চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের পদত্যাগের দাবিতে তার ভবনে তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়ার পর থেকে ড. শরীফুল তার কক্ষে অবরুদ্ধ রয়েছেন।
এর আগে আজ (সোমবার) সকালে মূল ফটকের তালা ভেঙে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন।
শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানতে পেরে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং ‘তালা তালা তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনরত যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা শবনম নতুন উপাচার্যের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, ‘মুকুট পরলেই রাজা হওয়া যায় না, স্যার। পদে আসীন হওয়া আর সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এক বিষয় নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করে নতুন উপাচার্য কী বার্তা দিতে চেয়েছেন—তা আমাদের বোধগম্য নয়।’
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। পাশাপাশি সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা চলছে।