ঠাকুরগাঁও
সরকারকে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে। বিগত সরকার ব্যাংকগুলো খালি করে দিয়েছে। ব্যাংকে ৮০ লাখ কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে এই আওয়ামী লীগ ও তাদের মন্ত্রীরা। আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের কালিবাড়ি মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে ঠাকুরগাঁও জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়মকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশে একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছি। একটা নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করেছে। তার আগে একটা রিফর্ম (সংস্কার) কমিশন হয়েছে, সেই কমিশনের গণভোট হয়েছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে। বিগত সরকার ব্যাংকগুলো খালি করে দিয়েছে। ব্যাংক থেকে ৮০ লাখ কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে এই আওয়ামী লীগ ও তাদের মন্ত্রীরা। আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে। সুতরাং আপনাদের কাছে আমার একটা প্রত্যাশা করি। আগামী তিন মাসে আমরা উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনগুলোতে যদি সহযোগিতা করে যান তাহলে আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, সাংবাদিকদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
সাংবাদিকতা পেশাকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাংবাদিকতা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা। এর চাইতে চ্যালেঞ্জিং পেশা আর কোনোটি আছে বলে আমার জানা নেই। কারণ সাংবাদিকদের কঠিন কঠিন জায়গায় গিয়ে কাজ করতে হয়। আপনারা দেখছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে। ইতোমধ্যে অনেক সাংবাদিক মারা গেছেন। ফিলিস্তিনের যুদ্ধেও অনেক সাংবাদিক প্রাণ দিয়েছেন। একইভাবে আমাদের দেশে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ করতে গিয়ে, আমার সঠিক সংখ্যা মনে নেই, তবে ৫০০-এর বেশি সাংবাদিক শহিদ হয়েছেন বিগত সরকারের সময়ে। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হননি।
সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যখন আপনারা কোনো একটি বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন করবেন এবং যার বিপক্ষে প্রতিবেদন করবেন, তাকে জিজ্ঞেস না করে, তার বক্তব্য না নিয়ে করবেন না—এটা মাথায় রাখবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া এখন অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে গেছে। এত শক্তিশালী মাধ্যম যে সমাজকে পাল্টে দিচ্ছে এবং একটি সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে যে সব জিনিস বের হয়, লেখালেখি হয়, তাতে করে একজন রাজনীতিবিদের চরিত্র হরণ করতে এক সেকেন্ডও লাগে না। এই বিষয়গুলো আপনাদের মাথায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে। ফলে অনেকেই ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন পান না। এ সময় সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকতাকে কখনো ছোট করে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক সম্পাদক মানিক মিয়া মন্ত্রী না হয়েও মন্ত্রী তৈরি করেছেন। সাংবাদিকদের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে বিশাল ভূমিকা রয়েছে। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দায়িত্বহীন সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে এলজিআরডি মন্ত্রী আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে অবশ্যই অভিযুক্ত বা বিপরীত পক্ষের বক্তব্য নেওয়া উচিত। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য প্রচুর পড়াশোনারও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জেলার ৭ উপজেলা থেকে আগত সাংবাদিকেরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরীফসহ অন্যান্য নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. আব্দুল লতিফ।
১ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের এমপি দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক আলহাজ্জ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
রাজনীতিবিদ দবিরুল ইসলামের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৩টায় শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দবিরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হবে।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে। পরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল রেকর্ড রয়েছে তার। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘসময় কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১ দিন আগে
কৃষিজমি নষ্ট করে কোনো স্থাপনা হবে না: মির্জা ফখরুল
দেশে কৃষিজমি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, কৃষিজমি নষ্ট করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হবে না। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কৃষিজমি রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বুধবার (২৭ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের আমতলী রেলঘুন্টি এলাকার ভাতারমারি ফার্মে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে কৃষিজমি দিন দিন কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক। আমরা কৃষিজমি নষ্ট করে কোনো স্থাপনা করতে চাই না। সবদিক বিবেচনা করেই উন্নয়ন কাজ করা হবে, যাতে কৃষির ক্ষতি কম হয়।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন ও কৃষি—দুই ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। কৃষিজমি রক্ষা করেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সদর উপজেলার শ্রীকৃষ্টপুর, জগন্নাথপুর, গড়েয়া ইক্ষু খামার ও সালান্দর এলাকায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের সম্ভাব্য স্থানও পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইস্রাফিলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
৩ দিন আগে
এক শিক্ষকের বিদায়ে কাঁদল পুরো বিদ্যালয়
ফুল হাতে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে শত শত শিক্ষার্থী। দুই পাশে তৈরি হয়েছে ভালোবাসার মানবসারি। সেই পথ ধরে সহকর্মী শিক্ষকদের সঙ্গে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন সবার প্রিয় মানুষ, গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান-ই-হাবীব। আর ঠিক তখনই শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ফুল ঝরে পড়ছে তার ওপর। পুষ্পবৃষ্টিতে ভেসে উঠছে বিদায়ের আবেগঘন মুহূর্ত।
কেউ গোলাপ হাতে এগিয়ে এসে প্রিয় স্যারকে জড়িয়ে ধরছে, কেউ পা ছুঁয়ে নিচ্ছে দোয়া, আবার কেউ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছে ‘স্যার, আপনাকে ভুলব না।’ বিদায়ের এই দৃশ্যে আবেগ সামলাতে পারেননি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এমনকি অতিথিরাও।
দীর্ঘ সাড়ে ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে চোখের জলে বিদায় নিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান-ই-হাবীব।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিদ্যালয় মাঠে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আয়োজনে তার অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো বিদ্যালয়জুড়ে তখন এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে দেখা যায়, প্রিয় শিক্ষকের বিদায় মেনে নিতে পারছিল না শিক্ষার্থীরা। কেউ স্যারের গলা জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছে, কেউ হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে নির্বাক হয়ে। আবার অনেকেই চোখের পানি মুছতে মুছতে শেষবারের মতো স্মৃতিবন্দি করতে ব্যস্ত ছিলেন প্রিয় মানুষটিকে। শিক্ষার্থীদের এমন ভালোবাসা দেখে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন শাহজাহান-ই-হাবীব নিজেও।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আখতারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জানা গেছে, মো. শাহজাহান-ই-হাবীব ১৯৬৬ সালের ৬ জুন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। এমএ ও বিএড সম্পন্ন করার পর ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি নিজ এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ক্রীড়া ও জাতীয় দিবসের বিভিন্ন আয়োজনে একাধিকবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। তিনি একবার জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন এবং তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটি দুইবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
৭ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত
ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ঋত্বিক (২৫) ও আশিক (২৫) নামে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা বন্ধু ছিলেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২০ মে) সকালে পৌর শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা আইল্যান্ডে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর অপরজনের মৃত্যু হয়।
নিহত ঋত্বিক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের লিটনের ছেলে এবং আশিক একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (বুধবার) সকালে দুই বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুতগতিতে ঠাকুরগাঁও শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকায় পৌঁছালে একটি মোড় অতিক্রম করার সময় মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। পরে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে থাকা আইল্যান্ডের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলেই ঋত্বিকের মৃত্যু হয়। আহত আশিককে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পর তিনিও মারা যান বলে জানায় পুলিশ।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অপরজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১০ দিন আগে
একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর চিরবিদায়
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসী বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী (৭২) আর নেই।
বুধবার (১৩ মে) উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ।
একাত্তরের যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল শৈশব, স্বাভাবিক জীবন আর সম্মানের নিরাপদ আশ্রয়। স্বাধীনতার জন্য নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দেওয়া সেই বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী (৭২) বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকেও। তার মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের মানুষ।
তার শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম, রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
টেপরী রাণী ছিলেন ওই উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের বাসিন্দা মৃত মধুদাস রায়ের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে টেপরী রাণীর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। চারদিকে তখন যুদ্ধের ভয়াবহতা। পরিবারের সদস্যদের প্রাণ রক্ষার আশায় অসহায় এক বাবা মেয়ে টেপরী রাণীকে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তুলে দিতে বাধ্য হন। সেই যাত্রায় বাবা-মেয়ের মধ্যে কোনো কথা হয়নি, ছিল শুধু নীরব কান্না আর আতঙ্কে ভারী হয়ে ওঠা পরিবেশ।
এরপর টানা সাত মাস পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন টেপরী রাণী। নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়ে তিনি রক্ষা করেছিলেন পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফেরেন তিনি। কিন্তু স্বাধীনতার পরও সমাজ তাকে আপন করে নেয়নি। অনাগত সন্তানকে নষ্ট করে ফেলার জন্য নানা চাপ আসে চারদিক থেকে। তখন মেয়ের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান তার বাবা। তিনি বলেছিলেন, এই সন্তানই হবে তোর বেঁচে থাকার অবলম্বন।
পরে জন্ম হয় ছেলে সুধীর বর্মনের। কিন্তু সমাজের কটূক্তি পিছু ছাড়েনি তাদের। ছোটবেলা থেকেই সুধীরকে ‘পাঞ্জাবির বাচ্চা’ বলে অপমান করা হতো। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক।
দীর্ঘ অবহেলার পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী। পরের বছর তার জীবনের আত্মত্যাগের গল্প প্রকাশ্যে এলে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, টেপরী রাণী শুধু একজন বীরাঙ্গনা নন, তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। তার জীবন দেশের স্বাধীনতার জন্য নারীদের আত্মত্যাগের গভীরতা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ছেলে সুধীর বর্মন বলেন, আমাকে নিয়ে মাকে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু দেশের জন্য মায়ের যে ত্যাগ, সেটা কখনও ভোলার নয়। ২০১৭ সালে মা বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাওয়ার পর আমাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি আসে।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। দেশের জন্য তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
১৬ দিন আগে
কোরবানির বাজার মাতাতে আসছে ‘কালা বাবু’ ও ‘ধলা বাবু’
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি গরুকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ‘কালা বাবু’ও ‘ধলা বাবু’ নামের বিশালাকৃতির এই দুই গরুর মোট ওজন প্রায় ৮৫ মণ। গরু দুটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে খামারে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ আসছেন কৌতূহলবশত, আবার কেউ আসছেন কোরবানির জন্য পছন্দের গরুটি কিনতে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ‘বিসমিল্লাহ অ্যাগ্রো ফার্মে’ বিশেষ পরিচর্যায় বেড়ে উঠেছে গরু দুটি।
খামারজুড়ে এখন যেন উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশাল দেহের কারণে গরু দুটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পাশের জেলা থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন ‘কালা বাবু’ ও ‘ধলা বাবু’কে একনজর দেখতে।
খামার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে লালন পালন করা হয়েছে গরু দুটি। ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুগুলোকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাওয়ানো হয়। সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল, ভুট্টা ও খড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফলমূলও খাওয়ানো হয়েছে তাদের।
খামারের কর্মীরা জানান, গরু দুটিকে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে।
খামারের এক কর্মচারী বলেন, সকালে গরু দুটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর বিশেষ খাবার দেওয়া হয়। দুপুর ও রাতেও আলাদা খাদ্যতালিকা মেনে খাওয়ানো হয়। গরমের কারণে নিয়মিত গোসল করানো এবং বিশ্রামের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কোরবানির বাজারকে সামনে রেখে গরু দুটিকে সাজানো হয়েছে বিশেষভাবে। বর-কনের আদলে সাজসজ্জা করায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। গলায় রঙিন ফিতা, মাথায় অলংকার ও শরীরে নকশা করা কাপড় পরিয়ে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করা হয়েছে। অনেকেই গরু দুটির সঙ্গে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে বিশাল আকৃতির কারণে গরু দুটি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারের শ্রমিকদের। দর্শনার্থীদের অনুরোধে মাঝে মাঝে খামারের বাইরে বের করা হলেও তখন বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে চেষ্টা করেও গরুগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান তারা।
খামারের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন বছর ধরে অনেক যত্ন করে গরু দুটি বড় করেছি। কালা বাবুর চার দাঁত এবং ধলা বাবুর দুই দাঁত উঠেছে। প্রতিদিন নিয়মিত পরিচর্যা ও ভালো খাবার দেওয়ায় গরুগুলো এমন আকৃতি পেয়েছে। ক্রেতাদের সুবিধার জন্য ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই শুধু দেখতে আসছেন। আবার অনেকে আগ্রহ নিয়ে দামও জানতে চাচ্ছেন। আমরা কোরবানির জন্য ভালো ও স্বাস্থ্যকর গরু মানুষের হাতে তুলে দিতে চাই।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলায় পশু মোটাতাজাকরণে যাতে কেউ ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। খামারগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ কাজ করছে। এ সময়ে কালা বাবু ও ধলা বাবুর কথা তিনি জানেন বলে জানান।
১৮ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে ২ নতুন উপজেলা, মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভাগ করে নতুন দুটি উপজেলা ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ায় এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে।
এ খবরে বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে শুক্রবার (৮ মে) পর্যন্ত রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকার সাধারণ মানুষ মিষ্টি বিতরণসহ আনন্দমিছিল করেছে। একইসঙ্গে এই সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।
গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলার আরও কয়েকটি উপজেলা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভাগ করে মোকামতলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’ এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে ভাগ করে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন পায়।
২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ছিল একটি বৃহৎ উপজেলা । দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি ও সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সদর উপজেলাকে বিভক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোনোয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া, রুহিয়া পশ্চিম, আখানগর, ঢোলারহাট ও সেনুয়া ইউনিয়ন নিয়ে রুহিয়া থানার কার্যক্রম শুরু হয়। এদিকে ২০২২ সালে ২৯ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া, বড়গাঁও, দেবীপুর, গড়েযা ও শুখানপুকুরী ইউনয়িন নিয়ে ভুল্লী থানার কার্যক্রম শুরু হয়। তারপর থেকেই এলাকাবাসী থানা দুটিকে উপজেলায় রুপান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিল।
রুহিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রুহিয়াকে উপজেলা করার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। নানা সময় স্মারকলিপি দিয়েছি, মানববন্ধন করেছি, জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েছি; কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছিল না। আজ সরকারের এই সিদ্ধান্ত আমাদের দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন পূরণের দ্বার খুলে দিয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপজেলা পর্যায়ের সব সেবা পাবে। এতে আমাদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।
ভুল্লী বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুল্লী উপজেলা বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি অনেক গতিশীল হবে। নতুন নতুন সরকারি অফিস, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। আমরা বিশ্বাস করি, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
স্থানীয় তরুণরা বলেন, আমরা বিশেষভাবে বিএনপির মহাসচিব ও এলজিইডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বারবার এই অঞ্চলের মানুষের দাবি ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতার ফলেই আজ আমরা এই সুখবর পেয়েছি। নতুন উপজেলা বাস্তবায়ন হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ সব খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জানান, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলার দাবি অনেক দিনের। আমাদের নির্বাচনি প্রচার চলাকালে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিও ছিল। আমাদের মহাসচিবমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, চলতি বছরেই দুই নতুন উপজেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী।
২১ দিন আগে
কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা
ঠাকুরগাঁওয়ে শনিবার ভোরে হঠাৎ আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ উপড়ে পড়ে চারটি পরিবারের অন্তত ছয়টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এ দুর্যোগে নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ভোরে হঠাৎ করেই ঝোড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাকশিড়ি এলাকায় প্রবল বাতাসে একটি বিশাল গাছ ভেঙে পড়ে নিজাম উদ্দিনের বসতঘরের ওপর। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বের হতে সক্ষম হলেও নিজাম উদ্দিন ঘরের ভেতরেই আটকা পড়েন। পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধী নিচ্ছেন।
৩৫ দিন আগে
দেশে তেলের সংকট নেই, এটি সৃষ্টি করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে তেলের সংকট নেই। তবে কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে বলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে মির্জা রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন আয়োজিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দেশে সরবরাহের জন্য তেলের সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। এ সমস্যাটা তৈরি করা হয়েছে। কিছু মানুষ এখানে অনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছে। যে ব্যবসাটা দেশের জন্য জাতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু মানুষ তেল নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করছে, এটা করতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের কৃষকরা সবসময়ই মার খায়। এবারও তারা আলুতে বিশাল মার খেয়েছে। তারা দাম পায়নি। তাদের উৎপাদন খরচটাও ওঠেনি। আমরা আমাদের এসব কৃষক ভাইদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই তাদের কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজ চলছে। এছাড়াও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারেন সেজন্য কৃষিভিত্তিক এলাকাগুলোতে আমরা কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কৃষি জোন ও কৃষি হিমাগার তৈরি করব। কৃষক বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন করে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে দেশ। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
পরে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারকে ১ বান্ডিল টিন ও ৩ হাজার টাকা করে এবং ৮০ পরিবারকে ৬ হাজার ২৫০ টাকা করে প্রদান করেন।
এছাড়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৭০ পরিবারকে ১ বান্ডিল টিন ও ৬০ পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়। ৮৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় মোট প্রায় ২০ কোটি টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এর মধ্যে আরও রয়েছে ১৯৫টি মসজিদ, ৮৯টি মন্দির, ৫টি কবরস্থান, ৪টি ঈদগাহ এবং ১টি শ্মশান সহ মোট ২৯৪টি প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদা দাদ, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ অন্যান্য নেতারা।
৩৫ দিন আগে