বিশ্ব
অক্টোবর পর্যন্ত ৩৪১ সন্ত্রাসী হত্যা করেছে পাকিস্তান
চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশজুড়ে ১২ হাজার ৮০১টি অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩৪১ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বনির্ধারিত এলাকায় জঙ্গিদের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়াও, পূর্ব পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে ৪০০ জন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে ২০৩ জন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশ থেকে ১৭৩ জন, দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশ থেকে ২১ জন এবং উত্তর গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চল থেকে তিনজনসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে প্রায় ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন সম্পর্কিত মামলায় এ সময়ের মধ্যে ২ হাজার ৪৬৬ জনকে গ্রেপ্তার এবং আরও ৫২৬ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এই সময়ে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে মোট ৫৮ কোটি ১০ লাখ রুপিউদ্ধার করেছেন পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
৪৪৮ দিন আগে
নটরডেমে ফিরছে যিশু খ্রিষ্টের ‘কাঁটার মুকুট’
২০১৯ সালের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ বছর পর ফ্রান্সের বিখ্যাত নটরডেম ক্যাথেড্রালে আবারও ফিরছে যিশু খ্রিষ্টের ‘কাঁটার মুকুট’।
শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সোনায় মোড়ানো গাছের শাখার ওই মুকুটটি ফিরছে তার পুরনো ঠিকানায়।
এ উপলক্ষে ক্যাথেড্রালে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন প্যারিসের আর্চবিশপ। ক্যাথেড্রালের পুনরুদ্ধার যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করা এই অনুষ্ঠানে পবিত্র সেপালচারের অশ্বারোহী নাইট ও ডেমরাও উপস্থিত থাকবেন।
দশম শতাব্দীতে কনস্টান্টিনোপোলে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে পঞ্চম শতাব্দীতে জেরুজালেমের তীর্থযাত্রীরা এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটির কথা প্রথম উল্লেখ করেন। এরপর ১২৩৯ সালে এটি অধিগ্রহণ করেন ফ্রান্সের রাজা নবম লুই। তিনি এটি প্যারিসে নিয়ে আসেন এবং সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সান্তে-চাপেল কমিশন করার আগে নটরডেমে রাখেন। পরে তা আবার নটরডেমে ফেরত পাঠানো হয়।
২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল নটরডেমে আগুন লাগলে অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শনের পাশাপাশি এটিও একটি সিল করা বাক্সে সংরক্ষণ করা ছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তৎপরতায় এটি গ্রাস করার আগেই আগুন নির্বাপিত হয়।
আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে গুড ফ্রাইডে (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত প্রতি শুক্রবার জনসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য মুকুটটি প্রদর্শিত হবে। তারপর থেকে প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার সেটি নিয়মিত প্রদর্শিত হবে।
৪৪৮ দিন আগে
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ২৫ জন নিহত
ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার কেন্দ্রস্থলে একটি বহুতল ভবন ধসে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে প্রাণঘাতী এ হামলা করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান জেরুজালেমে সাংবাদিকদের বলেন, লেবাননে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গাজায় যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য চুক্তির পথ পরিষ্কার করতে সহায়তা করেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার গাজা উপত্যকাজুড়ে হামলায় আরও অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
নুসেইরাতে প্রাণঘাতী হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েল বলছে, তারা হামাসকে নির্মূল করার চেষ্টা করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং গাজায় যুদ্ধের সূত্রপাত করেছিল হামাস।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামাস জঙ্গিরা গাজার বেসামরিক জনগণের মধ্যে লুকিয়ে আছে।
এই যুদ্ধের কারণে গাজায় মারাত্মক মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অঞ্চলটির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু অংশে দুর্ভিক্ষের বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় ৪৪,৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। যাদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, তারা ১৭ হাজারেরও বেশি বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে। তবে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দাখিল করেনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হন। যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। প্রায় ১০০ জিম্মি এখনও গাজার অভ্যন্তরে রয়েছে, যাদের অন্তত এক তৃতীয়াংশ মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪৪৯ দিন আগে
বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বান
বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সেইসঙ্গে ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি-২০ শেরপাস-ফাইন্যান্স ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটিদের প্রথম যৌথ সভায় বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতিংস মহাসচিব বলেন, ‘সঠিক অর্থায়ন অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির বিকাশ, শিল্পায়নে সহায়তা, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলা ও বৈষম্য হ্রাসের মতো বিষয়ে মৌলিক ভূমিকা পালন করে।’
তিনি বলেন, ‘আর্থিক ন্যায়বিচার প্রদানে জি-২০-র মতো প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানকেই আজকের অর্থনীতির প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোকে ন্যায্যভাবে তাদের শাসন ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। আর এসব প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বৈশ্বিক ধাক্কা থেকে অর্থনীতিকে, বিশেষ করে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে রক্ষা করতে হবে।’
বক্তব্য প্রদানকালে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক ঋণ সংকটের মতো গুরুতর বিষয়গুলো মোকাবিলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এরপর দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।
১ ডিসেম্বর জি-২০ এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর ফলে প্রথম কোনো আফ্রিকার দেশ বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির এই প্রভাবশালী গ্রুপের নেতৃত্ব দেওয়ার তৃতিত্ব অর্জন করল।
৪৪৯ দিন আগে
সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর গোলাবর্ষণে নিহত ১৫
সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল ফাশেরের দক্ষিণে একটি শরণার্থী শিবির ও বাজারে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) গোলা নিক্ষেপে অন্তত ১৫ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছেন।
রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ইব্রাহিম খাতির বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১৫ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছে। জমজম শিবির ও গবাদি পশুর বাজারে আরএসএফ মিলিশিয়াদের গোলাবর্ষণ এখনও অব্যাহত রয়েছে।’
হতাহতদের অধিকাংশই শিশু ও নারী বলে জানান তিনি।
এক যৌথ বিবৃতিতে স্থানীয় বেসরকারি গোষ্ঠী এল ফাশেরের প্রতিরোধ কমিটিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বুধবারের গোলাবর্ষণের বর্ণনায় এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গত ১০ মে আরএসএফ এল ফাশেরে অবরোধ শুরু করার পর থেকে সবচেয়ে সহিংস হামলা ছিল এটি।
তিনি বলেন, ‘শরণার্থীতে ঠাসা জমজম শিবিরের মাঝখানে অন্তত ছয়টি গোলা পড়ে। এছাড়া আরও চারটি গোলা পড়ে এল ফাশেরের দক্ষিণে পশুর বাজারে।’
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত অব্যহত রয়েছে। এতে এ পর্যন্ত ২৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
৪৪৯ দিন আগে
নেপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫
নেপালের পশ্চিমাঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। বুধবার রাতে ওই অঞ্চলের একটি মহাসড়কে একটি প্রাইভেট কার উল্টে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে জাজারকোট জেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সাতজন যাত্রী নিয়ে গাড়িটি রাস্তা থেকে নিচে পড়ে যায়।
জেলা পুলিশের ইন্সপেক্টর হরি রাম ডাঙ্গি জানান, বিমানটি প্রায় ৭০০ মিটার গভীর একটি পাহাড় থেকে নিচে পড়ে।
বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ব্রেক ফেলের কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। আহত অবস্থায় বাকি দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নেপালে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটল।
৪৪৯ দিন আগে
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৭ শিশুসহ নিহত ২৮
গাজা উপত্যকায় সর্বশেষ ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাত শিশু ও এক নারীসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি চিকিৎসা কর্মকর্তারা।
দাইর আল-বালাহ শহরের আল-আকসা শহিদ হাসপাতাল জানিয়েছে, বুধবার রাত থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হামলায় নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়ি ধসে পড়েছে।
এছাড়া অন্য দুটি পৃথক হামলায় আরও ১৫ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা ত্রাণবাহী গাড়িবহরের নিরাপত্তায় গঠিত কমিটির সদস্য ছিলেন। হামাস পরিচালিত গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা এসব কমিটি গঠন করেছে।
খান ইউনুসের নাসের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী শহর রাফাহর কাছে বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন এবং এর আধঘণ্টা পরে খান ইউনিসের কাছে বিমান হামলায় আরও ৭ জন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: হামাসের বিমান বাহিনীর প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে হামাসের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় হামলা করে। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়।
গাজাভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ হাজার ৮০০ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের অর্ধের বেশি নারী ও শিশু।
এছাড়া, যুদ্ধে ১৭ হাজারের বেশি হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে এই তথ্যের কোনো প্রমাণ সরবরাহ করেনি তারা।
৪৪৯ দিন আগে
গ্রেপ্তারের পর আত্মহত্যার চেষ্টা দ. কোরিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা প্রধানের
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিতর্কিত সামরিক আইন ঘোষণায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর আটক অবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
আটক কেন্দ্রের কর্মীরা তার আত্মহত্যাচেষ্টা প্রতিরোধ করেছেন এবং সাবেক এই মন্ত্রী এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং হিউনকে বিদ্রোহ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হলেন প্রথম ব্যক্তি যাকে ৩ ডিসেম্বর জারি করা সামরিক আইন আদেশের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করা হয়।
এই ডিক্রি দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ও অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে অচল করে দিয়েছিল এবং সারা দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এ ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ তাদের তদন্ত জোরদার করছে। পুলিশ ইয়ুনের অফিসে বুধবার (১১ ডিসেম্বর) অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে দেশটির বিরোধী আইনপ্রণেতারা গত শনিবার ব্যর্থ চেষ্টার পর প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের জন্য পুনরায় একটি প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অভিযোগ করেছে, ইউনের সামরিক আইন জারি অসাংবিধানিক ছিল। তিনিসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিদ্রোহের জন্য অভিযুক্ত করে দলটি।
সামরিক কমান্ডাররা সাক্ষ্য দিয়েছেন,আইনপ্রণেতারা যাতে আদেশ উল্টাতে না পারে সেজন্য তাদের বাধা দিতে সৈন্যদের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন ইউন। অন্যদিকে পাল্টা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক বিরোধীদের আটক করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। সাংবিধানিক ধারাকে পাশ কাটিয়ে এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের দায়ে গত ৪ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে বাতিল হওয়া এই আদেশ ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়ে।
অভিশংসন প্রক্রিয়া সফল হলে সাংবিধানিক আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত ইয়ুনের ক্ষমতা স্থগিত করা হবে। পদ থেকে বরখাস্ত হলে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দেবে।
এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিকভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অস্থিরতা সম্পর্কে প্রতিবেদন করেছে। এতে বলা হয়, এটি একটি বিরল পদক্ষেপ যা দক্ষিণ কোরিয়ার অস্থিতিশীলতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা।
এদিকে, সমালোচকরা যুক্তি দেখান, চলমান রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে ইউনের সামরিক আইন জারি একটি বাড়াবাড়ি ছিল, যা এশিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গণতন্ত্রের বিভক্তিকে আরও গভীর করেছিল।
৪৫০ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীরা ৫০ জনকে অপহরণ করেছে
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে বন্দুকধারীরা নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০ জনকে অপহরণ করেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দেশটির পুলিশ ও বাসিন্দারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সর্বশেষ গণ অপহরণের ঘটনাটি এই অঞ্চলে চলমান নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিকে তুলে ধরেছে। ওই এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সামান্য প্রতিরোধের মধ্যে এসব কাজ করছে।
কমিউনিটি নেতা হালিরু আত্তাহিরু জানান, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই অভিযান চালানো হয়। এসময় ‘বেশ কয়েকজন নারী ও ছোট শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে।’
আত্তাহিরু বলেন, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনও পদক্ষেপ নেয়নি।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১২
তাসিউ হামিদু নামে আরেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা বিনা প্রতিরোধের মধ্যে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ২০ জনকে অপহরণ করেছে।
জামফারা পুলিশের মুখপাত্র ইয়াজিদ আবুবকর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত জানাননি। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার না করলেও স্থানীয়রা সন্দেহ করছে যে, গণহারে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির সঙ্গে পরিচিত ডাকাত দলগুলো জড়িত। এই গোষ্ঠীগুলো, প্রায়শই বসতি স্থাপনকারী প্রাক্তন পশুপালক সম্প্রদায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছে। এর ফলে সংঘাত-প্রবণ উত্তরাঞ্চলে একটি স্থায়ী হুমকি হয়ে উঠেছে তারা।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ বেড়ে গেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দুর্বল নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে গ্রাম ও পর্যটকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। বেশিরভাগ ভুক্তভোগীকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দেওয়ার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রতিবেশী কাদুনা রাজ্যে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকার পর ১৩০ জনেরও বেশি স্কুলশিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়া হয়।
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী প্রচেষ্টা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেনাপ্রধান ওলুফেমি ওলুয়েদে সংকট মোকাবিলায় নতুন করে অভিযানের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে, ২০১৪ সালের কুখ্যাত চিবোক স্কুলছাত্রী অপহরণসহ অপহরণের ধারাবাহিকতা এই চ্যালেঞ্জের মাত্রাকে তুলে ধরে। চিবোক থেকে অপহৃত ২৭৬ জন মেয়ের মধ্যে প্রায় ১০০ জন এক দশক পরেও বন্দী অবস্থায় রয়েছে।
তারপর থেকে দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অন্যান্য অপরাধের জন্য মুক্তিপণ ব্যবহার করে। দুর্বল নিরাপত্তার ব্যবস্থার কারণে নাইজেরিয়া সম্পদ-সমৃদ্ধ উত্তরাঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তার করে।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবিতে ২৭ জন নিহত, নিখোঁজ শতাধিক
৪৫১ দিন আগে
কায়রোয় ভবন ধসে নিহত ৮
মিসরের কায়রোতে একটি ছয়তলা আবাসিক ভবন ধসে অন্তত আটজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।
দেশটির রাজধানীর আল-ওয়াইলি জেলার আব্বাসিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ৯টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসাম আবদেল-গাফফার জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ অপসারণে সহায়তা করতে এবং আরও জীবিত বা মৃতদের সন্ধানে কাজ করছে উদ্ধারকারীরা।
কায়রোর গভর্নর ইব্রাহিম সাবের খলিল সতর্কতার অংশ হিসেবে আশপাশের ভবনগুলো খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ধসের কারণ অনুসন্ধানে একটি প্রকৌশল কমিটি গঠন করেছেন।
৪৫১ দিন আগে