যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শাহিন কাজী (২৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে শহরের লোন অফিস পাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে শাহিনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আটক শাহিন যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁচড়া রায়পাড়া (তুলোতলা মোড়) এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। তিনি যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী (নিহতের জামাই) বাসেদ আলী পরশ ও তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগর রিমান্ডে থাকাকালীন শাহিন কাজীর নাম উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও শাহিননের নাম প্রকাশ করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দে সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে লোন অফিস পাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহিন কাজী এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। ভাড়াটে খুনী ও পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে সমন্বয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তথ্য রয়েছে। শাহিন কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাদিসহ তিনটি মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব এবং সর্বশেষ শাহিন কাজীসহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অলক কুমার দে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকিদের ধরতে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।