বিশ্ব
আট মাস আগে প্রেমিকাকে খুন, প্রেমিকের ফ্রিজে মিলল লাশ
প্রেমিক সঞ্জয় পতিদারের সঙ্গে পাঁচ বছর ধরে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন প্রেমিকা পিংকি প্রজাপতি। বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করায় গত বছর জুন মাসে পিংকিকে খুন করে ফ্রিজে লাশ লুকিয়ে রাখেন সঞ্জয়।
এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে। পুলিশ বলছে, ফ্রিজ খুলে প্রতিবেশীরা লাশ দেখতে পান। অর্ধগলিত লাশের শরীরে ছিল শাড়ি আর সোনার গহনা।
বাড়ির মালিক ধীরেন্দ্র শ্রীবাস্ত বলেন, প্রতিবেশীরা কয়েকদিন ধরে ফ্ল্যাটটি থেকে উৎকট গন্ধ পাচ্ছিল। পরে দরজা ভেঙে ফ্রিজ খুলে এ দৃশ্য দেখে রীতিমতো সবাই হতবাক।
পুলিশ জানায়, সঞ্জয় ২০২৩ সালের জুন মাসে এই বাসা ভাড়া নিয়েছিল। লাশ দেখে মনে হচ্ছে ২০২৪ সালের জুন মাসে পিংকিকে খুন করে এতদিন ফ্রিজে লুকিয়ে রেখেছিল সে। ঘটনা ঘটানোর পর কালেভদ্রে এখানে আসতেন সঞ্জয়।
ধীরেন্দ্র বলেন, শুরুতে পুরো ফ্ল্যাট ভাড়া নিলেও পরে দুই রুম রেখে বাকিটা ছেড়ে দেন সঞ্জয়। বহুদিন ধরে সঞ্জয় না ফেরায় বুধবার থেকে তার রুমের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। এরপরই ফ্রিজ থেকে পচা মাংসের উৎকট গন্ধ আসতে শুরু করে।
এ ঘটনার ঘন্টাখানেকের মধ্য মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নী থেকে সঞ্জয়কে আটক করেছে পুলিশ।
৪১৯ দিন আগে
যুদ্ধ বন্ধে এক টেবিলে বসতে যাচ্ছেন ট্রাম্প-পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সখ্যতা বিশ্ব রাজনীতিতে সর্বজনবিদিত। এই সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে এক দিনের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব—নির্বাচনী প্রচারণায় এমন কথাও বলেছিলেন ট্রাম্প। শপথের পরপরই ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছে রাশিয়া।
এদিকেও ট্রাম্পও বলেন, পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠকের আয়োজন চলছে।
তবে কখন এই বৈঠক হবে, সেটা নিশ্চিত করা হয়নি। ফ্লোরিডায় মার-আ-লাগো রিসোর্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি (পুতিন) বসতে চেয়েছেন, আমরা আয়োজন করছি।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিমা দেশগুলো ঠেকাতে পারবে না: পুতিন
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এবং আগ্রহীও বটে পুতিন। আলোচনার টেবিলে বসতে কোনো ধরণের শর্ত আরোপ করা হবে না। এটি হবে নিঃশর্ত এবং পরিচ্ছন্ন আলোচনা।’
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০ জানুয়ারি শপথের পর পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ট্রাম্প। সেখানে মস্কো-কিয়েভ সংঘাত নিরসনে কার্যকরী আলোচনা করা হবে।
সমস্যা সমাধানে পুতিন আগ্রহী জানিয়ে পেশকভ বলেন, দুপক্ষের সদিচ্ছাই এ আলোচনা হবে। পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে চলমান সমস্যা নিরসনের পথ বের হয়ে আসবে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, শপথের ৬ মাসের মধ্যে মস্কো ও কিয়েভকে শান্তি চুক্তিতে নিয়ে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনে ট্রাম্পের বিশেষ সহকারী যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কিলোগ বলেন, ১০০ দিনের একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ পরিকল্পনামাফিক এগোতে পারলে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হবে।
যদিও কোন প্রক্রিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ হবে—তেমন কোনো পরিকল্পনার কথা জানাননি ট্রাম্প। এদিকে পুতিনের ভাষ্য, রাশিয়ার দখল করা ভূমি থেকে ইউক্রেন নিজেদের বাহিনী সরিয়ে নিলে ও ন্যাটো যুদ্ধে প্রভাব খাটানো বন্ধ করলে ত্বরিৎ গতিতে সমাধান সম্ভব।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ‘প্রস্তুত’ পুতিন
৪২০ দিন আগে
রাখাইনে জান্তা বাহিনীর হামলায় কয়েক ডজন নিহত
চলতি সপ্তাহে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হামলায় কয়েজ ডজন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এমন খবর দিয়েছে।এমন এক সময় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যখন দেশটির গৃহযুদ্ধ চার বছরে পড়তে যাচ্ছে। রাখাইনের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বেসামরিক ছায়া সরকার ও আরাকান আর্মি যুদ্ধ করে যাচ্ছে। তারাও কয়েক ডজন নিহত হওয়ার কথা বলেছেন।বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিকালে ইয়ানবি শহরতলির কিয়াউক নি মো গ্রামে হামলা চালায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিমান। এতে প্রায় ৫০০ বসতবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়, নিহত হয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি।শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জাতিসংঘের বিবৃতি ও মিয়ানমারের জাতীয় সরকার এমন তথ্য দিয়েছে।তবে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন চালানোর কথা অস্বীকার করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার বলছে—‘তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।’কিন্তু ২৬ মুসলিম গ্রামবাসীর নাম প্রকাশ করেছে আরাকান আর্মি, যারা সামরিক বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন ১২ জন।২০২১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচি সরকারকে উৎখাত করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপরেই দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা চলছে।এদিকে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে সবপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।যেসব প্রতিষ্ঠান কিংবা সংস্থা দেশটির বিমান বাহিনীকে জ্বালানি সরবরাহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধজ্ঞা দিতে আহ্বান জানিয়েছে ব্লাড মানি ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র মুলান। তিনি বলেন, যখন এই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করা যাবে, তখনই কেবল জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা বন্ধ হবে।মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর নিপীড়নের বিরুদ্ধে তৎপর অ্যাকটিভিস্টদের জোট হচ্ছে ব্লাড মানি ক্যাম্পেইন।
৪২০ দিন আগে
দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেসে ১২ হাজার স্থাপনা বিধ্বস্ত, নিহত ১১
লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় ছড়িয়ে পড়া দাবানলে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সঙ্গে ধ্বংস হয়ে গেছে প্রায় ১২ হাজার ভবন। এতে বাস্তুচ্যুতও হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া সান ফ্রান্সিসকোর চেয়েও বড় এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী দাবানলের শিখা।
শক্তিশালী সান্তা আনা বাতাসের কারণে গত মঙ্গলবার দাবানলটি শুরু হয়ে এটি বৃহস্পতিবার দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পূর্বাভাসকারীরা সতর্কতা জারি করলেও এই সপ্তাহান্তের শেষের দিকে বাতাস আবার বাড়তে পারে।
শহর ও কাউন্টি কর্মকর্তারা শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জানিয়েছেন, তারা প্যালিসেডে আগুন ৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু, আলতাডেনার আগুন মাত্র ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: দাবানলে সৃষ্ট বায়ুদূষণে বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু: গবেষণা
অল অ্যাঞ্জেলস কাউন্টি মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়ের তথ্যমতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এসহ হতাহতের মধ্যে উপকূলে প্যালিসেডস ফায়ারে পাঁচজন এবং ইটন ফায়ার ইনল্যান্ডে ছয়জন নিহত হয়েছেন।
যদিও সঠিক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। বেসরকারি সংস্থা অ্যাকুওয়েদার ধারণা দিয়েছে যে, ক্ষতির পরিমাণ ১৩৫ কোটি থেকে ১৫০ কোটি ডলার হতে পারে। যদিও সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনও কোনে সরকারি পরিসংখ্যান দেয়নি।
এই দাবানলে বাড়ি, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, চার্চ ও মসজিদ ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাতাসের মান এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। সরকার বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপও নিয়েছে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ও লুটপাট বন্ধে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছে। ইতোমধ্যে লুটপাটের অভিযোগে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দাবানলে ভস্মীভূত লস অ্যাঞ্জেলেস উপকূল
৪২০ দিন আগে
ট্রাম্পকে নিয়ে এবার কানাডা-মেক্সিকোর রসিকতা
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বিশ্বনেতারা এক ধরনের রসিকতায় মেতেছেন। ফ্রান্স-জার্মানির পর ট্রাম্পের রাষ্ট্রের সীমারেখা বাড়ানো নিয়ে মুখ খুলেছে কানাডা এবং মেক্সিকো।
কানাডা একীভূত করা তো দূরের কথা উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্য- আলাস্কা এবং মিনেসোটা কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন কানাডার অন্তারিও রাজ্যের প্রধান ডগ ফোর্ড।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ফোর্ড বলেন, আলাস্কা আর মিনেসোটা কিনে নেওয়া যেমনি বাস্তবতার নিরিখে অবাস্তব, একইভাবে ট্রাম্পের কানাডা একীভূত করার বাসনাও নিতান্তই অলীক।
ট্রাম্পের এ ধরনের প্রস্তাবকে রসিকতা বললেও একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ওপর কানাডার তীক্ষ্ম নজর থাকবে বলেও জানান এই রাজ্যপ্রধান।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-কানাডাকে একীভূত করার প্রস্তাব ট্রাম্পের
ট্রাম্পের অতিরিক্ত রাজস্ব আরোপের হুমকি প্রসঙ্গে ফোর্ড বলেন, বাণিজ্যিক দিক থেকে কানাডা একমুখীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না। প্রতিদিন ৪৩ লাখ ব্যারেল তেল কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের বড় একটি যোগান আসে কানাডা থেকে।
বাণিজ্যের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র অসহযোগিতামূলক আচারণ করলে সেটি কারও জন্য কল্যাণকর হবে না বলে জানান তিনি।
ট্রাম্পের প্রস্তাবের জবাবে কানাডার সদ্যসাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছে, কোনো সময়েই কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হবে না। দুই দেশের অধিবাসীদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখারও ওপরও জোর দেন তিনি।
এদিকে ট্রাম্পের গালফ অব মেক্সিকোর নাম বদলে গালফ অব আমেরিকা রাখার প্রস্তাবের জবাবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম উল্টো প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্পকে। যুক্তরাষ্ট্রের নাম বদলে আমেরিকা মেক্সিকানা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
নিজের প্রস্তাবের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে ক্লাউডিয়া বলেন, সতের শতকে আমেরিকান এই ভূমিকে মানুষ আমেরিকা মেক্সিকানা নামেই ডাকতো। এখন থেকে চাইলে পুরোনো সেই নাম আবার চালু করা যায়। শুনতেও এই নাম ভালো লাগে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পকে কড়া জবাব ফ্রান্সের
৪২১ দিন আগে
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পকে কড়া জবাব ফ্রান্স-জার্মানির
ডেনমার্কের কাছ থেকে গায়ের জোরে গ্রিনল্যান্ড কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর এবার নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও জার্মানি। ইউরোপীয় মাটিতে কোনো আঘাত এলে তা বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন তারা। জার্মানি ও ফ্রান্সকে বলা হয় ইউরোপের চালিকাশক্তি।
গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তর করা না হলে ডেনমার্কের ওপর অতিরিক্ত রাজস্ব চাপিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এই প্রেসিডেন্ট। এবার গায়ের জোরে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি কেড়ে নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।
গ্রিনল্যান্ড দখল করতে কোনো সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করা হবে না; এমন নিশ্চয়তা দেবেন কিনা, প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, আমি সেই নিশ্চয়তা দিতে পারছি না।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। ৬০০ বছর ধরে এটি ডেনমার্কের অংশ হয়ে আছে। ৫৭ হাজার জনসংখ্যার দেশ গ্রিনল্যান্ডে আছে স্বায়ত্তশাসন। ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চেয়ে আসছেন দ্বীপদেশটির প্রধানমন্ত্রী।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ সোলজ বলেন, ছোট কিংবা বড়—প্রতিটি দেশের সীমান্তের ক্ষেত্রে অলঙ্ঘনীয় নীতি রয়েছে। সেটা মেনে চলতে হবে।
এদিকে ট্রাম্পের হুমকির ঘটনায় কড়া জবাব দিয়েছেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ নয়েল ব্যারট। বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ব্যারট বলেন, ইউরোপের সীমান্তে কেউ আক্রমণ করলে তা বরদাশত করা হবে না। মহাদেশ হিসেবে ইউরোপ শক্তিশালী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিটি সদস্য একে অন্যের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।
বিশ্বের যে দেশই হোক, তার শক্তিমত্তা যতই হোক; ইউরোপের দিকে আঙুল তুললে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যারট।
ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড ড্যানিশদের সম্পত্তি। স্বায়ত্তশাসিত এ ভূমি দূরবর্তী সীমানা আইনে ইউরোপেরই অন্তর্ভুক্ত। কেউ গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করলে সেটি হবে ইউরোপ আক্রমণের নামান্তর।
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ আক্রমণের মতো সিদ্ধান্ত নিবে না বলে মনে করেন এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে টিকে থাকতে এখন থেকেই নিজেদের শক্তিমত্তা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
আরও পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পকে কড়া জবাব ফ্রান্সের
ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাকে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর দিকে ঠেলে দেবে সেটা তিনি ভাবতেও পারেন না বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।
গ্রিনল্যান্ডে অনেকেই ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও ডেনিশ রাজা এখনও দ্বীপটিতে জনপ্রিয়। এক স্থানীয় অধিবাসী বলেন, ‘তিনি (রাজা) জনপ্রিয়। সুতরাং, তিনি স্পষ্টতই ডেনিশ-গ্রিনল্যান্ড সম্পর্ক রক্ষায় সহায়ক হতে পারবেন।’
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাসমুসেন বলেন, আমরা পুরোপুরি স্বীকার করি যে, গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা আদৌ নেই।
রাসমুসেন অবশ্য সাংবাদিকদেরকে এও বলেছেন যে, চীন ও রাশিয়ার তৎপরতার কারণে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়াটা বাস্তব। আমি মনে করি না যে আমরা পররাষ্ট্রনীতির সংকটে আছি। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ নিশ্চিত করতে আমরা কীভাবে আরও সহযোগিতা করতে পারি তা নিয়ে তাদের সঙ্গে সংলাপের জন্য আমরা প্রস্তুত।
৪২২ দিন আগে
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পকে কড়া জবাব ফ্রান্সের
ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়া কিংবা বিক্রি করতে রাজি না হলে অতিরিক্ত রাজস্ব চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ নয়েল ব্যারট।বুধবার (৮ জানুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে ব্যারট বলেন, ইউরোপের সীমান্তে কেউ আক্রমণ করলে তা বরদাশত করা হবে না। মহাদেশ হিসেবে ইউরোপ শক্তিশালী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিটি সদস্য একে অন্যকে রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।বিশ্বের যে দেশই হোক, তার শক্তিমত্তা যতই হোক; ইউরোপের দিকে আঙুল তুললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যারট।ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে ব্যারট বলেন, গ্রিনল্যান্ড ড্যানিশদের সম্পত্তি। স্বায়ত্তশাসিত এ ভূমি দূরবর্তী সীমানা আইনে ইউরোপেরই অন্তর্ভুক্ত। কেউ গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করলে সেটি হবে ইউরোপ আক্রমণের নামান্তর।যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ আক্রমণের মতো সিদ্ধান্ত নেবে না বলে মনে করেন এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে টিকে থাকতে এখন থেকেই নিজেদের শক্তিমত্তা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।গত মাসে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন দাবি করেন। এর আগেও ২০১৯ সালে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।কিন্তু গতবারের মতো এবারও ডেনিশদের থেকে ইতিবাচক সাড়া পাননি ট্রাম্প। শপথের আগেই ট্রাম্পের এ ধরনের কার্যক্রম ক্ষেপিয়ে তুলছে ইউরোপকে। কূটনীতিবিদরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে ট্রাম্প এ ধরণের চিন্তা পোষণ করলে চিড় ধরবে ইউরোপ-আমেরিকার এতদিনের বন্ধুত্বে।
৪২২ দিন আগে
দাবানলে ভস্মীভূত লস অ্যাঞ্জেলেস উপকূল
আকস্মিক দাবানলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ৫০ কিলোমিটার উপকূল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে করে বাস্তুহারা হয়ে পড়েছেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ।
দাবানলে লস ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসের বড় বড় ভবন। সৈকত শহর সান্তা মনিকা আর মালিবুর মাঝখানের অন্তত ৩ হাজার একর জায়গাজুড়ে বিখ্যাত প্যাসিফিক পালিসেডস। বড় বড় চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত তারকাদের বাসভবন এ এলাকাজুড়ে। দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে এই এলাকাটিতেই।
প্রদেশের গভর্নর গ্যাভিস নিউসম এরইমধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছাতে মহাসড়কে ভীড় করছে। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে, ধোঁয়া উঠছে। এ ঘটনায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শহরে।
নগরবাসী জানিয়েছেন, প্রলয়ের গতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণে বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের গাড়ি নিয়ে পর্যন্ত বের হতে পারেননি। প্রাণে বাঁচতে এক কাপড়ে পালাতে হয়েছে তাদের।
হলিউড অভিনেতা জেমস উড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে জানান, কোনোমতে তিনি পালাতে সক্ষম হয়েছেন।
আগুনের যে তীব্রতা দেখা যাচ্ছে, তাতে বাড়িঘর কিছু টিকে নেই বলে শঙ্কা করেছেন এই অভিনেতা। অনেকেই তাড়াহুড়া করে পালাতে গিয়ে আহত হয়েছেন। অনেকের হাত-পা পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালালেও খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারছেন না।
আগুন ধীরে ধীরে সান্তা মনিকা ও মালিবো বন্দরে ছড়িয়ে পড়ছে। এরইমধ্যে বাসিন্দাদের সান্তা মনিকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। হেলিকপ্টারে করে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে পানি এনে ছিটানো হচ্ছে প্রতিনয়ত।
তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রাংশ ও উদ্ধারকারী বিমানগুলো নর্থ ক্যালিফোর্নিয়ায় সরিয়ে রাখা হয়েছে। যারা পালাচ্ছেন তাদের অধিকাংশ এ রাজ্যেই আশ্রয় নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আগুনে ২৫ হাজার মানুষ এবং ১০ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্তের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বার্তায় জানিয়েছেন, যেকোনো প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারকে পাশে পাবে প্রদেশটির গভর্নর। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা বিল অনুমোদিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৪২২ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হবে: ইউএনএইচসিআর
মানুষের প্রাণ রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। বুধবার (৮ জানুয়ারি) সংস্থাটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক ব্যুরোর পরিচালক হেই কিয়ুং জুন বলেন, ‘প্রাণ রক্ষাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
এমন এক সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন যখন প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কয়েক সপ্তাহ সাগরে নৌকায় ভেসে থাকার পর সম্প্রতি এসব দেশে পৌঁছান নারী ও শিশুসহ ৪৬০ রোহিঙ্গা।
এর মধ্যে ৩ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় ১৯৬ জন ও ৫ জানুয়রি ২৬৪ রোহিঙ্গা ইন্দোনেশিয়ার তীরে ভিড়েন। সাগরপথে এই দুঃসহ যাত্রায় অন্তত ১০ রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটেছে। সপ্তাহ তিনেক আগে শ্রীলঙ্কায় মাটিতে নামেন আরও ১১৫ রোহিঙ্গা। এ সময়ে ১০ জনকে তারা সাগরেই হারিয়ে আসেন।থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে পাঠানো এক বার্তায় হেই কিয়ুং জুন বলেন, ‘এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সরকার এই ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের আশ্রয় দিতে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রশংসাযোগ্য। তাদের রক্ষায় এসব সরকার ও স্থানীয় প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
নিজ দেশ মিয়ানমারে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে সাগরপথে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা। সাধারণত অক্টোবর থেকে এপ্রিলের মধ্যে তারা এসব দেশে পাড়ি জমান। এই সময়ে সাগর শান্ত থাকায় জীবনের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে।
গত বছর ৭ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা সাগরপথে নৌকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৩ সালের তুলনায় যা ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় অন্তত সাড়ে ৬ শ’ রোহিঙ্গা মারা গেছেন কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন।
এই বিপজ্জনক নৌযাত্রায় শিশুদের অংশগ্রহণও বাড়ছে; মোট যাত্রীর ৪৪ শতাংশই তারা। ২০২৩ সালের তুলনায় গত বছর ৩৭ শতাংশ বেশি শিশু মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরইমধ্যে নারীদের সংখ্যাও বেড়ে প্রায় এক তৃতীয়াংশ হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর বলছে, গত বছর নতুন একটি প্রবণতা যুক্ত হয়েছে। বর্ষার মৌসুমে ভয়াবহ বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করেন। এমনটি আগে কখনও দেখা যায়নি।
এর কারণ হিসেবে ইউএনএইচসিআরের ধারণা, দেশ থেকে পালানোর জন্য বর্ষা মৌসুমকেই নিরাপদ মনে করেন রোহিঙ্গারা।
সাগরেই ঠেলে দেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গাবাহী নৌকা
হেই কিয়ুং জুন বলেন, ‘যদিও নিজেদের সীমান্ত ও নিয়মবহির্ভূত চলাচল নিয়ন্ত্রণের বৈধ অধিকার আছে দেশগুলোর— বিশেষ করে চোরাচালান ও মানবপাচাররোধে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে মানুষের অধিকারেরও নিশ্চয়তা থাকা দরকার।’
‘তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে আমরা দেশগুলোকে আহ্বান জানাব যাতে জীবিতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।’
ইউএনএইচসিআর বলছে, মিয়ানমারের পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে আরও অনেক বেশি রোহিঙ্গা দেশটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যেতে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন।
নিয়মবহির্ভূত নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণে দেশগুলোর পারস্পরিক পরিকল্পনা ও সহযোগিতা দরকার, যা এরইমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট আসিয়ান ও আন্তর্জাতিক ফোরাম বালি প্রসেসে নেওয়া হয়েছে।
চোরাচালান, মানবপাচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতায় ২০০২ সালে বালি প্রসেস গঠন করা হয়। আর শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করে সমুদ্রপথের সুরক্ষায় জোর দিতে দেশগুলোকে উৎসাহিত করছে ইউএনএইচসিআর।
৪২২ দিন আগে
তিব্বতে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯৫, আহত ১৩০
তিব্বতের কাছে হিমালয়ের উত্তরাঞ্চলীয় পাদদেশে ছয় দশমিক আট মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভুটান ও ভারতের বিভিন্ন ভবনেও এই কম্পনের ঝাঁকুনি লেগেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়েছে। এটির উৎপত্তিস্থল এভারেস্ট অঞ্চলের উত্তর প্রবেশপথ টিংরি কাউন্টি, যা পর্বতারোহীদের জন্য জনপ্রিয় ও পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট থেকে আশি কিলোমিটার দূরে।
১০ কিলোমিটার গভীর থেকে ভূকম্পনটির উৎপত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা ভূমিকম্প নেটওয়ার্কস সেন্টার। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, এটির মাত্রা ছিল সাত দশমিক এক শতাংশ।
চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলছে, এতে তিব্বতীয় অঞ্চলের অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৩০ জন। তবে এর বাইরে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় ও ইউরেসিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশ, নেপাল ও উত্তর ভারতে প্রায়ই ভূমিকম্প হচ্ছে।
পর্বতারোহীদের জন্য শীতকাল কোনো জনপ্রিয় মৌসুম না। নেপাল জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্তের সাতটি পাহাড়ি জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রাণ কিংবা সম্পদহানির ঘটনা ঘটেনি।
আরও পড়ুন: তীব্র ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের ২০ কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে তিনটি শহর ও ২৭টি গ্রাম আছে। এগুলোর মোট লোকসংখ্যা ৬৯০০ জন।
শিগেইস বিভাগের টিংরি কাউন্টিতেই অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। টিংরির চাংসুও শহরে টংলাই এলাকায় বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। শিগেইস বিভাগের লোকসংখ্যা প্রায় আট লাখ।
শিগেইস বিভাগের কেন্দ্রীয় শহর শিগেইস তিব্বতের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, এটি শিগাৎসি নামেও পরিচিত। লাসা থেকে ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপমশ্চিমের এ শহরটি তিব্বতের দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর এবং পাঞ্চেন লামার বাসস্থান। ভূমিকম্পে হিমালায় পর্বতমালার নিকটবর্তী এই শহরটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৪২৩ দিন আগে