বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা আব্বাস দাবি করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করে (কারসাজি) ক্ষমতায় যেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এ বিষয়ে তিনি নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দেশ এখন ক্রান্তিলগ্নে। আশঙ্কা করছি, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কিছু আসনে জয়লাভ করবে তারা। দুটি রাজনৈতিক দল—একটি বড়, আরেকটি তাদের বাচ্চা। বিএনপিকে হারিয়ে এই দুটি দল যেন ক্ষমতায় আসতে পারে, এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে তারা।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কিছু কিছু ছেলে-পেলে খুব আজেবাজে কথা বলছে। তারা নিজেরা চাঁদাবাজি করে বিএনপির নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে, অথচ সরকার তাদের। তাই এখন পর্যন্ত একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেনি। আরেকটি দল বলছে, আমাদের একবার দেখেন। আমরা বলব, একাত্তরে তোমাদের দেখেছি কত মানুষকে কচুকাটা করেছ।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি বাচ্চা দল নিজেদের জুলাই যোদ্ধা দাবি করেছে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে নানা কথা বলছে। তোরা যা কিছু কর, আমি কিছু কমু না। আমার গলায় সাইনবোর্ড নিয়ে চলতে হবে না যে আমার বাড়ি শাহজাহানপুর, কিন্তু তাদের সারাক্ষণ নিজেদের পরিচয় জাহির করতে হয়। আমরা কোনো ধান্দাবাজ ও কসাইয়ের কাছে দেশ তুলে দেব না।’
‘জিয়ার জন্ম না হলে আধুনিক বাংলাদেশ হতো না ও দেশ স্বাধীনতা পেত না’ উল্লেখ করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘যে যাই বলুক, আমরা আমাদের কথা বলেই যাব। অনেক সেক্টর কমান্ডার ভারত থেকে যুদ্ধ করেছেন। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সিলেটে থেকে যুদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে জিয়া ও খালেদা জিয়ার আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমানেও ক্রান্তিলগ্ন চলছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা অতিক্রম করব।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।