চলতি বছর হজ শেষে দুটি প্যাকেজের সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদেরকে ৩ কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। গত বছরের মতো এ বছরও সরকারি খরচে কাউকে হজে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শেষ কর্মদিবসে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ড. আ ফ ম খালিদ বলেন, গত দেড় বছর অত্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সঙ্গে আমি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছি। কর্মকর্তা- কর্মচারীদেরকেও সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি ও উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জুগিয়েছি।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ২০২৫ সালের হজে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সেদেশের একটি মেডিকেল সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল হিসেবে একটি হেলথ সার্ভিস চুক্তি করা হয়েছিল। এবার হজে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নেগোসিয়েশন কুশলতার কারণে এই সেবাটি আমাদের দেশের সকল হাজী বিনামূল্যে নিতে পারবেন। আমরা আশা করছি, ২০২৬ এর হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২-এর হজযাত্রীদেরকে ৩ কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারব।
জুলাই বিপ্লবের পর হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিল সেটি নিয়ে আমি বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এ বছর বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুইবছরে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করার মতো অর্জন বলে আমি মনে করি।
উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালের হজে যেখানে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, ২০২৬ সালের হজে এসে বিমান ভাড়া হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এটাকে আরও কমানোর বিষয়ে আমি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম।
ড. আ ফ ম খালিদ বলেন, আমরা গতবছর সরকারি মাধ্যমের হাজীদেরকে হজের খরচ নির্বাহ শেষে উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ এজেন্সির অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা যেটা সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএন হিসেবে পড়ে ছিল সেটা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ফেরত দিয়েছি।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গত বছর হজে সৌদি প্রান্তে হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সমন্বিত চিকিৎসক ছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাইরে কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং দল সদস্য সংখ্যাও ২০২৪-এর তুলনায় আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমিয়েছিলাম। গত বছর সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে নেওয়া হয়নি। এ বছরও কাউকে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, গত বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ছিল ২টি। এ বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ৩টি। এ বছর সীমিত বা নির্দিষ্ট আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ যাতে হজ করতে পারেন সেজন্য আমরা একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, মাত্র ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার হজ প্যাকেজ আমরা ঘোষণা করেছি। এ বছর আমাদের হজের প্রস্তুতি আজ পর্যন্ত সন্তোষজনক। ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শেষ কর্মদিবসে ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, এ বছর হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে আমরা কিছু সাফল্য অর্জন করেছি। হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস চার্জ, সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ যোগাযোগের মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। প্যাকেজ-৩-এর হজযাত্রীদের মক্কায় আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা ছিল, যা হারাম শরিফের বহিরাঙ্গন থেকে ৬-৮ কিলোমিটারের মধ্যে। আজিজিয়া এলাকা থেকে হারাম শরিফ যেতে হলে হাজীদেরকে দুইবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। এটা হাজীদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এই বিবেচনায় আমরা হজ প্যাকেজ-৩-এর হাজীদের জন্য বাড়িভাড়া করেছি হারাম শরিফ থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। এর ফলে হাজীদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে এবং তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরিফে আদায় করতে পারবেন।