প্রধানমন্ত্রী
বন্ধ তিন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি, কর্মসংস্থান হবে ১১,৬২৯ জনের
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দিয়েছে সরকার। পাটকলগুলো চালু করতে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিল তিনটি চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। আর প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।
চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। অপরদিকে, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। চালুর পর প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এর বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।
খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
অন্যদিকে, খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার ধরা হয়েছে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের লিজ সম্পন্ন করে লিজগ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
সরকারের ১৮০ দিনে মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে বলে কোনো সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে—এমন আলোচনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মন্ত্রিসভার রদবদল ১৮০ দিনের পর হবে, সরকারের দিক থেকে এ ধরনের কোনো কিছু বলা বা ইঙ্গিত করা হয়নি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হতে পারে। কারও কাছে অনেক বেশি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকলে সেখানেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব ১৮০ দিন পূর্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
উপদেষ্টা বলেন, ‘এই ইভালুয়েশন (মূল্যায়ন) চলতে থাকবে। এটা ১৮০ দিন নয়; দ্বিতীয় বছর, তৃতীয় বছর বা যেকোনো সময় হতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার চাইবে জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে। কোথাও কোনো সমস্যা তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবেন।’
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন বলেও এ সময় জানান ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, ‘১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিকে অ্যাড্রেস করবেন—এমন একটি সম্ভাবনা আছে এবং সেটার বেশিই আছে, সম্ভাবনা হচ্ছে সেটা করতে যাচ্ছেন। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি সবকিছু।’
এদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ব্রিফ করেছেন। ওই ব্রিফিং থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত শক্তভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের যে রিয়েল অ্যালাইনমেন্টের (সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস) কথা বলছি, সেটার অনুকূল পরিবেশ ভারতের দিক থেকে তৈরি করতে হবে।’
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি ধারণা ও সন্দেহ রয়েছে যে, তার সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে ভারতের সঙ্গে এক ধরনের যোগাযোগ ও সহযোগিতা পেয়েছে।
ডা. জাহেদ বলেন, ‘যাকে আমরা দেশে এনে বিচার করতে চাই, তিনি সেখানে বসে সংবাদ সম্মেলন করছেন। তাকে প্রত্যর্পণের কথা ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চুক্তি আছে। একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আমরা দেশে এনে আইনের আওতায় আনতে চাই। এই বিষয়গুলো ভারতকে আন্তরিকভাবে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, দুই দেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত।
১ দিন আগে
কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলাদেশে ভিসার প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিসার একটি প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার বা গ্লোবাল সার্ভিস সেন্টার বাংলাদেশে স্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কার্পিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বকে স্বাগত জানান।
তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিসার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় স্টিফেন কার্পিন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ভিসার আগ্রহের কথা জানান। তিনি বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
বৈঠকে কার্পিন বাংলাদেশে যেসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারী এখনো কার্ড ব্যবহারের আওতায় নেই, তাদের কার্ড ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়াতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে ভিসার আগ্রহের কথা জানান।
১ দিন আগে
প্রত্যেক নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় ও অর্থনৈতিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনবে সরকার
বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে দেশের সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় ও অর্থনৈতিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) ‘ন্যাভিগেটিং ফাইভ-ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাচিভিং এসডিজিস: পলিসি, পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে, একইভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে চলেছে।
এসডিজির ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ নীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও সামঞ্জস্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করাই সরকারের নীতি। এ ক্ষেত্রে সরকারের মূলনীতি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
বিএনপির জননীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে কেন্দ্র করেই দলটির সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণীত হয়েছে। তার ভাষ্যে, ‘সব সময়ই বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি ছিল জনবান্ধব। যেমন দেশ এবং জনগণের উন্নয়নে আমরা এখানে উপস্থাপিত একটি ডকুমেন্টারিতেও দেখেছি—স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার “ভিশন ২০৩০” এবং বর্তমান রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ঐতিহাসিকভাবেই প্রতিটি ভিশন এবং মিশনের সঙ্গে এমডিজি কিংবা বর্তমানে এসডিজির খুব বেশি অমিল নেই।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনে বাংলাদেশ একটি ঋণ ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করতে হবে। এই পুনর্গঠনের যাত্রায় এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ-ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গ সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনের মতো এসডিজির মূল অগ্রাধিকারগুলো প্রতিফলিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
২ দিন আগে
রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো করার মতো কিছু আর করবে না ভারত, প্রত্যাশা ঢাকার
রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো বা দুর্বল করার মতো কোনো কাজ ভারত সরকার আর করবে না বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ তার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি বিশ্বের সবার শ্রদ্ধা প্রত্যাশা করে এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তিনি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছেন যে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের প্রথম দুই মাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ভারতীয় হাইকমিশনার। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকে সংক্ষেপে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি ছিল অন্যতম। বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আশা করছি।
এ ছাড়া শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনরা ভারতে ধরা পড়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল, বাংলাদেশ সেগুলো ইতোমধ্যে সরবরাহ করেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে বলা হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. খলিলুর রহমান।
গেল ৫ আগস্ট ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ যে লিখিত অসন্তোষ জানিয়েছে, সেটিও আলোচনায় এসেছে কি না—জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে বলে জানান তিনি। গতকালও ভারতীয় পক্ষ তাকে বিষয়টি জানিয়েছে এবং আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ হলো নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের একটি উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে তার বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয় আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে এবং সেই কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে। আমরা চাই, বিশ্বের সবাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক।
খলিলুর রহমান বলেন, আমরা আশা করব, ভারত সরকার বিষয়টি অনুধাবন করবে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমার ধারণা হচ্ছে, তারা জিনিসটা বুঝতে পেরেছে। রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো বা দুর্বল করার মতো কোনো কাজ ভারত সরকার আর করবে না—এটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। ‘তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে, তাতে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত যে, এ ধরনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সরকারের দেওয়া দুটি আমন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমন্ত্রণের বিষয়ে এখনও বাংলাদেশ কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সেটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে দেওয়া আমন্ত্রণের সঙ্গে এক নয়। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সরকার গঠনের দিন একটি চিঠি দিয়েছিলেন। ৩ তারিখের ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে এসব আমন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি কিছুটা আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ সময় তারা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
তিনি বলেন, ‘এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। তারা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।’
গত জুনে বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
দেশে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্টকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
যারা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা না থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না এবং এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
রবিবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশের মানুষের জন্য যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, তার জন্য বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে মিল-কারখানা স্থাপন করতে হবে। আর তার পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা থাকতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আপনার এলাকায় বা বাজারে যখন কোনো গণ্ডগোল হয়, কোনো সমস্যা হয়, তখন কি দোকানপাট খোলা থাকে না বন্ধ থাকে? বন্ধ হয়ে যায়। কেন বন্ধ হয়ে যায়? কারণ এই যে ছোট দোকানদার বা যেই ব্যবসায়ী হোক, তারা এইজন্য বন্ধ করে দেয় যাতে ওই গণ্ডগোলে তার ব্যবসার যাতে ক্ষতি না হয়। একইভাবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন পরিবেশ চান, যেখানে তাদের উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দর দিয়ে পরিবহন করা যাবে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালও সঠিকভাবে আনা যাবে।
তারেক রহমান বলেন, যদি মিল-কারখানা সঠিকভাবে না চলে, তাহলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। সেজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং জনগণের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা জরুরি। তার কথায়, ‘যদি দেশের সন্তানদের সুন্দরভাবে লেখাপড়ার ব্যবস্থা আমাদের তৈরি করতে হয়, স্কুল-কলেজ সুন্দরভাবে তৈরি করতে হয়, শিক্ষকদের যদি ট্রেনিং দিতে হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের যদি নতুন করে বই দিতে হয়—এইসব ব্যবস্থা যদি করতে হয়, তাহলে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, একইভাবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যারা বিভ্রান্তি তৈরি করতে চায়, তারা যাতে কোনো সুযোগ না পায়। কারণ বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায়, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। বিভ্রান্তকারীরা নিজেদের মতো করে বিভ্রান্ত করে চলে যাবে, তারা জনগণের সঙ্গে থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের পাশে থাকা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা।
তিনি বলেন, এই যে বর্তমান সরকার, এই সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। কাজেই এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকা, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা।
সরকারপ্রধান বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে দেশের মানুষের কল্যাণে কয়েকটি মৌলিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে পরিবারকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর বিষয়টিও ছিল।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয় এবং তা শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। বাঁশখালীসহ এ অঞ্চলে আগামী অর্থবছরের মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। আগামী চার বছর ধরে এ কার্যক্রম চলবে এবং আরও অনেক মা-বোনকে এর আওতায় আনা হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালুর কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু ধান, পাট, শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল উৎপাদনকারীরাই নয়, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
লবণের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লবণচাষিদের স্বাবলম্বী ও সামাজিকভাবে সচ্ছল করতে আলোচনার মাধ্যমে একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সেই মূল্য সবাইকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
মাতারবাড়ী সফরের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, দেশের সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেছেন।
চীনের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে সরকারপ্রধান বলেন, চীন সফরকালে তিনি দেশটির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং চট্টগ্রামে কয়েক শত মিল-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেসব কারখানায় সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে একদিকে বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। সেই অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নেও ব্যবহার করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বাঁশখালীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ দেশের সব উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে কয়েকজন ব্যক্তির স্বার্থে এ খাতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। জনগণের স্বার্থে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কিছু সময় প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘আমরা এরই ভেতরে তার কাজে হাত দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী ১০ বছর আমাদের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে—সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।’
এ পরিকল্পনার মাধ্যমে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে, আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না। বিভ্রান্তিকর কথা বলে জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না।’
স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এখন দেশের জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময় বলে মনে করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হলেও কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশকেও সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
‘কাজেই আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা’, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন থাকলে জনগণের স্বার্থে নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিভ্রান্তকারীদের কোনোরকম প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে, একই সঙ্গে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।
৩ দিন আগে
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহারে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, বেলা পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। পরে তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান।
সকাল ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তার সামনে তুলে ধরা হয়।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রশংসা করে তাদের উৎসাহ দেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় প্রধানমন্ত্রী একটি নিমের চারা রোপণ করেন।
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিটের সমন্বয়ে মোট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহনের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোড এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অবকাঠামো রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিয়েছে।
ব্রিফিং শেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন।
দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় তাকে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে জানান।
একই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও দেখানো হয়।
৩ দিন আগে
বাঁশখালীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে টিনের ছাউনি দেওয়া নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে বন্যাকবলিত বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ইউএনবিকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাহারছড়া গ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।’
তারেক রহমান এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবার ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তিনি সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন বলেও জানান রনি।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে যান।
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গত ৭ জুলাই থেকে বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের কয়েকটি প্রত্যন্ত ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়।
বন্যায় ঘরবাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে শত শত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
ফটিকছড়িতে তিনি আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসা পরিদর্শন এবং হেফাজতে ইসলাম আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিউর রহমান রুমন।
৩ দিন আগে
গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী
গভীর সমুদ্র বন্দরসহ কয়েকটি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে মাতারবাড়িতে পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে হেলিপ্যাডে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেলিকপ্টার থেকে নামেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আজ সকালে আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে মহেশখালী যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে এবং ফটিকছড়ি থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রামে যাবেন।
রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১২টায় মহেশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।
দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী বিকাল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিরতি নেবেন তারেক রহমান।
এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিকাল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সব কর্মসূচি শেষ করে রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিমানে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
৩ দিন আগে