কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। এতে করে রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে জাহাজটি তেল নিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। আবহাওয়াসহ অন্যান্য সবকিছু ঠিক থাকলে রিফাইনারিতে তেল সরবরাহ হলে বৃহস্পতিবার বিকেল বা সন্ধ্যা থেকে পাঁচটি ইউনিটে পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়া যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কাঁচামালের অভাবে রিফাইনারির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্ধারিত জাহাজগুলো না আসায় অপরিশোধিত তেলের মজুত দ্রুত কমে যায়, ফলে কর্তৃপক্ষকে প্রথমে উৎপাদন কমাতে এবং পরে পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেলের চালান নিয়ে জাহাজটির মূলত সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজটি ২৪ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়।
বিকল্প এই রুট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চালানটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা), যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য পড়েছে ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার। পাশাপাশি লজিস্টিক পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
দেশীয় জ্বালানি বাজারের জন্য রিফাইনারিটির পুনরায় সচল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির মাধ্যমে ইআরএল দেশের মোট জ্বলানি তেলের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে। অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে থাকে সরকার।