সরকার জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে কিছু রাজনৈতিক দল অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
আজকের আলোচনায় কমিটি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল প্রচার করছে, সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না। এটি সম্পূর্ণ অসত্য।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি, জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। রাজনৈতিক দলগুলো যে সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেই সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন যত দ্রুত সম্ভব আনার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিতে কমিটির উদ্যোগের অংশ হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে এ বৈঠকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি বৈঠকে অংশ নেয়। সেই সঙ্গে একটি দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে তাদের প্রস্তাব লিখিতভাবে কমিটির কাছে পাঠায়। তবে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বৈঠক বর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে ছিল।
এর আগে আজ (রবিবার) জুলাই জাতীয় সনদে সম্মত সাংবিধানিক সংস্কার এবং গণভোটে প্রতিফলিত জনগণের রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটটি তাদের এ অবস্থান স্পষ্ট করে। সেখানে জোটের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে জুলাই জাতীয় সনদের বাইরেও কিছু প্রতিশ্রুতি ছিল এবং জনগণ সেসব প্রতিশ্রুতির পক্ষে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি ১৮তম সংবিধান সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটি রাজনৈতিক দল, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, সাবেক বিচারক ও বিচারপতি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জুলাইয়ের যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করবে।
কমিটি দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করতে চায় উল্লেখ করে তিনি জানান, তারা সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক করার চেষ্টা করবে।
জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন প্রস্তাবে বিএনপির দেওয়া ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করব।
জুলাই জাতীয় সনদে কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকার উদাহরণ হিসেবে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তবে উচ্চকক্ষ কীভাবে গঠিত হবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রস্তাব করেছি, সংসদের নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। কেউ কেউ ভোটের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি।
সালাহউদ্দিন বলেন, আলোচনা চলতে থাকবে এবং বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদন সম্পন্ন হলে আমরা তা সংসদে উপস্থাপন করতে পারব। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় বিল প্রস্তুত করবে, যা পরে সংসদে আসবে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নামের একটি রাজনৈতিক দল বৈঠকের মাঝপথে বর্জন করে বেরিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলটির প্রতিনিধিরা আসলে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, তাদের মতামত উপস্থাপন করেছেন এবং পরে চলে গেছেন। এছাড়া আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) তাদের মতামত লিখিতভাবে জমা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।