রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নতুন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। তাদের দাবি, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে চারজন পেশাদার খুনিকে ভাড়া করা হয়েছিল। তবে হামলার সময় ভুলবশত গুলিতে নিহত হন ইউসুফ।
সোমবার (২৭ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। তবে পরিকল্পিত হামলার সময় গুলিতে নিহত হন ইউসুফ। এ ঘটনায় পথচারী সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন— চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)।
ডিবিপ্রধান জানান, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ এবং হাফিজুল ইসলাম বাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা সংগ্রহের টেন্ডার, ফুটপাতের ব্যবসা এবং একটি টিনশেড ঘরের দখল নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
তিনি বলেন, বাবুকে হত্যার জন্য মাগুরা ও ঝিনাইদহের চারজন পেশাদার খুনিকে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়া করা হয়।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় গত ২৯ জুন হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়। অস্ত্রে গুলি ভরার সময় তা বিকল হয়ে যাওয়ায় হামলা চালানো সম্ভব হয়নি। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২-এর একটি হোটেলে ওঠে এবং ২৩ জুলাই রাতে হামলার প্রস্তুতি নেয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার আগে বাবুর কার্যালয়ের কাছে স্থানীয় লোকজন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের মিরপুর-১০-এর বাসিন্দা বলে দাবি করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের তল্লাশি করতে চাইলে এক হামলাকারী গুলি চালান। এতে ইউসুফ নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন।
তিনি জানান, কাফরুল থানার তদন্তের পাশাপাশি ডিবিও পৃথক তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলা থেকে জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা ও মাসুম বিল্লাহকে আটক করা হয়। অন্যদিকে চঞ্চল ও আবির হাওলাদারকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, হাফিজুর রহমান হাফিজ তাদের এ হামলা চালানোর জন্য ভাড়া করেছিলেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে। হাফিজুর রহমান হাফিজকে এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্রগুলোর উৎস শনাক্তে অভিযান চলছে। কাফরুল থানায় একটি হত্যা এবং একটি অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্ত করছে ডিবি এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।