প্রধানমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিচলিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যতা বর্জন এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে অমিতব্যয়িতা পরিহার করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও আমরা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তটি নিইনি। এ খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার চেষ্টা করছে আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।
তিনি বলেন, জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার।
তিনি আরও বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমরা যেন সবাই রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে, এমনকি পারিবারিক পর্যায়ে অমিতব্যায়িতা পরিহার করি, তার জন্য আমি দেশের সব মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে কারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসনকাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
দেশে বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারপ্রধান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি খাতকে চিহ্নিত করে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।
১ দিন আগে
খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এই পদক প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হাতে এই পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সাতজনকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পুরস্কারপ্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন।
স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে তার পুরস্কার গ্রহণ করেন নাতনি জাইমা রহমান।
স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাকি ১৪ ব্যক্তি হলেন— মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার পরিকল্পনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
ইরান এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের (নরসিংদী-৫) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশের শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণ করতে বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে স্থানীয় লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সার্বিয়া, গ্রিস, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল এবং রাশিয়াসহ নতুন দেশগুলোতে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী দেশগুলোতে উচ্চ পর্যায়ের সফরের আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জাপানি, রুশ, আরবি, জার্মান এবং ইতালীয় ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভাষার ৪১ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশের পেশাজীবীরা মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেখানে বাংলাদেশি ডাক্তার, ব্যাংকার, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করতে মিশনগুলোকে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় ঋণের সীমা জামানত ছাড়াই ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশফেরত কর্মীদের পুনরায় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে তারা আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আবারও বিদেশে যেতে পারেন। এছাড়া তাদের আগের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি দিয়ে সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে।
২ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) মার্কিন ডলার তহবিল চেয়েছেন। এই অর্থ সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদ সচিবালয়ের অফিস থেকে ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস অনলাইন সামিটে’ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ সহায়তা চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান এই সম্মেলনের সম্মিলিত আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকা উচিত। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ তার জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিশ্ব সম্প্রদায়ের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং অভিন্ন ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। কোনো রাষ্ট্রই, তা আকারে যত বড় বা শক্তিশালীই হোক না কেন, বিচ্ছিন্নভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তা করতে এশিয়ার দেশগুলোর একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে আমরা একগুচ্ছ স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা নিয়েছি। গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সীমা কমানো, জরুরি আমদানি এবং উৎসের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, এবং জ্বালানির মজুদ রোধে ‘ফুয়েল অ্যাপের’ মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি রেশন ও খুচরা বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আনা।
এই সংকটের ব্যাপকতা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করেছে। আজ আমাদের কষ্টার্জিত সেই অর্জনগুলো বিপন্ন এবং তা স্থবির হয়ে যাওয়ার বাস্তব হুমকির মুখে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একা এই ঝুঁকির সম্মুখীন নয় এবং কোনো দেশের একার পক্ষে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভবও নয়। তিনি বলেন, এই মুহূর্তটি চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে একটি চূড়ান্ত ও সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের দাবি রাখে; বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এর মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হবে।
সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলন আয়োজনের জন্য তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তিমুর-লেস্তে, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা এই অনলাইন সম্মেলনে অংশ নেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে যোগ দেন।
২ দিন আগে
সুনীল অর্থনীতির উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্দশ দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন এবং পরিবেশ রক্ষার মধ্যে সুষম সমন্বয় নিশ্চিত করতে এবং সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে আমরা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছি।
তিনি বলেন, দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং জাতীয় সুনীল অর্থনীতি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের একটি বড় অংশের মানুষ উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকায় বসবাস করেন। স্বাভাবিকভাবেই, আমরা যদি সুনীল অর্থনীতির বিভিন্ন উপাদানের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করে তা ধীরে ধীরে বিকশিত করতে পারি, তবে অনেক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার ‘উপকূলীয় অঞ্চল নীতি ২০০৫’ প্রণয়ন করে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বর্তমান সরকার সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম ও এ থেকে দেশের সম্ভাব্য অর্জিতব্য বিষয়াদি বিবেচনার জন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বিত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
চলমান সংসদ অধিবেশন বিরতির পর আজ (বুধবার) সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এরপর সংসদ সদস্যরা তাদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
২ দিন আগে
১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ (পিইডিপি-৫) শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় আরও অধিক সংখ্যক শিক্ষককে ইংরেজি ভাষায় প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে চলমান ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)’-এর আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষক ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
চলমান সংসদ অধিবেশন বিরতির পর আজ (বুধবার) সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এরপর সংসদ সদস্যরা তাদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
২ দিন আগে
বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা: প্রধানমন্ত্রী
দেশের কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। আমাদের দেশের প্রত্যেকটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ এই দেশের প্রধান পেশাই হচ্ছে কৃষি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, এই দেশের কৃষক যদি স্বচ্ছল থাকে, দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে, বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার। নির্বাচনের পূর্বে আমরা দেশের মানুষের কাছে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার মধ্যে এই কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতিও ছিল। এর বাইরেও আমরা কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। এর মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধাটি পেয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের আটটি জেলার ১১টি উপজেলায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২২ হাজার কৃষকের মাঝে এই কৃষক কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আরও দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে আমরা এই কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব।
তিনি বলেন, আপনাদের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা, কৃষককে স্বচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। সেই জন্যই এই কৃষক কার্ড আমরা দিয়েছি। এই কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষককে সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। এই ১০টি সুবিধার মাধ্যমে কৃষক তার অবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন।
খাল খনন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের পর আমরা সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য রয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করব ইনশাআল্লাহ। এর মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি জমির জন্য পানির সমস্যা দূর হবে।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে একমাত্র বিএনপি সরকার যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, বিএনপি সরকারই চেষ্টা করেছে কৃষক ভাইবোনদের পাশে দাঁড়ানোর। আপনারা গত নির্বাচনে বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছেন, ইনশাআল্লাহ এই সরকার আপনাদের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেবে। এখন আমাদের দেশ গড়ার সময়। কৃষক ভাইদের পাশে আমরা যে রকম দাঁড়াব, একইসঙ্গে আমরা আমাদের মা-বোনদের জন্য, পরিবারের নারীপ্রধানদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করব। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের ভেতর আমরা বাংলাদেশের সকল নারীপ্রধান পরিবারের কাছে এই কার্ডটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করব।
সবাইকে দেশ গঠনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার। এই সরকার দল-শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের উন্নয়ন, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। সেইজন্য আমরা বলে থাকি, করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিকে আগাতে চাই, দেশ গঠন করতে চাই।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১৫ জন কৃষক এবং কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন। অনুষ্ঠান শেষে টাঙ্গাইল শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। বিকেলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত শেষে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
৩ দিন আগে
‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ২২ মিনিটের দিকে তিনি টাঙ্গাইল শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধন করেন। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের আরও ১০টি উপজেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক মো. আবু কায়সার, মো. রোমান, শাহনুর আলম, মো. শাহ আলম, জুলেখা আক্তার, নাসিমা খানম সুমনা, শিল্পী, আমেনা বেগম, নবাব আলী, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, মনোয়ারা আক্তার, শামীমা আক্তার, লায়লা বেগম এবং তাহমিনাসহ ১৫ জনের হাতে কৃষক কার্ড এবং গাছের চারা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
কর্মসূচি চালুর সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে স্থানান্তরিত হয়। শুধু টাঙ্গাইলেই ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষক এই অর্থ পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছেই তিনি সরাসরি মঞ্চে যান এবং হাত নেড়ে উপস্থিত কৃষকদের অভিবাদন জানান। কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি পবিত্র কুরআন, গীতা, বাইবেল এবং ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়।
নববর্ষের দিন কয়েক হাজার কৃষক এবং নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাঠ এবং গ্যালারি—উভয় স্থানই লোকারণ্যে পরিণত হয়।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শি এবং কৃষি সচিব রফিকুল ইসলাম।
দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষকদের সরাসরি সহায়তা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এই কর্মসূচির আওতায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে একটি ডেবিট কার্ড সংযুক্ত থাকবে। কার্ডটির মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ ঋণ, ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার আপডেট ও ফসল-সংক্রান্ত পরামর্শ এবং বিমার সুবিধা পাবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক এবং মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও লবণ চাষের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে বার্ষিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। কর্মসূচিটি প্রথমে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি তিনটি পর্যায়ে (প্রাক-পাইলট, পাইলট এবং দেশব্যাপী) বাস্তবায়িত হবে। প্রাক-পাইলট পর্যায়ে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম এবং পরবর্তী চার বছরের মধ্যে এটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে, সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আজ ভোর থেকেই টাঙ্গাইল সদর ও আশপাশের এলাকার কৃষকরা স্টেডিয়ামে জড়ো হতে থাকেন। সেখানে আসা অনেক কৃষক সরকারের এই নতুন উদ্যোগের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। স্থানীয় প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচির উদ্বোধনকে টাঙ্গাইলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
উপস্থিত কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই কার্ড বিশেষ করে বীজ, সেচ এবং আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করবে।
৩ দিন আগে
সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি, নববর্ষে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানিয়ে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। দিনটি আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং সবাইকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।
তিনি বলেন, বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সবশেষে তিনি বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
৪ দিন আগে
টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
টাঙ্গাইল সদরে আগামীকাল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড বিতরণের এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
একই দিনে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
প্রথম ধাপে সারা দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে জুড়ী উপজেলার ১ হাজার ১০০ জন কৃষক কার্ড পাচ্ছেন। আগামী চার বছরে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ কর্মসূচির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮১ কোটি টাকা।
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরা নগদ প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ এবং কৃষি বিমাসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। পেশাজীবী হিসেবে কৃষকের স্বীকৃতি প্রদান, আয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বিএনপি সরকার। প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করতে ভূমিহীন (৫ শতাংশের কম জমির মালিক), প্রান্তিক (৫–৪৯ শতাংশ) ও ক্ষুদ্রসহ (৫০–২৪৯ শতাংশ) মোট ৫টি শ্রেণিতে কৃষকদের বিভক্ত করে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
৪ দিন আগে