ইরানের অনুমতি না পাওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ আপাততে দেশে ফিরতে পারছে না।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছার পর অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের শারজা বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এক মাস ১০ দিন ধরে আটকে থাকা বিএসসির জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল। প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর আজ শুক্রবার সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে জাহাজটি। কিন্তু এরপরই ইরান সরকারের কাছে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। পরদিনই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হলে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বিএসসির জাহাজটি। পরে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয় জাহাজটিকে।
তিনি আরও বলেন, ইরান সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুমতি আদায়ের প্রচেষ্টা চলছে। জয়যাত্রা এখনও হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাহাজটিকে আপাতত শারজার বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের মজুদ আছে। জাহাজটি প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধন করতে পারে। তবে এর জন্য ইঞ্জিন পুরোদমে চালু রাখতে হয়। রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নাবিকদের মনোবল শক্ত রাখার জন্য আমরা ইতোমধ্যে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করেছি। এ ছাড়া বেসিকের সমপরিমাণ যুদ্ধকালীন ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
বিএসসির অপর এক কর্মকর্তা জানান, জেবেল আলি বন্দরে মাল খালাসের সময় কাছাকাছি একটি তেল ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরবর্তীতে নিরাপত্তার কারণে জাহাজটি প্রথমে হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে নোঙর করে এবং পরে ঝুঁকি বিবেচনায় শারজাহতে সরিয়ে নেওয়া হয়।