সাংবাদিক
আইডি কার্ড না ঝুলানোয় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, এসআই ক্লোজড
সাংবাদিকের পরিচয় ও ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও ‘আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে’ থানায় না ঢোকায় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে রংপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিহার রঞ্জনকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে তাকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠালে সেখান থেকে তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে, সেদিন দুপুরে কোতোয়ালি থানায় কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক রেজওয়ান রনি বলেন, গতকাল (সোমবার) বিকেলে চুরির অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে থানায় ডেকে আনেন এসআই নিহার রঞ্জন। থানায় নেওয়ার পর জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করছেন এমন তথ্য জানার পর আমরা থানায় যাই। থানায় গিয়ে ওই এসআইকে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি আমাকে বসতে বলেন। কিন্তু অভিযুক্তকে গালাগালি ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই এসআই আমার আইডি কার্ড দেখতে চান। এ সময় তাকে ভিজিটিং কার্ড দিলেও তিনি তা দেখেননি। পরে ওসি আমাকে চেনেন এবং তার সঙ্গে কথা বলতে বললে এসআই বলেন, ‘ওসি, কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই আমার।’
রেজওয়ান রনি আরও বলেন, ‘থানায় আসা সাংবাদিকদের সবাইকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে হয়’—এ কথা জানিয়ে তিনি চিল্লাতে চিল্লাতে আমাকে সেখান থেকে বের করে দেন এবং থানায় আইডি কার্ড নিয়ে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি আমার সহকর্মীদের জানিয়ে থানায় ডেকে নিই। তারা এলে ওই পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গেও উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে তার কক্ষ থেকে বের করে দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৈনিক খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকার বলেন, অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে থানায় এনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন এসআই নিহার। এ বিষয়ে জানতে থানায় গেলে পরিচয়ের জন্য রনি তার ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও তাকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে থানায় প্রবেশ করতে বলেন। এরপর অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থানার ভেতরের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, ‘সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হলে সেখান থেকে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। আর থানা সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে কার্ড ঝুলিয়ে আসতে হবে না।’
১৭ ঘণ্টা আগে
সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে হামলার মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মো. গোলাম মুক্তাদীরকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মো. গোলাম মুক্তাদীর রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি গোলাম মুক্তাদীর। গতকাল (রবিবার) বিকেলে উপজেলার ধানগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন নামে আরও এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারের আটচালায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠান শেষে চান্দাইকোনা ফিরছিলেন এমপি আইনুল হক। এ সময় ধানগড়া বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীরা এমপির গাড়িবহরে হামলা চালায় এবং গাড়িটি ঘিরে ধরে লাঠিসোঁটা নিয়ে আঘাত করে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ওই গাড়িটির পেছনের কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা এমপি আইনুল হকসহ একাধিক নেতা আহত হন।
সে সময় ওই গাড়িতে থাকা ফয়সাল বিশ্বাস নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে ওই হামলার ঘটনা সরাসরি প্রচার করেন।
এদিকে, এমন পরিস্থিতির মধ্যে এমপিকে উদ্ধার করে গ্রামের বাড়ি চান্দাইকোনায় নিয়ে আসা হয়। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে চান্দাইকোনা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়। এ নিয়ে রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধানগড়া ও চান্দাইকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। ওই দিন রাতেই পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান ও অনান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে শনিবার গভীর রাতে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শামিমুল হাসান খন্দকার বাদী হয়ে থানায় উল্লেখিত মামলা করেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, চান্দাইকোনায় রায়গঞ্জ ট্রেকনিকাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি আসার বিষয়টা জানতে পেরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে পৌরসভা ও চান্দাইকোনাবাসী পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বিষয়টি নিরসনের জন্য গত শনিবার পৌর বিএনপির সভাপতির নেতৃত্বে একটি সভার আয়োজন করা হয় এবং ওই সভায় এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্র সমন্বয়ক ফয়সাল বিশ্বাস ও ছাত্র সমন্বয়ক তমালের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কমিটি গঠন করার কথা বলে ফয়সাল বিশ্বাসকে এমপির গাড়িতে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় ধানগড়ার উত্তেজিত জনগণ এমপির গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনগণ দুই-চারটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙে গেছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
১ দিন আগে
নাটোরে সাংবাদিকদের মারধর: ৩ ছাত্রদলকর্মীকে বহিষ্কার
নাটোরের লালপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের মারধর করায় তিন ছাত্রদলকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত ছাত্রদলকর্মীরা হলেন: জাহিদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও মামুন আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের ঘটনায় সরকারি দলের কর্মীরা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে। ঘটনাটি কাভারেজের সময় এনটিভি অনলাইনের নাটোর প্রতিনিধি সজিবুর ইসলামসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে মারধর করেন ছাত্রদলকর্মীরা।
একই ঘটনা ঘটে বাগাতিপাড়া উপজেলাতেও। তবে সেখানে এখনও দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলার সাংবাদিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। ইতোমধ্যেই দুই উপজেলার তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকা বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
৩ দিন আগে
সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বেঞ্চের বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)। দাবি বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এলআরএফ আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি জানিয়ে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, গত ৭ জানুয়ারি থেকে আপিল বিভাগসহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিচারাধীন মামলার কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং নির্ভরযোগ্যভাবে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা পেশাগতভাবে বাধার মুখে পড়ছেন।
আদালতের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ না থাকায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, উন্মুক্ত বিচারব্যবস্থা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্নার সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ও আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের সভাপতি শাফি উদ্দীন আহমদ, রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির সভাপতি কাজী জেবেল, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি এম বদি উজ-জামান, আশুতোষ সরকার ও শামীমা আক্তার প্রমুখ।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই সময়ে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে জানানোর কথা। অথচ বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব জনগণকে তথ্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার যখন আদালত বা বিচার বিভাগের টুঁটি চেপে ধরেছে, তখন সংবাদমাধ্যম বিচার বিভাগের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। সেই সংবাদমাধ্যম যখন তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের বাধার মুখে পড়ে, তখন বিচার বিভাগের নেতৃত্বের গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
নূরুল কবীর বলেন, প্রকাশ্য আদালতে বিচার করা বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, সেই বিচার বিভাগই যদি মানুষের তথ্য জানার অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনো অবস্থাতেই সংবিধানের প্রকাশ্য আদালতে বিচার পরিচালনার নির্দেশনা লঙ্ঘন করে নিজেদের সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করবেন না—এটাই সম্পাদক পরিষদের প্রত্যাশা। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ চেয়েও পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের ভুল হতে পারে। বিচারকরাও ভুল করেন বলেই বিচারব্যবস্থায় আপিলের ব্যবস্থা রয়েছে। গণমাধ্যমে ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগও রয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অভিভাবকেরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস জেনেশুনে একটি সিদ্ধান্ত বহাল রাখবেন, এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো বাস্তব সমস্যা থাকলে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান সম্ভব বলে মনে করে নূরুল কবীর। সর্বোচ্চ আদালতের কর্তৃপক্ষ যেন সাংবাদিকদের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দিকে ঠেলে না দেয়, সে আহ্বানও জানান তিনি।
এলআরএফের সাবেক সভাপতি সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘আজকের এই কর্মসূচি জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য। গত সাত মাস ধরে আদালতে প্রবেশ বন্ধ। এতে আমাদের পেশাগত কাজ বন্ধ নেই। রুটি-রুজিরও প্রশ্ন নেই। তবে সংবিধানে জনগণের তথ্য জানার যে অধিকার দিয়েছে, সেটা আমরা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারছি না।’
তিনি বলেন, সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদে বলা আছে বিচার হবে প্রকাশ্য আদালতে। অথচ সাংবাদিকদের আদালত থেকে বের করে দিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জনগণকে বিচার বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে জানার অধিকার দিতে হবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, মানুষ যখন অধিকারবঞ্চিত ও অন্যায়ের শিকার হয়, তখন সর্বশেষ আস্থার জায়গা হিসেবে আদালতে যায়। কিন্তু আদালতই যখন মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তখন মানুষ কোথায় যাবে?
তিনি বলেন, আজকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যদি অধিকার প্রতিষ্ঠা না হয়, তাহলে সাংবাদিকরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।
তথ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত হবে না।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো কী এমন বিষয় রয়েছে, যা জাতি জানতে পারবে না—এ প্রশ্নের জবাব প্রধান বিচারপতিকে দিতে হবে।
এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট আমলে আদালতে ফরমায়েশি রায় হয়েছে এবং সেই রায়ের ভিত্তিতে অনেকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা বাক্স্বাধীনতা ও লেখার স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করেছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সরকারকে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন আবু সালেহ আকন। অন্যথায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো এলআরএফের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামবে বলে জানান তিনি।
এলআরএফের সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দাবি মানা না হলে শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন এলআরএফের সাবেক সভাপতি সাঈদ আহমেদ খান, ওয়াকিল আহমেদ হরিন, মাশহুদুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, হাবিবুর রহমান, মনিরুজ্জামান মশিন, সিনিয়র সদস্য শংকর মৈত্র, সাজেদুল হক, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি আবু সালেহ রনি, যুগ্ম সম্পাদক তানভীর আহমেদ, অর্থ সম্পাদক মনজুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল বাশার, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু, কার্যনির্বাহী সদস্য আসাদুর রহমান, ইলিয়াস সরকার, এস এম নূর মোহাম্মদ, রেজাউল করিম প্রমুখ।
এলআরএফের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব), রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র্যাক) এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নেতারাসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের দুই শতাধিক সাংবাদিক এতে অংশ নেন।
৬ দিন আগে
বাংলাদেশ প্রতিদিনের ২২ সাংবাদিককে পুনর্বহালের দাবি ডিআরইউর
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে ২২ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, ইতিবাচক উদ্যোগ না নিলে সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের প্রতি এ ধরনের আকস্মিক ও গণহারে চাকরিচ্যুতি শুধু অমানবিকই নয়, এটি শ্রম আইন, পেশাগত মর্যাদা এবং গণমাধ্যমের কর্মপরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।
তারা বলেন, চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের অধিকাংশই বাংলাদেশ প্রতিদিনে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত ছিলেন। আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করেই তাদের চাকরিচ্যুত করায় অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমে এমন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
ডিআরইউ নেতারা আরও বলেন, সংগঠনটির কাছে এমন তথ্য এসেছে যে, দীর্ঘদিন কর্মরত সাংবাদিকদের সরিয়ে নতুন করে জনবল বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সত্য হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত স্থিতিশীলতা এবং কর্মপরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের অবদান, শ্রম অধিকার ও পেশাগত মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ডিআরইউ জানায়, অন্যথায় সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনটি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
একই সঙ্গে দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার, পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সাংবাদিকদের স্বার্থ, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ডিআরইউ সবসময় সোচ্চার ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। গণমাধ্যমকর্মীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত উপায়ে তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
১৪ দিন আগে
ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা সাংবাদিকের কাজ: কাদের গনি চৌধুরী
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার মূল কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘সত্য বলার সাহসিকতাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র। গণমাধ্যমের জন্য দরকার সৎ, সত্যনিষ্ঠ, পক্ষপাতমুক্ত সাংবাদিকতা। বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে এসবের বড্ড অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।’
দলবাজি, অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা ও তথ্যসন্ত্রাস সাংবাদিকদের মর্যাদা ম্লান করে দিচ্ছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা চলবে না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে দখল করে নিয়েছে স্বার্থনির্ভর সাংবাদিকতা।
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, বস্তুনিষ্ঠ, সৎ, নির্ভীক সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনে। একটি আদর্শ গণমাধ্যমের কোনো দল, গোষ্ঠী, সরকার, বিদেশি রাষ্ট্র বা কোনো এজেন্সির কাছে দায়বদ্ধতা থাকে না। দায়বদ্ধতা থাকে শুধু দেশের জনগণের কাছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যমের পরাজয় মানে জনগণের পরাজয়, জনগণের পরাজয় মানে রাষ্ট্রের পরাজয়।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম নানা সংকটে আবর্তিত। এই সংকট তৈরি করেছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। গণমাধ্যমকে সব সময় জনগণের পক্ষে থাকার কথা ছিল, কিন্তু জনগণের সঙ্গে গণমাধ্যমের একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে গুম–খুনের কথা জিজ্ঞেস না করে তৈলমর্দন করতেন অনেক দালাল সাংবাদিক। ফলে সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা সভায় পরিণত হতো। এভাবে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার থেকে মহাস্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট থেকে মহাফ্যাসিস্ট বানানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে দালাল সাংবাদিকেরা। এ সত্য আমাদের স্বীকার করতে হবে।’
তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে ‘গণমাধ্যমের পরাজয় মানে জনগণের পরাজয়, আর জনগণের পরাজয় মানে রাষ্ট্রের পরাজয়।’ তাই গণমাধ্যমকে পরাজিত হতে দেওয়া যাবে না।
১৬ দিন আগে
পেশাদারত্ব বজায় রাখতে সাংবাদিকদের তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা এমন একটি প্রক্রিয়া, যা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তাই সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, বরং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন হওয়া উচিত।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬-এর একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, হিমাল সাউথ এশিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মনি দীক্ষিত, দ্য হিন্দুর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দারসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো বিষয় সংবাদ নয়, সেটি কেবল মতামত হতে পারে। তিনি সমাজকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ ও চ্যালেঞ্জের ধরন ভিন্ন হলেও এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে একই রকম। তারা স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
পরে দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল কনফারেন্স অন এআই লিডারশিপ-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
সেখানে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র, শিল্প ও সেবা খাতের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এআই নিয়ে কাজ করা এখন সময়ের দাবি। এ প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মেলনে প্রযুক্তিবিদ প্রণব যোগেন্দ্র ব্রহ্মভট্ট, ব্যারিস্টার তাসমিয়া রহমান প্যাটেল, টেরি কে রুপার্টসহ দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
২৪ দিন আগে
কে সাংবাদিক আর কে নয়, তা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নয় তা নির্ধারণ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি।’
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার মানসিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যাতে সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সে বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে সকল নাগরিকের প্রতি সমান দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।
গণমাধ্যম একটি বহপাক্ষিক ক্ষেত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে বিভিন্ন মত, দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার মানুষের সহাবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তাই কোনো সংকীর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার নীতি অনুসরণ করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃত সক্ষমতা কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যেই নিহিত।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের অন্যতম রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়। এখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক বিষয়ের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিটির সদস্যদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার ওপরই সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২৬ দিন আগে
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত এবং আলোচনা ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আমাদের কিছু অঙ্গীকার আছে। তার মধ্যে ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আছে। জুলাই সনদে আমরা স্বাক্ষর করেছি, সেটি বাস্তবায়নেরও অঙ্গীকার আছে। আমরা এগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, আমার খুব খারাপ লাগে, যখন দেখি যে কতগুলো বিষয় নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তার মধ্যে একটি জুলাই সনদ।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি, নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে গেলে তারা নিজ নিজ নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সেসব বিষয়ে কাজ করবে। ‘এ বিষয়টি আমরা কেন যেন এড়িয়ে যাচ্ছি। এ নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত’, বলেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ আলোচনার মধ্যেই বিষয়গুলোর সমাধান হতে পারে। সংসদে সুযোগ এসেছে, একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আমার আহ্বান থাকবে, সবাই সেই কমিটিতে যোগ দিয়ে সংবিধানের যেসব বিষয় পরিবর্তন করা প্রয়োজন, সেগুলোতে সহযোগিতা করবেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন আমরা অনেক করেছি, অনেক রক্তও দিয়েছি। এবার দেখা যাক, আলোচনার মাধ্যমে সংসদে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায় কি না। এটাই আমার আহ্বান। তিনি বলেন, আমার এই শেষ বয়সে আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে আগামী প্রজন্মকে আর মারামারি, কাটাকাটি বা প্রাণ দিতে হবে না। সবকিছু একেবারে নাকচ করে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে আলোচনার মধ্য দিয়ে এগোনো উচিত।
৩০ দিন আগে
সংগ্রাম শেষ হয়নি, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংগ্রাম শেষ হয়নি; ন্যায়, ইনসাফ ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এই কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, অসংখ্য মামলা এবং বিরোধী মত দমনের কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিহাসের এই অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় দেশে বারবার গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের লুটপাট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয় অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেই প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই অগ্রযাত্রা সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম এবং সমাজের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
৩০ দিন আগে