরস্কার হিসেবে সাফজয়ী মেয়েদের ২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কার প্রদানের এ ঘোষণা দেয় বিসিবি।
আরও পড়ুন: সাফজয়ী নারী দলকে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কোটি টাকা পুরস্কার
পুরো দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ‘আমাদের নারী ফুটবল দল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যা করেছে, আমরা গর্বিত। পুরো ক্রীড়াঙ্গনের এ সাফল্য উদ্যাপনে বিসিবিও যোগ দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘তাদের এই জয় অন্য সব খেলার খেলোয়াড়দের এবং বাংলাদেশের মেয়েদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমরাও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী ফুটবল বিভাগকে অভিনন্দন জানাই।’
ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিসিবির সমর্থনের কথা জানিয়ে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিসিবি খেলায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সব সময় বদ্ধপরিকর। এই ঐতিহাসিক জয় খেলায় মেয়েদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আগ্রহ বাড়াবে এবং পুরো দেশের সমর্থন জোগাবে।’
আরও পড়ুন: নারী ফুটবলারদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের আশ্বাস শফিকুল আলমের
এর আগে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে সাবিনাদের হাতে এক কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কারের চেক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এ সময় মেয়েদের বকেয়া বেতনের প্রসঙ্গটিও তোলেন তিনি। বলেন, ‘দেশের মানুষ যেভাবে তাদের বরণ করেছে, এজন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। নারীদের ক্রীড়াক্ষেত্রে কিছু অভিযোগ আছে, যেমন: বেতনবৈষম্য। এ বিষয়ে বিসিবি ও বাফুফের সঙ্গে কথা বলেছি; দ্রুতই সমাধান করব।’
৪৯১ দিন আগে
সাফজয়ী নারী দলকে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কোটি টাকা পুরস্কার
নেপালকে তাদের মাটিতেই টানা দ্বিতীয়বার হারিয়ে সাফের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অসামান্য এই কীর্তির পর নানা দিক থেকে প্রশংসায় ভাসছেন সাবিনা-ঋতুপর্ণারা। এবার মেয়েদের এক কোটি টাকা পুরস্কার দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে সাবিনাদের হাতে পুরস্কারের চেক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এ সময় ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। দেশে ফেরার পর তাদের সংবর্ধনা দিতে আমি বাফুফেতে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় নারী ফুটবল দলের সঙ্গে দেখা করার অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। আগামী শনিবার বেলা ১১টায় তিনি তার বাসভবনে নারী ফুটবল দলকে দাওয়াত দিয়েছেন।’
আরও পড়ুন: নারী ফুটবলারদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের আশ্বাস শফিকুল আলমের
এ সময় মেয়েদের বকেয়া বেতনের প্রসঙ্গটিও তোলেন তিনি। বলেন, ‘দেশের মানুষ যেভাবে তাদের বরণ করেছে, এজন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। নারীদের ক্রীড়াক্ষেত্রে কিছু অভিযোগ আছে, যেমন: বেতনবৈষম্য। এ বিষয়ে বিসিবি ও বাফুফের সঙ্গে কথা বলেছি; দ্রুতই সমাধান করব।’
‘বাংলাদেশের নারীরা যেভাবে আন্তর্জাতিক ট্রফি ছিনিয়ে এনেছে, তারা আরও ট্রফি ছিনিয়ে আনতে পারবে বলে আমি আশাবাদী।’
এদিকে, শিগগিরই মেয়েদের বেতন ও অন্যান্য পাওনা নিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলমও।
তিনি বলেছেন, দেশের নারী ক্রীড়াবিদদের বেতনবৈষম্য নিয়ে আলোচনা করছে সরকার। নারী অ্যাথলেটরাও যাতে পুরুষদের সমান বেতন পায়, তা নিয়ে বিসিবি ও বাফুফের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: উষ্ণ অভ্যর্থনায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে বরণ
এর আগে, সাফের শিরোপা জিতে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে ঢাকায় এসে পৌঁছায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর তাদের বরণ করে নিতে বিশেষ আয়োজন করে বাফুফে। তাদের জন্য বিমানবন্দরে রাখা ছিল ছাদখোলা বাস, যাতে চড়ে গোটা শহর প্রদক্ষিণ করে দল।
এ সময় রাস্তার দুই পাশে অনেকেই তাদের অভিবাদন জানান। সব সামলে নির্দিষ্ট রুট দিয়ে বাফুফে ভবনে আসতে তাদের তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
চ্যাম্পিয়নদের শুভেচ্ছা জানাতে বিকাল সোয়া পাঁচটা থেকে সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া। সাবিনারা আসার পর বাফুফের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স রুমে যান উপদেষ্টা। সেখানে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মনিকা-ঋতুপর্ণার গোলে আবারও সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
৪৯১ দিন আগে
নারী ফুটবলারদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের আশ্বাস শফিকুল আলমের
টানা দ্বিতীয়বার বাংলাদেশকে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা এনে দিয়েছে মেয়েরা। অথচ তাদের আর্থিক প্রাপ্তির খাতায় কেবলই শূন্যতা। তবে শিগগিরই তাদের বেতন ও অন্যান্য পাওনা নিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম।
গত কয়েকদিনে বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের বেতন না পাওয়ার প্রসঙ্গ অনেকবারই উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। শুধু মেয়েরা কেন, তাদের কোচ পিটার বাটলারও আজ ক্ষোভ-অভিমান নিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার সময় জানিয়েছেন, তিন মাস ধরে বেতন পান না তিনিও।
বাফুফে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নারী ফুটবলারদের বেতন বাড়ানো হলেও স্পন্সর সংকটে ফিফার বার্ষিক তহবিল থেকে তাদের বেতন দেওয়া হতো বলে জানা যায়। যদিও তখন বেতন দিতে দেরি হতো, কিন্তু বর্তমানে দুই মাসের বেতনই বকেয়া হয়ে গেছে।
সাফ শিরোপাজয়ের পর মেয়েদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিং চলাকালে এ নিয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম।
আরও পড়ুন: উষ্ণ অভ্যর্থনায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে বরণ
মেয়েদের বেতন বকেয়া থাকার দায় বাফুফের সদ্যসাবেক সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের ঘাড়ে চাপিয়ে তিনি বলেন, ‘সাফ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হয়েছে। বেশ কয়েকটি পত্রিকায় নারী ফুটবল দলের দুই মাসের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। সেটি সালাউদ্দিনের আমলের সমস্যা। তাদের বেতনের সমস্যা দ্রুত সময়ে সমাধান করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের নারী ক্রীড়াবিদদের বেতনবৈষম্য নিয়ে আলোচনা করছে সরকার। নারী অ্যাথলেটরাও যাতে পুরুষদের সমান বেতন পায়, তা নিয়ে বিসিবি ও বাফুফের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর ও আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: মনিকা-ঋতুপর্ণার গোলে আবারও সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
উল্লেখ্য, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সংবর্ধনা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
এদিকে, সাফের শিরোপা জিতে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে ঢাকায় এসে পৌঁছায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর তাদের বরণ করে নিতে বিশেষ আয়োজন করে বাফুফে। তাদের জন্য বিমানবন্দরে রাখা ছিল ছাদখোলা বাস, যাতে চড়ে গোটা শহর প্রদক্ষিণ করেছে দল।
৪৯১ দিন আগে
রেকর্ড রান ও ইনিংস ব্যবধানে হেরে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ
প্রথম ইনিংসে ১৫৯ করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে দেড়শও পেরোতে পারল না বাংলাদেশ। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে তোলা ৫৭৫ রানের চেয়ে ২৭৩ রান পেছনে থেকে নিদারুণ পরাজয় বরণ করে নিতে হয়েছে টাইগারদের।
চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিনেই এক ইনিংস ও ২৭৩ রানে হেরে প্রোটিয়াদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ।
কেবল তৃতীয় দিনেই ১৬ উইকেট খুইয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
এর আগে, টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং করে ৬ উইকেট হারিয়ে ৫৭৫ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে গেলে ৪১৬ রানে এগিয়ে থাকে সফরকারীরা। ফলে ব্যাটিংয়ে নেমে আর সময় নষ্ট না করে বাংলাদেশকে ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও মাত্র ৪৩.৪ ওভারে ১৪৩ রানের মাথায় টাইগারদের ইনিংস গুটিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা। ফলে ২৭৩ রানের জয় পায় মার্করামের দল।
আরও পড়ুন: রানপাহাড়ে চাপা পড়ার পর ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ
নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে হারের রেকর্ড। ২০০২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ইনিংস ও ৩১০ রানে বিপর্যস্ত হয়েছিল টাইগাররা।
অন্যদিকে, নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের স্বাদ পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগের রেকর্ডটিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষেই। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠ ব্লুমফন্টেইনে ইনিংস ও ২৫৪ রানের ব্যবধানে জিতেছিল তারা। এবার টাইগারদের ডেরায় ঢুকে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন করে গড়ল তারা।
প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া কাগিসো রাবাদা দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য সাফল্যের দেখা পাননি। পাবেনই বা কী করে? কেশব মহারাজ ও সেনুরান মুথুসামি যথাক্রমে ৫টি ও ৪টি উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস: ৫৭৫/৬ ডিক্লে. (ডি জর্জি ১৭৭, স্টাবস ১০৬, মুল্ডার ১০৫*; তাইজুল ৫২.২-৫-১৯৬-৫, নাহিদ ২৪-২-৮৩-১)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৫৮/১০ (মুমিনুল ৮২, তাইজুল ৩০, অতিরিক্ত ২২; রাবাদা ৯-১-৩৭-৫, প্যাটারসন ১০-১-৩১-২, মহারাজ ১৬.২-৪-৫৭-২)।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ১৪৩/১০ (হাসান ৩৮, শান্ত ৩৬, অঙ্কন ২৯; মহারাজ ১৬.৪-০-৫৯-৫, মুথুসামি ১৩-৩-৪৫-৪)।
ফলাফল: দক্ষিণ আফ্রিকা এক ইনিংস ও ২৪৩ রানে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: টনি ডি জর্জি।
প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: কাগিসো রাবাদা।
৪৯১ দিন আগে
উষ্ণ অভ্যর্থনায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে বরণ
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪ জয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় ফিরেছে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কর্মকর্তা ও ভক্তরা উষ্ণ অভ্যর্থনা ও উল্লাসের মাধ্যমে তাদের এই অসাধারণ সাফল্য উদযাপন করেছেন।
দুপুর সোয়া ২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে বাফুফে কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানান। টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তারা।
কাঠমান্ডুতে বুধবারের ফাইনাল ম্যাচে স্বাগতিক নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট জুড়ে তারা অপরাজিত ছিলেন। ২০২২ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতে তাদের প্রথম শিরোপা অর্জন করেন।
টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য টুর্নামেন্ট সেরা খেতাব পেয়েছেন ঋতু পর্ণা চাকমা এবং সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন রুপনা চাকমা।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে উল্লাস শোভাযাত্রা বের করে দলটি মতিঝিলে বাফুফের প্রধান কার্যালয়ের দিকে যাত্রা করে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে খোলা ছাদে বাসে ভ্রমণ করেন এবং সাফ ট্রফি প্রদর্শন করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের আয়োজনে আজ বিকেলে এক বিশেষ সংবর্ধনার মাধ্যমে দলটিকে সম্মানিত করা হবে। বিকেল ৫টায় বাফুফের প্রধান কার্যালয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা।
আরও পড়ুন: পোশাক নিয়ে মুসলিম নারী ফুটবলারদের পাশে এফএ
৪৯১ দিন আগে
ক্যারাবাও কাপ: এক রাতে বিদায় সিটি, ভিলা ও চেলসির
ইংলিশ ফুটবল লিগ বা লিগ কাপ বা ক্যারাবাও কাপের চতুর্থ রাউন্ডে টটেনহ্যাম-ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচটি ছাড়া প্রিমিয়ার লিগে আধিপত্য দেখানো বাকি সবগুলো দলই পেয়েছিল তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ। কিন্তু মাঠের খেলায় এলোমেলো হয়ে গেছে তাদের অনেকেই।
বুধবার রাতে ক্যারাবাও কাপে ঘটেছে তিনটি অঘটন। এর মধ্যে বড় খবর হলো টটেনহ্যামের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে সিটি।
এছাড়া চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতায় দাপট দেখানো অ্যাস্টন ভিলা এবং এনসো মারেসকার অধীনে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া চেলসিকেও বিদায় নিতে হয়েছে চতুর্থ রাউন্ড থেকেই।
অন্যদিকে, দুর্দান্ত জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভুগতে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আর রোমাঞ্চের পর রোমাঞ্চ ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টারে উঠেছে লিভারপুল। আর্সেনালও কোয়ার্টার নিশ্চিত করেছে, তবে জিততে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি তাদের।
টটেনহ্যামের কাছে সিটির হার
স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ও গোলরক্ষক এদেরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ছাড়াই এদিন মাঠে নামে সিটি। চোটের কারণে দলে ছিলেন না কেভিন ডি ব্রুইনে-রদ্রিরাও।
অন্যদিকে, চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলা হয়নি টটেনহ্যামের তারকা ফরোয়ার্ড হিউং মিন-সনেরও।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই টিমো ভের্নারের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ২৫তম মিনিটে টটেনহ্যামের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার পেপে মাতার-সার। এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে একটি গোল পরিশোধ করে বিরতিতে যায় সিটি।
দ্বিতীয়ার্ধেও টটেনহ্যামকে চেপে ধরে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা, কিন্তু শট লক্ষ্যে রাখতে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন ম্যাথুস নুনেস-বের্নার্দো সিলভারা। শেষদিকে সমতায় ফেরার জোর চেষ্টা চালালেও টটেনহ্যামের রক্ষণ ভেদ করতে তা যথেষ্ট ছিল না। তাই ২-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ।
এর ফলে, গত মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও এবার কোয়ার্টারেও পৌঁছানো হলো না গার্দিওলার শিষ্যদের।
নিউক্যাসলের মাঠে জোড়া গোল হজম চেলসির
ঘরের মাঠে ম্যাচের ২৩তম মিনিটে আলেকজান্ডার ইসাকের গোলে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল ইউনাইটেড। এর তিন মিনিট পরই আক্সেল দিসাসির আত্মঘাতী গোলে আরও পিছিয়ে পড়ে চেলসি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর নিউক্যাসলের ওপর রীতিমতো শাসন করা শুরু করে চেলসির খেলোয়াড়রা। গোলের জন্য হন্যে হয়ে যায় তারা। কিন্তু ৬৬ শতাংশ সময় বলের দখল রেখে মোট ১৭টি শট নিয়ে একবারের জন্যেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি মারেসকার শিষ্যরা। ফলে দুর্দান্ত চেলসিকে ২-০ গোলে রুখে দিয়ে জয়ের হাসি হাসে এডি হাউইর দল।
ঘরের মাঠে হেরে ভিলার বিদায়
অ্যাস্টন ভিলার গল্পটি অনেকটা সিটির মতোই। ম্যাচের একেবারে শুরুতেই (অষ্টম মিনিটে) এবেরেচি এজের গোলে পিছিয়ে পড়লেও অপ্রতিরোধ্য জন ডুরানের নৈপুণ্যে ২৩তম মিনিটেই সমতায় ফেরে উনাই এমেরির শিষ্যরা।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ, গোলের সুযোগ তৈরি- সবকিছুতেই প্যালেসের ওপর ছড়ি ঘোরাতে থাকে অ্যাস্টন ভিলা। তাই মনে হচ্ছিল ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে তারা। কিন্তু দাইচি কামাদার গোলে দ্বিতীয়ার্ধে ফের এগিয়ে যায় প্যালেস। এরপর রক্ষণে দেওয়াল তুলে স্কোরলাইন রক্ষা করে অলিভার গ্লেসনারের দল।
ফলে ২-১ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ক্রিস্টাল প্যালেস।
জিতল যারা
বড় দলগুলোর অনেকেই ব্যর্থ হলেও রুড ভ্যান নিস্টরলয়ের অধীনে প্রথম ম্যাচেই দারুণ এক জয় তুলে ক্যারাবাও কাপের কোয়ার্টারে উঠেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে লেস্টার সিটির বিপক্ষে ৫-২ গোলে জিতেছে ম্যানচেস্টারের লাল দলটি।
ইউনাইটেডের হয়ে জোড়া গোল করেন কাসেমিরো ও ব্রুনো ফের্নান্দেস; অপর গোলটি আসে আলেহান্দ্রো গারনাচোর পা থেকে। অপরদিকে, লেস্টারের গোলদুটি করেন বিলাল এল খানুস ও কনর কোডি।
এদিকে, ঘরের মাঠে লিভারপুলের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন। প্রতিযোগিতার সেরা দলটির বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরেছে ফাবিয়ান হুয়ের্সেলারের দল।
ম্যাচের সবগুলো গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। লিভারপুলের তিন গোলের প্রথম দুটি আসে ৪৬ ও ৬৩তম মিনিটে, কোডি গাকপোর পা থেকে; আর ৮৫তম মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন লুইস দিয়াস।
মাঝে ৮১তম মিনিটে প্রথম গোল পেয়ে ব্রাইটনের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা জাগান সিমোন আদিংগ্রা। চার মিনিট পর দিয়াসের গোলে লিভারপুল ফের ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ৯০তম মিনিটে গিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন তারিক ল্যাম্পটি। এরপর দুই মিনিট অতিরিক্ত খেলার সুযোগ দেওয়া হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাইটন। ফলে স্বাগতিকদের হতাশ করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল।
এছাড়া, দ্বিতীয় বিভাগের দল প্রেস্টন নর্থ এন্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। গোল তিনটি করেন গাব্রিয়েল জেসুস, ইথান নোয়ানেরি ও কাই হাভার্টস।
চতুর্থ রাউন্ডের অপর ম্যাচগুলোতে জয় পেয়েছে ব্রেন্টফোর্ড ও সাউথহ্যাম্পটন।
৪৯২ দিন আগে
সাবিনাদের রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
নেপালে টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতে এক অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি এই অর্জন বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও সাফজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মনিকা-ঋতুপর্ণার গোলে আবারও সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এটা আমাদের নারী ফুটবল দলের বিরাট অর্জন। আমি তোমাদের নিয়ে গর্বিত। গোটা জাতি তোমাদের নিয়ে গর্বিত। অভিনন্দন সেইসব খেলোয়াড়দের যারা আমাদের এই গৌরব এনে দিয়েছ।’
এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরে বাংলাদেশ।
৪৯২ দিন আগে
পোশাক নিয়ে মুসলিম নারী ফুটবলারদের পাশে এফএ
সোমালিয়ার সাবেক অধিনায়ক ইকরা ইসমাইলকে হাফপ্যান্ট না পরার কারণে ম্যাচ খেলতে বাধা দেওয়ার পর ইংল্যান্ডে নারী ফুটবলারদের পোশাক নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। এফএ জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের কোনো প্রতিযোগিতায় নারী খেলোয়াড়দের ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী পোশাক পরে মাঠে নামতে বাধা নেই।
ঘটনাটি এই সোমবারের। সেদিন ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে ইসমাইল জানান, গ্রেটার লন্ডন মহিলা ফুটবল লিগে (জিএলডাব্লুএফএল) গত পাঁচ বছর ধরে ধরে ট্র্যাকস্যুট প্যান্ট (ফুল প্যান্ট) খেললেও রবিবার ইউনাইটেড ড্রাগনসের জার্সিতে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তাকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘গতকালের ম্যাচে রেফারি আমাকে বলেন যে, জার্সির সঙ্গে মিল থাকলেও আমার মতো যারা আছেন (ফুল প্যান্ট পরে খেলেন), নির্ধারিত পোশাক (হাফ প্যান্ট) না পরলে তাদের যেন মাঠে নামতে দেওয়া না হয়- এ বিষয়ে তাকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে মিডলসেক্স এফএ।’
‘হাফপ্যান্ট না পরলে আমরা খেলতে পারব না- গতকাল আমাকে সেটাই বলা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: রিয়ালের ব্যালন দ’র অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্তে অখুশি লা লিগা প্রেসিডেন্ট
এ ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। মিডলসেক্স এফএর সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার প্রচেষ্টা চলছে।’
এফএ-র এক মুখপাত্র এ বিষয়ে বলেন, ‘এ বছরের শুরুতে সব কাউন্টি এফএ এবং ম্যাচ অফিশিয়ালদের কাছে চিঠি লিখে আমরা নিশ্চিত করেছি যে, ধর্মীয় বিশ্বাস বা অনুশাসন বাধাপ্রাপ্ত না হয়- মেয়েদের এমন পোশাক পরার অনুমতি দেওয়া উচিত।’
মুখপাত্র বলেন, ‘এই নির্দেশনাটির কার্যকর প্রয়োগের উদ্দেশ্যে আমরা সকল অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছি, যাতে ইংলিশ ফুটবলে সবার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাই গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে।’
অবশ্য জিএলডব্লিউএফএলের দাবি, পা ঢেকে থাকে- এমন পোশাক পরার অনুমতি দিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই, তবে ওই পোশাকের ওপর শর্টস পরতে হবে।
তবে এফএ-র সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্তের কঠোরতা থেকে সরে এসেছে তারা।
এ বিষয়ে এ বিবৃতিতে জিএলডব্লিউএফএল বলেছে, ‘আমাদের সচেতন করা হয়েছে যে ট্র্যাকস্যুট বা আঁটসাঁট পোশাকের ওপর শর্টস পরার প্রয়োজন নেই। এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সমস্ত ম্যাচ অফিশিয়াল ও সদস্যদের (ক্লাব) এই পরিমার্জিত গাইডলাইন সরবরাহ করব।’
৪৯২ দিন আগে
রিয়ালের ব্যালন দ’র অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্তে অখুশি লা লিগা প্রেসিডেন্ট
ভিনিসিউস ব্যালন দ’র পাচ্ছেন না জেনে অনুষ্ঠান বয়কট করায় রিয়াল মাদ্রিদের কড়া সমালোচনা করেছেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। তার মতে, অসংখ্য সাংবাদিকের ভোটে ‘স্বচ্ছ পদ্ধতিতে’ ফ্রান্স ফুটবলের সেরা ফুটবলার বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিৎ হয়নি মাদ্রিদের ক্লাবটির।
সোমবার রাতে প্যারিসের থিয়েটার দু শাতলেতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ব্যালন দ’র অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সেদিন রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে ৫০ জনের একটি দলের প্যারিসে যাওয়ার কথা জানায় স্প্যানিশ ক্রীড়া পত্রিকা মার্কা। সবকিছু ঠিকঠাকই এগোচ্ছিল, কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়।
প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটাভুটির ভিত্তিতে ব্যালন দ’রের প্রথম ১২ জনের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও শীর্ষে দেখা যায় ভিনিসিউসের নাম। এর কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরক খবর জানান ইতালিয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক ফাব্রিৎসিও রোমানো। সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ভিনিসিউস ব্যালন দ’র পাচ্ছেন না।
আরও পড়ুন: রদ্রির হাতেই উঠল ব্যালন দ’র
এর খানিক পর ব্যালন দ’র অনুষ্ঠান বয়কট করে রিয়াল মাদ্রিদ। ফুটবল-বহির্ভূত কারণে ভিনিসিউসকে ব্যালন দ’র থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে অনুষ্ঠান বয়কট করে ক্লাবটি। এর ফলে ব্যালন দ’র অনুষ্ঠানের জন্য ক্লাবটির কেউ প্যারিসে যাচ্ছেন না বলে ঘোষণা দেয় রিয়াল মাদ্রিদ।
শেষ পর্যন্ত সেই খবরই সত্যি হয়। ভিনিসিউসকে পেছনে ফেলে ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত এই পুরস্কার ওঠে ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিগো এর্নান্দেসের (রদ্রি) হাতে।
তবে বর্ষসেরা ক্লাব ও সেরা কোচের পুরস্কার পায় রিয়াল মাদ্রিদ ও দলটির ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
রিয়াল মাদ্রিদের এমন সিদ্ধান্তে মোটেও সন্তুষ্ট হননি লা লিগা সভাপতি তেবাস। তার মতে, নিজেদের পুরোনো চেতনা হারিয়ে ফেলেছে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার সফলতম ক্লাবটি।
আরও পড়ুন: ব্যালন দ’র: কে কোন পুরস্কার জিতলেন
ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমি রিয়াল মাদ্রিদ ভক্ত। এই ক্লাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ হচ্ছে ভদ্রতা এবং হারের পরও (প্রতিপক্ষের সঙ্গে) হাত মেলানো। আমার মনে হয়, রিয়াল মাদ্রিদ অনেক আগেই সেই চেতনা হারিয়ে ফেলেছে।”
“যেখানে ১০০ জন সাংবাদিক ভোট দিয়েছেন, সেখানে তাদের উচিত ছিল ফ্রান্স ফুটবলের স্বচ্ছ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন না তুলে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা। রিয়ালের ‘অন্যায়ের শিকার হওয়া ভাবটি’ অপ্রয়োজনীয় ও অতিরঞ্জিত।”
৪৯২ দিন আগে
মনিকা-ঋতুপর্ণার গোলে আবারও সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে আলো ছড়িয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট ধরে রাখল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই জয়যাত্রায় ফাইনালে আবারও তাদের কাছে হেরেছে স্বাগতিক নেপাল।
বুধবার কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
এদিন প্রথমার্ধে চেষ্টার পরও কেউ সফল না হলে স্কোরলাইনে কোনো পরিবর্তন না এনেই বিরতিতে যান দুদলের ফুটবলাররা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার কিছুকক্ষণ পরই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের ৫২তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে উঠে নেপালের রক্ষণ ভেঙে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন মনিকা চাকমা। এরপর অবশ্য সমতায় ফিরতে বেশিক্ষণ সময় নেয়নি স্বাগতিকরাও।
আরও পড়ুন: ভুটানকে ৭-১ গোলে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ
গোল হজম করার তিন মিনিট পরই ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত খেলা প্রীতি রাইয়ের অসাধারণ এক থ্রু পাস ধরে লক্ষ্যভেদ করেন নেপালি ফরোয়ার্ড আমিশা।
এরপর এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দুই দলেরই প্রচেষ্টায় জমে যায় ম্যাচ। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৮১তম মিনিটে বাঁ পাশ দিয়ে দারুণ এক আক্রমণে উঠে বাংলাদেশকে জয়সূচক গোলটি এনে দেন ঋতুপর্ণা চাকমা।
এর পরের সময়টুকু নিজেদের জাল অক্ষত রেখে শিরোপাজয়ের আনন্দে ভাসেন সাবিনারা।
আরও পড়ুন: ভারতকে উড়িয়ে সাফের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
সাফে বাংলাদেশের মেয়েদের এটি টানা দ্বিতীয় শিরোপা। ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত গত আসরের শিরোপা-নির্ধারণী ম্যাচও হয়েছিল এই দুই দলের মধ্যে; ভেন্যুও ছিল একই। সেবার নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ।
৪৯২ দিন আগে