ঠাকুরগাঁও
মফস্বল সাংবাদিকদের দাবি পূরণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস রাষ্ট্রপতির
সাংবাদিকদের বিভিন্ন অসুবিধা ও দাবি পূরণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও সফরের দ্বিতীয় দিনে নিজ বাসভবনে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আশ্বাস দেন।
মতবিনিময়কালে ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক নেতারা দেশের মফস্বল সাংবাদিকদের বিভিন্ন অসুবিধা ও দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। বিশেষ করে মফস্বল এলাকার সাংবাদিকদের প্রকৃত অবস্থা, সাংবাদিকদের জীবনমান সম্পর্কে তারা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের ভবন সম্প্রসারণ, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় নির্যাতিত সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজবোর্ড গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, সাংবাদিকদের অসুবিধা ও দাবিগুলো পূরণে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ সময় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনই আজ সাংবাদিকগণ ক্ষতিগ্রস্ত, এটিই তাদের দুর্দশার কারণ। শুধু ঠাকুরগাঁওয়ে নয়, ঢাকাতেও একই অবস্থা। এই বিভাজন কাম্য নয়। সুবিধাবাদীরা এর সুযোগ নেন। এই বিভাজন দূর করতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্র, সুশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। মফস্বল সাংবাদিকদের তৃণমূল ও প্রান্তিক মানুষের কথা নিষ্ঠার সঙ্গে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এবং ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন জেলা স্কাউটস নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। মতবিনিময়কালে স্কাউটস আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার জন্য করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করেন রাষ্ট্রপতি।
এ সময় বক্তব্য দেন লিডার ট্রেনার আঞ্জুমান আরা বেবী, মো. জালাল উদ দীন, ও স্কাউটসের জেলা সেক্রেটারি লুৎফর রহমান।
পরে জেলা স্কাউটসের উদ্যোগে ঠাকুরগাঁও জেলায় এক লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করা হয়। বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি একটি গাছের চারা রোপনের জন্য তাদের হাতে তুলে দেন এবং চলতি মাসেই বৃক্ষরোপণ শুরু করার নির্দেশ দেন।
১ দিন আগে
সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার রাজনীতির আহ্বান রাষ্ট্রপতির
রাজনৈতিক দল ও ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণকে সংঘাত ও সংঘর্ষ এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতি করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রথম নিজ জেলা সফর উপলক্ষে নাগরিক কমিটি ও স্থানীয় সুধীসমাজ এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ সংঘাত চায় না। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতি করতে হবে। ‘গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা,’ তিনি বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা আর কোনো সংঘাত বা রক্তপাত দেখতে চাই না। আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এখন আমরা সেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
তিনি দেশে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যেন সমান বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হয়ে গেছে এবং ভাইস চ্যান্সেলরও দায়িত্ব নিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব।’
তিনি বলেন, জেলায় একটি মেডিকেল কলেজও প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং আগামী বছর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করার আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুটি পৃথক উপজেলা গঠন করা হয়েছে এবং সেসব উপজেলার ইউএনওরা যোগ দিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আরও শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তবে বিমানবন্দরটি দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখতে হলে জেলায় শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে।
‘আমাদের এখানে প্রায় কোনো কলকারখানা বা শিল্প নেই। মানুষের কাজের সুযোগও পর্যাপ্ত নেই,’ তিনি বলেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, জেলায় কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের জন্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চীন থেকেও বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীদের ঠাকুরগাঁওয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জনগণকে শুধু চাকরি বা ঠিকাদারির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘নিজের পায়ে নিজে না দাঁড়ালে কেউ আপনাকে দাঁড় করাতে পারবে না। আপনাকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।’
নারীদের আরও বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, অনেক নারী ইতোমধ্যে নিজেদের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছেন। তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
১ দিন আগে
দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১ টায় রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে।
হেলিপ্যাডে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুরের রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক ও পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির ও সদস্য সচিব ড. শহিদুজ্জামানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল। গার্ড পরিদর্শনের পর মা-বাবার কবর জিয়ারতের জন্য সেনুয়া কবরস্থানে যাওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। জিয়ারত ও মুনাজাত শেষে ঠাকুরগাঁও শহরে নিজ বাসভবনে যাবেন রাষ্ট্রপতি।
ঠাকুরগাঁও সফরের প্রথম দিনে আজ (রবিবার) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে তার সম্মানে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
২ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আগামীকাল রবিবার প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফর ঘিরে পুরো জেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, সড়ক বিভাজক ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আগমনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।
আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। তার সফরকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। দিন-রাত কাজ করে শ্রমিকরা মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ করেছেন। ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে তারা ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছেন।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হয়েছে। রাতেও চলছে রঙের কাজ। সড়কবাতিগুলো মেরামত করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
ঠাকুরগাঁও রোড কাজিপাড়ার বাসিন্দা আজমত রানা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।’
ব্যবসায়ী জহির ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার (বিভাজক) ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।’
গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জেলার মানুষ। এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।’
স্থানীয়রা জানান, মির্জা ফখরুল স্বল্পসময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী থাকাকালীন ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার উদ্যোগের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বিমানবন্দর চালুর বিষয়টি রয়েছে। এসব উদ্যোগের কাজ চলমান রয়েছে বলেও তারা জানান।
তবে স্থানীয়দের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।
রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, দলমত-নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দলমত-নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।’
৩ দিন আগে
দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর।
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রঙ করার কাজ।
সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মো. খয়রুল কবির জানান, ওই দিন রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও পৌঁছাবেন। সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর তিনি শহরের সেনুয়া গোরস্থানে তার পিতার কবর জিয়ারত করবেন। পরে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পর সরাসরি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুরে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইস্রাফিল শাহীন জানান, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সীমিতসংখ্যক অতিথি উপস্থিত থাকবেন।
রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন জানান, রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি এখন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। তাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি বা ধানের শীষের কোনো প্রতীক যাতে প্রদর্শন করা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৭ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের ভূল্লী উপজেলাধীন কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) এবং সুকানপুকুরি এলাকার বাসিন্দা অটোরিকশাচালক জীবন অধিকারী (৪০)।
আহতরা হলেন: মোটরসাইকেলচালক ভুল্লী উপজেলার লক্ষ্মীরহাট বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (৩৮), অটোরিকশাচালক কিসমত কেশুরবাড়ি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে মো. সাহিরুল ইসলাম (২৩), বড় বালিয়া এলাকার মোছা. লাইলি বেগম (৪০) ও মো. শফিকুল ইসলাম।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হারুনুর রশিদ, সাহিরুল ইসলাম ও অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ (বুধবার) সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম ও জীবন অধিকারীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ও সাহিরুল ইসলামকে পরে রমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। লাইলি বেগম নামে আহত একজন ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খবর পেয়ে ভূল্লী থানার পুলিশ এবং বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. হাবিবুর রহমানকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ পিকআপসহ তাকে ভূল্লী থানায় নিয়ে গেছে।
ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘কচুবাড়ী এলাকায় পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় পিকআপের চালককে গাড়িসহ আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৩ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে পার্কে ইয়াবা, শক মেশিন ও যৌন উপকরণ জব্দ, বিএনপি নেতার ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৩
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি বিনোদনকেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে খেলনা পিস্তল, ওয়াকিটকি, ইয়াবা, বৈদ্যুতিক শক মেশিন, রড ও যৌন উপকরণসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় এক নারী ও স্থানীয় বিএনপি নেতার ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দক্ষিণ ঠাকুরগাঁও এলাকার ‘স্বপ্ন জগত’ পার্কে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: আকচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্বপ্ন জগত পার্কের মালিক গোলাম সরওয়ার চৌধুরীর বড় ছেলে সাঈদ চৌধুরী (৩২), পৌর শহরের বাসিন্দা রিয়া আক্তার (২৮) এবং একই এলাকার ফরহাদ হোসেন জিকো (৩০)।
ডিবি পুলিশ জানায়, অভিযান শেষে গ্রেপ্তার তিনজনকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর তাদের আবার স্বপ্ন জগত পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পার্কে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনজনের প্রত্যেককে দেড় হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
ডিবি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে পার্কের ভেতর থেকে একটি খেলনা পিস্তল, চারটি ওয়াকিটকি, দুটি রড, তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি বৈদ্যুতিক শক মেশিন এবং যৌন উপকরণ জব্দ করা হয়।
১৯ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে শতভাগ ফেল ৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত
চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে পারেনি কোনো শিক্ষার্থী। এ বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ ফেল করা এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঠাকুরগাঁও জেলায়।
এমন ফল বিপর্যয়ের পর তদন্ত সাপেক্ষে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলছে জেলা শিক্ষা বিভাগ।
শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি হলো— সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেওয়ারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়গুলোর যথাক্রমে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল: ৪ জন, ৭ জন, ৫ জন, ৫ জন ও ৩ জন।
এই ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাশের হার শূন্য।
তবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দারিদ্র্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত স্কুলে উপস্থিতি, বাল্যবিবাহসহ জোর করে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াকে দায়ী করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকি জানান, ১৯৯৫ সালে এমপিওভুক্তির পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা যেমন অমনোযোগী, ঠিক তেমনি শিক্ষকদেরও গাফিলতি রয়েছে বলে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষক সময়মত ক্লাসে উপস্থিত থাকেন না। এ ছাড়াও যেসব শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ার মতো নয়, তারাও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দেওয়ায় এমন ফল হয়েছে।
মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, আমাদের এখানে এবারই প্রথম শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আমাদের এখানকার শিক্ষার্থীরা একটু বড় হতে না হতেই তাদের পরিবার থেকে বিয়ে দিয়ে দেয়। ফলে ভালো শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ে। দারিদ্র্যের কারণেই অভিভাবকরা এমন সিদ্ধান্ত নেন।
এ ছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো ভালো ভবন নেই; বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ল্যাব নেই বলেও জানান তিনি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আকতার জানান, গতবার যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খারাপ রেজাল্ট করেছিল, তাদের আমরা সঠিক পরামর্শ দিয়েছি এবং তা কাজে লেগেছে। এবারও আমরা তাই করব। প্রয়োজনে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৮ দিন আগে
উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার দিকে মনোযোগ দিতে শিক্ষিত যুবকদের প্রতি আহ্বান মির্জা ফখরুলের
ঠাকুরগাঁওয়ের সলেমান আলীর উদ্ভাবিত প্রযুক্তির উদাহরণ টেনে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষিত যুবকদের উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার দিকে মনোযোগ দিতে আহ্বান জানান।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানীবাজার চুনিহাড়ী পশ্চিমপাড়ায় সলেমান আলী উদ্ভাবিত সলেমান সোলার সেচ পাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিজের চেষ্টায় সলেমান ভাই এক অভূতপূর্ব আবিষ্কার করেছেন। যে আবিষ্কার তিনি নিজের চেষ্টায় নিজের প্রযুক্তি দিয়ে আজকে কৃষিতে, কৃষকের মুরগির খামার, বাসা-বাড়িতে সরবরাহ করে সাহায্য করতে পারছেন। আগে আমার জানা ছিল না। কিছুদিন আগে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন, সেখানে আমি এসব জানতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে সলেমান আলী একজন সাইকেল মেকানিক ছিলেন। তার বাবাও একই কাজ করতেন। ওই সাইকেলের মেকানিকের কাজ করতে করতেই তিনি প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেন। তিনি ভাবেন, এই সোলার দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে অনেকটা সাশ্রয়ী হবে।
তিনি আরও বলেন, সলেমান বর্তমানে ২৮টি সোলার পাম্প চালান এবং ৩০০ একর জমিতে সেচ দেন। এখানকার পুরো এলাকার চাহিদা সোলার প্যানেল দিয়ে মিটিয়ে আসছেন। আমরা যারা সরকারে আছি, চেষ্টা করব তার এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ব্যক্তি, যারা নীরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছে, কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না, তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজের চেষ্টায়, নিজের উন্নতি করছেন এবং দেশের উন্নতি করা যায় সেই চেষ্টা করেছেন। এজন্য আমি শিক্ষিত যুবকদের বারবার বলি, নিজেরাই কিছু করার চেষ্টা করুন। সোলেমান আলী একজন সাধারণ সাইকেল মেকানিক হয়েও এই এলাকার মানুষকে তার প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এই কাজকে এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আরও বেশি সহযোগিতা করা হবে।
অনুষ্ঠান শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই এলাকার একতা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিএনপির নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
৬৭ দিন আগে
আমাদের উন্নয়নে চীন সমর্থন করছে: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন সমর্থন দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-চীনের যৌথ উদ্যোগে ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি । এ সময় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইয়াও ওয়েন।
‘তরুণ মেধার বিকাশ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুলব্যাগ, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিশ্বের মধ্যে একটি উন্নত দেশ চীন এবং প্রতিনিয়তই তারা উন্নত হচ্ছে। চীন বিভিন্ন দেশের জনগণের উন্নয়ন করছে। আমাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তারা সমর্থন দিচ্ছে। তাই আমি ওনাদের দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের কিছু কাজ করাতে চাই। চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, চলতি বছরের ও আগামী বছরের মধ্যে কলকারখানা স্থাপন করার জন্য চীন থেকে একটি প্রতিনিধিদল এখানে আসবেন, দেখবেন ও ভিজিট করবেন।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চান। শিশুদের ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে চান, তাদের উন্নত করতে চান। এজন্য তিনি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের পোশাক, শিক্ষাসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ সেই সঙ্গে শিশুরা যাতে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে সেই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
আজকের চীন যে এত উন্নত হয়েছে, তারা তাদের নিজের চেষ্টায় উন্নত হয়েছে। তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে ও কাজ করে উন্নত হয়েছে। কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব।
পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইয়াও ওয়েন বলেছেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের জনগণের জন্য কিছু বিতরণ করা হবে। আপনারা জানেন যে শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ। আমি আশা করি, এই শিক্ষা সামগ্রী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমকে বেগবান করবে। এখানে অনেক কৃষি জমি আছে। সেদিক দিয়ে আমরা কাজ করতে চাই এবং চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে একটি প্রতিনিধিদল আসবেন আপনাদের এখানে ভিজিট করতে।’
তিনি আরও বলেন, আগামী বছরের মধ্যে এখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে চীন সফর করা হবে। পর্যায়ক্রমে সবাই চীনে সফর করার সুযোগ পাবেন এবং বাংলাদেশ ও চীনের বুন্ধুত্বপূণ সম্পর্কের গুরুত্ব ও সমর্থন দেওয়া হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পায়গাম আলীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮৭ দিন আগে