রাশিয়ায় মস্কোর কাছাকাছি এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলাটিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের এ হামলার ফলে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
মস্কোর স্থানীয় গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকি শহরে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানলে তাতে এক নারী নিহত হন। মস্কো থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরের পোগোরেলকি গ্রামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আরও ২ জন পুরুষ নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোরোবিয়ভ আরও জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘতে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলার ফলে কয়েকটি বহুতল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের কাছে অবস্থানরত ১২ জন এ হামলায় আহত হয়েছেন। তবে হামলায় তেল শোধনাগারের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মেয়র।
এদিকে, রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর দিকে আসা ৮১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, এই ইউক্রেনীয় হামলাটি মস্কোর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে করা সবচেয়ে বড় হামলা।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে তারা মোট ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি ট্রাককে আঘাত করে। এতে এক রুশ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মস্কোর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো সূত্র জানায়, ইউক্রেনের হামলায় বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে এতে সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, একই রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ২৮৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২৭৯টি ড্রোন ধ্বংস করেছে দেশটির বিমানবাহিনী।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দনিপ্রো শহরে ৩ জন, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে ৪ জন এবং সিনেলকোভে ১ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার এ হামলায় তিনটি স্থানেই আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।