সাংবাদিক
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: হল প্রভোস্টকে অব্যাহতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিটসহ বিভিন্ন অভিযোগে আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে শহিদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য বলেন, ‘সাংবাদিকদের সেন্টিমেন্টের প্রতি আমরা সম্মান জানিয়ে জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছি। বাদ-বাকি বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
এ সময় আন্দোলনরত সাংবাদিকরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তারা ছয়টি দাবি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে হল প্রভোস্টকে অব্যাহতির দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন তিন দিন সময় চেয়েছে।
তারা আরও বলেন, ‘আমরা চাই, এই তিন দিনের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনরত সাংবাদিকরা। পরবর্তীতে হামলার গুরুত্বপূর্ণ ওই ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগও ওঠে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার সময় ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে হল প্রভোস্টের উপস্থিতি থাকলেও তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেননি। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রভোস্টকে অব্যাহতির দাবি জানান তারা।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হল প্রভোস্ট। তার দাবি, হলের সংস্কারকাজ চলায় সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং সেখানে কোনো ফুটেজ সংরক্ষিত ছিল না।
এর আগে গত রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলের সামনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা দেশীয় অস্ত্রের ছবি তুলতে থাকেন। ছবি ও সংবাদ সংগ্রহের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
১২ দিন আগে
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি এ ঘটনায় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গতকাল (রবিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে তারা শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা দেশীয় অস্ত্রের ছবি তুলতে থাকেন। ছবি ও সংবাদ সংগ্রহের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজকের (সোমবার) মধ্যে মামলা দায়েরের আশ্বাস দেওয়া হলে সাংবাদিকরা কর্মসূচি থেকে ফিরে যান।
হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই কাজে ক্যাম্পাস শাখা ছাত্রদল ও হল প্রাধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান জড়িত বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ার কথা। কিন্তু পরে ওই ফুটেজ আর পাওয়া যায়নি। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতেই ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদ জিয়াউর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সংস্কারকাজ চলমান থাকায় তখন সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সে জন্য কোনো ফুটেজ নেই। ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।’
অন্যদিকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. আবদুল আলীম বলেন, ‘তথ্যগুলো সংরক্ষিত আছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। ডকুমেন্টসের কোনো অভাব নেই। তদন্ত কমিটি যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করার সেখান থেকে করছে।’
অবশ্য সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ বা হল প্রাধ্যক্ষের দাবি অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
১৩ দিন আগে
সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
সাংবাদিকদের স্বার্থে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
রবিবার (৪ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে ভালো সাংবাদিকরা কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন এবং নতুন ভালো সাংবাদিক তৈরি হবে না।
তিনি আরও বলেন, ওয়েজ বোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অচলাবস্থা চলছে। নবম ওয়েজ বোর্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। দশম ওয়েজবোর্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের দাবির পাশাপাশি নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এ উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।
গণমাধ্যমের মালিকদের প্রতি সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান ইয়াসের খান। তিনি বলেন, সরকার ঘোষণা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তা বাস্তবায়ন না করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
এছাড়া সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে কারা সাংবাদিক হিসেবে বিবেচিত হবেন, সে বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বা সাংবাদিকদের লেখালেখি বন্ধ করার জন্য করা হচ্ছে না। জনগণকে নিরাপদ রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়রানি, অসত্য তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে মানুষকে ক্ষতির মুখে ফেলার ঘটনা মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। গণমাধ্যম কীভাবে চলবে সে বিষয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো লিখিতভাবে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, লিখিত প্রস্তাব পেলে সেগুলো বাস্তবায়ন ও পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণে সরকারের জন্য সুবিধা হবে।
মতবিনিময় সভায় ডিইউজে সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম। এ সময় ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন না করা পত্রিকা ও গণমাধ্যমগুলোকে সরকারি বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কঠোর ভূমিকার প্রত্যাশার কথা জানান ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ডিইউজের সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, দপ্তর সম্পাদক ইকবাল মজুমদার তৌহিদ, কল্যাণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন রাজ্জাক, প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিক লিটন, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ গাজী আনোয়ার, তালুকদার এ এইচ এম নুরুল মোমেনসহ আরও অনেকে।
১৪ দিন আগে
সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিতে কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজ বোর্ড ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আগের সভার মতামতের ভিত্তিতে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকরা যাতে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন এবং সাংবাদিক ছাড়া যাতে অন্যরা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, সে জন্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সংজ্ঞা সুস্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ইয়াসের খান চৌধুরী সাংবাদিকদের পেশাগত স্বীকৃতির জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দেন। এ ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের মতো কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শের আহ্বান করেন তিনি।
সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, একুশে টেলিভিশনের সিইও আবদুস সালাম, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিইও মোস্তফা আকমল, ডা. শাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, ইআরএফের সাবেক সভাপতি শারমিন রিনভী, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, দৈনিক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ইউএনবির ডেপুটি এডিটর ও বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুল হক, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামসহ আরও অনেকে।
এসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকরা যেন হয়রানির শিকার না হন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও বলেন, এই আইনের আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এবং গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রস্তাব করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনটির খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খসড়া সংশোধনী বিলটি এর আগে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী সাইবার পরিসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আইনটি যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে। খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষকসহ অনেকে মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত ইতোমধ্যে সংকলন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজকের (সোমবার) বৈঠকটি ছিল সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় দফার পরামর্শ সভা। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় সম্পাদকদের লিখিতভাবে অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতামত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি, চাই না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এই আইন অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না।’
সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।’
প্রস্তাবটি উপযুক্ত মনে হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যেসব সুপারিশ আসবে, সেগুলোর সঙ্গে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে নিশ্চয়তা দেন মন্ত্রী।
এছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে কোনো ব্যক্তি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঝুলে থাকবেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আরও সুপারিশ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ১৫ দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিদ্ধান্তের পর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তখনও সবাই মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। মতামত গ্রহণযোগ্য হলে সেগুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিধি অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে এবং পরে মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে বিল আকারে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সংসদে গেলেও বিলটি তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করবেন। সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম থেকে মতামত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যে আইনের মাধ্যমে আমরা সমাজের সর্বস্তরের লোকজনকে রক্ষা করতে পারব, বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করতে পারব।’
সাইবার স্পেসে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ করছে এবং যেসব কর্মকাণ্ড সমাজে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখান থেকে উত্তরণ প্রয়োজন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
২০ দিন আগে
সরকারের সমালোচনা করুন, তবে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক
সরকারের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করার পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিতে সাংবাদিকদের ইতিবাচক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। সেই সঙ্গে সরকারের যাত্রাপথে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য বলেছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবি ভবনে দ্য ডেইলি বাংলাদেশ ডায়েরির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সরকারের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করতে হবে। তবে সমালোচনার পাশাপাশি ইতিবাচক পরামর্শ দিতে হবে, যাতে সরকারের যাত্রাপথে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায়।
সাংবাদিকতা সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি ও সমাজের প্রতি সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিকদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা ছিল। সমাজের অনিয়ম ও ত্রুটি তুলে ধরে সমালোচনার মাধ্যমে তারা সমাজকে সঠিক পথে নিতে ভূমিকা রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আবদুস সালাম বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পার হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশ এখনও পৌঁছাতে পারেনি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৯ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন করে শুরু হয়েছে উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, এই যাত্রা যাতে ব্যাহত না হয় এবং দেশ আবার গণতন্ত্রের পথ থেকে ছিটকে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
দেশকে এগিয়ে নিতে ইতিবাচক সমালোচনা প্রয়োজন জানিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তবে সরকারের যাত্রাপথে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা উচিত নয়। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। কীভাবে এসব সমস্যার সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে সরকারকে ইতিবাচক পরামর্শ দিতে হবে।
ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবদুস সালাম জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় নগর ব্যবস্থাপনা অনেকটাই বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা, হকার ও জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। পুরান ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় পদ্ধতিগত উন্নয়ন হয়নি। অনেক ড্রেনও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা হারিয়েছে। ফলে ধানমন্ডি, নিউমার্কেট ও গ্রিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকাকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় যেতে না পারে। নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার রিকশা ঢাকায় প্রবেশ ঠেকানোর পাশাপাশি রিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তিন মাসের কর্মসূচি শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাড়ি, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশের ড্রেন পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন আবদুস সালাম।
এছাড়া তিনি জনসচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংবাদপত্রের মালিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সবাই মিলে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং ঢাকা একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত হবে।
৩৬ দিন আগে
ঢাকা ফ্ল্যাশের এডিটর-ইন-চিফ হলেন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ফরিদ হোসেন
অভিজ্ঞ সাংবাদিক ফরিদ হোসেন ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ঢাকা ফ্ল্যাশের এডিটর-ইন-চিফ হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
সাংবাদিকতায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞ ফরিদ হোসেন রাজনীতি, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বাংলাদেশ ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঢাকা ফ্ল্যাশে ফরিদ হোসেনের যোগদান প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং এডিটর জয়ন্ত কর্মকার বলেন, ‘তার মতো একজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ সাংবাদিককে আমাদের সঙ্গে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গন সম্পর্কে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গভীর জ্ঞান রয়েছে। তার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ঢাকা ফ্ল্যাশকে আরও পেশাদার, ভবিষ্যতমুখী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগের উপযোগী একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটি সুস্পষ্ট ডিজিটাল মিশন রয়েছে। ফরিদ হোসেনের অন্তর্ভুক্তি সেই লক্ষ্য ও স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করবে। পাঠক, দর্শক এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য খেলাধুলা, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ও বিনোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও মতামত তুলে ধরতে আমরা কাজ করছি।’
ফরিদ হোসেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি টাইম ম্যাগাজিন, কলকাতাভিত্তিক দ্য টেলিগ্রাফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
পাঁচ দশকের বেশি সময়ের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কাভার করেছেন। তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকতার দক্ষতা ঢাকা ফ্ল্যাশের সংবাদ, বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল কনটেন্টের মান আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঢাকা ফ্ল্যাশ একটি ঢাকাভিত্তিক ডিজিটাল মিডিয়া ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন প্ল্যাটফর্ম। সংবাদ, বিশ্লেষণ, খেলাধুলা, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বিনোদন ও সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি একটি পেশাদার, বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
৪৩ দিন আগে
সাংবাদিকদের পূর্ণ স্বাধীনতা ও মিডিয়ার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং সাংবাদিকরা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা পাবলিক হলে ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর অরিয়েন্টেশন ক্লাস এবং এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা রোধে পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখার কাজ চলছে।
এ সময় হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও আলাদা একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি জাতীয় বিষয়। হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পড়ালেখার সুবিধার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না, শিক্ষার্থীদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নৈতিকতার চর্চা করলেই প্রকৃত সাফল্য আসবে।
তিনি জানান, তৃণমূলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে মাঠের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে এবং অনলাইনে ও টিভিতে চীনা ও আরবি ভাষা শিক্ষার বিশেষ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী এবং জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।
অনুষ্ঠানে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপি নেতা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
৪৪ দিন আগে
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা
কুমিল্লায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি তানভীর দীপু ও স্টার নিউজের ব্যুরো প্রধান আবদুল্লাহ আল মারুফের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। একই সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা ও হয়রানির শিকার হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাংবাদিকদের ওপর হামলার সাহস না পায়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, সংবাদ সংস্থা ইউএনবির কুমিল্লা প্রতিনিধি খাইরুল আহসান মানিক, আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার গোলাম কিবরিয়া, আগামীর সময়ের কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি মীর শাহ আলম, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আকাইদ, অর্থ সম্পাদক শাহ আলম শফি, দপ্তর সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপস, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল্লাহ মিয়াজী, যমুনা টেলিভিশনের কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান খোকন চৌধুরী, বৈশাখী টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন, দৈনিক পূর্বাশার নির্বাহী সম্পাদক শহীদুল্লাহ, গোমতী সংবাদের সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন এবং টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি জাহিদুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
এ সময় সাংবাদিক নেতারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা হলে সাংবাদিক সমাজ তা মেনে নেবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাওয়ার পথে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা এলাকায় হামলার শিকার হন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি তানভীর দীপু ও স্টার নিউজের ব্যুরো প্রধান আবদুল্লাহ আল মারুফ।
এ ঘটনার পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শাওনকে গ্রেপ্তার করে।
৫২ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিক কারাগারে
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
তিন সাংবাদিক হলেন: জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।
শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলেছিলেন শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
৫৫ দিন আগে