উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক হাসান শাহরিয়ারের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল শুক্রবার। ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার নিজ বাড়ি সুনামগঞ্জ, ঢাকার সেগুনবাগিচার বাসভবন এবং সিলেটে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে হাসান শাহরিয়ার আন্তর্জাতিক পরিসরে সুনাম অর্জন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সাময়িকী নিউজউইক, পাকিস্তানের দি ডন, মধ্যপ্রাচ্যের খালিজ টাইমস, চট্টগ্রামের ডেইলি পিপলস ভিউ-এর প্রধান সম্পাদক এবং দক্ষিণ ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ডেকান হেরাল্ড-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক বিষয়ে, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তান সম্পর্কিত বিশ্লেষক হিসেবে তিনি দেশে-বিদেশে সমাদৃত ছিলেন।
তিনি বৈদেশিক সংবাদদাতা সমিতি (ওকাব)-এর সাবেক সভাপতি এবং কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ২০১২ সালের মাল্টা সম্মেলনে ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস’ নির্বাচিত হন। সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি তাকে ফেলোশিপ প্রদান করে এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল তাকে মরণোত্তর সম্মাননা দেয়।
হাসান শাহরিয়ার ‘অতীত অতীত নয়’, ‘যার শেষ ভালো তার সব ভালো’, ‘যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা’ এবং ‘নিউজ উইকে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় এবং অতঃপর’ শীর্ষক গ্রন্থ রচনা করে প্রশংসা অর্জন করেন।
একজন নির্ভীক সাংবাদিক হিসেবে তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। নীতির প্রশ্নে আপস না করায় তিনি একাধিকবার চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। সম্পাদকের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি প্রকাশিতব্য ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদকের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়ে তিনি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
১৯৪৬ সালের ২৫ এপ্রিল সুনামগঞ্জ শহরের হাছন নগরে জন্মগ্রহণ করেন হাসান শাহরিয়ার। তার পারিবারিক নিবাস তাহিরপুরের লাউড় পরগনার বিন্নাকুলি গ্রামে। তার পিতা মকবুল হোসেন চৌধুরী তৎকালীন আসামের প্রথম মুসলিম সম্পাদক ছিলেন এবং তিনি কলকাতার দৈনিক ‘ছোলতান’, সিলেটের সাপ্তাহিক যুগবাণী, যুগভেরী ও সিলেট পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তিনি খেলাফত আন্দোলনের নেতা, আসাম ব্যবস্থাপক সভার সদস্য ও ভাষাসৈনিক ছিলেন।
পিতার পথ অনুসরণ করে হাসান শাহরিয়ার সাংবাদিকতায় আসেন। তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক, সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে আইএ এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় ঝুঁকে পড়েন তিনি। সুনামগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘সুরমা’ পত্রিকার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। তিনি কচি-কাঁচার মেলার সংগঠক ও সুরমা-কাকলী কচি-কাঁচার মেলার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯৬৩ সালে বন্যার্তদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম সফর করেন।
একই বছর রিয়াসত আলী ও রোকনুজ্জামান খান (দাদা ভাই)-এর উদ্যোগে দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক শহীদ সিরাজ উদ্দিন হোসেন তাকে সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ দেন।
হাসান শাহরিয়ার সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট প্রেস ক্লাব ও সুনামগঞ্জ জগতজ্যোতি পাঠাগারের আজীবন সদস্য ছিলেন।