সাংবাদিক
সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিতে কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজ বোর্ড ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আগের সভার মতামতের ভিত্তিতে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকরা যাতে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন এবং সাংবাদিক ছাড়া যাতে অন্যরা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, সে জন্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সংজ্ঞা সুস্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ইয়াসের খান চৌধুরী সাংবাদিকদের পেশাগত স্বীকৃতির জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দেন। এ ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের মতো কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শের আহ্বান করেন তিনি।
সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, একুশে টেলিভিশনের সিইও আবদুস সালাম, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিইও মোস্তফা আকমল, ডা. শাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, ইআরএফের সাবেক সভাপতি শারমিন রিনভী, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, দৈনিক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ইউএনবির ডেপুটি এডিটর ও বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুল হক, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামসহ আরও অনেকে।
এসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে
সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকরা যেন হয়রানির শিকার না হন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও বলেন, এই আইনের আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এবং গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রস্তাব করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনটির খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খসড়া সংশোধনী বিলটি এর আগে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী সাইবার পরিসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আইনটি যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে। খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষকসহ অনেকে মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত ইতোমধ্যে সংকলন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজকের (সোমবার) বৈঠকটি ছিল সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় দফার পরামর্শ সভা। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় সম্পাদকদের লিখিতভাবে অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতামত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি, চাই না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এই আইন অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না।’
সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।’
প্রস্তাবটি উপযুক্ত মনে হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যেসব সুপারিশ আসবে, সেগুলোর সঙ্গে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে নিশ্চয়তা দেন মন্ত্রী।
এছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে কোনো ব্যক্তি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঝুলে থাকবেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আরও সুপারিশ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ১৫ দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিদ্ধান্তের পর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তখনও সবাই মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। মতামত গ্রহণযোগ্য হলে সেগুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিধি অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে এবং পরে মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে বিল আকারে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সংসদে গেলেও বিলটি তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করবেন। সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম থেকে মতামত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যে আইনের মাধ্যমে আমরা সমাজের সর্বস্তরের লোকজনকে রক্ষা করতে পারব, বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করতে পারব।’
সাইবার স্পেসে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ করছে এবং যেসব কর্মকাণ্ড সমাজে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখান থেকে উত্তরণ প্রয়োজন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
৪ ঘণ্টা আগে
সরকারের সমালোচনা করুন, তবে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক
সরকারের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করার পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিতে সাংবাদিকদের ইতিবাচক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। সেই সঙ্গে সরকারের যাত্রাপথে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য বলেছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবি ভবনে দ্য ডেইলি বাংলাদেশ ডায়েরির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সরকারের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করতে হবে। তবে সমালোচনার পাশাপাশি ইতিবাচক পরামর্শ দিতে হবে, যাতে সরকারের যাত্রাপথে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায়।
সাংবাদিকতা সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি ও সমাজের প্রতি সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিকদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা ছিল। সমাজের অনিয়ম ও ত্রুটি তুলে ধরে সমালোচনার মাধ্যমে তারা সমাজকে সঠিক পথে নিতে ভূমিকা রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আবদুস সালাম বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পার হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশ এখনও পৌঁছাতে পারেনি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৯ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন করে শুরু হয়েছে উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, এই যাত্রা যাতে ব্যাহত না হয় এবং দেশ আবার গণতন্ত্রের পথ থেকে ছিটকে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
দেশকে এগিয়ে নিতে ইতিবাচক সমালোচনা প্রয়োজন জানিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তবে সরকারের যাত্রাপথে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা উচিত নয়। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। কীভাবে এসব সমস্যার সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে সরকারকে ইতিবাচক পরামর্শ দিতে হবে।
ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবদুস সালাম জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় নগর ব্যবস্থাপনা অনেকটাই বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা, হকার ও জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। পুরান ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় পদ্ধতিগত উন্নয়ন হয়নি। অনেক ড্রেনও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা হারিয়েছে। ফলে ধানমন্ডি, নিউমার্কেট ও গ্রিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকাকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় যেতে না পারে। নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার রিকশা ঢাকায় প্রবেশ ঠেকানোর পাশাপাশি রিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তিন মাসের কর্মসূচি শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাড়ি, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশের ড্রেন পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন আবদুস সালাম।
এছাড়া তিনি জনসচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংবাদপত্রের মালিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সবাই মিলে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং ঢাকা একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত হবে।
১৬ দিন আগে
ঢাকা ফ্ল্যাশের এডিটর-ইন-চিফ হলেন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ফরিদ হোসেন
অভিজ্ঞ সাংবাদিক ফরিদ হোসেন ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ঢাকা ফ্ল্যাশের এডিটর-ইন-চিফ হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
সাংবাদিকতায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞ ফরিদ হোসেন রাজনীতি, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বাংলাদেশ ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঢাকা ফ্ল্যাশে ফরিদ হোসেনের যোগদান প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং এডিটর জয়ন্ত কর্মকার বলেন, ‘তার মতো একজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ সাংবাদিককে আমাদের সঙ্গে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গন সম্পর্কে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গভীর জ্ঞান রয়েছে। তার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ঢাকা ফ্ল্যাশকে আরও পেশাদার, ভবিষ্যতমুখী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগের উপযোগী একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটি সুস্পষ্ট ডিজিটাল মিশন রয়েছে। ফরিদ হোসেনের অন্তর্ভুক্তি সেই লক্ষ্য ও স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করবে। পাঠক, দর্শক এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য খেলাধুলা, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ও বিনোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও মতামত তুলে ধরতে আমরা কাজ করছি।’
ফরিদ হোসেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি টাইম ম্যাগাজিন, কলকাতাভিত্তিক দ্য টেলিগ্রাফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
পাঁচ দশকের বেশি সময়ের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কাভার করেছেন। তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকতার দক্ষতা ঢাকা ফ্ল্যাশের সংবাদ, বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল কনটেন্টের মান আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঢাকা ফ্ল্যাশ একটি ঢাকাভিত্তিক ডিজিটাল মিডিয়া ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন প্ল্যাটফর্ম। সংবাদ, বিশ্লেষণ, খেলাধুলা, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বিনোদন ও সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি একটি পেশাদার, বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
২৩ দিন আগে
সাংবাদিকদের পূর্ণ স্বাধীনতা ও মিডিয়ার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং সাংবাদিকরা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা পাবলিক হলে ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর অরিয়েন্টেশন ক্লাস এবং এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা রোধে পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখার কাজ চলছে।
এ সময় হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও আলাদা একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি জাতীয় বিষয়। হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পড়ালেখার সুবিধার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না, শিক্ষার্থীদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নৈতিকতার চর্চা করলেই প্রকৃত সাফল্য আসবে।
তিনি জানান, তৃণমূলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে মাঠের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে এবং অনলাইনে ও টিভিতে চীনা ও আরবি ভাষা শিক্ষার বিশেষ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী এবং জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।
অনুষ্ঠানে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপি নেতা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা
কুমিল্লায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি তানভীর দীপু ও স্টার নিউজের ব্যুরো প্রধান আবদুল্লাহ আল মারুফের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। একই সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা ও হয়রানির শিকার হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাংবাদিকদের ওপর হামলার সাহস না পায়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, সংবাদ সংস্থা ইউএনবির কুমিল্লা প্রতিনিধি খাইরুল আহসান মানিক, আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার গোলাম কিবরিয়া, আগামীর সময়ের কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি মীর শাহ আলম, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আকাইদ, অর্থ সম্পাদক শাহ আলম শফি, দপ্তর সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপস, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল্লাহ মিয়াজী, যমুনা টেলিভিশনের কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান খোকন চৌধুরী, বৈশাখী টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন, দৈনিক পূর্বাশার নির্বাহী সম্পাদক শহীদুল্লাহ, গোমতী সংবাদের সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন এবং টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি জাহিদুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
এ সময় সাংবাদিক নেতারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা হলে সাংবাদিক সমাজ তা মেনে নেবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাওয়ার পথে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা এলাকায় হামলার শিকার হন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি তানভীর দীপু ও স্টার নিউজের ব্যুরো প্রধান আবদুল্লাহ আল মারুফ।
এ ঘটনার পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শাওনকে গ্রেপ্তার করে।
৩২ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিক কারাগারে
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
তিন সাংবাদিক হলেন: জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।
শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলেছিলেন শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
৩৫ দিন আগে
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: স্ত্রী-সন্তান, শ্বশুরসহ পুড়ে মরলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক
ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিকসহ তার পরিবারের চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত (৩) ও দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলি (৬৪)।
দেবাশীষ দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট এলাকায়। তার শ্বশুরবাড়ি থানাপাড়া এলাকায়।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেবাশীষ দত্ত ওই পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানান তিনি।
নিহতদের পরিবার জানায়, গত ৩ আগস্ট অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য দেবাশীষ দত্ত ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। দেবাশীষের আট বছর বয়সী অপর একটি কন্যাসন্তান ও বাবা-মা রয়েছেন।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের মিশন ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে যোগাযোগ করেছে। নিহতদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কলকাতার মিশন কাজ করছে।
মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ সরকার বহন করবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতরা শ্রমিক বা প্রবাসী কল্যাণের আওতাভুক্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবস্থা হয়তো এখানে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। তবে নিহতদের পরিবার যদি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করতে না পারে, তাহলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি দেখবে।
৪০ দিন আগে
আইডি কার্ড না ঝুলানোয় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, এসআই ক্লোজড
সাংবাদিকের পরিচয় ও ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও ‘আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে’ থানায় না ঢোকায় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে রংপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিহার রঞ্জনকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে তাকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠালে সেখান থেকে তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে, সেদিন দুপুরে কোতোয়ালি থানায় কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক রেজওয়ান রনি বলেন, গতকাল (সোমবার) বিকেলে চুরির অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে থানায় ডেকে আনেন এসআই নিহার রঞ্জন। থানায় নেওয়ার পর জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করছেন এমন তথ্য জানার পর আমরা থানায় যাই। থানায় গিয়ে ওই এসআইকে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি আমাকে বসতে বলেন। কিন্তু অভিযুক্তকে গালাগালি ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই এসআই আমার আইডি কার্ড দেখতে চান। এ সময় তাকে ভিজিটিং কার্ড দিলেও তিনি তা দেখেননি। পরে ওসি আমাকে চেনেন এবং তার সঙ্গে কথা বলতে বললে এসআই বলেন, ‘ওসি, কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই আমার।’
রেজওয়ান রনি আরও বলেন, ‘থানায় আসা সাংবাদিকদের সবাইকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে হয়’—এ কথা জানিয়ে তিনি চিল্লাতে চিল্লাতে আমাকে সেখান থেকে বের করে দেন এবং থানায় আইডি কার্ড নিয়ে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি আমার সহকর্মীদের জানিয়ে থানায় ডেকে নিই। তারা এলে ওই পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গেও উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে তার কক্ষ থেকে বের করে দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৈনিক খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকার বলেন, অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে থানায় এনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন এসআই নিহার। এ বিষয়ে জানতে থানায় গেলে পরিচয়ের জন্য রনি তার ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও তাকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে থানায় প্রবেশ করতে বলেন। এরপর অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থানার ভেতরের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, ‘সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হলে সেখান থেকে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। আর থানা সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে কার্ড ঝুলিয়ে আসতে হবে না।’
৪১ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে হামলার মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মো. গোলাম মুক্তাদীরকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মো. গোলাম মুক্তাদীর রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি গোলাম মুক্তাদীর। গতকাল (রবিবার) বিকেলে উপজেলার ধানগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন নামে আরও এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারের আটচালায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠান শেষে চান্দাইকোনা ফিরছিলেন এমপি আইনুল হক। এ সময় ধানগড়া বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীরা এমপির গাড়িবহরে হামলা চালায় এবং গাড়িটি ঘিরে ধরে লাঠিসোঁটা নিয়ে আঘাত করে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ওই গাড়িটির পেছনের কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা এমপি আইনুল হকসহ একাধিক নেতা আহত হন।
সে সময় ওই গাড়িতে থাকা ফয়সাল বিশ্বাস নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে ওই হামলার ঘটনা সরাসরি প্রচার করেন।
এদিকে, এমন পরিস্থিতির মধ্যে এমপিকে উদ্ধার করে গ্রামের বাড়ি চান্দাইকোনায় নিয়ে আসা হয়। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে চান্দাইকোনা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়। এ নিয়ে রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধানগড়া ও চান্দাইকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। ওই দিন রাতেই পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান ও অনান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে শনিবার গভীর রাতে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শামিমুল হাসান খন্দকার বাদী হয়ে থানায় উল্লেখিত মামলা করেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, চান্দাইকোনায় রায়গঞ্জ ট্রেকনিকাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি আসার বিষয়টা জানতে পেরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে পৌরসভা ও চান্দাইকোনাবাসী পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বিষয়টি নিরসনের জন্য গত শনিবার পৌর বিএনপির সভাপতির নেতৃত্বে একটি সভার আয়োজন করা হয় এবং ওই সভায় এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্র সমন্বয়ক ফয়সাল বিশ্বাস ও ছাত্র সমন্বয়ক তমালের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কমিটি গঠন করার কথা বলে ফয়সাল বিশ্বাসকে এমপির গাড়িতে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় ধানগড়ার উত্তেজিত জনগণ এমপির গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনগণ দুই-চারটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙে গেছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
৪২ দিন আগে