বিশ্ব
ভাঁড়ামির মাধ্যমে শিশুদের ইসালামি শিক্ষা দিচ্ছেন তিনি
রঙিন পোশাক, লাল নাক ও মাথায় পাগড়ি পরে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভাঁড়ামির অভিনয় করেন ইয়াহইয়া হেন্দ্রোয়ান। শিশু-কিশোরদের বিনোদন দেওয়ার ফাঁকে ইসলামের বিধিবিধান ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেন তিনি।
অর্থ উপার্জনের জন্য বিভিন্ন সময় জন্মদিনের পার্টিতে কাজ করতেন ইয়াহইয়া। সেখানে অভিনয় করে মানুষকে মুগ্ধ করতেন। কিন্তু ২০১০ সালে তাকে আধুনিককালের আবু নুয়াস হতে অনুপ্রাণিত করেন তার ধর্মীয় শিক্ষক।
আরও পড়ুন: পর্যটক টানবে খাগড়াছড়ি, আশা সংশ্লিষ্টদের
আরবি ভাষার কিংবদন্তি কবি আবু নুয়াস বিখ্যাত ছিলেন বুদ্ধিমত্তা, প্রজ্ঞা, রসিকতা ও চমৎকার শব্দচয়নের জন্য। সমসাময়িক আরবি কাব্যের সব ধারার ওপর দক্ষ ছিলেন তিনি। লোককথায়ও আবু নুয়াসের উপস্থিতি রয়েছে। আরব্য রজনীতে বেশ কয়েকবার তার নাম পাওয়া যায়।
কবি আবু নুয়াসের মতো করেই রসিকতা ও প্রজ্ঞার সংমিশ্রণে ধর্মীয় শিক্ষায়তনে ভাঁড়ামির অভিয়ন করতে উৎসাহিত হন ইয়াহইয়া। বর্তমানে তাকে সবাই ইয়াহইয়া বাদুত বা ইয়াহইয়া ক্লাউন (ভাঁড়) নামে ডাকেন। এমন একটি স্বপ্নই তিনি বহুবছর ধরে লালন করছিলেন।
পাশাপাশি আরও কিছু সমমনা ক্লাউন নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দ্য শরিয়া ক্লাউন ফাউন্ডেশন। নির্মল বিনোদনের সাথে ধর্মীয় শিক্ষা দিতেই তারা কাজ করছেন।
শিশুদের আনন্দ দিতে বিভিন্ন মজার গানও পরিবেশন করেন তারা। ইয়াহইয়া বলেন, ‘হাদিসে আছে, কেউ তার ভাইয়ের সামনে মুচকি হাসি দিয়ে কথা বললে তা সদকাস্বরূপ। কাজেই অবশ্যই মুচকি হাসিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাতে হবে। যখন বন্ধুদের সাথে আপনার দেখা হয়, হাসি দিয়ে করমর্দন করবেন।’
মজা ও আনন্দ নিয়ে পড়ালে শিশুরা সহজেই তা আয়ত্ত করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ঈদের একাল-সেকাল: প্রজন্মের ধারাবাহিকতায় ত্রিমাত্রিক উদযাপন ঢাকায়
৩৪০ দিন আগে
জুমার নামাজের সময় ভূমিকম্প, মিয়ানমারে নিহত অন্তত ৭০০ মুসল্লি
মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে নিহতদের মধ্যে সাত শতাধিক মুসল্লি রয়েছেন। সোমবার (৩১ মার্চ) দেশটির একটি মুসলিম সংস্থা এমন তথ্য জানিয়েছে।
গত শুক্রবার (২৮ মার্চ) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে রমজানের শেষ দিকে জুমাতুল বিদার দিনে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তখন জুমার নামাজ আদায়ে মসজিদে ছিলেন বেশিরভাগ মুসল্লি।
জান্তা সরকার বলছে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০’র বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
তবে সেসব মুসল্লিদের নিহতের তথ্য সরকারি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কিনা, তা পরিষ্কার নয়।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরাবতিতে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে বেশ কিছু মসজিদ ভেঙে পড়ছে। লোকজন ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ জায়গায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
মিয়ানমারের বসন্ত বিপ্লবের মুসলিম নেটওয়ার্কের পরিচালনা কমিটির সদস্য টুন কিই বলেন, মান্দালয়ের এই ভূমিকম্পে ৬০টির বেশি মসজিদ ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনগুলো অনেক পুরোনো হওয়ায় আগে থেকেই ঝুঁকিতে ছিল বলে জানান তিনি।
জান্তা সরকারের মুখপাত্র জো মিন তুন জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৭০০ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ৩ হাজার ৪০০ জন। এখনও আরও ৩ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
ভূমিকম্পে অসংখ্য ভবন মাটিতে মিশে গেছে, রাস্তাঘাট ভেঙে চৌচির হয়ে গেছে, সেতুগুলো ধসে পড়েছে। দেশটির সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন পড়েছে।
ব্রিট্শি দৈনিক গার্ডিয়ানের খবর বলছে, উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য স্থানীয়দের কাছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও হাতিয়ার নেই।
রেডক্রসের কর্মকর্তাদের দাবি, গত ১০০ বছরে এই মাত্রার বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়নি এশিয়া।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, ‘যাদের সহায়তা দরকার, তারা আমাদের ডাকছেন। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে তাদের কাছে আমরা পৌঁছাতে পারছি না।’
এই ভূমিকম্পে মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডেও ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। দেশটির একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভেঙে পড়ায় এই প্রাণহানি ঘটেছে।
৩৪১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে শয়তান সংঘের সভায় হাতাহাতি, গ্রেপ্তার ৩
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে স্বঘোষিত শয়তানের ছোট একটি দলের নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মার্চ) অঙ্গরাজ্যটির স্টেটহাউসে ‘ব্ল্যাক মাস’ আয়োজনের চেষ্টা করলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সেদিন স্টেটহাউসের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন কানসাস শহরের শয়তানের গ্রোটোর প্রায় ৩০ জন সদস্য। এখানে গ্রোটো বলতে সংঘ বোঝানো হয়েছে। এ সময়ে ভবনের ভেতরে খ্রীস্টানদের ঢুকতে দেওয়ার বিরুদ্ধেও তারা প্রতিবাদ করেন।
শয়তান সংঘের ব্ল্যাক মাস হচ্ছে এমন একটি অনুষ্ঠানের নাম, যা শয়তানের উপাসনার সময় অনুষ্ঠিত হয় এবং যা ক্যাথলিক মাসের একরকম প্যারোডি। গ্রোটোর সভাপতি মাইকেল স্টুয়ার্টের দাবি, ‘অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণয়ন ভবনে খ্রীস্টানদের ঢুকতে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হলে যেসব অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে
এরইমধ্যে স্টেটহাউসের ভেতরে সাময়িকভাবে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর লওরা কেলি। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরে ভবনের ভেতরে অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় মাইকেল স্টুয়ার্টের দল। শয়তান সংঘের লোকজন জড়ো হওয়ার পর স্থানীয় কয়েক খ্রীস্টান এসে সেখানে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান।
শয়তানের চিত্রকল্প ও যিশু খ্রীস্টকে অস্বীকারসহ ভবনের ভেতরে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবাদ করেন তারা। যিশু খ্রীস্টকে ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে বিবেচনা করেন খ্রীস্টানরা।
শয়তানের গ্রোটের লোকজনের জন্য জায়গা হলুদ টেপ দিয়ে চিহ্নিত করে রেখেছিল পুলিশ। শখানেক খ্রীস্টান এসে সেখানে জড়ো হন। এরপর দুটি পক্ষ পরস্পরের দিকে লক্ষ্য করে চিৎকার করতে থাকেন।
এ সময়ে খ্রীস্টানরা গান গেয়ে শয়তানের দলের লোকজনকে যিশু খ্রীস্টের পথে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। শয়তান সংঘের লোকজনের জন্য বরাদ্দ জায়গার বিপরীত পাশে আরও কয়েকশত খ্রীস্টানকে জড়ো হতে দেখা গেছে।
বহুদিন থেকে গ্রোটোর যেকোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন রোমান ক্যাথলিক খ্রীস্টানরা। পরে চলতি মাসের শুরুতে স্টেটহাউসের মধ্যে তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেন গভর্নর কেলি।
শয়তানের গ্রোটো নামের গোষ্ঠীটিকে ক্যাথলিকবিদ্বেষী গোঁড়ামি বলে আখ্যায়িত করেছেন অঙ্গরাজ্যটির ক্যাথলিক বিশপ। তারা ক্যাথলিক মাস নিয়ে মশকরা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কানসাস সিটির কিউর গির্জার যাজক জেরেমিয়া হিকস বলেন, ‘বাইবেলে বলা হয়েছে, শয়তান দুনিয়াতে এসেছে চুরি, হত্যা ও ধ্বংস করতে। কাজেই যখন একটি অঙ্গরাজ্যকে আমরা শয়তানের জন্য উৎসর্গ করে দিই, তখন আমরা সেটিকে ধ্বংসের জন্য উৎসর্গ করছি।’
গ্রোটো সদস্যরা বলেন, ‘তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্বাসের মানুষ আছেন। কিছু নাস্তিকও আছেন তাদের দলে।’
মাইকেল স্টুয়ার্টের বন্ধু অ্যামি ডোরসি বলেন, ‘বাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন দিতেই তিনি শয়তানের গ্রোটোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কারণ খ্রীস্টান গোষ্ঠীগুলোকে স্টেটহাউসে প্রার্থনার অনুমোদন দেওয়া হলেও তাদের দেওয়া হচ্ছে না।’
গ্রেপ্তার হওয়ার আগে স্টুয়ার্ট বলেন, ‘শুক্রবার ব্ল্যাক মাসের সময় নির্ধারণ করা ছিল তাদের। কারণ তখন কানসাস আইনসভার অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল। যদিও বসন্তকালীন বিরতির জন্য বৃহস্পতিবার আইনসভার অধিবেশন মুলতবি করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ৫ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে হাম, দুজনের মৃত্যু
আগামী বছর আবারও গোষ্ঠীটি তাদের কার্যক্রম নিয়ে ফিরে আসবে বলে জানান তিনি।
কেএসএনটি-টিভির ভিডিওতে দেখা গেছে, ভবনটির প্রথম তলায় নিজের দলকে পরিচালনার চেষ্টা করছেন স্টুয়ার্ট। তখন একজন তরুণ তার হাত থেকে বক্তৃতার কাগজ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্টুয়ার্ট তাকে ঘুষি মারেন। এরপর পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়।
তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় ‘স্বাগত, শয়তান’ বলে চিৎকার করছিলেন তিনি। স্টুয়ার্টের স্ত্রী মায়েনাদ বি বলেন, ‘তিনি কেবল সংবিধানের প্রথম সংশোধনের অধিকার চর্চা করছিলেন।’
৩৪১ দিন আগে
নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে হামাসের সম্মতি, পাল্টা প্রস্তাব ইসরায়েলের
মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের পূর্ণ সহযোগিতায় পাল্টা প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল।
নিজেদের পাল্টা প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। শনিবার (২৯ মার্চ) তারা জানিয়েছে, শুক্রবার আলাপ-আলোচনার পরই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি, একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহারের বিনিময়ে অবশিষ্ট জিম্মিদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হামাস।
নড়বড়ে অস্ত্রবিরতি চুক্তিকে পুনর্বহাল করতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল মিসর। যদিও তার আগেই গাজায় নতুন করে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে কেবল গত ১৮ মার্চই চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
হামাস নেতা খলিল আল-হাইয়া নতুন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার আগে তাতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
মিসরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জীবিত থাকা পাঁচ জিম্মিকে ছেড়ে দেবে হামাস, যাদের মধ্যে একজন আমেরিকান-ইসরায়েলিও রয়েছেন। বিনিময়ে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেবে ইসরায়েল। সামরিক আগ্রাসনেও সপ্তাহখানেকের জন্য বিরতি দেবে দখলদার বাহিনী। এছাড়া কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকেও মুক্তি দেওয়ার কথা বলেছিল তারা।
হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের ২৪ জন এখনও জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের ছেড়ে দেওয়া না হলে যুদ্ধ তীব্রতর করার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ ছাড়াও ইসরায়েলের শর্তের মধ্যে ছিল—হামাসকে নিরস্ত্র হতে হবে, গাজার ক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং তাদের নেতাদের দেশের বাইরে নির্বাসনে পাঠাতে হবে।
শনিবার মিসর সীমান্তের কাছাকাছি রাফাহ শহরে স্থল অভিযান প্রসারিত করেছে ইসরায়েল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। তখন ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলিকে হত্যা করেছিল হামাস। পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি করে উপত্যকায় নিয়ে যায় তারা। তারপর থেকে গাজাজুড়ে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত উপত্যকার ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
৩৪২ দিন আগে
সৌদি আরবে ঈদ রবিবার
শনিবার সৌদি আরবে ঈদের চাঁদ দেখা গিয়েছে। ফলে আগামীকাল রবিবার সেখানে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় রবিবার (৩০ মার্চ) ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন উদযাপন করবে সৌদি আরব।
খবরে বলা হয়েছে, আজ (শনিবার) স্থানীয় সময় মাগরিবের নামাজের পর বিষয়টি নিশ্চিত করে সৌদির চাঁদ দেখা কমিটি। এর ফলে দেশটিতে ২৯ রোজার পর এ বছর ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সৌদির রয়্যাল কোর্টের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ (শনিবার) রমজানের শেষ দিন এবং আগামীকাল (রবিবার) রাজ্যজুড়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
এর ফলে বাংলাদেশে সোমবার ঈদ উদযাপনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হলো। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঈদ উদযাপনের পরের দিন সাধারণত বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে। তবে সৌদির সঙ্গে মিল রেখেও দেশের অনেক জায়গাতে ঈদ উদযাপন করে থাকে দেশের অনেক মুসল্লি।
৩৪২ দিন আগে
ভূমিকম্পে মিয়ানমারে নিহত বেড়ে দেড় সহস্রাধিক, বাড়তে পারে আরও
মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৬৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটির জান্তা সরকার এমন তথ্য দিয়েছে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) দিনের মাঝামাঝিতে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির মধ্যাঞ্চলের সাগেইং শহরে সাত দশমিক সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। পরবর্তীকে বেশ কয়েকটি আফটারশক (পরাঘাত) হয়েছে। এরমধ্যে একটি আফটারশকের মাত্রা ছিল ছয় দশমিক সাত মাত্রার।-খবর ডনের।
প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডও কেঁপে ওঠে ভূমিকম্পে। দেশটিতে ১০ জনের নিহতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভূমিকম্পে মিয়ানমারের বহু ভবন ও সেতু ভেঙে পড়েছে। রাস্তায় ফাটল ধরে চৌচির হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর মান্দালয়। শহরটিতে এক কোটি ৭০ মানুষ বাস করেন।
জান্তা সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে তিন হাজার ৪০৮ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৩৯ জন।
গেল একশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে মিয়ানমারের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়া সম্ভব হয়নি। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিল্ডিং কোড-মহাপরিকল্পনা অনুসরণ না করলে বিপর্যয় ডেকে আনবে ভূমিকম্প
দেশটিতে কয়েক শত বছরের পুরোনো একটি প্যাগোডা মাটিতে মিশে গেছে। প্যাগোডার পাশেই তল্লাশিচৌকিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক সেনা বলেন, ‘হঠাৎ করে কম্পন শুরু হয়েছে। পরে তা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। মঠও ভেঙে গেছে। একজন সন্ন্যাসী নিহত হয়েছেন। কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
দীর্ঘদিন ধরে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধকবলিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে ব্যাপক মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে সড়ক ও সেতু ভেঙে পড়ায় চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না।
৩৪২ দিন আগে
দুর্যোগ থেকে মানুষকে উদ্ধারের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই: সাবেক ইউএসএইড প্রধান
ভূমিকম্প কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বা লোকবল কোনোটিই আর মার্কিন প্রশাসনের নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএইড) সাবেক প্রধান সারাহ চার্লস।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সহায়তার আশ্বাস দিলে এই মন্তব্য করেন সারাহ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ মার্চ) ওয়াশিংটনে ভূমিকম্প সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা ‘দানব’ ধরিয়ে দিল শিশু
তবে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরেই যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেওয়া বৈদেশিক সহায়তায় ব্যাপক কাঁটছাট করেন ট্রাম্প।
এ কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশে সংঘটিত এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা বলে অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার দিনের মাঝামাঝিতে হওয়া এই ভূমিকম্পে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজারের বেশি। এখনো ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
এ দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সহায়তা করতে চলেছি। সংশ্লিষ্টদের এরইমধ্যে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যা হয়েছে, তা সত্যিই খুব খারাপ হয়েছে।’
এই বক্তব্যের পরে বৈদেশিক সহায়তা কাঁটছাট ও কর্মীদের ব্যাপকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করায় ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে সারাহ বলেন, ‘প্রশাসন এখন ধুঁকে ধুঁকে চলছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত মানুষকে উদ্ধারের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে হলে যে সম্পদ বা লোকবল প্রয়োজন, তা কোনোটিই এখন নেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের।’
অবশ্য সারাহর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএসএইডের বর্তমান মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস। তিনি জানান, যেকোনো দুর্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে খাবার ও নিরাপদ পানিসহ অন্যান্য সহায়তায় বিশেষজ্ঞ টিম প্রস্তুত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে মিয়ানমারে সহস্রাধিক প্রাণহানি, ব্যাপক মানবিক সংকট
কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে সংস্থাটির কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানান তিনি।
সারাহ বলেন, ভূমিকম্পের মতো ঘটনাগুলোতে সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংস্থাটির একটি উদ্ধারকারী দল পৌঁছে যায়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে ওই দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়াও বৈদেশিক সহায়তা বন্ধ ও কাঁটছাট করার কারণে জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থাগুলোর জরুরি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অভিমত দেন সারাহ।
৩৪২ দিন আগে
খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা ‘দানব’ ধরিয়ে দিল শিশু
শিশুদের ঘুম পাড়াতে রূপকথার দৈত্য-দানবের গল্প শোনানো হয়। বাস্তব জীবনেও অনেক সময় দানবের দেখা মেলে। যদিও তারা বহু মাথাবিশিষ্ট হাইড্রা কিংবা মানুষ ও ষাঁড়ের সম্মিলিত রূপের মিনোটারের মতো দেখতে নয়। তারা মানুষের মতো হলেও কার্যকলাপে শিশুদের কাছে দানব হিসেবেই পরিচিত করে তোলে তাদের।
এমনই এক ‘দুষ্টু দানব’ লুকিয়ে ছিল একটি শিশুর খাটের নিচে। সেই শিশুটিই ধরিয়ে দিয়েছে ওই দানবকে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের এক বাসার একটি শিশুর খাটে নিচে লুকিয়ে থাকা সেই ‘দানবকে’ সোপর্দ করা হয়েছে আদালতে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ মার্চ) ক্যানসাস কাউন্টির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (শেরিফ) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে জানানো হয়। একটি শিশুর খাটের নিচ থেকে এক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বার্টন কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, রাজ্যটির গ্রেট বেন্ডের কাছের একটি বাড়িতে গত সোমবার (২৫ মার্চ) এই ঘটনাটি ঘটেছে। গ্রেপ্তারের পর ২৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, ‘ওই বাসাটিতে একটি শিশুর দেখাশোনা করতেন এক নারী (বেবিসিটার)। ঘটনার দিন শিশুটি বারবার তার বেবিসিটারকে বলছিল, ‘খাটের নিচে দানব আছে। আতঙ্কিত শিশুটিকে আশ্বস্ত করতে খাটের নিচে উঁকি দিতেই ভয় পেয়ে যান বেবিসিটারও। এক অপিরিচিত ব্যক্তিকে তিনি খাটের নিচে লুকিয়ে থাকতে দেখতে পান।’
আরও পড়ুন: মাকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ ডাকল ৪ বছরের শিশু!
এ সময় ওই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন বেবিসিটার নারী। তাদের মধ্যে খানিক ধ্বস্তাধ্বস্তিও হয়। এরই এক পর্যায়ে শিশুটি বিছানা থেকে নিচে পড়ে যায়।
শেরিফ অফিসে জানানো হলেও তারা আসার আগেই কোনোরকম সুযোগ পেয়ে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি। অবশ্য পরে পায়ের ছাপ অনুসরণ করে তাকে আটক করেন অঙ্গরাজ্যটির আইন কর্মকর্তারা।
শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি আগে গ্রেট বেন্ডের কাছাকাছি ওই বাড়িতেই থাকতেন। তবে রাজ্যটির আদালত তাকে বাড়িটি থেকে দূরে থাকার জন্য সুরক্ষা আদেশ দিয়েছিলেন।
অনলাইন আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি অপরাধমূলক হুমকি, পারিবারিক সহিংসতা, সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘনসহ বেশকিছু অভিযোগে কারাগারে ছিলেন। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো দায়ের করা হয়েছিল। তবে ১০ দিন আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
তবে পুনরায় গ্রেপ্তারের পর তাকে জামিন না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। সোমবারের ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণ ও শিশুর জীবন ঝুঁকিতে ফেলাসহ বেশকিছু নতুন অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।
৩৪২ দিন আগে
ভূমিকম্পে মিয়ানমারে সহস্রাধিক প্রাণহানি, ব্যাপক মানবিক সংকট
মিয়ানমারে সাত দশমিক সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ মার্চ) দিনের মাঝামাঝিতে হওয়া এই ভূমিকম্পের পরের দিনও ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর মান্দালয়ে সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে ভূমিকম্প, কেন্দ্রস্থলও সেখান থেকে বেশি দূরে না। এতে সেখানকার বহু ভবন মাটিতে ধসে পড়েছে।
ভূমিকম্প পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি আফটারশক (পরাঘাত) হয়েছে। এরমধ্যে একট আফটারশক ছিল ছয় দশমিক চার মাত্রার। মিয়ানমারের জান্তা সরকার জানিয়েছে, ‘এখন পর্যন্ত এক হাজার দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এছাড়াও দুই হাজার ৭৭৬ জন আহত হয়েছেন। ৩০ জনের হদিস পাওয়া যায়নি।’ হাতহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
৩৪৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ৫ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে হাম, দুজনের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব, দেশটির অন্তত ৫টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই সংক্রমণ। এরইমধ্যে টেক্সাসে আক্রন্তের হার সর্বোচ্চ, প্রায় ৪০০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন দুজন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ মার্চ) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)। ২০২৪ সালে বছরজুড়ে যে সংখ্যক আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে, সেই তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিনমাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন তারা।
টেক্সাস ছাড়াও নিউ মেক্সিকো, কানসাস, ওহাইয়ো ও ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্তের হার বাড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হামে সংক্রমিত হয়ে দুজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সিডিসি। মৃত দুই ব্যক্তি হামের টিকা গ্রহণ করা ছিলেন না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। টেক্সাসে হামে আক্রান্ত হয়ে একটি শিশু এবং নিউ মেক্সিকোতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে সিডিসি।
যুক্তরাষ্ট্রে কিছু অঙ্গরাজ্যে বিগত কয়েক বছরে টিকা নেওয়ার হার কমে যাওয়ায় আগেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কাই এখন বাস্তব প্রমাণিত হয়েছে।
হাম ভাইরাসজনিত একটি সংক্রামক রোগ। মূলত বাতাসের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির নিশ্বাস, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা সংক্রমিত হয়ে থাকেন। সিডিসির তথ্যমতে, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনেরই এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
টিকার সাফল্যের কারণে ২০০০ সালে হাম নির্মূল হওয়ার ঘোষণা দিলেও আবারও যুক্তরাষ্ট্রে জেঁকে বসেছে হাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, টেক্সাসের সংক্রমণের সঙ্গে নিউ মেক্সিকোর সংক্রমণের যোগসূত্র রয়েছে।
টেক্সাসের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, দুই মাস আগে অঙ্গরাজ্যটিতে সংক্রমণ শুরু হয়। শুক্রবার পর্যন্ত ৪০০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, এরমধ্যে ৪১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিউ মেক্সিকোতে এ পর্যন্ত ৪৪ জন সংক্রমিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
কানসাস অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এলাকাটিতে ২৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, ওকলাহোমা ও ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যে যথাক্রমে ৯ ও ১০ জন সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: হাম নির্মূলের ঘোষণা দেওয়ার পরেও যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে সংক্রমণ
এই পাঁচটি অঙ্গরাজ্য ছাড়াও আলাস্কা, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, কেন্টাকি, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, মিনেসোটা, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্কসহ আরও বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জানায়, দেশটিতে সাধারণত বাইরে থেকে আসা কোনো সংক্রমিত ব্যক্তির মাধ্যম হাম ছড়িয়ে থাকে। করোনা মহামারির পরে ধর্মীয় বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের টিকা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গেছে বলে মত দেন তারা।
হামের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎকরা সাধারণত সংক্রমিতদের উপসর্গগুলোর জটিলতা কিছুটা কমিয়ে তাদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। তবে সংক্রমণ এড়াতে তারা টিকা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
হাম থেকে বাঁচতে ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের হাম, মাম্পস ও রুবেলা ভাইরাসের জন্য এমএমআর টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এরপর ৪ থেকে ৬ বছর বয়সের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য বলা হয়।
গ্লোবাল ভাইরাস নেটওয়ার্কের সদস্য স্কট উইভার জানান, সংক্রমণের উচ্চঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত। বিশেষত সংক্রমিত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য কিংবা যাদের শ্বাসনালী আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে তাদের বুস্টার ডোজ দেওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
৩৪৩ দিন আগে