দিনাজপুরের কাহারোলের বলরামপুরে সাহাপাড়া থেকে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় একইসঙ্গে সারা দেশের ৫৩টি খাল খনন উদ্বোধন করবেন তিনি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সাহাপাড়া–বলরামপুর খাল পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুরের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময় একইসঙ্গে সারা দেশে ৫৩টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি।
তিনি বলেন, দলের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে যে সমস্ত খাল খনন করা হয়েছিল, সেই সমস্ত খালের অনেকগুলি ভরাট হয়ে গেছে। খালগুলো পুনরায় খননে বিগত সরকারগুলো কোনো দ্বায়িত্ব নেয়নি।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, খাল খননের মাধ্যমে কৃষকের সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাল নির্ভর অর্থনীতি—মাছ চাষ, হাঁস পালন, খালের পাড়ে বৃক্ষ রোপন দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়া যায়। শুকনা মৌসুমে পানি ধরে রেখে এর মাধ্যমে সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। এর ফলে ভূ-অভ্যন্তরের পানি কম ব্যবহার হবে এবং উপরিতলের পানি বেশি ব্যবহার হবে। এতে মরুভূমি হবার সম্ভাবনা কমে যাবে। এটা আমাদের উত্তরাঞ্চলের জন্য অতি জরুরি।
পাউবোর প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, সাড়ে ২২ কোটি টাকা খরচে ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার পুরাতন ওই খাল পুনঃখননের ফলে প্রতি বছর রক্ষা পাবে ২টি বিলের ১ হাজার ৫০০ একর জমির প্রায় ৬০ হাজার টন আমন ধান। নষ্ট হয়ে যাওয়া ধানের দাম প্রায় ২০৫ কোটি টাকা। খননের ফলে পাশাপাশি সেচ সুবিধার আওতায় পানির অভাবে পড়ে থাকা অনাবাদি ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি থেকে আসবে বাড়তি ফসল। খালের সেচের সুবিধায় আসবে ৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা।