জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের সংকট মোকাবিলায় শিশুদের পরিবেশ সচেতন করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলমান পরিবেশ মেলা প্রাঙ্গণে ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশন (সিএজেএফ) আয়োজিত শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জিয়াউল হক বলেন, একটি শিশুকে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, গাছপালা, নদী-খাল এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে সে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।
সিএজেএফের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী এস এম রায়হান (তনু) এবং গ্রীন সেভার্সের আহসান রনি। উপস্থিত ছিলেন সিএজেএফের সেক্রেটারি জেনারেল রাওমান স্মিতা, নির্বাহী সদস্য মোহসিনা শাওন, মুর্শিদা খাতুন, বোরহান উদ্দিন, মেহেদী হাসান খান তপু ও মহিউদ্দিন খান।
জিয়াউল হক বলেন, ‘আজ যারা অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন, তারা যদি নিজেদের সন্তানদের সামনে পরিবেশবান্ধব আচরণের উদাহরণ তৈরি করেন, তাহলে সেই শিক্ষাই শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি হবে।’
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা মানে শুধু গাছ লাগানো নয়; বরং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি শব্দ দূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অপ্রয়োজনে গাড়ির হর্ন বাজানো, কালো ধোঁয়া নির্গমন এবং পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ সরাসরি জরিমানা করতে পারে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘আজকের ছোট ছোট সচেতনতাই আগামী দিনের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’ তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করতে সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এর আগে, পরিবেশ মেলা প্রাঙ্গণে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক শিশু অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে সনদপত্র ও একটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেরা ১৫ জন শিশুকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে গ্লোবাল ল থিংকার্স সোসাইটি ও জিয়া আর্ট গ্যালারি।
সিএজেএফের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, ‘শিশুদের মাঝে পরিবেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই পরিবার থেকেই পরিবেশ রক্ষার শিক্ষা শুরু করতে হবে।’
সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।