প্রধানমন্ত্রী
ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১ অক্টোবর ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরটি এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল। পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি দেখতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ফেনী পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা ও প্রস্তাবিত জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে যাবেন এবং খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণসহ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এছাড়া পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোতে স্থাপিত মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেলেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় বিশ্রাম ও নামাজ আদায় করবেন।
বেলা ৩টা থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তিনটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
সেই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানস্থলগুলোকে তিনটি জোন—রেড, ইয়োলো ও হোয়াইটে ভাগ করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের আগে গতকাল (রবিবার) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তাব্যবস্থায় নিয়োজিত থাকবেন। তবে মোট কতজন সদস্য মোতায়েন করা হবে, তা জানাতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, রেড জোনে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তা কার্ড দেওয়া হবে। ইয়েলো জোনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কার্ডধারীরাই কেবল সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরের এলাকাকে হোয়াইট জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পরশুরাম যাবেন। তবে তার ফেরার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল তৈরির প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে। অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলে পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপন এবং অন্যান্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজও চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কারকাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এছাড়া পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের জনসভাস্থলের আশপাশেও প্রয়োজনীয় মেরামত ও প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হচ্ছে। ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, সরকার বন্যা ও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান, ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জেলার যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
১ ঘণ্টা আগে
বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আলহামুদি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তাফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) এসব তথ্য জানান।
হাসান শিপলু বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো নিয়ে।
এছাড়া জ্বালানি, অবকাঠামো, বিমান চলাচল, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূতের মধ্যে আলোচনা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন।
৪ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) এ তথ্য জানিয়েছেন।
হাসান শিপলু বলেন, এটি ছিল বিদায়ী সাক্ষাৎ। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৈঠকে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ এবং নিউইয়র্কে বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
ইয়াও ওয়েন ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ বছরের সেপ্টেম্বরে তার মেয়াদ শেষ হবে।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।
৬ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘ সফর শেষে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে চার দিনের সফর শেষে আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন।
এরপর দুপুরের দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আলহামুদির সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বিকেল ৪টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরে আলোচিত বিষয়গুলোও মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।
৬ ঘণ্টা আগে
জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ’ নিউইয়র্ক সফরের পর আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে তার তুরস্ক, জাপান ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাপান ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া পৃথক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ বিবেচনায় নিয়ে ঢাকায় এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে গৃহীত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা হলো কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ)।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কপ-৩১ নিয়ে মতবিনিময় হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টিও ছিল।
এদিকে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জাপান পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপানে সরকারি সফরে যেতে পারেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন একটি কূটনৈতিক সূত্র। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে এপ্রিলে এশিয়া অঞ্চলে জ্বালানি বিষয়গুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, কোনো দেশ এককভাবে এ সমস্যা সমাধান করতে না পারায় সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই অনলাইন বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
গত মাসে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সময় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ তার কাছে আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে সৌদি যুবরাজ দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান, যার লক্ষ্য দুই দেশ ও তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সুবিধাজনক তারিখ চূড়ান্ত করতে পারলে নভেম্বরে তারেক রহমান সৌদি আরব সফর করতে পারেন।
ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের নভেম্বরে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত সফর করতে পারেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির দিকেও নজর রাখছে ঢাকা।
শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও যোগাযোগের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত মাসে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ‘খুব শিগগিরই হওয়া উচিত’ এবং এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি স্বর্ণালি অধ্যায় দেখতে চান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকের মাধ্যমেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব, আর আমি খুবই আশাবাদী।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ সাতটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর মধ্যে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।
১ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ: মাহ্দী আমিন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে তিনি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে এক উচ্চতর জায়গায় নিয়ে গেছেন।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশে ফিরে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও সম্ভাবনাকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রতিটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান অত্যন্ত সাদরে ও উষ্ণতার সঙ্গে তাকে গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি এবং যতটা সম্ভব কম সফরসঙ্গী নিয়ে তারেক রহমান চার দিনের সফল সফর সম্পন্ন করেছেন। সংক্ষিপ্ত এই সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের আটটি প্রধান অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং এর মধ্যে সাতটিতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। এসবের মধ্যে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ‘ঐতিহাসিক’ ভাষণও ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত কর্মসূচির কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বাংলাদেশ দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আরও দুটি বৈশ্বিক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক জাতিসংঘের ভাষণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, তারেক রহমান শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি তরুণ ও নারীদেরসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এসব পরিকল্পনা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেননি, তিনি বিশ্বশান্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।’
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘে তারেক রহমানের বক্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিতে উঠলে বাংলাদেশ সেখান থেকে ওয়াকআউট করে। ‘বিশ্বশান্তির পক্ষে এটি বাংলাদেশের একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে,’ বলেন তিনি।
দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখা, মানবাধিকার রক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে সরকারের উদ্যোগ দেশে ও বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতেও এগুলো অব্যাহত থাকবে।
বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে করা হয়েছে এবং এটি দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল।
মাহ্দী বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সফরকালে দুই দেশের সরকারের মধ্যে কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছাড়াই আলাদা একটি পার্শ্ব বৈঠকে ওই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা জাতিসংঘকেন্দ্রিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ ছিল না।
তিনি বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোট ১১টি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আলোচনা করেন। প্রতিটি আলোচনায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতিবাচক আশ্বাস
আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সংকট কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আসিয়ানভুক্ত দেশ এবং মানবাধিকার ও বাস্তুচ্যুত মানুষ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সংকট সমাধানে প্রতিটি দেশ ও সংস্থা বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদারতা ও মানবিকতার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যাপক প্রশংসা করেছে।
তিনি আরও বলেন, সফরকালে অনুষ্ঠিত প্রতিটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্বনেতারা একসঙ্গে কাজ করার এবং বাংলাদেশের পাশে থাকার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হকও উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
পর্যটন খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের করা অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল (শনিবার) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটন শুধু অবকাশযাপনের সুযোগ নয়; এটি কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
এ বছরের পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ এ শিল্পের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের দিকনির্দেশনা তুলে ধরছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা ও স্মার্ট প্রযুক্তি পর্যটনসেবা আরও ব্যাপক, সহজ, নিরাপদ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনি ইশতেহারে পর্যটনকে আধুনিক ও ভূমি-সাশ্রয়ী সেবাখাত হিসেবে বিকশিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালার আধুনিকায়ন এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে ৩০টিরও বেশি জেলায় পর্যটন ক্লাস্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি, ইকো, গ্রামীণ, কুলিনারি, নদী ও উপকূলীয় পর্যটনের বিকাশ ঘটিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে আধুনিক হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটন আকর্ষণ গড়ে তোলার কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের পর্যটন ব্যবসা এবং নতুন পর্যটন স্টার্টআপের জন্য নীতিগত সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্প্রসারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি বিস্তৃত জাতীয় বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বাংলাদেশে আসা-যাওয়া আরও সহজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, উচ্চমূল্য সংযোজনকারী হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিনোদনকেন্দ্রসহ কম ভূমিনির্ভর সেবাখাতের প্রসারের মাধ্যমে সীমিত ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্য পূরণে পর্যটনশিল্প অবদান রাখবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ নারী, তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে।
তিনি বলেন, পর্যটনের বিকাশ হতে হবে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উপকূলীয় ও প্রাকৃতিক পর্যটনে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সরকার, বেসরকারি খাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণীতে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তিনি।
১ দিন আগে
জাতিসংঘ সফরে ৭ রাষ্ট্র-সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে (ইউএনজিএ) অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ সাত দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই সাত নেতা হলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।
ইউএনজিএতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এসব নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও ব্যবসা সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতবিনিময় হয়েছে।
তারেক রহমান মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ আল সৌদ এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ডের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেইদ রাদ আল হুসেইন ও গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক সুজম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
২ দিন আগে
জাতিসংঘ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পাঁচ দিনের সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই সফরকালে তিনি ইউএনজিএতে তার প্রথম ভাষণ দেন এবং বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় ও বৈশ্বিক অগ্রাধিকার বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ফ্লাইটটি শনিবার রাত ৮টায় দুবাইতে পৌঁছাবে এবং রবিবার রাত ২টায় তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। একই দিন সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জেএফকে বিমানবন্দরে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে বিদায় জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম এবং জাতিসংঘ মিশন ও দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে টার্মিনালের বাইরে প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীদেরও ঢল নামে।
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে তারেক রহমান গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান। তিনি ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন, যার মধ্যে ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর ও শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং আইরিন খান।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন এবং বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
২ দিন আগে
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মনের কথা প্রতিফলিত হয়েছে: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মনের কথা প্রতিফলিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্যকে আমি অভিনন্দন জানাই, আমি ধন্যবাদ জানাই। তিনি সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের অন্তরের কথা প্রতিধ্বনি করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংস্থা জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সেশনে।
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের তিন প্রজন্মের যে ধারাবাহিকতা, সেটার তারেক রহমান প্রতিনিধি, তিন নম্বর প্রতিনিধি। তার বাবা ১৯৮০ সালে বক্তৃতা করেছেন, তার মা ১৯৯২ সালে বক্তৃতা করেছেন। আজকে তাদেরই জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান সেখানে বক্তব্য রেখেছেন।’
রিজভী বলেন, ‘বক্তব্য কী? বক্তব্য অন্য কিছু নয়, বলেছেন—অস্ত্রের বদলে, মারণাস্ত্রের বদলে, পরিবর্তনের হাতিয়ার হোক যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা আর মানবতা।
‘অসাধারণ বক্তব্য সেখানে দিয়েছেন। বলেছেন, প্রত্যেকটি দেশের সাথে প্রত্যেকটি দেশের সমমর্যাদার... সমমর্যাদার সাথে শ্রদ্ধাশীল সম্পর্ক থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা। এটা সারা বিশ্বের দাবি।
রিজভী আরও বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশের মুসলিম... রোহিঙ্গা, যারা এখানে আজকে রিফিউজি হিসেবে আছেন, তাদের মর্যাদার ভিত্তিতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও আরও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ নানাবিধ বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন তারেক রহমান।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘সারা বিশ্বের মানুষ শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ হলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ে, জ্বালানির দাম বাড়ে, গ্যাসের দাম বাড়ে। বিদ্যুৎ থাকে না, মিল-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়, মানুষ বেকার হয়।’
তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা আমার, কোনো ভয় পাবেন না, ঝড় আসুক, বাতাস আসুক। আমরা আজকে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে, আজকে যারা আগুন দিয়ে, গাড়ি পুড়িয়ে বাংলাদেশের যে এখানে এই গণতন্ত্রের যে ধারাকে যারা বন্ধ করতে চাচ্ছে, বন্ধুরা আমার, তার বিরুদ্ধেই জাতীয়তাবাদী ওলামা দল সেলিম রেজা, আবুল হোসেনের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মিছিলের আয়োজন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কোনো পাতানো নির্বাচন নয়, কোনো মিডনাইট নির্বাচন নয়, আমড়া কাঠের নির্বাচন নয়; অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বহুদিনের প্রত্যাশিত জনগণের ভোটে তারেক রহমানের সরকার, বিএনপির জোট সরকার ক্ষমতায়।’
রিজভী বলেন, ‘আমরা মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, সামাজিক সুরক্ষার জন্য বিএনপির সরকার কাজ করছে। বন্ধুরা আমার, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল সেই সরকারেরই একটি অংশ।
‘কাজেই বন্ধুরা আমার, এই দেশে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির, তাদের কোনো অবস্থান নাই।’
তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে উপনিবেশ করতে চায়, যারা বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্র করতে চায়, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এবং বিএনপি এর বিরুদ্ধে রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে, পথের প্রান্তরে কঠিন ব্যারিকেড গড়ে তুলবে।’
৩ দিন আগে