আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং নৌ-দুর্ঘটনা রোধে একগুচ্ছ নির্দেশনা ও সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক জরুরি নৌ-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি এই অনুরোধ জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে নৌপথে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী চলাচল করে। এই সময়ে জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীদের টিকিট কেটে লঞ্চে ওঠার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।
নৌ-দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর একটি ‘অতিরিক্ত যাত্রী’ উল্লেখ করে বিআইডব্লিউটিএ জানায়, কোনোভাবেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বা লঞ্চের ছাদে ভ্রমণ করা যাবে না। ছাদে যাত্রীর কারণে নৌযান ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া তাড়াহুড়া না করে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লঞ্চে আরোহণ ও অবরোহনের জন্য যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নিতে হবে এবং দুর্যোগপূর্ণ বা খারাপ আবহাওয়ায় কোনোভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। মাঝ নদীতে ট্রলার থেকে চলন্ত লঞ্চে ওঠানামা করা থেকেও বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে লঞ্চে আরোহণের পর লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়ার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া অজ্ঞান পার্টি, পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের কবল থেকে বাঁচতে অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার গ্রহণ না করতে এবং মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঈদের ভিড় এড়াতে সম্ভব হলে আগেভাগেই পরিবার-পরিজনকে গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া এবং ঘাটে লঞ্চ না আসা পর্যন্ত টার্মিনালের ভেতরেই অপেক্ষা করা উচিত।
জরুরি পরিস্থিতিতে বা যেকোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব হটলাইন নম্বরসহ (১৬১১৩) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ৩৩৩ (সরকারি তথ্য ও সেবা), ১০২ (ফায়ার সার্ভিস), ১৬১১১ (কোস্ট গার্ড) ও নৌ-পুলিশের (০১৭৬৯-৭০২২১৫) নম্বরগুলোতে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।