করোনা মহামারিকালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত ও পরবর্তীতে মেয়াদ শেষ হওয়া ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটগুলো আগামী সপ্তাহ থেকে পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা হোটেলে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) বার্ষিক সম্মেলন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে জেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিট চালু করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা আগামী সপ্তাহ থেকে তা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিকতায় একজন ভালো ডাক্তার হিসেবে তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মেডিকেল শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মানুষকে বাঁচাতে হলে ভালো ভালো ডাক্তার প্রয়োজন। এ ব্যাপারে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আরও বেশি উৎসাহ দিতে হবে। তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করতে হবে, যেন তারা চাপের মুখে পড়ে হতাশায় না ভোগেন।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি খাতগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের প্রত্যাশা আপনারা আপনাদের দায়িত্ব মানবিকতা ও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করবেন। রোগীরা সৃষ্টিকর্তার পরে ডাক্তারকে সবচেয়ে বেশি আস্থার স্থানে রাখেন। তাই মেডিকেলে নৈতিকতাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্য শিক্ষার আধুনিকায়নের উপায় খুঁজছি। শিক্ষার্থীরা যেন ভালো শিক্ষা পায় কিন্তু অতিরিক্ত চাপ অনুভব না করে সেটাও নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় তিনি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অধিক হারে আত্মহত্যা প্রবণতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মেডিকেল শিক্ষায় ঋণের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের নানা দেশে এই ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ইতিবাচক, কিন্তু আমাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। একইসঙ্গে রিকোভারির বিষয়টিও ভাবতে হবে। আমি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২০ এপ্রিল সারা দেশে টিকা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা যথেষ্ট ত্যাগ ও ধৈর্য নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনাকালেও তারা রোগীদের জন্য অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়া হয়। বিপিএমসিএর সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহম্মদ প্রমুখ।