যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আবারও নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
এর এক দিন আগেই (শুক্রবার) বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি খুলে দিয়েছিল ইরান। তবে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর পাল্টে যায় তাদের অবস্থান।
ট্রাম্প বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, বিশেষ করে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত অবরোধ ‘পূর্ণমাত্রায় বহাল থাকবে’।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে... এবং এটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তারা আরও জানায়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত প্রণালিতে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এতে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ বৈশ্বিক সরবরাহে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে যখন ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান।
অন্যদিকে, উত্তেজনা বাড়লেও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২২ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময়সীমার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনও একটি চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
চলমান সংঘাতে ইরানে অন্তত ৩ হাজার জন, লেবাননে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন, ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ডজনখানেকের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্যও নিহত হয়েছেন।