পদত্যাগ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমানের পদত্যাগ
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান পদত্যাগ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নির্বাহী ক্ষমতা অনুশীলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন।
২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী নিয়োগ পান সায়েদুর রহমান। একই সঙ্গে তাকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া করা হয়।
৬ দিন আগে
এবার এনসিপি ছাড়লেন তাজনূভা জাবীন
এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। পদত্যাগের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ঢাকা-১৭ আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করার কথা ছিল তার।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এই ঘোষণা দেন তিনি।
দীর্ঘ পোস্টের একাংশে পদত্যাগের বিষয়ে তিনি লিখেছেন, আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছি আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না।
তিনি লিখেছেন, এই দল ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোনো সম্মানজনক অপশন নাই। দলের খারাপ সময়ে দল ছেড়ে দিয়ে অরাজনৈতিক, অপরিপক্কতার পরিচয় ইত্যাদি বয়ান দেবে অনেকে। জাস্ট বুলশিট। শুধু এটুকু বলি, আমি বহিরাগত ওখানে, আমাকে প্রতারিত করলে মেইক সেন্স; কিন্তু এক শীর্ষ নেতা আরেক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যে মাইনাসের রাজনীতি করে ওখানে, সেটা ভয়ঙ্কর। এরা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করতে এত ব্যস্ত যে এরা কখনো দেশের জন্য নতুন একটা মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে পারবে না।
তাজনূভা জাবীন বলেন, পুরোনো ফাঁকা বুলির রাজনীতি করতে হলে পুরোনো দলই করতাম, নতুন কেন? এবার আবারও আসি জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে, এনসিপি স্বতন্ত্র স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে যে কারো সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে অসুবিধা ছিল না। সেটা ৫ বছর পরে হতো, ঠিক প্রথম নির্বাচনেই কেন? কিন্তু আর সব অপশনকে ধীরে ধীরে রাজনীতি করে বাদ দেওয়া হয়েছে যাতে জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়া কোনো উপায় না থাকে। সুনিপুণভাবে এখানে এনে অনেককে জিম্মি করা হয়েছে। যাই হোক, এটা কোনো রাজনৈতিক কৌশল না, এটাই পরিকল্পনা।
তিনি বলেন, নিজেরও ভালো লাগছে না এভাবে ছেড়ে যেতে, কিন্ত যারা এই দেশ, এই সংসদই চায় নাই, তাদের সমঝোতায় একদম শুরুতেই এমপি হতে চাওয়া, বা যারা এদের কল্যাণে এমপি হওয়ার জন্য হাভাইত্তার মতো করছে, তাদের নেতৃত্ব মানা আমার পক্ষে ঠিক গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর অসম্ভব। এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি। আমার নেতা হবে মাজাওয়ালা, জুলাই রাজনীতির ধারক। কিন্তু পুরো জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের নাম করে তুলে দিচ্ছে জামায়াতের হাতে।…যেখানে এনসিপিকে বলাই হয় জামায়াতের আরেকটা দোকান, তাহলে কেন এনসিপি আগে নিজের স্বকীয়তা, নিজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াতকে বেছে নিতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে? তিনজন মন্ত্রী ছিল না ক্ষমতায়? পারে নাই তো।
তিনি আরও বলেন, যাই হোক, আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছি, আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না। সবচেয়ে কষ্ট লাগছে আজকেই আম্মু চট্টগ্রাম থেকে আসছে আমার নির্বাচন করা উপলক্ষ্যে, আর আজকেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম। আমি জানি অনেকে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন আমার এই সিদ্ধান্তে। কিন্তু এটাই আমার জন্য সঠিক।
পাঠানো ডোনেশন ফেরত দেবেন জানিয়ে তাজনুভা বলেন, আমি আপনাদের পাঠানো ডোনেশন ফেরত দেব এক এক করে। আমাকে একটু সময় দেবেন। সেটার জন্য বিস্তারিত লিখে আপডেট দেব কিভাবে ধীরে ধীরে ফেরত দেব। প্রত্যেকটা পয়সা ফেরত দেব। আপনাদের সমর্থন, আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
শেষে তিনি বলেছেন, আমি আগে কখনো রাজনীতি করি নাই। জুলাই এ আমার রাজপথে নামা, পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন কিছুর জন্য। আমি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেই চেষ্টা করতে থাকব। আমার আওয়াজ, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য কাজ আরো জোরালোভাবে জারি থাকবে। মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতির জায়গাটা খালিই পড়ে থাকল। আমি ওই জায়গা পূরণ করার চেষ্টায় থাকব। সময় বলে দেবে বাকিটা।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারাও পদত্যাগ করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান,আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে লড়বেন। তার আগে গত বৃহস্পতিবার দলটি থেকে পদত্যাগ করেন এনসিপিতে জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক।
৯ দিন আগে
বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
নেপালে বিক্ষোভ ১৯ জনের মৃত্যুর পর পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ (কে পি) শর্মা অলি।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)।
এর আগে, বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগ করেন।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশটির অন্তত সাতটি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই তরুণ বা জেন-জি প্রজন্মের।
কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে পুলিশের প্রতিবন্ধকতা ভেঙে পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। সে সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করে নেপালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একপর্যায়ে গুলিও চালানো হয়।
আরও পড়ুন: ১৯ মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলল নেপাল সরকার
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে তরুণদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটির সরকার।
গত সপ্তাহে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ও বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নেপাল সরকার। নতুন নিয়মনীতি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ দেখিয়ে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে নিয়ম মানায় টিকটকসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বিধিনিষেধের আওতার বাইরে ছিল। এর প্রতিবাদে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।
১১৯ দিন আগে
শেরপুরে এনসিপির সমন্বয় কমিটি থেকে ১৫ জনের একযোগে পদত্যাগ
শেরপুরের নকলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমন্বয় কমিটির ১৫ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে ৩২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থেকে পদত্যাগ করা ব্যক্তিরা পুরো উপজেলা কমিটিকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পদত্যাগের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ৫ জন যুগ্ম সমন্বয়কারী এবং ১০ জন সদস্য।
যুগ্ম সমন্বয়কারীরা হলেন— মো. মমিনুল ইসলাম আরব, মনিরুল ইসলাম মনির, সিরাজুল ইসলাম সোহাগ, রাশিদুল জামান রাসেল ও জসীম উদ্দীন।
সাধারণ সদস্যরা হলেন— মো. দেলোয়ার হোসেন, সোহেল রানা, জাহাঙ্গীর আলম, সোহাগ মোল্লা, আলামিন মিয়া, রতন মিয়া, নাজমুল হাসান, সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া ও সাদেকুল ইসলাম শান্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনসিপি’র নকলা উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী হুমায়ুন কবির আকাশ একজন অযোগ্য, অনাদর্শিক ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। এ প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ আত্মবিশ্লেষণ শেষে তারা স্বেচ্ছায় ও সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন এবং পুরো উপজেলা কমিটিকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাশাপাশি দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারীর পদত্যাগের ঘোষণা
পদত্যাগের বিষয়ে যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. মমিনুল ইসলাম আরব বলেন, ‘প্রধান সমন্বয়কারী হুমায়ুন কবির আকাশের বিরুদ্ধে শহীদ পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ। একজন অযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে কাজ করা সম্ভব নয় বলেই আমরা সবাই পদত্যাগ করেছি।’
প্রসঙ্গত, গত ১০ আগস্ট কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের স্বাক্ষরে নকলা উপজেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে হুমায়ুন কবির আকাশকে প্রধান সমন্বয়কারী, ১০ জনকে যুগ্ম সমন্বয়কারী ও ২১ জনকে সদস্য করে মোট ৩২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই কমিটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রথম দিন থেকেই পদত্যাগের গুঞ্জন চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিল।
১৩৯ দিন আগে
পদত্যাগ করেছেন ট্র্যাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হাসানুল বান্না
অসুস্থতার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রসিকিউটর হাসানুল বান্না। মঙ্গলবার(১৯ আগস্ট) চিফ প্রসিকিউটরে কাছে তিনি পদত্যাগ পত্র জমা দেন।
গত ১ জানুয়ারি তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম সাংবাদিকদের বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রসিকিউটর হাসানুল বান্না চিফ প্রসিকিউটর বরাবর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন। চিফ প্রসিকিউটর তার সে আবেদন মঞ্জুর করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জন্ডিস ও লিভারজনিত রোগে আক্রান্ত।’
তামীম বলেন, নিয়োগের পর মাত্র কয়েকদিন অফিস করার পরই তার শরীরে এই জটিল রোগ ধরা পড়ে। এর পর থেকেই তিনি ছুটিতে ছিলেন।
পড়ুন: আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলায় পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ
১৪০ দিন আগে
সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করলেন রুশনারা আলী
সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের গৃহহীনতা-বিষয়ক মন্ত্রী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক রুশনারা আলী। পুরোনো ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে ব্যক্তিগত একটি সম্পত্তির ভাড়া রাতারাতি ৭০০ পাউন্ড বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় আবাসন-বিষয়ক দাতব্য সংস্থা ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার কয়েক ঘণ্টা পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন রুশনারা। বাড়িটি বিক্রি না হওয়ার পর বেশি দামে পুনরায় ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ভাড়াটেদের উচ্ছেদের ঘোষিত কারণের মধ্যে বিরোধিতা নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তিনি চাপে ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী। গত বছর লেবার পার্টি সরকার গঠনের পর গৃহায়ন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি হন তিনি।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ‘দ্য আই পেপার’ এর এক প্রতিবেদনে এই বিতর্ক শুরু হয়। তাতে বলা হয়, গত নভেম্বর মাসে রুশনারা আলীর পূর্ব লন্ডনের বাড়িটির ভাড়াটেদের জানানো হয়েছিল, তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি নবায়ন করা হবে না, কারণ বাড়িটি বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে। এরপরই ওই সম্পত্তিটি ভাড়া দিতে পুনরায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তবে আগের ভাড়ার চেয়ে মাসিক ৭০০ পাউন্ড বেশি চাওয়া হয়।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভাড়াটেদের অধিকার-সংক্রান্ত এমন একটি আইন আগামী বছর কার্যকর হওয়ার কথা যেখানে সম্পত্তি বিক্রির জন্য ভাড়াটেদের উচ্ছেদ করে পরে বেশি ভাড়ায় পুনরায় ভাড়া দেওয়া যাবে না। তাছাড়া নির্দিষ্ট মেয়াদে ভাড়ার চুক্তিও করা যাবে না।
আরও পড়ুন: অবশেষে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক
রুশনারা আলীকে নিয়ে এই বিতর্কের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক বলেন, তিনি ‘ভণ্ডামি ও স্বার্থসেবামূলক’ একটি সরকার পরিচালনা করছেন। রুশনারার পদত্যাগকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে রুশনারার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভাড়াটেরা তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি অনুযায়ী ছিলেন। সম্পত্তি বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে থাকতে পারেন বলেও জানানো হয়েছিল, কিন্তু ভাড়াটেরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি এবং সম্পত্তি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন
কিয়ের স্টারমারকে লেখা পদত্যাগপত্রে রুশনারা আলী লিখেছেন, তিনি সব আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলেছেন এবং গুরুত্ব সহকারে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি পদে থাকলে বিষয়টি সরকারের উচ্চাভিলাষী কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেবে। তাই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগের পর রুশনারার শ্রম ও নিবেদনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। তার অনুপস্থিতি হাউজিং, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আশাপ্রকাশ করেন, রুশনারা আলী পেছন থেকে সরকারে সমর্থন অব্যাহত রাখবেন এবং বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনি আসনের জনগণের সেবা করে যাবেন।
এর আগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরেক এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এই ঘটনা সরকারি পদে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার তালিকায় আরেকটি সংযোজন।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে টিউলিপের চিঠি
২০১০ সালে লেবার পার্টির মনোনয়নে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন রুশনারা। গতবছরের নির্বাচনে তিনি টানা পঞ্চমবারের মত পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।
রুশনারার জন্ম ১৯৭৫ সালে সিলেটে। মাত্র সাত বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে চলে যান লন্ডনে।
বাংলাদেশে রুশনারার পৈতৃক নিবাস সিলেটের বিশ্বনাথের বুরকি গ্রামে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও দর্শন পড়েছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। তিনি পরামর্শক সংস্থা ইয়ং ফাউন্ডেশনের সহযোগী পরিচালক।
১৫১ দিন আগে
পদত্যাগের ইচ্ছা নেই, সরকার চাইলে সরে যাব: শিক্ষা উপদেষ্টা
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলে দাবি করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। তবে সরকার চাইলে তিনি পদ ছাড়তেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব কথা জানান। এর আগে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়ে কথা হয়েছে। তাও যদি মনে করা হয় এখানে ব্যত্যয় হয়েছে, আমাকে যেতে বললে আমি অবশ্যই চলে যাব। এখানে আঁকড়ে ধরার বা নিজেকে জাস্টিফাই করার কিছু নেই।’
আরও পড়ুন: এইচএসসির ২২ ও ২৪ জুলাইয়ের স্থগিত পরীক্ষা একই দিনে হবে
রাষ্ট্রীয় শোক পালনের দিনে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে। তারা সচিবালয়ে ঢুকে পড়েছিল। শিক্ষার্থীরা আপনার এবং শিক্ষা সচিবের পদত্যাগ দাবি করেছেন। ইতোমধ্যে শিক্ষা সচিবকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। উপদেষ্টার বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, 'সেটা সরকার বিবেচনা করবে। আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।’
যে অব্যস্থাপনা হয়েছে এরপর আপনার আর দায়িত্বে থাকা উচিত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় রায় আপনারাই দিয়ে দিচ্ছেন। আমার এখানে দেওয়ার তেমন কিছু নেই। কোনো রকমের অব্যবস্থাপনা এখানে হয়নি। সেটাই বোঝাতে চেষ্টা করছি।’
উপদেষ্টা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, ‘সচিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেটা উচ্চতর একটা কমিটির সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। কেন দেওয়া হয়েছে সে উত্তর আমি দিতে পারব না। নিজে থেকে (পদত্যাগ) করার কোনো অভিপ্রায় নেই। এখানে আমার কাজের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে বলে আমি মনে করি না।’
১৬৭ দিন আগে
চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার থেকে সারা দেশে কর্মবিরতির হুমকি এনবিআর কর্মীদের
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানকে তার পদ থেকে অপসারণ না করা হলে শনিবার থেকে সারা দেশের সকল কর, শুল্ক এবং ভ্যাট অফিস সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে সংস্থাটির সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
সোমবার (২৩ জুন) আগারগাঁওয়ে এনবিআর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ তারেক রিকাবদার এবং সাধারণ সম্পাদক সেহেলা সিদ্দিকা এই হুমকি দিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ‘ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছেন এবং দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
তাদের চলমান বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন এনবিআর অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সোমবার এনবিআর সদর দপ্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
আজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলম-ধর্মঘটও পালিত হয়েছে। যেখানে বেশ কয়েকজন প্রতীকী সাদা কাফন পরেও অংশগ্রহণ করেছেন।
কাউন্সিল অভিযোগ করেছে যে, রবিবার আয়কর শাখার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে— যেটিকে তারা 'প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা' বলে অভিহিত করেছে।
এর মধ্যে গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের দুইজন, এনবিআর বোর্ড অফিসের একজন এবং ঢাকা ও কুমিল্লার কর অঞ্চলের আরও দুইজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিল এই বদলিকে ‘প্রতিহিংসামূলক ও নিপীড়নমূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, সোমবারের মধ্যে আদেশ প্রত্যাহার না করা হলে মঙ্গলবার থেকে নতুন করে প্রতিবাদ শুরু হবে।
নতুন কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিষেবা এবং রপ্তানি ব্যতীত সারা দেশের সকল কর, শুল্ক ও ভ্যাট অফিসে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট এবং কলম ধর্মঘট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তারা বলেন, যদি আবার একই রকম বদলি আদেশ জারি করা হয়—তাহলে ২৫ এবং ২৬ জুন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট এবং কলম ধর্মঘটসহ আরও কর্মসূচি পালন করা হবে। এসব কর্মসূচি চলাকালে আন্তর্জাতিক যাত্রী এবং রপ্তানি পরিষেবাও অব্যাহত থাকবে।
কাউন্সিল সতর্ক করে দিয়েছে যে, যদি চেয়ারম্যানকে অপসারণ না করা হয় এবং ২৭ জুনের মধ্যে বদলি আদেশ বাতিল না করা হয়, তাহলে শনিবার থেকে সমস্ত শুল্ক, ভ্যাট এবং আয়কর অফিস ‘সম্পূর্ণ এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ’ শুরু হবে।
আরও পড়ুন: কাফনের কাপড় পরে কলম বিরতিতে এনবিআর কর্মকর্তারা
লিখিত বিবৃতিতে কাউন্সিলের নেতারা বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যান সম্প্রতি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে প্রতিষ্ঠিত রীতি নীতি লঙ্ঘন করে সিনিয়র কমিশনারদের বদলি করেছেন।
একই সাথে, তিনি একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে কর প্রশাসনের একটি সংবেদনশীল পদে নিয়োগ করেছেন, এতে বলা হয়েছে।
তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বহিরাগতদের একত্রিত করার এবং অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের শাস্তি এবং আরও বদলির হুমকি দিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই পদক্ষেপগুলো একটি স্বাভাবিক কর্মপরিবেশকে ব্যাহত করছে এবং রাজস্ব আদায়ের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।’
১৯৭ দিন আগে
কুয়েটে এবার অন্তর্বর্তী উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি শিক্ষকদের
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলীর প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। চলমান সংকট নিরসনে অন্তর্বর্তী উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষকরা।
বুধবার (২১ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় একজন যোগ্য উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার জন্যও সরকারের কাছে দাবি জানায় শিক্ষক সমিতি।
এসব দাবিতে বৃহস্পতিবার (২২ মে) বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষক সমিতি।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থাকা, ছাত্র-শিক্ষক সবার দাবির প্রতি অবজ্ঞা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবকের দায়িত্বে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করায় শিক্ষকেরা মনে করেন, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য কুয়েটের দায়িত্ব পালনে অক্ষম। এজন্য শিক্ষকেরা তার প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। তাই তাকে দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে।’
আরও পড়ুন: কুয়েটের ৩৭ শিক্ষার্থীকে শোকজ, ষষ্ঠ দিনেও ক্লাসে ফেরেননি শিক্ষকরা
তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবিতে তারা ৪ মে থেকে ক্লাস বর্জন ও ১৮ মে থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করে আসছেন। কিন্তু তারপরও উপাচার্য তাদের দাবি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেননি। এর মাধ্যমে উপাচার্য কুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের প্রক্রিয়া আটকে রেখেছেন। ক্যাম্পাসে সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক ফারুক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘উপাচার্য দাপ্তরিক কাজের কথা বলে ১৯ মে ঢাকায় যান। পরদিন ফিরে আসার বলেছিলেন শিক্ষকদের। কিন্তু এখনও তিনি ক্যাম্পাসে ফিরে আসেননি। কুয়েটের যে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন তা-ও ফেরত পাঠিয়েছেন। তিন দিন ধরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও কর্ণপাত করেননি তিনি। উপাচার্য সবার দাবির প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছেন।’
‘তার অনুপস্থিতিতে যাকে রুটিন মাফিক করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি বুধবার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে লিখিত ভাবে উপাচার্যকে জানিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে কুয়েট অভিভাবক শূন্য। এ অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে’, বলেন অধ্যাপক ফারুক হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা বলেন, দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষকদের রাস্তায় নামতে হবে, এটা খুবই দুঃখজনক।
এর আগে, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত উপাচার্যের কক্ষ ও প্রশাসনিক ভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের এক অংশ এসে তাদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
তবে গত ৩ মাস ধরে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ আপাতত কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
তার আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা চলছে।
আরও পড়ুন: কুয়েটের অন্তর্বর্তী উপাচার্য চুয়েটের অধ্যাপক হযরত আলী
পরে শিক্ষার্থীদের এক দফা আন্দোলন ও আমরণ অনশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ এপ্রিল উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অপসারণ করে সরকার। এরপর গত ১ মে অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসেবে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো.হযরত আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ মে থেকে ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ফেরেননি শিক্ষকরা। ছাত্রদের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিতের বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরবেন না বলে জানিয়েছে কুয়েট শিক্ষক সমিতি।
এদিকে, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষার্থী। এখনও শুরু হয়নি নতুন ব্যাচের ক্লাস।
২২৯ দিন আগে
উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পরও অব্যাহত কুয়েটের অনশন
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সি আর আবরার। তবে তার সঙ্গে আলোচনার পরও আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) সকাল পৌনে ১০টার দিকে কুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে যান উপদেষ্টা। সেখানে প্রায় তিনি আধঘণ্টা অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন, তবে কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের প্রাথমিক ছয় দফা দাবি থেকে এখন একমাত্র দাবি ভিসির পদত্যাগ। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কুয়েটের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ
আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে পরিস্থিতি এ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক ঘোষণা চান, যাতে তারা অনশন ভাঙতে পারেন। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি, আইনি প্রক্রিয়া মেনে সমাধান করতে হবে। আমি মনে করি, কিছুটা হলেও তাদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি।’
এ সময় উপদেষ্টা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পানি পান করার এবং অনশন ভাঙার অনুরোধ করলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে বৈশাখের তীব্র গরমে অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনেকের রক্তচাপ কমে গেছে, শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড়। সোমবার (২১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টা থেকে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টার চত্বরে এই অনশন শুরু হয়।
এদিকে কুয়েটের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার (২২৩ এপ্রিল) রাতে ঢাকার শাহবাগে অবরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অবরোধ শেষে আজ (বুধবার) সারাদেশে ক্লাস ক্লাস বর্জনের ডাক দেন তারা।
এছাড়া খুলনা নাগরিক সংগঠন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ, মিছিল ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বুধবার সকাল থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুয়েট ভিসির পদত্যাগ দাবিতে জাবিতে মানববন্ধন
শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অনশন প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের অনুরোধ জানালেও তারা তাদের অবস্থানে অটল। এর আগে, ১৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার ও ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন শুরু করে।
গত ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারির সহিংস ঘটনা ও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না।
২৫৮ দিন আগে