জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘সত্যকে মিথ্যা বানাতে দক্ষ’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। অন্যদিকে ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তা বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্বে করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা কালকে চলে যাওয়ার পরে আমাকে ভালোবেসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি একটি অসত্য কথা এখানে বলে গেছি। আমি এটা জানতে পারলাম।
তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, আসলে আল্লাহ তা’আলা তাকে অপূর্ব দক্ষতা দিয়েছেন। জাস্ট বোতল পরিবর্তন করে মেটেরিয়াল ঠিক রেখে তিনি সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্যই আমি আজ দাঁড়িয়েছি।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় হস্তক্ষেপ করে উল্লেখ করেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার বর্তমান বিষয় নিয়ে হওয়া উচিত, অতীতের কার্যবিবরণী নিয়ে নয়। তিনি বলেন, এই বিষয়টি গতকালই মীমাংসা হয়ে গেছে। এটি নতুন করে তোলার প্রয়োজন নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যদি গতকাল সংসদে উপস্থিত থাকতেন, তবে তখনই তাকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ফ্লোর নিয়ে ডা. রহমানের শব্দচয়নের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিরোধীদলীয় নেতা দুটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেটা হচ্ছে ‘মিথ্যা’। এটা অসত্য বললে আমি আপত্তি করতাম না। আমি অনুরোধ করব, এটি এক্সপাঞ্জ করা হোক।
মন্ত্রী তার আগের দিনের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, তার কালকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম বিরোধীদলীয় নেতা এখানে একটা অসত্য বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। রুল ৬২ অনুসারে বিরোধীদলীয় নেতাদের ওয়াকআউট করার অনেক পরে একজন বেসরকারি সদস্যের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। সেটি আগে পঠিত বা উত্থাপিত হওয়া অসম্ভব। তাই আমি বলেছিলাম ওনার গতকালের বক্তব্য অসত্য ছিল।
জবাবে ডা. রহমান যুক্তি দেখান, বিভ্রান্তিটা এখানে। একই প্রস্তাব একজন স্বতন্ত্র সদস্য এনেছিলেন, যা গতকাল ভিন্ন নামে এসেছে। বিষয়বস্তু একই ছিল কিন্তু শুধু নাম বদলে গেছে। আমি আগেরটি জানতাম বলেই বলেছি, এখানে কোনও ভুল তথ্য দেইনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মিথ্যা’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও স্পিকার তাৎক্ষণিক কোনো রুলিং দেননি। বাংলাদেশের সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ‘মিথ্যা’ শব্দের পরিবর্তে সাধারণত ‘অসত্য’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
এই উত্তেজনা মূলত গত ২৯ মার্চের একটি ঘটনা থেকে শুরু হয়। তখন বিরোধীদলীয় নেতা সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের বৈঠক নিয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে আরেকটি প্রস্তাব আনেন। সেই প্রস্তাবগুলো যখন মুলতবি ছিল, তখন গতকাল (বুধবার) সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের একই সনদ বাস্তবায়নের নতুন একটি মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেন স্পিকার।
বিরোধী দল গত বুধবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে অভিযোগ করেছিল যে, সরকারের অনুকূলে তাদের মূল প্রস্তাবগুলো চেপে রাখা হচ্ছে। নতুন গৃহীত প্রস্তাবের ওপর আগামী রবিবার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।