খেলাধুলা
অনুভূতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না অধিনায়ক শান্ত
পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগে কখনোই টেস্ট ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, এই ধারায় পরিবর্তন আনতে চান তারা। কথা রেখেছে বাংলাদেশ, কথা রেখেছেন শান্তও। শুধু ম্যাচ জয়ই নয়, পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করে সিরিজ জয় করে ইতিহাস গড়েছে তার দল।
এমন জয়ে দারুণ আনন্দিত বাংলাদেশ অধিনায়ক। আনন্দ প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শান্ত বলেন, ‘এই সাফল্য আমাদের জন্য বিরাট একটা ব্যাপার। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সত্যিই খুব খুশি আমরা। এখানে আসার আগে আমরা পাকিস্তানে জিততে চেয়েছিলাম। সবাই যেভাবে নিজেদের কাজটা করেছে, তাতে খুবই খুশি আমি।’
দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা। এই দুজনের বোলিং বিষে পাকিস্তান নীল হয়ে যাওয়ার কারণেই পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ।
এই দুই বোলারের প্রসংশা করতে গিয়ে নাজমুল বলেন, ‘সম্প্রতি তারা যেভাবে কাজ করেছে, তারই ফল পেয়েছে মাঠে।’
আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
অসাধারণ এই জয়ের জন্য একাদশের বাইরের ক্রিকেটারদেরও কৃতিত্ব দিতে ভুললেন না তিনি। বললেন, ‘দলীয় পারফরম্যান্সে এই সাফল্য এসেছে। সবাই অবদান রেখেছে এই সিরিজে।’
‘এই সাফল্যে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই সমান ভূমিকা আছে। সাফল্যে বড় অবদান রেখেছে একাদশের বাইরে থাকা চার ক্রিকেটারও। তারা মাঠের বাইরে থেকে নানাভাবে অবদান রেখেছেন।’
‘আমরা সবসময় তাদের কথাই বলি যারা রান করে বা উইকেট নেয়, কিন্তু সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই জয় এসেছে। আশা করি, এই সংস্কৃতি অব্যাহত থাকবে।’
দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের কল্যাণে বিপদে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছে বাংলাদেশ। আগামী মাসে ভারতের বিপক্ষেও মিডল অর্ডার ব্যাটারদের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স আশা করেন অধিনায়ক।
এসময় দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন শান্ত।
আরও পড়ুন: রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের পেসাররা
প্রথম টেস্টে মুশফিকের অনবদ্য ১৯১ রানের ইনিংস এবং দরকারি সময়ে সাকিব উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। ভারতের বিপক্ষেও এই দুজনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তিনি।
শান্ত বলেন, ‘সাকিব ভাই আর মুশফিক ভাইয়ের বিশাল অভিজ্ঞতা দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতা ভারতের বিপক্ষে সিরিজে আমাদের বড় পুঁজি। আশা করছি পাকিস্তানে তারা দুজন যেভাবে খেলেছেন, ভারতের বিপক্ষে পরের সিরিজেও তারা একই রকম পারফর্ম করবেন।’
৫৪৯ দিন আগে
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
আবরার আহমেদের অফ স্ট্যাম্পের বেশ বাইরের ডেলিভারিটি জোরালো ড্রাইভে সীমানাছাড়া করলেন সাকিব আল হাসান, সঙ্গে সঙ্গে অন্যপ্রান্ত থেকে গর্জন করে উঠলেন মুশফিকুর রহিম। উল্লাস শোনা গেল ড্রেসিং রুমের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তসহ বাকি সবারও। সব মিলিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, এক কথায় তা ‘পাকিস্তানের বুকে বাংলাদেশের বিজয় উল্লাস’।
হ্যাঁ, পাকিস্তানকে তাদের মাটিতেই হোয়াইটওয়াশ করে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা করেছে টাইগাররা।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই মাঠেই প্রথম ম্যাচে তারা জেতে ১০ উইকেটে।
প্রথম টেস্ট জেতায় সিরিজ জয় করতে দ্বিতীয় ম্যাচটিতে হার এড়ালেই চলত বাংলাদেশের। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলে সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়। তবে দ্বিতীয় দিন থেকে খেলা শুরু হলে পাকিস্তানকে ২৭৪ রানে বেঁধে ফেলে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ একাই পাঁচ উইকেট নেন, আর সাকিব তিন উইকেট নিলে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: মিরাজের ঘূর্ণিতে ২৭৪ রানে থামল পাকিস্তান
দ্বিতীয় দিন শেষ বিকেলে ১০ রান সংগ্রহ দিনের খেলা শেষ করলেও পরের দিন সকালটা দুঃস্বপ্নের মতো শুরু হয় বাংলাদেশের। দলীয় ২৬ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে চোখে সর্ষের ফুল দেখতে থাকে টাইগাররা। তবে ধ্বংস্তুপে দাঁড়িয়ে আশার ফুল ফোটান লিটন দাস ও মিরাজ। বল হাতে পাকিস্তানের ৫ উইকেট তোলার পর ব্যক্তিগত ৭৮ রান করে লিটনের সঙ্গে রেকর্ড গড়া জুটিতে বাংলাদেশকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে বড় ভুমিকা রাখেন মিরাজ। অন্য প্রান্তে ১৩৮ রান করে দলকে মাত্র ১২ রান দূরে রেখে তৃতীয় দিনের তৃতীয় সেশনে লিটন বিদায় নিলে বাংলাদেশও থামে ২৬২ রানেই। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে বল হাতে অসাধারণ পারফর্ম করেন পাকিস্তানের খুররাম শাহজাদ। একাই ৬ উইকেট নিয়ে টাইগারদের ব্যাটিং লাইন-আপ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানকে বোলিং ঝলক দেখায় বাংলাদেশের পেসাররা। প্রথম ইনিংসে স্পিনাররা দাপট দেখালেও দ্বিতীয় ইনিংসে দশ উইকেটের সবকটি নিয়েছেন পেসাররা। টেস্টে এই প্রথম এক ইনিংসে বাংলাদেশের পেসাররাই সবগুলো উইকেট নিলেন। এর মধ্যে হাসান মাহমুদের ফাইফার এবং আগুনে বোলিংয়ে নাহিদ রানা চার উইকেট নিলে লিড বেশি বড় করতে পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটাররা। তারা মাত্র ১৭২ রানে গুটিয়ে গেলে সব মিলিয়ে ১৮৫ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। এই ইনিংসে ১৫২ কিলোমিটার গতির বল করে বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিসম্পন্ন বোলারও হয়ে যায় ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় আন্তর্জাতিক টেস্ট খেলতে নামা ২১ বছর বয়সী পেসার নাহিদ।
৫৪৯ দিন আগে
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের পেসাররা
দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচের এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
চলমান রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। এই ইনিংস জয় পেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে পারবে টাইগাররা। চতুর্থ দিন বিকালে বাজে আলোয় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে বিনা উইকেটে ৪২ রান করেছে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: জোড়া সেঞ্চুরিতে কুককে ছাড়িয়ে একাধিক রেকর্ডে রুট
এর আগে স্বাগতিকরা ১৭২ রানে অলআউট হয়ে যায়। আর বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ খেলেন তার ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স। গড়েন ডাবল রেকর্ড- নিজের প্রথম পাঁচ উইকেট এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশি কোনো পেসারের প্রথম পাঁচ উইকেট।
অন্যদিকে তরুণ পেসার নাহিদ রানাও খেললেন তার ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স। চার উইকেট নিয়েছেন তিনি।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। তাতে মনে হচ্ছিল এবারের ইনিংসেও স্পিনারদের দাপট দেখা যাবে কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে এসে স্পিনারদের হারিয়ে দিলেন পেসাররা। পাকিস্তানকে অলআউট করলেন পেসাররাই।
এখন পর্যন্ত, বাংলাদেশের পেসারদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল টেস্ট ইনিংসে নয় উইকেট নেওয়া। চারবার এই সাফল্য পেয়েছিলেন তারা- নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনবার এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একবার।
এবার সেসব রেকর্ড ভেঙে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে পেসাররা নিয়ে নিলেন ১০ উইকেট। যা বাংলাদেশকে টেস্ট সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। দেখা যাক সিরিজের প্রথম টেস্টের মতো এবারও ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পায় কি না টাইগাররা। সেটি হয়ে গেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নামের পাশে যুক্ত হতে পারে আরও কয়েকটি রেকর্ড।
আরও পড়ুন: হাসানের জোড়া শিকারে দিনের শেষটাও রাঙাল বাংলাদেশ
অবশেষে ভাঙল লিটনের প্রতিরোধ, ২৬২ রানে থামল বাংলাদেশ
৫৫০ দিন আগে
হাসানের জোড়া শিকারে দিনের শেষটাও রাঙাল বাংলাদেশ
লিটন দাসকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের দুই উইকেট নিয়ে তৃতীয় দিনের শেষটা রাঙিয়ে দিয়েছেন হাসান মাহমুদ।
১২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা পাকিস্তান তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৩.৪ ওভারে ৯ রান করতে গিয়েই ২ উইকেট হারিয়েছে। ফলে ২১ রানে এগিয়ে থেকে আগামীকাল চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবে তারা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের উইকেটের খাতা খুলেছেন হাসান।
এরপর নিজের দ্বিতীয় ও ইনিংসের চতুর্থ ওভারে হাসান মাহমুদ খুররাম শাহজাদকেও ফিরিয়ে দিলে তৃতীয় দিনের মতো খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়ার।
আরও পড়ুন: অবশেষে ভাঙল লিটনের প্রতিরোধ, ২৬২ রানে থামল বাংলাদেশ
এর আগে, বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন ভেসে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দিন টস জিতে স্বাগতিকদের শুরুতে ব্যাটিংয়ে পাঠান টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরুতে ব্যাটিং করে ৮৫.১ ওভার খেলে তিনটি হাফ সেঞ্চুরিতে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
১০ রান উইকেটশূন্য থেকে দ্বিতীয় দিন শেষ করলেও তৃতীয় দিন নেমেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। সেখান থেকে লিটন দাসের ১৩৮ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ৭৮ রানে ভার করে দিনের শেষভাগে এসে ২৬২ রানে গুটিয়ে গেলে ১২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করে পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৭৪/১০ (৮৫.১ ওভার; সাইম ৫৮, মাসুদ ৫৭ ও সালমান ৫৪; মিরাজ ৫/৬১ ও তাসকিন ৩/৫৭)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: (আগের দিন ১০/০) ২৬২/১০ (৭৮.৪ ওভার; লিটন দাস ১৩৮, মেহেদী মিরাজ ৭৮; শাহজাদ ৬/৯০, হামজা ২/৫০, সালমান ২/১৩)।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৯/২ (৩.৪ ওভার; সাইম আইয়ুব ৬*, আব্দুল্লাহ শফিক ৩; হাসান মাহমুদ ২/৩)।
৫৫১ দিন আগে
হালান্ডের টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকে সিটির তিনে তিন
গত কয়েক মৌসুমের মতো এবারও লিগে দুর্দান্ত শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে প্রথম ম্যাচে চেলসিকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর পর ইপসউইচকে হারিয়ে এবার ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের বিপক্ষেও তুলে নিয়েছে দারুণ এক জয়।
শনিবার (৩১ আগস্ট) লন্ডন স্টেডিয়ামে হ্যামারদের ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।
এদিন ম্যাচের সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী নরওয়েজিয়ান ফুটবলার আর্লিং হালান্ড। ইপসউইচের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন এই স্ট্রাইকার। আর রুবেন দিয়াসের আত্মঘাতী গোল থেকে একমাত্র গোলটি পায় ওয়েস্ট হ্যাম।
এদিন ম্যাচের দশম মিনিটেই বের্নার্দো সিলভার পাস ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে দলকে এগিয়ে নেন হালান্ড। তবে ৯ মিনিট পর গোল পেয়ে সমতায় ফেরে ওয়েস্ট হ্যাম।
আরও পড়ুন: রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক, ৭-০ ব্যবধানে জিতল বার্সেলোনা
এরপর ৩০তম মিনিটে রিকো লুইসের পাসে ডান পায়ের ছোঁয়ায় ফের সিটিকে এগিয়ে নেন হালান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে নেমে ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করে দলের জয় নিশ্চিত করে ফেলেন এই নরওয়েজিয়ান।
এর ফলে সিটির জার্সিতে ১১টি হ্যাটট্রিক করে ফেললেন তিনি। আর ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তার হ্যাটট্রিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪টিতে।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০২ ম্যাচ খেলে ৯৭টি গোল করেছেন হালান্ড। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে তার গোলের সংখ্যা ৭০টি, যার ৭টিই হয়েছে চলতি মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচে।
টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষ উঠেছে সিটি। দিনের অপর ম্যাচে ব্রাইটনের বিপক্ষে ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে ১-১ ড্র করে হোঁচট খেয়েছে আর্সেনাল। এর ফলে ৭ পয়েন্ট করে নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাইটন ও আর্সেনাল।
আরও পড়ুন: ভিলাকে হারিয়ে আর্সেনালের দুইয়ে দুই
তবে আগের দুই ম্যাচের দুটিই জিতে ছয় পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে লিভারপুল। আজ রাত ৯টায় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে তারা। এই ম্যাচে এরিক টেন হাগের শিষ্যদের হারাতে পারলে টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। তবে শীর্ষে উঠতে হলে ইউনাইটেডকে অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে হারাতে হবে আর্নে স্লটের শিষ্যদের।
দুই ম্যাচের একটি হেরে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের মাঝামাঝি অবস্থান করছে রেড ডেভিলরা।
৫৫১ দিন আগে
অবশেষে ভাঙল লিটনের প্রতিরোধ, ২৬২ রানে থামল বাংলাদেশ
উইকেটে আসা-যাওয়ার মিছিলে লিটন দাস যখন ক্রিজে আসলেন, তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬ রান, ৬ উইকেটের বিনিময়ে। এমন বিপর্যয়কালে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে চোয়াল শক্ত করে খেলে গেলেন তিনি। এরপর পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস থেকে সামান্য পিছিয়ে থেকে ভাঙল তার প্রতিরোধ।
লিটনের অনবদ্য শতক ও সপ্তম উইকেটে ১৬৫ রানের সুবাদে ৭৮.৪ ওভারে ২৬২ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ফলে ১২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা শুরু করেছে পাকিস্তান।
এদিন ব্যাট হাতে লিটন করেছেন সর্বোচ্চ ১৩৮ রান, আর মিরাজ ৭৮ রান করে ফিরে যান। বাকি ব্যাটারদের কেউই বলার মতো রান স্কোরবোর্ডে তুলতে পারেননি। তবে লিটনকে শেষ পর্যন্ত ভালো সঙ্গ দিয়ে গেছেন হাসান মাহমুদ।
এর আগে, ধ্বংস্তুপে মুষ্টি শক্ত করে দাঁড়িয়ে একে একে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন ও মিরাজ। তাদের জুটিতে আশার আলো দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর ১৬৫ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন মিরাজ। এর আগে অবশ্য রেকর্ডও করে ফেলেন তারা।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে পঞ্চাশের নিচে ৬ উইকেট পড়ার পর এই প্রথম কোনো জুটি দেড় শতাধিক রান করল। এর আগের কীর্তিটি ছিল অবশ্য পাকিস্তানের। ২০০৬ সালে করাচিতে ভারতের বিপক্ষে ৩৯ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ১১৫ রানের জুটি গড়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ও কামরান আকমল।
আরও পড়ুন: মিরাজের ঘূর্ণিতে ২৭৪ রানে থামল পাকিস্তান
এদিকে, মিরাজকে ফিরিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পেয়েছেন খুররাম শাহজাদ। শুধু তাই নয়, একাই ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন তিনি। এছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মির হামজা ও আগা সালমান।
মিরাজ ফিরে যাওয়ার পর তাসকিনকেও বিদায় করেন খুররাম। তবে লিটনকে যোগ্য সঙ্গ দেন হাসান মাহমুদ। লিটন অবশেষে ২২৮ বলে ১৩টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ১৩৮ রান করে ফিরে যাওয়ার দুই বল পর লেগ বিফোরের ফাঁদি পড়ে আউট হন নাহিদ রানাও। তবে ৫১ বল মোকাবিলা করে ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন হাসান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৭৪/১০ (৮৫.১ ওভার; সাইম ৫৮, মাসুদ ৫৭ ও সালমান ৫৪; মিরাজ ৫/৬১ ও তাসকিন ৩/৫৭)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: (আগের দিন ১০/০) ২৬২/১০ (৭৮.৪ ওভার; লিটন দাস ১৩৮, মেহেদী মিরাজ ৭৮; শাহজাদ ৬/৯০, হামজা ২/৫০, সালমান ২/১৩)।
৫৫১ দিন আগে
লেভারকুজেনের অপরাজেয় যাত্রা থামাল লাইপসিগ
হারতে যেন ভুলেই গিয়েছিল বর্তমান বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ের লেভারকুজেন। গত মৌসুমে অপরাজিত লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর চলতি মৌসুমেও তাদের সে ধারা অব্যাহত ছিল। তবে শাবি আলোনসোর উড়তে থাকা দলকে অবশেষে মাটিতে নামিয়েছে লাইপসিগ।
বুন্দেসলিগায় শনিবার লেভারকুজেনের বে আরেনায় স্বাগতিকদের ৩-২ গোলে হারিয়ে জয় নিয়ে ফিরেছে লাইপসিগ। এর ফলে লিগে টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে তারা।
এদিন ম্যাচের ৩৯ মিনিটে জেরেমি ফ্রিম্পংয়ের গোলে ম্যাচে প্রথম এগিয়ে যায় লেভারকুজেন। এর ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অপর প্রান্তের উইং ব্যাক আলেক্স গ্রিমালদো। তবে প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে কেভিন ক্যাম্পলের নৈপুণ্যে এক গোল পরিশোধ করে বিরতিতে যায় লাইপসিগ।
ফিরে এসে ৫৭তম মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান লাইপসিগের লুইস অপেন্দা। এরপর ৮০তম মিনিটে অপেন্দার দ্বিতীয় গোলে ম্যাচের প্রথমবারের মতো এগিয়ে যাওয়ার পর লেভারকুজেনকে আর শেষের চমক দেখাতে দেয়নি সফরকারীরা। ফলে হার মানতে হয় শাবির শিষ্যদের।
আরও পড়ুন: ১০ জন নিয়ে খেলেও শিরোপা জিতে মৌসুম শুরু লেভারকুজেনের
এর ফলে বুন্দেসলিগায় ৪৬২ দিন পর হারল চ্যাম্পিয়নরা। গত মৌসুমের অপরাজিত দলটি সর্বশেষ হারে তার আগের মৌসুমের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে বোখুমের বিপক্ষে।
তবে এটিই বুন্দেসলিগায় সর্বোচ্চ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নয়। লেভারকুজেনের ঠিক উপরে রয়েছে হামবুর্গ। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত ছিল তারা। তবে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা ৫৩ ম্যাচে অপরাজিত থেকে এই রেকর্ডে সবার অনেক উপরে রয়েছে পেপ গার্দিওলার বায়ার্ন মিউনিখ।
গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর ইউরোপা লিগের ফাইনালে আতালান্তার কাছে হেরে যায় লেভারকুজেন। তবে লিগে তাদের অজেয় যাত্রা এরপরও অব্যাহত ছিল। অবশেষে সে যাত্রার ইতি টেনে দিল মার্কো রোজের লাইপসিগ।
আরও পড়ুন: যে ৬ কারণে স্বপ্নযাত্রা থামল লেভারকুজেনের
৫৫১ দিন আগে
রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক, ৭-০ ব্যবধানে জিতল বার্সেলোনা
হান্সি ফ্লিকের ছোঁয়ায় নতুন দিনের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে বার্সেলোনা সমর্থকরা। আর্থিক সংকটের কারণে চাহিদামতো খেলোয়াড় কিনতে না পারা এবং চোটজর্জর দল নিয়েও লিগের প্রথম চার ম্যাচে জয় পেয়েছে ক্লাবটি। তবে চতুর্থ ম্যাচে বিরাট জয়ে ভক্তেদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তার দল।
শনিবার (৩১ আগস্ট) বার্সেলোনার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে রিয়াল ভায়াদোলিদের বিপক্ষে ৭-০ গোলের বিশাল জয় পেয়েছে কাতালুনিয়ার ক্লাবটি।
এই ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেছেন বার্সার ব্রাজিল ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। এছাড়া শুরুতেই পিচিচির দৌড়ে থাকা রবের্ট লেভানডোভস্কি, দানি অলমো, ফেররান তোরেস ও জুল কুন্দে পেয়েছেন একটি করে গোলের দেখা। তবে গোল না পেলেও এদিন দুটি অ্যাসিস্ট করে নিজের প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন লামিন ইয়ামাল।
আরও পড়ুন: বার্সার দায়িত্ব নিয়ে শিরোপা জিততে বদ্ধপরিকর ফ্লিক
এদিন ম্যাচের ২০তম মিনিটে রাফিনিয়ার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৩-০ ব্যবধান গড়ে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা। বিরতির পর তারা প্রতিপক্ষের জালে আরও চারবার বল পাঠায়।
ম্যাচের দশম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত বার্সেলোনা, কিন্তু অফসাইডের কারণে দানি অলমোর গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া রাফিনিয়ার বুলেট শট প্রতিহত করলেও তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন ভায়াদোলিদ গোলরক্ষক কার্ল হাইন। বল তার কাছ থেকে সামনে চলে আসলে এগিয়ে গিয়ে তা জালে জড়িয়ে দেন অলমো, কিন্তু ভিএআর রিভিউতে রেফারির অফসাইডের সিন্ধান্ত বহাল থাকলে হতাশ হয় বার্সার সমর্থকরা।
চতুর্দশ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে রবের্ট লেভানডোভস্কির শট ঠেকিয়ে দেন হাইন। ষোড়শ মিনিটে তার আরও একটি হেডার পোস্টের বাইরে বেরিয়ে যায়। তবে ২০তম মিনিটে রাফিনিয়ার চমৎকার এক গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।
মাঝ মাঠ থেকে রাফিনিয়ার দৌড় দেখেই শূন্যে ভাসিয়ে লং পাস দেন পাউ কুবারসি। এরপর প্রতিপেক্ষের বক্সের বেশ বাইরে থেকে বুক দিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনাকুনি এগিয়ে গিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
৫৫২ দিন আগে
জোড়া সেঞ্চুরিতে কুককে ছাড়িয়ে একাধিক রেকর্ডে রুট
শ্রীলংকার বিপক্ষে চলমান লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে রেকর্ড ছুয়েছিলেন ইংল্যান্ডের হালের ব্যাটিং লাইন-আপের অন্যতম আস্থার নাম জো রুট। এবার দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি করে সেই রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। ভেঙে দিয়েছেন রেকর্ড।
টেস্টে ইংল্যান্ডের হয়ে মোট ৩৪ সেঞ্চুরি করেছেন এই ব্যাটার। এর ফলে স্যার অ্যালিস্টার কুককে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি করা ইংলিশ ব্যাটার হয়ে গেছেন তিনি।
প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানের ইনিংস খেলার পথে ৩৩তম টেস্ট সেঞ্চুরি করে নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেইসঙ্গে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিতে কুকের পাশে বসেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে সবাইকে ছাড়িয়ে চূড়ায় উঠেছেন এই ব্যাটার।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে মালান
শুধু তা-ই নয়, এক যুগের টেস্ট ক্যারিয়ারে এর আগে কখনোই টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। এবার তা করে ইংল্যান্ডের এমন কীর্তি করা দ্বাদশ ক্রিকেটার বনে গেলেন তিনি। তবে লর্ডসে এই রেকর্ড আছে তিনি ছাড়া কেবল তিনজনের; ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জ হেডলি এবং ইংল্যান্ডের গ্রাহাম গুচ ও মাইকেল ভন দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছেন এই মাঠে।
এর সঙ্গে আরও একটি দারুণ ব্যাপার ঘটেছে রুটের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে। ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে শতকের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন তিনি।
লর্ডসে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির (৭টি) রেকর্ডও এখন রুটের। আজকের সেঞ্চুরিতে তিনি টপকে গেছেন গুচ ও ভনকে (৬টি করে)। পাশাপাশি এই মাঠে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক গুচের ২ হাজার ১৫ রান ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসের ১০৩ রানে বর্তমানে লর্ডসে তার রান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২-এ।
দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ ব্যাটার হিসেবে রুট আউট হলে ২৫১ রানের পুঁজি পায় ইংল্যান্ড। এতে প্রথম ইনিংসের ২৩১ রানের লিড মিলিয়ে লঙ্কানদের ৪৮৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছে থ্রি লায়ন্স।
আরও পড়ুন: ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার এখন সাকিব
৫৫২ দিন আগে
মিরাজের ঘূর্ণিতে ২৭৪ রানে থামল পাকিস্তান
পাকিস্তানের রানের খাতা খোলার আগেই প্রথম ওভারে উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে যে শুভ সূচনা করেছিলেন তাসকিন আহমেদ, দিনের শেষে এসে তাতে পূর্ণতা এনে দিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। একাই পাঁচ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে ধ্বস নামিয়েছেন তিনি।
বৃষ্টির কারণে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম দিন ভেসে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দিন টস জিতে স্বাগতিকদের শুরুতে ব্যাটিংয়ে পাঠান টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরুতে ব্যাটিং করে ৮৫.১ ওভার খেলে তিনটি হাফ সেঞ্চুরিতে ২৭৪ রান সংগ্রহ করেছে পাকিস্তান।
পরে দুই ওভারে উইকেট না হারিয়েই ১০ রান সংগ্রহ করে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। ওপেনার সাদমান ইসলাম ৯ বলে একটি চারের সাহায্যে ৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন। অন্যপ্রান্তে তিন বল মোকাবিলা করে রানের খাতা খুলতে পারেননি জাকির হাসান।
এর আগে, প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন ওপেনার সাইম আইয়ুব। এছাড়া তৃতীয় ব্যাটার শান মাসুদ ৫৭ এবং সাত নম্বরে নেমে ৫৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন আগা সালমান।
অপরদিকে, বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। এছাড়া, তাসকিন তিনটি এবং সাকিব ও নাহিদ রানা একটি করে উইকেট তুলেছেন।
আরও পড়ুন: বৃষ্টিতে ভেসে গেল দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন
এদিন, প্রথম ওভারটি মেইডেন দিয়ে শেষ বলে পাকিস্তানি ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিকবে বোল্ড করে দেন তাসকিন। এরপর অধিনায়ক শান মাসুদের সঙ্গে ১০৭ রানের জুটি গড়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান। তবে দুই ব্যাটারই ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে ব্যর্থ হয়েছেন।
মধ্যাহ্ন বিরতির পরই পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের পথ দেখানো জুটিটি ভাঙেন মিরাজ। মাসুদকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে পাঠানোর পর সাইমকেও বিদায় করেন তিনি। মিরাজের বলে এগিয়ে এসে ব্যাট চালাতে গিয়ে মিস করলে তড়িৎ গতিতে উইকেট ভেঙে দেন লিটন দাস। ফলে ১০৭ রানে দ্বিতীয় ও ১২২ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান।
মূলত দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার পর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। এই ধারাবাহিকতায় ১৫১ রানের মাথায় সৌদ শাকিলকে (১৬) বোল্ড করে দেন তাসকিন। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে আরেকটি বড় জুটির গড়ার চেষ্টা করলেও ১৭৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩১ রান করে ফিরতে হয় বাবর আজমকে। সাকিবের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। পরে আগা সালমানের সঙ্গে ৩২ রানের জুটি গড়ে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রিজওয়ান। নাহিদের বলে ২৯ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় টেস্ট স্কোয়াডে শক্তি বাড়াল পাকিস্তান
তবে ব্যাটিংয়ে এসে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন সালমান। রিজওয়ান ফিরে গেলেও পরবর্তী ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তি অর্ধশতক তুলে নেন তিনি। মাঝে মিরাজের বলে খুররাম শেহজাদ (১২) ও মোহাম্মদ আলী (২) আউট হয়ে ফেরার পর ৫৪ রান করে অবশেষে তাসকিনের বলে তিনি ফিরে গেলে ইনিংস গোটানো ছিল সময়ের অপেক্ষা। তবে সময় একেবারেই নষ্ট করেননি মিরাজ। ৮৫তম ওভারের শেষ বলে সালমান আউট হলে পরের ওভারের প্রথম বলেই আবরার আহমেদকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের দশম ফাইফার পূর্ণ করেন তিনি।
এর মাধ্যমে মোহাম্মদ রফিকের পর পাকিস্তানের মাটিতে ৫ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার বনে যান মিরাজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৭৪/১০ (৮৫.১ ওভার; সাইম ৫৮, মাসুদ ৫৭ ও সালমান ৫৪; মিরাজ ৫/৬১ ও তাসকিন ৩/৫৭)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১০/০ (২ ওভার) (সাদমান ৬* ও জাকির হাসান ০*)।
৫৫২ দিন আগে