বিশ্ব
ইউক্রেনকে আরও ৭২৫ মিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধরত ইউক্রেনের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে দেশটিকে আরও ৭২৫ মিলিয়ন বা ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ প্যাকেজে থাকা রসদের মধ্যে রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, রকেট সিস্টেম এবং আর্টিলারি ও ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে জরুরি প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সরঞ্জামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজ সরবরাহ করবেন বলে ঘোষণা দেওয়ার পর এই তথ্য প্রকাশ করা হলো।
সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানায়।
৪৫৮ দিন আগে
২০ জানুয়ারির মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি না দিলে হামাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি না দিলে হামাসকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১,২০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হন। এছাড়া ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল।
ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প সেসব বন্দিদের মুক্তির বব্যস্থা নিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে সমালোচনা করেন।
ট্রাম্প বন্দিদের পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে তাদের প্রতি আচরণকে সহিংস ও অমানবিক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তাদের মুক্তি না দিলে অভূতপূর্ব প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং অপহরণের জন্য দায়ীদের কঠোর পরিণতি হবে।
সম্প্রতি হামাস একটি ভিডিও প্রকাশ করে। তাতে ২০ বছর বয়সি ইসরায়েলি-আমেরিকান জিম্মি এডান আলেকজান্ডারকে দেখা যায়। গত বছরের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় তাকে অপহরণ করা হয়। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আলেকজান্ডার নিজের মুক্তির আবেদন জানান এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন।
নেতানিয়াহু বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রক্রিয়া চলছে। তা সত্ত্বেও যুদ্ধ শুরুর এক বছরেরও বেশি সময় পরে এটি নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে। গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানও অব্যাহত।
এদিকে, নভেম্বরে লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি এরই মধ্যে লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল।
সোমবার হিজবুল্লাহ দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে ইসরায়েল। যদিও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং হিজবুল্লাহর যেকোনো লঙ্ঘনের জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
৪৫৯ দিন আগে
গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে ৩৩ জিম্মি নিহত: হামাস
সোমবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর 'একগুঁয়েমি ও অব্যাহত আগ্রাসন বন্দিদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে' বলে মন্তব্য করেছে হামাস।
নেতানিয়াহুর উদ্দেশে হামাস এক বক্তব্যে বলে, 'উন্মত্ত যুদ্ধ' অব্যাহত থাকলে 'আপনি আপনার বন্দিদের চিরতরে হারাতে পারেন। খুব দেরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিন।’
হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেড শনিবার গাজায় এক ইসরায়েলি বন্দিকে আটক রাখার একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ওই নাগরিকের মার্কিন নাগরিকত্বও রয়েছে। এর দু'দিন পরে হামাসের এই ভিডিও এসেছিল।
আরও পড়ুন: উত্তর গাজায় ১৫ ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার দাবি হামাসের
এডান আলেকজান্ডার বলেন, তাকে ৪২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। ইসরায়েলি সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি গাজার বাকি বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
একজন ইসরায়েলি-আমেরিকান সৈন্য আগে গাজায় জিম্মি ছিল বলে মনে করা হতো। সোমবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয়, এখন তাকে মৃত মনে করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী ওই সেনাকে ক্যাপ্টেন ওমর ম্যাক্সিম নিউট্রা (২১) বলে শনাক্ত করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অতর্কিত হামলায় নিহত হয় তিনি। এতে আরও বলা হয়, তার মরদেহ গাজায় হামাস আটকে রেখেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণকারী নিউট্রা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে তালিকাভুক্ত হন এবং ৭৭তম ব্যাটালিয়নে ট্যাংক প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েল সীমান্তে হামাস আক্রমণ করে। সে সময় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল গাজায় হামাসের ওপর আক্রমণ চালায়।
গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ হাজার ৪৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে গাজাভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
হামাস পরিচালিত গাজা সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয় জানায়, গত ৫ অক্টোবর গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েল সামরিক অভিযান জোরদার করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
আরও পড়ুন: নেদারল্যান্ডসে ইসরায়েলি ফুটবল সমর্থকদের ওপর হামলা
৪৫৯ দিন আগে
মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৮
মেক্সিকোর উত্তর-মধ্যাঞ্চলে রাস্তার পাশে একটি খাবারের দোকানের সামনে বন্দুকধারীর গুলিতে আটজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানায়।
কার্টেল (মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধী) অধ্যুষিত গুয়ানাজুয়াতো রাজ্যের প্রসিকিউটররা জানান, শনিবার রাতে আপাসিও এল গ্রান্দে শহরে গুলি করে হত্যার এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: মেক্সিকোয় পরিত্যক্ত পিকআপ থেকে ১১ লাশ উদ্ধার
দোকানটির বাইরে আটজন মানুষ নিহত হন। সেখানে একটি ঐতিহ্যবাহী দুধের তৈরি ফাজ বিক্রি করা হচ্ছিল। আক্রমণে আরও একজন পুরুষ এবং একজন নারী আহত হয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারীর গুলিতে নিহতদের মধ্যে একজন প্যারামেডিকও রয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় অ্যাম্বুলেন্স ও প্যারামেডিক এজেন্সি জানায়, শনিবার রাতে একজন জরুরি মেডিকেল টেকনিশিয়ান মারা গেছেন। তবে তিনি হামলায় নিহতদের একজন কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, স্টলের বাইরে পার্ক করা মোটরসাইকেল এবং মাথার ক্ষত নিয়ে কয়েকজনের দেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
আপাসিও এল গ্রান্দে শহর এবং এর সিস্টার কমিউনিটি আপাসিও এল আল্টোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে এসব ঘটনা সম্পর্কিত। অন্তত ২০১৮ সাল থেকে ওই এলাকার বার, ক্লাব ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক বন্দুক হামলা হয়েছে।
শিল্প ও কৃষি কেন্দ্র গুয়ানাজুয়াতোয় কয়েক বছর ধরে মেক্সিকোর ৩২টি রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জালিসকো কার্টেল এবং স্থানীয় সান্তা রোসা ডি লিমা গ্যাং রাজ্যে কয়েক বছর ধরে লড়াই করছে।
আরও পড়ুন: মেক্সিকোতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৪, আহত ৫
৪৬০ দিন আগে
জর্জিয়ায় ইইউ আলোচনা স্থগিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, আহত ৪৪
জর্জিয়া সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা স্থগিতের ঘোষণার পর শনিবার তিবলিসিতে টানা তৃতীয় রাতের মতো বিক্ষোভ ছড়িয়ে করেন বাসিন্দারা। এ সময় ৪৪ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ২৭ জন বিক্ষোভকারী, ১৬ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন সাংবাদিক রয়েছেন।
হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জর্জিয়ার পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ করেন এবং আতশবাজি ফোটান। ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা বিদজিনা ইভানিসভিলির কুশপুত্তলিকাও পোড়ান। এধিকে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সরকারের প্রতিরক্ষা
প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে জর্জিয়ার ইউরোপীয় সংহতি প্রচেষ্টা পরিত্যাগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রবিবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যা প্রত্যাখ্যান করেছি, তা কেবল লজ্জাজনক ও অপমানজনক ছিল।’
এই বিক্ষোভের জন্য বিরোধী রাজনীতিবিদদের দায়ী করেন কোবাখিদজে এবং আইন লঙ্ঘনের জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
আরও পড়ুন: কপ২৯: স্বল্পোন্নত-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ২০০ মিলিয়ন বরাদ্দ দিতে ইইউ’র সমর্থন চাইল বাংলাদেশ
কোবাখিদজে জর্জিয়ার সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কৌশলগত অংশীদারিত্ব স্থগিত করার ঘোষণাকেও খাটো করে দেখেছেন। এটিকে বিদায়ী প্রশাসনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন ইউএস নেতৃত্বের জন্য ট্রানজিশনকে জটিল করে তোলা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ সমালোচনা
ইউরোপীয় ইউনিয়ন রবিবার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস এবং সম্প্রসারণ কমিশনার মার্তা কোস জর্জিয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছেন। তারা এই পদক্ষেপকে বেশিরভাগ জর্জিয়ানের ইউরোপীয় সমর্থনের আকাঙ্ক্ষা থেকে একটি বিচ্যুতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের করার অধিকারকে সম্মান করার আহ্বান জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তের পর এসব বিক্ষোভ শুরু হয়। এর আগে বিতর্কিত "ফরেন ইনফ্লুয়েন্স" আইন পাসের পর জর্জিয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা স্থগিত করেছিল এটি। সমালোচকরা দাবি করেন এটি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা স্থগিতের জন্যও সমালোচনা করেছে। তারা জর্জিয়ায় গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকারকে সমর্থন জানিয়েছে।
বিরোধীদের নির্বাচনের আহ্বান
জর্জিয়ান ড্রিম পার্টির বিরুদ্ধে ২৬ অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচনে রাশিয়ার সমর্থন এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছেন বিরোধী নেতারা। তাদের দাবি, এই নির্বাচন জর্জিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।এর ফলস্বরূপ ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংসদ বর্জন করেন বিরোধীরা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জর্জিয়ার পশ্চিমা সমর্থক প্রেসিডেন্ট স্যালোমে জৌরাবিখভিলি সরকারের বিরুদ্ধে দেশের গতিপথ ‘আধা রুশ’ রাষ্ট্রে পরিণত করার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন নির্বাচন চাই, তবে সেখানে যেন মানুষের ইচ্ছাকে পুনরায় বিকৃত বা চুরি না করা হয়।’
ইউরোপীয় আকাঙ্ক্ষা ঝুঁকিতে
ব্লকের সুপারিশ মেনে চলার শর্তে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জর্জিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রার্থী দেশ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। তবে, এই বছর শুরুর দিকে গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের উদ্বেগের মধ্যে দেশটির সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা স্থগিত করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্যপদ এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতি নতুন প্রতিশ্রুতির দাবি জানিয়েছেন।
উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সংকট মোকাবিলা এবং গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার জন্য ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় চাপের মুখোমুখি হচ্ছে জর্জিয়ার সরকার।
সূত্র: এজেন্সি
আরও পড়ুন: ২৮ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ
৪৬০ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবিতে ২৭ জন নিহত, নিখোঁজ শতাধিক
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় নাইজার নদীতে একটি খাদ্য বাজারে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী।
নাইজার রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র ইব্রাহিম অদু জানিয়েছেন, শুক্রবার প্রায় ২০০ যাত্রী নিয়ে কোগি প্রদেশ থেকে পাশের নাইজারে প্রদেশে যাচ্ছিল নৌকাটি।
কোগি প্রদেশের জরুরি সেবা বিভাগের মুখপাত্র সান্দ্রা মুসা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা নদী থেকে ২৭টি লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টা পরও কাউকে জীবিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে কেন এই নৌকাডুবি ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নৌকাটি অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে যাত্রা করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
নাইজেরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নৌকায় উপচে পড়া ভিড় একটি সাধারণ বিষয়। ভালো রাস্তার অভাবে অনেকের কাছে নৌপথের বিকল্প নেই।
৪৬১ দিন আগে
উগান্ডায় ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০
উগান্ডার পূর্বাঞ্চলের ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার ওই অঞ্চলের ছয়টি গ্রামের অন্তত ৪০টি বাড়ি চাপা পড়ে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীদের তৎপরতায় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বুধবার রাতে ভারী বৃষ্টিপাতের পর পার্বত্য জেলা বুলামবুলিতে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বসতবাড়ি ও কৃষিজমি মিলিয়ে প্রায় ৫০ একর জমি ধসে পড়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ১২৫টি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
উগান্ডা রেড ক্রস সোসাইটির মুখপাত্র আইরিন কাসিতা সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার আরও চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি এমবালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
রেড ক্রস সোসাইটির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভূমিধসের ফলে ৭৫০ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১৬ জন অস্থায়ীভাবে পাশের একটি স্কুলে বসবাস করছেন এবং অন্যরা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
বুলামবুলির আবাসিক জেলা কমিশনার ফাহিরা এমপালানি বলেন, উদ্ধার কাজে সহায়তায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। মাটি ও পাথরের স্তূপের নিচে আরও লাশ চাপা পড়ে আছে এবং আমরা সেগুলো উদ্ধারের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই এলাকার একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য একটি এক্সক্যাভেটর আনা হবে, কিন্তু রাস্তাগুলো কাদায় ঢেকে যাওয়ায় এবং এখনও বৃষ্টি পড়তে থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।
বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুর্যোগ সতর্কতা জারি করে বলা হয়, দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রধান সড়কগুলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
৪৬১ দিন আগে
ন্যাটোর সদস্যপদ লাভের বিনিময়ে সংঘাত অবসানে প্রস্তুত ইউক্রেন
নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনে (ন্যাটো) ইউক্রেনের সদস্যপদ লাভের বিনিময়ে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি।
বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স-ইউক্রেন শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমরা যদি যুদ্ধের উত্তেজনা বন্ধ করতে চাই, তাহলে আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের ভূখণ্ডকে ন্যাটোর আশ্রয়ে রাখতে হবে। আমাদের এটি দ্রুত করা দরকার।’
‘পরবর্তীতে কূটনৈতিক উপায়ে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা (ইউক্রেনের) অঞ্চলগুলো ফিরে পাওয়া যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ন্যাটোর আমন্ত্রণে ইউক্রেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের আরও ভূখণ্ড দখল করতে রাশিয়া যাতে ফিরে না আসে তার নিশ্চয়তা দিতে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।
৪৬১ দিন আগে
খাদ্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়াল রাশিয়া
যেসব দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তাদের ওপর খাদ্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে মস্কো। শুক্রবার রাশিয়ার প্রকাশিত এক সরকারি নথিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, নতুন করে নিউজিল্যান্ডের ওপর খাদ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, ইউক্রেন, আলবেনিয়া, মন্টেনিগ্রো, আইসল্যান্ড ও লিখটেনস্টাইন থেকে রাশিয়ায় পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়।
নিষিদ্ধ পণ্যের মধ্যে রয়েছে মাংস, সসেজ, মাছ, সামুদ্রিক খাবার, দুগ্ধজাত পণ্য, শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য সামগ্রী।
প্রাথমিকভাবে ২০১৪ সালে প্রবর্তিত এই নিষেধাজ্ঞাটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বাড়ানো হয়, ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত যা কার্যকর থাকবে।
৪৬১ দিন আগে
১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করল অস্ট্রেলিয়া
১৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিশ্বে প্রথম আইন পাস করে ইতিহাস গড়ল অস্ট্রেলিয়া।
সাইবার বুলিং, আসক্তি ও ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শসহ তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরূপ প্রভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এই সপ্তাহের শুরুতে সংসদে এ আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়। সামাজিক যোগযোগের প্ল্যাটফর্মগুলোকে কঠোরভাবে বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা প্রবর্তনে বাধ্য করতেই এ আইন করা হয়েছে।
১৬ বছরের কম বয়সিরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে বা প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করতে পারবে না-তা এই এসব নিয়মের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
নতুন নিয়মগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ২০২৫ সাল শুরু না হওয়া পর্যন্ত সময় রয়েছে সামাজিক যোগাযোগের কোম্পানিগুলোর। এর মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
নতুন আইনে বয়স যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে এক বছর সময় দেওয়া হবে।
২০২৫ সাল থেকে ১৬ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের শনাক্ত এবং ব্লক করতে সক্ষমতাসম্পন্ন সিস্টেমগুলো স্থাপন করতে আইনত বাধ্য হবে সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলো। এই নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হলে, তাদের বিশাল অঙ্কের জরিমানা গুণতে হবে। এটির পুনরাবৃত্তি হলে সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
আইননের ফলে উন্নত বয়স যাচাইকরণ প্রযুক্তির বিকাশ করতে হবে। এতে
সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
কিছু প্ল্যাটফর্ম এরই মধ্যে ব্যবহারকারীদের বয়স নির্ভুলভাবে নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পরিচয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি স্থাপনে কাজ শুরু করেছে।
তবে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ নতুন আইনটিকে দেশের যুবকদের সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আইনটির লক্ষ্য ডিজিটাল যুগে শিশুদের সুস্থ চিন্তাভাবনা ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার ও হতাশা, উদ্বেগ ও ঘুমের সমস্যাসহ বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান সাইকোলজিক্যাল সোসাইটির ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী তাদের অনলাইনের সঙ্গে সম্পর্কিত উদ্বেগ বা হতাশার অনুভূতির কথা জানিয়েছেন।
সাইবার বুলিং এবং সামাজিকভাবে নানা তুলনার চাপগুলোকে এই চ্যালেঞ্জগুলোর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই যুগান্তকারী আইন পাস করে অস্ট্রেলিয়া বাকি বিশ্বের জন্য একটি নজির স্থাপন করেছে। অন্যান্য দেশগুলোকে তরুণ প্রজন্মের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং এই প্রভাবগুলো কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিতে উৎসাহ দেবে।
৪৬১ দিন আগে