ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার একদিন পর আর রবিবার উদ্ধারকারীরা আরও চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এতে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে দেশটির পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হলে আতঙ্কে বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান। পরে ওই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর অন্তত ২৩৫টি পরাঘাত (আফটার শক) অনুভূত হয়েছে।
রবিবার উদ্ধারকারীরা ফ্লোরেসের ছয়টি এলাকায় ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে ধসে পড়া স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে অভিযান চালান। ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধসে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম হয়ে পড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি অঞ্চল—মাংগারাই, পূর্ব মাংগারাই ও নাগেকেওকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মাউমেরে শহরভিত্তিক সিক্কা অঞ্চলের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অফিসের প্রধান ফাতুর রহমান বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগ ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রামগুলোর সড়ক আবার খুলে দিয়েছি। তবে যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা উদ্ধার তৎপরতায় এখনও বাধা সৃষ্টি করছে।’
দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ১০১ জন আহত হয়েছেন। ৯০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৪৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হয়েছে।