বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে। বিগত সরকার ব্যাংকগুলো খালি করে দিয়েছে। ব্যাংকে ৮০ লাখ কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে এই আওয়ামী লীগ ও তাদের মন্ত্রীরা। আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের কালিবাড়ি মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে ঠাকুরগাঁও জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়মকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশে একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছি। একটা নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করেছে। তার আগে একটা রিফর্ম (সংস্কার) কমিশন হয়েছে, সেই কমিশনের গণভোট হয়েছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে। বিগত সরকার ব্যাংকগুলো খালি করে দিয়েছে। ব্যাংক থেকে ৮০ লাখ কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে এই আওয়ামী লীগ ও তাদের মন্ত্রীরা। আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে। সুতরাং আপনাদের কাছে আমার একটা প্রত্যাশা করি। আগামী তিন মাসে আমরা উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনগুলোতে যদি সহযোগিতা করে যান তাহলে আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, সাংবাদিকদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
সাংবাদিকতা পেশাকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাংবাদিকতা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা। এর চাইতে চ্যালেঞ্জিং পেশা আর কোনোটি আছে বলে আমার জানা নেই। কারণ সাংবাদিকদের কঠিন কঠিন জায়গায় গিয়ে কাজ করতে হয়। আপনারা দেখছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে। ইতোমধ্যে অনেক সাংবাদিক মারা গেছেন। ফিলিস্তিনের যুদ্ধেও অনেক সাংবাদিক প্রাণ দিয়েছেন। একইভাবে আমাদের দেশে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ করতে গিয়ে, আমার সঠিক সংখ্যা মনে নেই, তবে ৫০০-এর বেশি সাংবাদিক শহিদ হয়েছেন বিগত সরকারের সময়ে। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হননি।
সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যখন আপনারা কোনো একটি বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন করবেন এবং যার বিপক্ষে প্রতিবেদন করবেন, তাকে জিজ্ঞেস না করে, তার বক্তব্য না নিয়ে করবেন না—এটা মাথায় রাখবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া এখন অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে গেছে। এত শক্তিশালী মাধ্যম যে সমাজকে পাল্টে দিচ্ছে এবং একটি সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে যে সব জিনিস বের হয়, লেখালেখি হয়, তাতে করে একজন রাজনীতিবিদের চরিত্র হরণ করতে এক সেকেন্ডও লাগে না। এই বিষয়গুলো আপনাদের মাথায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে। ফলে অনেকেই ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন পান না। এ সময় সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকতাকে কখনো ছোট করে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক সম্পাদক মানিক মিয়া মন্ত্রী না হয়েও মন্ত্রী তৈরি করেছেন। সাংবাদিকদের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে বিশাল ভূমিকা রয়েছে। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দায়িত্বহীন সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে এলজিআরডি মন্ত্রী আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে অবশ্যই অভিযুক্ত বা বিপরীত পক্ষের বক্তব্য নেওয়া উচিত। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য প্রচুর পড়াশোনারও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জেলার ৭ উপজেলা থেকে আগত সাংবাদিকেরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরীফসহ অন্যান্য নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. আব্দুল লতিফ।