সাংবাদিক
ঢাকা ফ্ল্যাশের এডিটর-ইন-চিফ হলেন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ফরিদ হোসেন
অভিজ্ঞ সাংবাদিক ফরিদ হোসেন ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ঢাকা ফ্ল্যাশের এডিটর-ইন-চিফ হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
সাংবাদিকতায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞ ফরিদ হোসেন রাজনীতি, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বাংলাদেশ ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঢাকা ফ্ল্যাশে ফরিদ হোসেনের যোগদান প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং এডিটর জয়ন্ত কর্মকার বলেন, ‘তার মতো একজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ সাংবাদিককে আমাদের সঙ্গে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গন সম্পর্কে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গভীর জ্ঞান রয়েছে। তার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ঢাকা ফ্ল্যাশকে আরও পেশাদার, ভবিষ্যতমুখী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগের উপযোগী একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটি সুস্পষ্ট ডিজিটাল মিশন রয়েছে। ফরিদ হোসেনের অন্তর্ভুক্তি সেই লক্ষ্য ও স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করবে। পাঠক, দর্শক এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য খেলাধুলা, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ও বিনোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও মতামত তুলে ধরতে আমরা কাজ করছি।’
ফরিদ হোসেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি টাইম ম্যাগাজিন, কলকাতাভিত্তিক দ্য টেলিগ্রাফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
পাঁচ দশকের বেশি সময়ের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কাভার করেছেন। তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকতার দক্ষতা ঢাকা ফ্ল্যাশের সংবাদ, বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল কনটেন্টের মান আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঢাকা ফ্ল্যাশ একটি ঢাকাভিত্তিক ডিজিটাল মিডিয়া ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন প্ল্যাটফর্ম। সংবাদ, বিশ্লেষণ, খেলাধুলা, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বিনোদন ও সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি একটি পেশাদার, বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
২ দিন আগে
সাংবাদিকদের পূর্ণ স্বাধীনতা ও মিডিয়ার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং সাংবাদিকরা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা পাবলিক হলে ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর অরিয়েন্টেশন ক্লাস এবং এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও অপসাংবাদিকতা রোধে পেশাগত মানদণ্ড বজায় রাখার কাজ চলছে।
এ সময় হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও আলাদা একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি জাতীয় বিষয়। হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পড়ালেখার সুবিধার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না, শিক্ষার্থীদের মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নৈতিকতার চর্চা করলেই প্রকৃত সাফল্য আসবে।
তিনি জানান, তৃণমূলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে মাঠের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে এবং অনলাইনে ও টিভিতে চীনা ও আরবি ভাষা শিক্ষার বিশেষ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী এবং জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।
অনুষ্ঠানে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপি নেতা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা
কুমিল্লায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি তানভীর দীপু ও স্টার নিউজের ব্যুরো প্রধান আবদুল্লাহ আল মারুফের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। একই সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা ও হয়রানির শিকার হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাংবাদিকদের ওপর হামলার সাহস না পায়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, সংবাদ সংস্থা ইউএনবির কুমিল্লা প্রতিনিধি খাইরুল আহসান মানিক, আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার গোলাম কিবরিয়া, আগামীর সময়ের কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি মীর শাহ আলম, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আকাইদ, অর্থ সম্পাদক শাহ আলম শফি, দপ্তর সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপস, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল্লাহ মিয়াজী, যমুনা টেলিভিশনের কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান খোকন চৌধুরী, বৈশাখী টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন, দৈনিক পূর্বাশার নির্বাহী সম্পাদক শহীদুল্লাহ, গোমতী সংবাদের সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন এবং টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি জাহিদুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
এ সময় সাংবাদিক নেতারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা হলে সাংবাদিক সমাজ তা মেনে নেবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাওয়ার পথে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা এলাকায় হামলার শিকার হন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি তানভীর দীপু ও স্টার নিউজের ব্যুরো প্রধান আবদুল্লাহ আল মারুফ।
এ ঘটনার পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শাওনকে গ্রেপ্তার করে।
১২ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিক কারাগারে
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
তিন সাংবাদিক হলেন: জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।
শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলেছিলেন শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
১৫ দিন আগে
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: স্ত্রী-সন্তান, শ্বশুরসহ পুড়ে মরলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক
ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিকসহ তার পরিবারের চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত (৩) ও দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলি (৬৪)।
দেবাশীষ দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট এলাকায়। তার শ্বশুরবাড়ি থানাপাড়া এলাকায়।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেবাশীষ দত্ত ওই পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানান তিনি।
নিহতদের পরিবার জানায়, গত ৩ আগস্ট অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য দেবাশীষ দত্ত ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। দেবাশীষের আট বছর বয়সী অপর একটি কন্যাসন্তান ও বাবা-মা রয়েছেন।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের মিশন ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে যোগাযোগ করেছে। নিহতদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কলকাতার মিশন কাজ করছে।
মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ সরকার বহন করবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতরা শ্রমিক বা প্রবাসী কল্যাণের আওতাভুক্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবস্থা হয়তো এখানে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। তবে নিহতদের পরিবার যদি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করতে না পারে, তাহলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি দেখবে।
২০ দিন আগে
আইডি কার্ড না ঝুলানোয় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, এসআই ক্লোজড
সাংবাদিকের পরিচয় ও ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও ‘আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে’ থানায় না ঢোকায় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে রংপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিহার রঞ্জনকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে তাকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠালে সেখান থেকে তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে, সেদিন দুপুরে কোতোয়ালি থানায় কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক রেজওয়ান রনি বলেন, গতকাল (সোমবার) বিকেলে চুরির অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে থানায় ডেকে আনেন এসআই নিহার রঞ্জন। থানায় নেওয়ার পর জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করছেন এমন তথ্য জানার পর আমরা থানায় যাই। থানায় গিয়ে ওই এসআইকে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি আমাকে বসতে বলেন। কিন্তু অভিযুক্তকে গালাগালি ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই এসআই আমার আইডি কার্ড দেখতে চান। এ সময় তাকে ভিজিটিং কার্ড দিলেও তিনি তা দেখেননি। পরে ওসি আমাকে চেনেন এবং তার সঙ্গে কথা বলতে বললে এসআই বলেন, ‘ওসি, কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই আমার।’
রেজওয়ান রনি আরও বলেন, ‘থানায় আসা সাংবাদিকদের সবাইকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে হয়’—এ কথা জানিয়ে তিনি চিল্লাতে চিল্লাতে আমাকে সেখান থেকে বের করে দেন এবং থানায় আইডি কার্ড নিয়ে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি আমার সহকর্মীদের জানিয়ে থানায় ডেকে নিই। তারা এলে ওই পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গেও উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে তার কক্ষ থেকে বের করে দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৈনিক খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকার বলেন, অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে থানায় এনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন এসআই নিহার। এ বিষয়ে জানতে থানায় গেলে পরিচয়ের জন্য রনি তার ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পরও তাকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে থানায় প্রবেশ করতে বলেন। এরপর অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থানার ভেতরের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, ‘সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হলে সেখান থেকে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। আর থানা সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে কার্ড ঝুলিয়ে আসতে হবে না।’
২১ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে হামলার মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মো. গোলাম মুক্তাদীরকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মো. গোলাম মুক্তাদীর রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি গোলাম মুক্তাদীর। গতকাল (রবিবার) বিকেলে উপজেলার ধানগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন নামে আরও এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারের আটচালায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠান শেষে চান্দাইকোনা ফিরছিলেন এমপি আইনুল হক। এ সময় ধানগড়া বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীরা এমপির গাড়িবহরে হামলা চালায় এবং গাড়িটি ঘিরে ধরে লাঠিসোঁটা নিয়ে আঘাত করে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ওই গাড়িটির পেছনের কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা এমপি আইনুল হকসহ একাধিক নেতা আহত হন।
সে সময় ওই গাড়িতে থাকা ফয়সাল বিশ্বাস নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে ওই হামলার ঘটনা সরাসরি প্রচার করেন।
এদিকে, এমন পরিস্থিতির মধ্যে এমপিকে উদ্ধার করে গ্রামের বাড়ি চান্দাইকোনায় নিয়ে আসা হয়। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে চান্দাইকোনা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়। এ নিয়ে রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধানগড়া ও চান্দাইকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। ওই দিন রাতেই পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান ও অনান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে শনিবার গভীর রাতে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শামিমুল হাসান খন্দকার বাদী হয়ে থানায় উল্লেখিত মামলা করেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, চান্দাইকোনায় রায়গঞ্জ ট্রেকনিকাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি আসার বিষয়টা জানতে পেরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে পৌরসভা ও চান্দাইকোনাবাসী পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বিষয়টি নিরসনের জন্য গত শনিবার পৌর বিএনপির সভাপতির নেতৃত্বে একটি সভার আয়োজন করা হয় এবং ওই সভায় এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্র সমন্বয়ক ফয়সাল বিশ্বাস ও ছাত্র সমন্বয়ক তমালের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কমিটি গঠন করার কথা বলে ফয়সাল বিশ্বাসকে এমপির গাড়িতে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় ধানগড়ার উত্তেজিত জনগণ এমপির গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনগণ দুই-চারটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙে গেছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
২১ দিন আগে
নাটোরে সাংবাদিকদের মারধর: ৩ ছাত্রদলকর্মীকে বহিষ্কার
নাটোরের লালপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের মারধর করায় তিন ছাত্রদলকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত ছাত্রদলকর্মীরা হলেন: জাহিদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও মামুন আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের ঘটনায় সরকারি দলের কর্মীরা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে। ঘটনাটি কাভারেজের সময় এনটিভি অনলাইনের নাটোর প্রতিনিধি সজিবুর ইসলামসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে মারধর করেন ছাত্রদলকর্মীরা।
একই ঘটনা ঘটে বাগাতিপাড়া উপজেলাতেও। তবে সেখানে এখনও দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলার সাংবাদিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। ইতোমধ্যেই দুই উপজেলার তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকা বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
২৪ দিন আগে
সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বেঞ্চের বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)। দাবি বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এলআরএফ আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি জানিয়ে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, গত ৭ জানুয়ারি থেকে আপিল বিভাগসহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিচারাধীন মামলার কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং নির্ভরযোগ্যভাবে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা পেশাগতভাবে বাধার মুখে পড়ছেন।
আদালতের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ না থাকায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, উন্মুক্ত বিচারব্যবস্থা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্নার সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ও আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের সভাপতি শাফি উদ্দীন আহমদ, রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির সভাপতি কাজী জেবেল, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি এম বদি উজ-জামান, আশুতোষ সরকার ও শামীমা আক্তার প্রমুখ।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই সময়ে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে জানানোর কথা। অথচ বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব জনগণকে তথ্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার যখন আদালত বা বিচার বিভাগের টুঁটি চেপে ধরেছে, তখন সংবাদমাধ্যম বিচার বিভাগের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। সেই সংবাদমাধ্যম যখন তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের বাধার মুখে পড়ে, তখন বিচার বিভাগের নেতৃত্বের গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
নূরুল কবীর বলেন, প্রকাশ্য আদালতে বিচার করা বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, সেই বিচার বিভাগই যদি মানুষের তথ্য জানার অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনো অবস্থাতেই সংবিধানের প্রকাশ্য আদালতে বিচার পরিচালনার নির্দেশনা লঙ্ঘন করে নিজেদের সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করবেন না—এটাই সম্পাদক পরিষদের প্রত্যাশা। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ চেয়েও পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের ভুল হতে পারে। বিচারকরাও ভুল করেন বলেই বিচারব্যবস্থায় আপিলের ব্যবস্থা রয়েছে। গণমাধ্যমে ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগও রয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অভিভাবকেরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস জেনেশুনে একটি সিদ্ধান্ত বহাল রাখবেন, এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো বাস্তব সমস্যা থাকলে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান সম্ভব বলে মনে করে নূরুল কবীর। সর্বোচ্চ আদালতের কর্তৃপক্ষ যেন সাংবাদিকদের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দিকে ঠেলে না দেয়, সে আহ্বানও জানান তিনি।
এলআরএফের সাবেক সভাপতি সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘আজকের এই কর্মসূচি জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য। গত সাত মাস ধরে আদালতে প্রবেশ বন্ধ। এতে আমাদের পেশাগত কাজ বন্ধ নেই। রুটি-রুজিরও প্রশ্ন নেই। তবে সংবিধানে জনগণের তথ্য জানার যে অধিকার দিয়েছে, সেটা আমরা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারছি না।’
তিনি বলেন, সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদে বলা আছে বিচার হবে প্রকাশ্য আদালতে। অথচ সাংবাদিকদের আদালত থেকে বের করে দিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জনগণকে বিচার বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে জানার অধিকার দিতে হবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, মানুষ যখন অধিকারবঞ্চিত ও অন্যায়ের শিকার হয়, তখন সর্বশেষ আস্থার জায়গা হিসেবে আদালতে যায়। কিন্তু আদালতই যখন মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তখন মানুষ কোথায় যাবে?
তিনি বলেন, আজকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যদি অধিকার প্রতিষ্ঠা না হয়, তাহলে সাংবাদিকরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।
তথ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত হবে না।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো কী এমন বিষয় রয়েছে, যা জাতি জানতে পারবে না—এ প্রশ্নের জবাব প্রধান বিচারপতিকে দিতে হবে।
এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট আমলে আদালতে ফরমায়েশি রায় হয়েছে এবং সেই রায়ের ভিত্তিতে অনেকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা বাক্স্বাধীনতা ও লেখার স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করেছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সরকারকে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন আবু সালেহ আকন। অন্যথায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো এলআরএফের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামবে বলে জানান তিনি।
এলআরএফের সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দাবি মানা না হলে শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন এলআরএফের সাবেক সভাপতি সাঈদ আহমেদ খান, ওয়াকিল আহমেদ হরিন, মাশহুদুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, হাবিবুর রহমান, মনিরুজ্জামান মশিন, সিনিয়র সদস্য শংকর মৈত্র, সাজেদুল হক, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি আবু সালেহ রনি, যুগ্ম সম্পাদক তানভীর আহমেদ, অর্থ সম্পাদক মনজুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল বাশার, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু, কার্যনির্বাহী সদস্য আসাদুর রহমান, ইলিয়াস সরকার, এস এম নূর মোহাম্মদ, রেজাউল করিম প্রমুখ।
এলআরএফের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব), রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র্যাক) এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নেতারাসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের দুই শতাধিক সাংবাদিক এতে অংশ নেন।
২৭ দিন আগে
বাংলাদেশ প্রতিদিনের ২২ সাংবাদিককে পুনর্বহালের দাবি ডিআরইউর
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে ২২ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, ইতিবাচক উদ্যোগ না নিলে সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের প্রতি এ ধরনের আকস্মিক ও গণহারে চাকরিচ্যুতি শুধু অমানবিকই নয়, এটি শ্রম আইন, পেশাগত মর্যাদা এবং গণমাধ্যমের কর্মপরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।
তারা বলেন, চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের অধিকাংশই বাংলাদেশ প্রতিদিনে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত ছিলেন। আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করেই তাদের চাকরিচ্যুত করায় অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমে এমন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
ডিআরইউ নেতারা আরও বলেন, সংগঠনটির কাছে এমন তথ্য এসেছে যে, দীর্ঘদিন কর্মরত সাংবাদিকদের সরিয়ে নতুন করে জনবল বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সত্য হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত স্থিতিশীলতা এবং কর্মপরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের অবদান, শ্রম অধিকার ও পেশাগত মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ডিআরইউ জানায়, অন্যথায় সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনটি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
একই সঙ্গে দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার, পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সাংবাদিকদের স্বার্থ, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ডিআরইউ সবসময় সোচ্চার ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। গণমাধ্যমকর্মীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত উপায়ে তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
৩৪ দিন আগে