ওসমান হাদি
ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাটের দলিল হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা
শহিদ শরীফ ওসমান হাদির পরিবারকে একটি ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরীফ ওসমান হাদির স্ত্রী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষর মাধ্যমে রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় ওই তৈরি ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
শাহবাগে পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চের ফের সংঘর্ষ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে অবরোধে নামা নেতা-কর্মীদের কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের বাধা উপেক্ষা অনেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করতে চাইলে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এতে কয়েকজন আহত হন।
এরপর রাত ৮টার দিকে শাহবাগ মোড়ের আশপাশ থেকে অবরোধকারীরা ফের জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।
কাঁদুনে গ্যাসের কারণে এ দফাতেও ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু তারা আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন।
এর আগে, হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আজ (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যমুনা অভিমুখে রওনা হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে তার ফেইসবুক পেইজ থেকে এক পোস্টে লেখা হয়। পরে তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। তাদের অবরোধে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ শুরু করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হন।’
ঢামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, এই ঘটনায় জাবেরসহ অন্তত ৭৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে আহতদের কেউ গুলিবিদ্ধ হননি।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, হাদির স্ত্রী এবং বেশ কিছু নেতা-কর্মী অংশ নেন।
৭ দিন আগে
ইনকিলাব মঞ্চ-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৪০
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সংগঠনটির আন্দোলনরত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছে— ফাতিমা তাসনিম ঝুমা, মনির, ফয়সাল, জয়, জুলকার, মোশাররফ, নিলয়, অনিক, ওমর, রাহাত, রাসেল, আহাদ, মাহিন, আজাদ, শামীম, সোহেল, শাওন ও শামীমসহ অনেকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ শুরু করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হন।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে কেউ গুলিবিদ্ধ নয়।’
গতকাল (বৃহস্পতিবার) শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, হাদির স্ত্রী এবং বেশ কিছু নেতা-কর্মী অংশ নেন।
হাদি হত্যার পর থেকে ইনকিলাব মঞ্চ ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে এবং এর বিচার দাবি করে আসছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
৮ দিন আগে
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে শাহবাগ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা অবস্থান নেয় এবং বিভিন্ন স্লোগানে প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলে।
বিক্ষোভ চলাকালে ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘লাল-সবুজের পতাকায়, হাদি তোমায় দেখা যায়’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘তুমি কে, আমি কে—হাদি, হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’ ইত্যাদি নানা ধরনের শ্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, গতকাল শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পর্যালোচনার শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা তা বুঝি। রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের লুকানোর কোনো পথ নেই।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে না।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
২৯ দিন আগে
হাদি হত্যা মামলা: ফয়সালের ৫৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ৫৩টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক আব্দুল লতিফ এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং বিষয়ক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
অনুসন্ধানকালে মো. ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির নামে এসব হিসাব বিশ্লেষণে যথেষ্ট সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেছে।
এছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থ জোগান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারামতে সম্পৃক্ত অপরাধ।
এমতাবস্থায় এসব হিসাব মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর ১৪ ধারার বিধানমতে অবরুদ্ধকরণ এবং একই আইনের ১৭(২) ধারার বিধান মোতাবেক হিসাবগুলোতে স্থিত সমুদয় অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায়, অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই হিসাবগুলোতে স্থিত অর্থ বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ ১৭ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের মধ্যে ১১ জন গ্রেপ্তার আছেন।
গ্রেপ্তার থাকা ১১ জন হলেন— ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিলর বাপ্পির ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ মো. ফয়সাল।
এছাড়া তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর, ভারতে পাচারের সহায়তাকারী ফিলিপ, ফয়সলের বোন জেসমিন এবং তার স্বামী মুফতি মাহমুদ পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ আদায় করে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন ওসমান হাদি।
এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
৩৮ দিন আগে
সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশে হাদিকে হত্যা করা হয়: ডিবি প্রধান
মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা শেষে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে তিনি এ তথ্য জানান।
চার্জশিটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল করিমসহ মোট ১৭ জনের অভিযোগ প্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। চার্জশিট দেওয়া ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার এবং ৫ জন পলাতক রয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে হত্যা করা হয় বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের কথিত ভিডিওবার্তা নিয়ে এ সময় ডিবিপ্রধান বলেন, ভিডিও বার্তা দিতেই পারে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে অবশ্যই দাখিল করা হবে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে এ কথা তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ তারিখের (জানুয়ারি) মধ্যে অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আমরা দিয়ে দেব। এটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।
সেদিন সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এরই মধ্যে হাদি হত্যা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
৩৯ দিন আগে
‘হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট প্রস্তুত, ৭ জানুয়ারির মধ্যে দাখিল’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে অবশ্যই দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ তারিখের (৭ জানুয়ারি) মধ্যে অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আমরা দিয়ে দেব। এটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।’
এর আগে, এই মামলার বিচার নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বিচার এমন একটি বিষয়, যেটি নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই। তবে অবশ্যই আমরা তাদের (আসামি) ফেরত আনার চেষ্টা করছি।’
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে শনিবার (৩ জানুয়ারি) উপদেষ্টা বলেন, ‘এখনো শতভাগ নিশ্চিতভাবে আমরা বলতে পারছি না। অন্তত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে এখনো নিশ্চিত করে বলা হয়নি যে জড়িতরা নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় অবস্থান করছেন।
‘ইন্টারোগেশন (জেরা) থেকে আমরা কিছু ইঙ্গিত পেয়েছি যে, তারা সম্ভবত সীমান্ত পার হয়ে গেছে। যদি আমরা খুব সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারি, তাহলে ভারতকে বলতে পারব যে অমুক জায়গায় তিনি আছেন, তাকে ধরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হোক।’
তিনি বলেন, ‘এমনিতেই ভারতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে। দেখা যাক, এ ব্যাপারে আমরা কতটা অগ্রগতি করতে পারি।’
৪০ দিন আগে
হাদি হত্যার বিচার নিয়ে তাড়াহুড়া নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘বিচার এমন একটি বিষয়, যেটি নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই। তবে অবশ্যই আমরা তাদের (আসামি) ফেরত আনার চেষ্টা করছি।’
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখনো শতভাগ নিশ্চিতভাবে আমরা বলতে পারছি না। অন্তত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে এখনো নিশ্চিত করে বলা হয়নি যে জড়িতরা নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় অবস্থান করছেন।
‘ইন্টারোগেশন (জেরা) থেকে আমরা কিছু ইঙ্গিত পেয়েছি যে, তারা সম্ভবত সীমান্ত পার হয়ে গেছে। যদি আমরা খুব সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারি, তাহলে ভারতকে বলতে পারব যে অমুক জায়গায় তিনি আছেন, তাকে ধরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হোক।’
তিনি বলেন, ‘এমনিতেই ভারতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে। দেখা যাক, এ ব্যাপারে আমরা কতটা অগ্রগতি করতে পারি।’
এই মামলার বিচার কতদিনে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বিচারের ক্ষেত্রে কখনোই সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায় না যে এত দিনের মধ্যেই শেষ হবে। এটি সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। তবে আপনারা জানেন, ইতোমধ্যেই চার্জশিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চার্জশিট বিচারব্যবস্থার প্রাথমিক ধাপ যা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এবং পুলিশই তা করবে। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক চেষ্টা থাকবে যেন যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবে আদালত, সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে।’
এ সময় নির্বাচন নিয়ে বাইরের কোনো চাপ রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা রয়েছে এবং মোটের ওপর বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। চাপের কোনো প্রশ্নই নেই।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা নিজেরাই নির্বাচন করতে চাইছি। সেক্ষেত্রে বাইরের কোনো চাপের প্রয়োজন নেই। এই সরকার চায়, যত দ্রুত সম্ভব ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে। এটাই আমাদের লক্ষ্য।
‘সময় খুবই সংক্ষিপ্ত, মাত্র ছয় সপ্তাহ। তাই এখানে কারও চাপের বিষয় নেই। আমরা নিজেরাই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং ইনশাল্লাহ, সময়মতো বিষয়গুলোর সমাধান করতে পারব।
‘আর অন্যান্য দেশ আমাদের সঙ্গে কতটা ভালো সম্পর্ক রাখবে, সেটি তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়, আমাদের নয়।’
এর আগে, বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের দক্ষিণ কোটগাঁওয়ে অবস্থিত জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। এরপর শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় জুলাই আন্দোলনে শহিদ তিনজনের কবর জিয়ারত করেন।
এ সময় মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।
৪২ দিন আগে
ওসমান হাদিকে হত্যাকারী ফয়সাল ভারতে পালিয়েছেন: ডিএমপি
ইনকিলাব মঞ্চের সদ্য প্রয়াত আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ফয়সাল দেশে আছেন না ভারতে পালিয়ে গেছেন— তা নিয়ে এক সপ্তাহ আগেও সন্দিহান ছিল পুলিশ। কিন্তু আজকের সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম বললেন, ফয়সাল ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে গেছেন। মেঘালয় পুলিশ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে।
তার ভাষ্যে, ‘তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ফয়সাল ও আলমগীর (সহযোগী) ঘটনার পরপরই সিএনজিতে করে আমিন বাজার যান। পরবর্তীতে তারা মানিকগঞ্জের কালামপুর যান। সেখান থেকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রাইভেটকারে করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছান।
‘ঘটনাটি তাদের পূর্বপরিকল্পিত ছিল। এজন্য আসামিদের চিহ্নিত করার আগেই তারা সীমান্ত পাড়ি দিতে সক্ষম হন।’
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হালুয়াঘাটের আগে মুন ফিলিং স্টেশনে ফিলিপ ও সঞ্জয় নামের দুজন তাদের গ্রহণ করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ফিলিপ তাদের সীমান্ত পার করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পুত্তি নামের এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেন। পুত্তি ট্যাক্সিচালক সামির কাছে তাদের হস্তান্তর করেন। সামি তাদের মেঘালয়ের পুরা শহরে পৌঁছে দেন। অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম দিয়ে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব তথ্য জানা গেছে বলে জানান তিনি।
পুত্তি ও সামিকে ইতোমধ্যে মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সন্দেহ করি, আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন।’
মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পুলিশ চার্জশিট দিতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এই ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, আমাদের (পুলিশ) পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
হাদি হত্যায় এ পর্যন্ত ফয়সালের বাবা ও মা, তার স্ত্রী, শ্যালক, বান্ধবীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ছয় জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। তদন্তে নেমে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার।
৪৮ দিন আগে
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ‘কুষ্টিয়ার জনসাধারণ’-এর ব্যানারে শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ জনসাধারণ মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর গেটে এসে জড়ো হন এবং সেখানে সড়কের ওপর অবস্থান নেন। এতে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও ঈশ্বরদী মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ভারত ও আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর বিচার দাবি করেন।
হাদি হত্যার বিচারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা যতক্ষণ না প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের আশ্বস্ত করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে জানান তারা।
বিক্ষোভকারীদের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের দুই ধারে কয়েকশ যানবাহন এ সময় আটকা পড়ে। এতে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। এরপর দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ শেষে কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
৪৯ দিন আগে