নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ২২ মিনিটের দিকে তিনি টাঙ্গাইল শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধন করেন। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের আরও ১০টি উপজেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক মো. আবু কায়সার, মো. রোমান, শাহনুর আলম, মো. শাহ আলম, জুলেখা আক্তার, নাসিমা খানম সুমনা, শিল্পী, আমেনা বেগম, নবাব আলী, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, মনোয়ারা আক্তার, শামীমা আক্তার, লায়লা বেগম এবং তাহমিনাসহ ১৫ জনের হাতে কৃষক কার্ড এবং গাছের চারা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
কর্মসূচি চালুর সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে স্থানান্তরিত হয়। শুধু টাঙ্গাইলেই ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষক এই অর্থ পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছেই তিনি সরাসরি মঞ্চে যান এবং হাত নেড়ে উপস্থিত কৃষকদের অভিবাদন জানান। কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি পবিত্র কুরআন, গীতা, বাইবেল এবং ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়।
নববর্ষের দিন কয়েক হাজার কৃষক এবং নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাঠ এবং গ্যালারি—উভয় স্থানই লোকারণ্যে পরিণত হয়।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শি এবং কৃষি সচিব রফিকুল ইসলাম।
দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষকদের সরাসরি সহায়তা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এই কর্মসূচির আওতায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে একটি ডেবিট কার্ড সংযুক্ত থাকবে। কার্ডটির মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ ঋণ, ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার আপডেট ও ফসল-সংক্রান্ত পরামর্শ এবং বিমার সুবিধা পাবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক এবং মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও লবণ চাষের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে বার্ষিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। কর্মসূচিটি প্রথমে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি তিনটি পর্যায়ে (প্রাক-পাইলট, পাইলট এবং দেশব্যাপী) বাস্তবায়িত হবে। প্রাক-পাইলট পর্যায়ে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম এবং পরবর্তী চার বছরের মধ্যে এটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে, সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আজ ভোর থেকেই টাঙ্গাইল সদর ও আশপাশের এলাকার কৃষকরা স্টেডিয়ামে জড়ো হতে থাকেন। সেখানে আসা অনেক কৃষক সরকারের এই নতুন উদ্যোগের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। স্থানীয় প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচির উদ্বোধনকে টাঙ্গাইলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
উপস্থিত কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই কার্ড বিশেষ করে বীজ, সেচ এবং আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করবে।