জাপানের পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় রবিবার ভোরে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে টোকিওসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তবে ভূমিকম্পে সুনামির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ইবারাকি অঞ্চলের দক্ষিণে। ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি সৃষ্ট হয়েছে।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮।
জাপানের আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে পাঁচটি অঞ্চলের অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে টোকিওতে ১৫ জন, সাইতামায় ৯ জন, কানাগাওয়ায় ৮ জন, চিবায় ৪ জন ও ইবারাকিতে ১ জন আহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, ভোরে মানুষ কিছু যখন ঘুমিাচ্ছিল, ভূমিকম্পটি তখন আঘাত হানে। সে সময় মানুষ ঘুম ভেঙে আকস্মিক কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়েন। আহতদের বেশিরভাগই ওঠার সময় পড়ে গিয়ে অথবা আসবাবপত্র ও দরজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়েছেন।
জাপানের ইয়োমিউরি সংবাদপত্র জানিয়েছে, কানাগাওয়া অঞ্চলের ইয়োকোহামায় ৮০ বছর বয়সী এক নারী বিছানা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে নিতম্বে আঘাত পেয়েছেন।
এদিকে, টোকিওর পূর্বাঞ্চলের তাইতো এলাকার ২৩ বছর বয়সী এক যুবক আসাহি সংবাদপত্রকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় তিনি কেনাকাটা করছিলেন। এ সময় তিনি ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরই তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন। তিনি বলেন, ভবনটি কাঁপতে থাকায় তাক থেকে পণ্য পড়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের কারণে টোকিও ও নারিতা বিমানবন্দরের সঙ্গে চলাচলকারী এক্সপ্রেস ট্রেন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য স্থানীয় ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়। তবে ভূমিকম্পের মধ্যেও শিনকানসেন বুলেট ট্রেন স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ‘এ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।’
এদিকে, জাপান আবহাওয়া সংস্থা টোকিওর বাসিন্দাদের পরবর্তী এক সপ্তাহে আরেকটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
রবিবারের ভূমিকম্পে টোকিওতেও বেশ জোরালোভাবে কম্পন অনুভূত হয়। সে সময় টোকিওর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। তবে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় মিতো ও সাইতামাসহ আশপাশের শহরগুলোর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে, টোকিওতে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে। এ ভূমিকম্পে এসব স্থাপনার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে নিউক্লিয়ার রেগুলেশন কর্তৃপক্ষ।
গত মাসে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৩৮ জন নিহত ও ৩৬৪ জন আহত হয়েছিলেন।