ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আপিল শুনানি শেষে জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আজ (শনিবার) আপিল শুনানি নিচ্ছে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে অন্য নির্বাচন কমিশনাররাও অংশ নিয়েছেন।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর তাসনিম জারা বলেন, ‘ইসিতে আমাদের যে আপিল সেটা মঞ্জুর হয়েছে। আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে আসলে খুব একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। দেশে-বিদেশে সবাই অনেক শুভকামনা জানিয়েছেন, অনেক দোয়া করেছেন। যখন রাস্তায় মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলাম অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন, বলছেন দোয়া করছেন। তাদের সকলকে ধন্যবাদ।’
পছন্দের মার্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে যে মার্কা সেটার জন্য আবেদন করতে পারব। আমরা সেই প্রক্রিয়ায় আমাদের পছন্দ ফুটবল মার্কা নিয়ে আবেদন করব। তারপর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত থাকবে। নির্বাচন কমিশনকেও ধন্যবাদ। উনারা আমাদের যুক্তিগুলো শুনেছেন।’
সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বেশ জনপ্রিয় তাসনিম জারা। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপিতে যোগ দেন তিনি, পান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদ। দলটি থেকেই নির্বাচন করার কথা ছিল এই চিকিৎসকের। তবে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট ঘোষণার পরপরই তিনি দল ছাড়েন। এরপর স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন এই নারী।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও বড় ধাক্কা খান এই নেত্রী। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। এরপর আপিল করেছিলেন জারা।
মনোনয়নপত্র বাতিল নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সময় ছিল গত ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর আজ (১০ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে আপিল শুনানি, যা চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। শুনানির প্রথম দিনেই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তাসনিম জারা।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি, যা চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এরপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।