পদত্যাগ
ছাত্র-আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের ঘোষণা
টানা ১৮ মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ।
সোমবার (২৯ জুন) তিনি বলেছেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমি পদত্যাগ করব।’ একই সঙ্গে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলের নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা হয়। ওই রেলস্টেশন দুর্ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভকারীরাসহ বিরোধী দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকে যে রেলস্টেশনে ছাউনি ধসের দুর্ঘটনার জন্য নির্মাণ প্রকল্পে সরকারের ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দায়ী। এরপর চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভুচিচ।
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেদে সরকারপন্থিদের এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আর মাত্র কয়েক সপ্তাহই আমি প্রেসিডেন্ট আছি, এরপর আমি পদত্যাগ করব।’
তবে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং আগাম সংসদ নির্বাচনে তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টিকে (এসএনএস) জয়ী করতে তিনি কাজ করবেন বলেও এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমার প্রস্তাব হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী জোটের নাম হবে “ইউনাইটেড সার্বিয়া”।’
অবশ্য তিনি কবে পদত্যাগ করবেন বা সংসদ ভেঙে দেবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের আগেই আগাম সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পূর্বশর্ত হলো সংসদ ভেঙে দেওয়া।
ভুচিচ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর এর মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ছিল।
এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক অধ্যায়ের শেষ নয়
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি হচ্ছে না। তিনি পদত্যাগ করলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তার দল এসএনএস জয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। অর্থাৎ পদবী যাই হোক না কেন, এসএনএস সরকার গঠন করলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ভুচিচ।
বিশ্লেষকদের মতে, এসএনএস ক্ষমতায় এলে প্রেসিডেন্ট পদেও নিজের ঘনিষ্ঠ কাউকে বসানোর চেষ্টা করবেন তিনি। এর মাধ্যমে পর্দার আড়াল থেকে তিনিই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
এ ব্যাপারে ওয়ারশ-ভিত্তিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত মোটেও ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের শেষ নয়। ইতোমধ্যেই তার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নয়, বরং তিনি আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন।’
তবে শনিবার ভুচিচের পদত্যাগের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে তার সরে দাাঁড়ানোর পেছনে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচের পতনের পর ভুচিচ সরকারবিরোধী আন্দোলনই সার্বিয়ার সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
কয়েক দিন আগে দেশটির নোভি সাদ শহরে শিক্ষার্থীরা রেলস্টেশন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করেন। এ সময় আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানান তারা। এছাড়া গতকাল (রবিবার) দক্ষিণ-মধ্য সার্বিয়ার ক্রালিয়েভো শহরে আরেকটি ছাত্র সমাবেশ হয়েছে।
ছাত্র নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনের কর্মীরা এবং বিরোধী দল উভয়েই জানিয়েছে, তারা নির্বাচনে ভুচিচ ও তার সমর্থিত দল এসএনএসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়।
ছাত্রসমর্থিত সরকারবিরোধী আন্দোলন ‘মুভ-চেঞ্জ’-এর প্রধান সাভো মানোইলোভিচ বলেন, ‘পদত্যাগ এবং আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভুচিচ তার অনিবার্য পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির জনসমর্থন ছাত্র আন্দোলনের প্রতি।’
রাজনৈতিক সমীকরণ
সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রার্থী দেশ। তবে দেশটির সঙ্গে এখনও রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ক্ষমতায় থাকার পুরো সময়জুড়ে ভুচিচকে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে।
সার্বিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ হলো ইইউতে যোগ দেওয়ার আগে দেশটিতে আইনের শাসন আরও শক্তিশালী করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পররাষ্ট্রনীতি ইইউর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
শনিবার ভুচিচ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তার দল দুর্নীতির অবসান ঘটাবে। এছাড়া তিনি পেনশন বৃদ্ধি, দরিদ্রদের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেরও প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের সঙ্গে জড়িত। অবশ্য ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
১০ দিন আগে
লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস, পদত্যাগ করতে পারেন কিয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির ভেতরে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই তার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
স্টারমার যদি পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তাহলে গত এক দশকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে একজন হবেন তিনি।
গত সপ্তাহে বিশেষ নির্বাচনে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিজয় লাভ করেন। এরপর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো সপ্তাহ ধরে চিন্তাভাবনা করেন স্টারমার। ওই নির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্য নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) বার্নহ্যামের পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্টারমারের কার্যালয় পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল রবিবার বলেন, ‘স্টারমার বর্তমানে তার সামনে থাকা রাজনৈতিক বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার জন্য সময় নিচ্ছেন।’
স্টারমার সরে দাঁড়ালে বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্ব পাবেন না কি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত মাসে স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতিবাদে স্বাস্থ্যসচিবের পদ থেকে সরে দাাঁড়ন ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি জানিয়েছিলেন, নেতৃত্বের নির্বাচন হলে তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বিগত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি বড় ধরনের নির্বাচনি বিজয় পেলেও এরপর থেকে সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। ফলে লেবার পার্টির দলীয় আইনপ্রণেতারা পরিস্থিতি পরিবর্তনে চাপ বাড়াতে থাকেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, দুর্বল জনসেবা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট কমানোসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্টারমার সাফল্য দেখাতে পারেননি। এছাড়া কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তও তার জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জেফ্রি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
একদিকে লেবার পার্টি গ্রিন পার্টির কাছে উদারপন্থি ভোটার হারাচ্ছে, অন্যদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে থাকায় নতুন সংকটে পড়েছে দলটি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসার আগেই স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে স্টারমারের ব্যর্থতাই তাকে সম্ভাব্য বিদায়ের পথে নিয়ে এসেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তিনি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছেন: অভিবাসন এবং জ্বালানি। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’
তবে ট্রাম্প গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে এ মন্তব্য করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে কোনো কথপোকথনও হয়নি।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে ট্রাম্প ও স্টারমারের সম্পর্ক ভালো থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা খারাপ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। যুক্তরাজ্য ইরান যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
তবে দেশের ভেতরে নানা সমালোচনার মুখে পড়লেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্টারমার প্রশংসা পেয়েছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ে ইউরোপীয় সমর্থন জোরদারে ভূমিকা রাখা এবং ইরান সংঘাত থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানোর প্রচেষ্টার জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, লেবার পার্টির বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা বার্নহ্যামের পক্ষে থাকলেও কেউ কেউ মনে করেন, স্টারমারের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। লন্ডনের আইনপ্রণেতা নিল কয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একজন নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং এ নিয়ে তৈরি হওয়া গণমাধ্যমের উন্মাদনা আসলেই হতাশাজনক।’
তিনি আরও লেখেন, পরবর্তী নেতা যদি ট্রাম্প, ইরান, ইউক্রেন, পুতিন, মাস্ক, গণমাধ্যমের পক্ষপাত বা অ্যালগরিদমের প্রভাব রাতারাতি বদলাতে না পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও একইভাবে সমালোচনা শুরু হবে।’
১৭ দিন আগে
বিএসইসির চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও সংস্থাটির চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। টানা ২১ মাস দায়িত্ব পালনের পর ব্যক্তিগত কাজে মনোনিবেশের লক্ষ্যে এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাশেদ মাকসুদ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিএসইসির যে চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন তারা হলেন—মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফউদ্দিন।
সরকার আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। এর ফলে কমিশন এখন শূন্য। আইন অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠন করা হয়।
সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কমিশন পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের মেয়াদে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে মহসিন চৌধুরী ২০২৪ সালের ২ জুন, আলী আকবর ২৮ আগস্ট, ফারজানা লালারুখ ৩ সেপ্টেম্বর এবং সাইফউদ্দিন ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই কমিশনার হিসেবে যোগ দেন।
এ বিষয়ে রাশেদ মাকসুদ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম অস্থির সময়ে তিনি ও তার দল কমিশনের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আইনি কাঠামো ও বাজার শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি জানান, তার নেতৃত্বে গত ২১ মাসে মার্জিন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র এবং হুইসেলব্লোয়ার সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট ও করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ে তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন’ এবং ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন’ নামে দুটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কমিশন কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের বিভিন্ন পদ্ধতি বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাজার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও ইস্যুযারদের স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারী সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কমিশন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে দাবি করেন রাশেদ মাকসুদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
পদত্যাগের ঘোষণায় রাশেদ মাকসুদ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, একটি উদ্যমী ও দক্ষ দল কমিশনে গড়ে উঠেছে, যারা ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
এদিকে, তার পদত্যাগের খবরে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গত কয়েক মাস ধরে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছিলেন। একই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সরকার শিগগিরই নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে সূত্র।
৩৫ দিন আগে
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারায় দীপেন দেওয়ান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
এসব কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে তার বর্তমান পদ থেকে সরে দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন।
চিঠিতে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন দীপেন দেওয়ান।
৩৮ দিন আগে
দুদক চেয়ারম্যানসহ দুই কমিশনারের পদত্যাগ
পদত্যাগ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। একইসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী জানান, চেয়ারম্যানের সঙ্গে দুই জন কমিশনারও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, পদত্যাগ করার কারণে আমি আমার গাড়ির ফ্ল্যাগ নামিয়ে যাচ্ছি।
আবদুল মোমেনের কাছে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে না, এটি অফিসে গিয়ে বলব।
এর আগে, সচিবালয়ে আসেন দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার। দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক নম্বর ভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বের হয়ে আসেন।
২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ দেন।
‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’ অনুযায়ী তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
দুদকের আইন অনুযায়ী, কমিশন ৩ জন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত হয়। তাদের মধ্য থেকে একজন হন চেয়ারম্যান। কমিশনারদের থাকে মেয়াদ ৫ বছর।
১২৮ দিন আগে
ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলীর পদত্যাগ
পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
আগামী ২১ নভেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অব্যাহতিপত্রে সই করে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।’
সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তার মধ্যেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মো. সাজ্জাত আলী।
২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিতে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাজ্জাত আলী বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা।
১৩৪ দিন আগে
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা ২ সচিবের পদত্যাগ
প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। এর আগে তিনি প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার আবেদন করা পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) একইভাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। তিনিও পদত্যাগপত্র দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওইদিন শেখ আব্দুর রশীদের স্থলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে দায়িত্ব পাওয়ার ২ দিনের মাথায় তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর ২ বছরের চুক্তিতে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব নিয়োগ পান সাবেক আমলা মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া। সে অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার চাকরির মেয়াদ ছিল।
১৪২ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবের পদত্যাগের আবেদন
প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া পদত্যাগের আবেদন করেছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া এ কর্মকর্তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগের আবেদন করেন। এরপর তার আবেদনপত্রটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন মিয়ার পদত্যাগ করে আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দিলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওইদিনই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। নিজ পদের অতিরিক্ত হিসেবে এ দায়িত্ব দিয়ে সেদিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু দুদিন পর তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দিলেন।
২০২৪ সালের ২ অক্টোবর দুই বছরের চুক্তিতে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক যুগ্ম সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার চাকরির মেয়াদ ছিল।
উল্লেখ্য, নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ পেয়েছেন নাসিমুল গনি। আজ (সোমবার) তাকে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
১৪৩ দিন আগে
ডাকুস নেতা সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগের ঘোষণা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনার দায় স্বীকার করে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্ত জানান।
ওই পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ‘আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ, ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণসহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেওয়া হয়েছে।
‘সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড, সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই। নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ চুরি, সাইকেল চুরিসহ প্রায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।’
তিনি লেখেন, ‘এদিকে ফিমেল স্টুডেন্টরা (নারী শিক্ষার্থী) অভিযোগ জানায়, বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না, হেনস্তার শিকার হয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ডিএমসি-সংলগ্ন দেওয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে, এদিকে ওই দেওয়াল টপকিয়ে ঢোকে বহিরাগতরা। কানে ধরে উঠবস করানোর সময়টা ছিল গত মাসে, সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়। আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে এই কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে (কেন্দ্রীয় মাঠ) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।
‘আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু, যত যাই হোক, আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবিলায়-নিরাপত্তা বিধানে যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ (চালিয়ে যাওয়া) করার সক্ষমতা নেই।’
সর্বমিত্র লেখেন, ‘আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।’
১৬৪ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমানের পদত্যাগ
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান পদত্যাগ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নির্বাহী ক্ষমতা অনুশীলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন।
২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী নিয়োগ পান সায়েদুর রহমান। একই সঙ্গে তাকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া করা হয়।
১৯০ দিন আগে