প্রধানমন্ত্রী
সাক্ষরতা শুধু পড়ালেখায় সীমাবদ্ধ নয়, দক্ষতা ও সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত: প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সাক্ষরতার অর্থ এখন আর শুধু পড়া, লেখা ও গণনার মৌলিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে ডিজিটাল দক্ষতা, তথ্য ব্যবহারের সক্ষমতা, সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা, জীবনদক্ষতা, পরিবেশ-সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও যুক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল (সোমবার) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। এ বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের উন্নয়ন, পৃথিবীর সুরক্ষা ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির সংযোগস্থলেই আজকের সাক্ষরতার অবস্থান। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সনদনির্ভর শিক্ষা থেকে দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষায় উত্তরণ।
তিনি বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকে জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ। তাই বর্তমান সরকারের কাছে সাক্ষরতা শুধু নিরক্ষরতা দূর করার কর্মসূচি নয়; এটি মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই সমৃদ্ধির ভিত্তি। এমন শিক্ষা ও সাক্ষরতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা মানুষকে শুধু পড়তে ও লিখতে শেখাবে না, পরিবর্তনশীল বিশ্বের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনেও সক্ষম করে তুলবে।
দেশে সবার জন্য কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাসে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মেয়াদে এই বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায় থেকেই মানবিক ও নাগরিক মূল্যবোধ বিকাশে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, সাক্ষরতার পরবর্তী ধাপ হবে দক্ষতা, আর দক্ষতার লক্ষ্য হবে আত্মনির্ভরতা ও কর্মসংস্থান। তাই সাক্ষরতা কার্যক্রমকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তি শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা জরুরি। বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষাবঞ্চিত নারী ও গৃহিণীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল সাক্ষরতার সুযোগ সম্প্রসারণের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হতে হবে সবার জন্য। শিশু, নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মূলধারায় আনতে হবে। কাউকে পেছনে না রেখে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের চর্চা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য শুধু দক্ষ কর্মীই নয়, মানবিকতা এবং ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধসম্পন্ন দায়িত্বশীল নাগরিকও এক বিশাল সম্পদ।
প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের জনগণকে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা, সাক্ষরতা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাক্ষরতার আলোকে মানুষের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, জ্ঞানের শক্তিতে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে এবং সচেতন নাগরিকের অংশগ্রহণে একটি পরিবেশবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে।
সবশেষে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
২ ঘণ্টা আগে
রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাপানকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়াকে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন (ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন) বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট উল্লেখ করে এ সংকট মোকাবিলায় পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে তাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কারণ, নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
২৩ ঘণ্টা আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন।
বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন করার কথাও বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশও দেন। তাদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে যুক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দেন তিনি।
এছাড়া সভায় উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসুবিধা ও রোগী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের ব্যবহারের জন্য মশারি সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়, যাতে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর প্রতিফলন মাঠে অবশ্যই থাকতে হবে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়র ও বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় যোগ দেন।
১ দিন আগে
দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ, বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা সভায় এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।
সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং তৎসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঢাকা নৌ অঞ্চল কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় যোগ দেন।
১ দিন আগে
সংকটে কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই সঙ্গে তিনি সবাইকে নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী সরকার হোক, কিংবা অন্তর্বর্তী সরকার, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।
বিভিন্ন খাতে মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সমস্যা রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি এসব সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আর এই বিভ্রান্তির মাধ্যমে তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখবে এবং গণতন্ত্রের নীতি ও নৈতিকতা সমুন্নত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কিন্তু কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে সেই অরাজকতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তা দেশের আইনেই স্পষ্টভাবে বলা আছে। তাই শুধু সরকার হিসেবে নয়, জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে তিনি সবাইকে নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকতে জোরালোভাবে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দেশ ও দলের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দলীয় সংগীত পরিবেশন ও বিএনপিকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার শুরু হওয়া পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শনিবারের আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের পর বিএনপি একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং দুর্বল স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তিনি জ্বালানি সংকটকে দেশের সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে বহু মানুষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান দুর্ভোগে পড়েছে।
এ সময় বিএনপি প্রধান বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে যারা ভুগছেন, তাদের সবার কাছে দলের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চান। তবে তিনি বলেন, আগের সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলোকে সরকার শুধু অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু এসব সমস্যাকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরতে চাই না। বরং আমরা জনগণের কাছে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে চাই এবং একই সঙ্গে এমন ব্যবস্থা নিতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে মানুষকে এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশকে প্রস্তুত করতে বিএনপি ইতোমধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সময় লাগে, সেটি বাস্তবায়ন করতেও কিছু সময় প্রয়োজন। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক সংকটের কথা মাথায় রেখে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের স্বৈরাচারী সরকারের সময় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ছদ্মবেশে কার্যক্রম চালিয়েছে এবং পরে তাদের কয়েকজন সদস্য নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোকে আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসার সুযোগ করে দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এমন কি হতে পারে যে, স্বৈরাচারী সরকারের সময় যারা ‘গুপ্ত’ বেশ ধারণ করেছিল, তারা এখন সেই ‘গুপ্ত’ নেটওয়ার্কের ভেতর থেকেই এই অরাজকতায় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে? যদি তা-ই হয়, তাহলে যারা লুকিয়ে আছে, তারা আসলে সেই স্বৈরাচারী সরকারকে আবার সামনে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে।
সব জাতীয়তাবাদী শক্তি ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আসুন, আমরা জনগণকে আরও সচেতন করি। কে কার দায় নিচ্ছে এবং কে কাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরি।
বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কিছু রাজনৈতিক শক্তি একে অন্যকে রক্ষা বা আশ্রয় দিয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। জনগণের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। কারণ আমরা দেখেছি, এসব ‘গুপ্ত বাহিনী’ বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন দশকে একে অন্যকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়েছে—১৯৭১ সালে, ১৯৮৬ সালে, ১৯৯৬ সালে, গত এক যুগ, এমনকি বর্তমান সময়েও।
তারেক রহমান বলেন, তাই আজ আমাদের জনগণের সামনে তাদের রাজনীতি তুলে ধরতে হবে। জনগণের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখার চেষ্টা করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখনো দৃঢ়ভাবে এতে বিশ্বাস করি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির লাখ লাখ নেতা-কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে কেউ নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে বাধার মুখে পড়বে না।
২ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ চায় ঢাকা, সংলাপের দরজা খোলা: হুমায়ুন কবির
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও ভালো কার্যকর সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ। সংলাপের দরজা সবসময় খোলা থাকবে বলেও জানান তিনি।
সিলেটে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের সঙ্গে হাজারো সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, কিন্তু সংলাপ ও আলোচনার দরজা সবসময় খোলা থাকবে। সেটি খোলা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রেই পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং নীতিগুলো পরস্পরের সঙ্গে জড়িত ও আন্তঃসম্পর্কিত।
হুমায়ুন কবির বলেন, একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। বিশেষ করে আমরা যে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছি, তার ক্ষেত্রে এগুলোকে সমন্বিত করতে হবে এবং পরস্পরের পরিপূরক হতে হবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে পররাষ্ট্রনীতি শুধু বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয় নয়। অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য শক্তিশালী সম্পৃক্ততার ক্ষেত্র থাকা প্রয়োজন।
ভারতের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ বাংলাদেশে মানুষ হত্যার পর দেশ ছেড়ে পালানো ‘সন্ত্রাসীরা’ ভারতে অবস্থান করছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত যদি তাদের জায়গা দেয়, তাহলে তা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিরুদ্ধে যাবে। বিষয়টি মোকাবিলার জন্য এটি চাপ সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সম্পৃক্ততা জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এবং জনগণের স্বার্থে পরিচালিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এ পর্যন্ত দুবার সাক্ষাৎ করেছেন হুমায়ুন কবির। ভারতকে পরিস্থিতি বুঝতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি তার (দূতের) সঙ্গে দুবার সাক্ষাৎ করেছি। তিনি চেষ্টা করছেন, কিন্তু কোথাও গিয়ে আটকে যাচ্ছেন।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড থামানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতে তিনি ব্যক্তিগত না কি সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন, সেটি প্রাসঙ্গিক নয়। তাকে জায়গা দেওয়া একটি খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের আগে এ ধরনের সফরের সম্ভাবনা খুবই কম।
তিনি বলেন, উপযুক্ত সময় হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন। তবে ইউএনজিএ অধিবেশনের আগে এ সফরের সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ তিনি সেখানে অংশ নেবেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। মাসের শেষ দিকে বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিতে বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে জড়ো হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ভারত শিগগিরই ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করবে। এক ভারতীয় সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তা জানানো হয়েছে কি না এবং তিনি অংশ না নিলে সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন।
গতকাল (শুক্রবার) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানানোর মতো কোনো হালনাগাদ তথ্য তার কাছে নেই।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত ভারত সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচিতে সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠার পর এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। হজরত শাহজালাল মাজারে রাজনৈতিক কর্মীরা কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে হয়রানির করেছেন বলে অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার সিলেটের টেলিভিশন সাংবাদিকরা প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় বিএনপির সংবাদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার সিলেট সফরে গিয়ে হুমায়ুন কবির জুমার নামাজের পর মাজারে দোয়া করেন।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, অতীতে জ্বালানি খাতে দুর্নীতির মাত্রা বুঝতে হলে এ খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে তাকালেই তা বোঝা যাবে। বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং বাংলাদেশের এই চুক্তিতে যোগ দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু হবে না।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই একাধিক নিরাপত্তা জোটের অংশ। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে প্রয়োজন, বাংলাদেশ সেখানেই যোগ দেবে।
বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে কেউ চাপ দিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে, কারণ এর প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও উড়োজাহাজ কেনা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
২ দিন আগে
সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, নিজেদের বাংলাদেশি ভাবতে বললেন প্রধানমন্ত্রী
সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে নয়, দেশের সব নাগরিককে নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণের পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়। এ উপলব্ধি থেকেই দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু—এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। অতএব, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন আমরা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি ভাবি।’
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মেলনই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। কেউ যদি কাউকে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে ইউরোপ বা আমেরিকা সফরের কথা মনে রাখা উচিত। ইউরোপ-আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু সেখানে সংখ্যালঘু!
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয়—আমরা সকলে বাংলাদেশি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে মাঝেমধ্যে কংস চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি করে তা জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
৫ দিন আগে
দেশে-বিদেশে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। প্রথম ৩০ মিনিটে তারেক রহমান সরাসরি চারটি লিখিত প্রশ্ন ও ছয়টি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন।
মনিরুল হকের একটি তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামী’য়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে সরকার ২০১৮ সালে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমমান দিয়ে একটি আইন প্রণয়ন করে এবং ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়।
সেই ছয়টি বোর্ড হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ (কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড), আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তাঅলীম বাংলাদেশ বোর্ড, তানজিমুল মাদারিসিদ্বীনিয়া বাংলাদেশ ও জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ।
তারেক রহমান জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধনের পর গত ২৩ জুন ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদ স্বীকৃতি পায়।
এর ফলে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমুল কিরাত বা হিফজুল কোরআন সনদধারীরা সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সাধারণ শিক্ষা কারিকুলামে আরও আরবি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ইতোমধ্যে নিয়মিত কারিকুলামের অংশ এবং সরকার এটিকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় তা পর্যালোচনা করে দেখতে পারে।
এছাড়া ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান তাকে এ বিষয়ে আলাদা নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আপনি আমাকে একটি আলাদা নোটিশ দিলে আমি বিষয়টি সঠিকভাবে খতিয়ে দেখব এবং বিস্তারিত তথ্য সংসদে উপস্থাপন করব।
৫ দিন আগে
শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের
শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রত্যাশার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
চিঠিতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালবাসার কথাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এছাড়া বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগের কথা ভুলবেন না বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
৬ দিন আগে
জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়: প্রধানমন্ত্রী
জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ ১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থীরা দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।
তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে দলটির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়া তাঁর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে এবং করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে যতবার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকরা জীবন উৎসর্গ করেছেন।
গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন এবং আহত হয়েছেন, তাঁদের অবদানও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জনগণ যখনই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ দেড় দশকের ‘ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের’ অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি।
বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম উল্লেখ করে তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে আবারও শুভেচ্ছা জানান।
৭ দিন আগে