পদত্যাগ
দাবি পূরণের আশ্বাসে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করল সিজেপি
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও সিজেপির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর ‘সদিচ্ছা’র ভিত্তিতে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করছেন।
তারা জানান, একটি দাবি ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
সৌরভ দাস বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। তাই আমরা আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনস্থল ত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দাবিগুলো মৌলিক ছিল, উগ্র কোনো দাবি ছিল না।’
পরে পুলিশ লাউডস্পিকারে যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়। নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই ছিল সিজেপির প্রধান দাবি।
৪ দিন আগে
বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে মাসব্যাপী উত্তাল ছিল দিল্লিসহ ভারতের প্রধান শহরগুলোর রাজপথ। এরই মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে তৃতীয় ধাপের বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলেও পোস্ট করেছেন তিনি।
এক্সে পোস্ট করা একটি চিঠিতে তিনি লেখেন, এটি (মন্ত্রিত্ব) তার জন্য কখনোই ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয়’ ছিল না।
দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের মূল দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
তার পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দুই দফা আলোচনার পরও মীমাংসা না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত ছিল। আজ শনিবার সকালে সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করলে আর কোনো আলোচনা হবে না।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো ছিল—ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
৪ দিন আগে
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর মধ্য দিয়ে ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হতে যাওয়া তার পাঁচ বছরের মেয়াদকালের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই দায়িত্ব থেকে বিদায় নিলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানান, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, দেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আজ (শুক্রবার) বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটের দিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় গাড়ি এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) দুটি প্রোটোকল স্কর্ট জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন শিগগিরই জাতীয় সংসদ ভবনে একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন।
পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ। তিনি লেখেন, ‘আমি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে।’
তিনি ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামের এক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই।
‘রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’
দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজন—উল্লেখ করে সাহাবুদ্দিন জানান, ‘এমতাবস্থায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’
সাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রেখে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই সময়ে দেশ এক গভীর সাংবিধানিক ও শাসনতান্ত্রিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি।’
তিনি জানান, সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করে। সেই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলই সংসদে গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে।
সাহাবুদ্দিন আরও জানান, তার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে চলা গুঞ্জন ও জল্পনার মধ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন তার নির্ধারিত থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দুপুরে দেশে ফেরেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ খালি হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। জাতীয় সংসদ বিলুপ্তি এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলাকালেও সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদে বহাল ছিলেন।
আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন ও নেতৃত্ব বঙ্গভবন ঘেরাওসহ সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে সরানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংসদীয় আসন পায়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হওয়ায় সাংবিধানিক নিয়ম মেনে খুব দ্রুতই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
৫ দিন আগে
থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ শুক্রবার দেশে ফিরেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন।
এর আগে, গত ১৯ জুলাই স্পিকার থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন।
পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে সফর সংক্ষিপ্ত করে তিনি আগেই দেশে ফেরেন।
৫ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে ‘গুজবে’ কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলা ‘গুজবে’ কান না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দিনব্যাপী ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সংক্রান্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দেন। এ সময় তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে বিএনপি সব সময় গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি আস্থাশীল এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও গণজবাবদিহিতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
৫ দিন আগে
কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার তারিক চয়নের পদত্যাগ
ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দেখিয়ে ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব মো. তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে তারিক চয়ন পদত্যাগ করেছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
পোস্টে তারিক চয়ন লেখেন, ‘কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন থেকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণে পদত্যাগ করলাম।’
তিনি বলেন, ‘দেড় বছর শহরটিতে সুন্দর সময় কাটিয়েছি। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি।’
পোস্টে কলকাতায় তার পেশাগত জীবন, অফিস, সহকর্মী ও বন্ধুদের নিয়ে ভবিষ্যতে একটি বই লেখার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
তিনি লেখেন, ‘পেশাগত জীবন, অফিস, সহকর্মী এবং কলকাতার বন্ধুদের নিয়ে ভবিষ্যতে বই লেখার ইচ্ছে আছে। সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ্ আমাদের সকলের সহায় হোন।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর তারিক চয়নকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বতী সরকার।
এরপর তার দায়িত্বের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়। গত বছরের ২৬ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে বলা হয়েছিল, পূর্ববর্তী চুক্তির ধারাবাহিকতায় ১১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত এ নতুন নিয়োগ কার্যকর হবে।
কূটনৈতিক মিশনে যোগদানের আগে তারিক সাংবাদিকতা করতেন। তিনি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশন, দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে কলাম লিখেও খ্যাতি অর্জন করেন।
কর্মক্ষেত্রে এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি মালয়েশিয়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’, পশ্চিমবঙ্গে ‘মৈত্রী সম্মাননা’ ও ‘সেরা বাঙালি সম্মাননা’ লাভ করেছেন।
৭ দিন আগে
ছাত্র-আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের ঘোষণা
টানা ১৮ মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ।
সোমবার (২৯ জুন) তিনি বলেছেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমি পদত্যাগ করব।’ একই সঙ্গে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলের নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা হয়। ওই রেলস্টেশন দুর্ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভকারীরাসহ বিরোধী দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকে যে রেলস্টেশনে ছাউনি ধসের দুর্ঘটনার জন্য নির্মাণ প্রকল্পে সরকারের ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দায়ী। এরপর চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভুচিচ।
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেদে সরকারপন্থিদের এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আর মাত্র কয়েক সপ্তাহই আমি প্রেসিডেন্ট আছি, এরপর আমি পদত্যাগ করব।’
তবে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং আগাম সংসদ নির্বাচনে তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টিকে (এসএনএস) জয়ী করতে তিনি কাজ করবেন বলেও এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমার প্রস্তাব হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী জোটের নাম হবে “ইউনাইটেড সার্বিয়া”।’
অবশ্য তিনি কবে পদত্যাগ করবেন বা সংসদ ভেঙে দেবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের আগেই আগাম সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পূর্বশর্ত হলো সংসদ ভেঙে দেওয়া।
ভুচিচ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর এর মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ছিল।
এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক অধ্যায়ের শেষ নয়
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি হচ্ছে না। তিনি পদত্যাগ করলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তার দল এসএনএস জয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। অর্থাৎ পদবী যাই হোক না কেন, এসএনএস সরকার গঠন করলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ভুচিচ।
বিশ্লেষকদের মতে, এসএনএস ক্ষমতায় এলে প্রেসিডেন্ট পদেও নিজের ঘনিষ্ঠ কাউকে বসানোর চেষ্টা করবেন তিনি। এর মাধ্যমে পর্দার আড়াল থেকে তিনিই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
এ ব্যাপারে ওয়ারশ-ভিত্তিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত মোটেও ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের শেষ নয়। ইতোমধ্যেই তার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নয়, বরং তিনি আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন।’
তবে শনিবার ভুচিচের পদত্যাগের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে তার সরে দাাঁড়ানোর পেছনে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচের পতনের পর ভুচিচ সরকারবিরোধী আন্দোলনই সার্বিয়ার সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
কয়েক দিন আগে দেশটির নোভি সাদ শহরে শিক্ষার্থীরা রেলস্টেশন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করেন। এ সময় আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানান তারা। এছাড়া গতকাল (রবিবার) দক্ষিণ-মধ্য সার্বিয়ার ক্রালিয়েভো শহরে আরেকটি ছাত্র সমাবেশ হয়েছে।
ছাত্র নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনের কর্মীরা এবং বিরোধী দল উভয়েই জানিয়েছে, তারা নির্বাচনে ভুচিচ ও তার সমর্থিত দল এসএনএসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়।
ছাত্রসমর্থিত সরকারবিরোধী আন্দোলন ‘মুভ-চেঞ্জ’-এর প্রধান সাভো মানোইলোভিচ বলেন, ‘পদত্যাগ এবং আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভুচিচ তার অনিবার্য পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির জনসমর্থন ছাত্র আন্দোলনের প্রতি।’
রাজনৈতিক সমীকরণ
সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রার্থী দেশ। তবে দেশটির সঙ্গে এখনও রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ক্ষমতায় থাকার পুরো সময়জুড়ে ভুচিচকে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে।
সার্বিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ হলো ইইউতে যোগ দেওয়ার আগে দেশটিতে আইনের শাসন আরও শক্তিশালী করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পররাষ্ট্রনীতি ইইউর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
শনিবার ভুচিচ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তার দল দুর্নীতির অবসান ঘটাবে। এছাড়া তিনি পেনশন বৃদ্ধি, দরিদ্রদের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেরও প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের সঙ্গে জড়িত। অবশ্য ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
৩০ দিন আগে
লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস, পদত্যাগ করতে পারেন কিয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির ভেতরে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই তার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
স্টারমার যদি পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তাহলে গত এক দশকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে একজন হবেন তিনি।
গত সপ্তাহে বিশেষ নির্বাচনে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিজয় লাভ করেন। এরপর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো সপ্তাহ ধরে চিন্তাভাবনা করেন স্টারমার। ওই নির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্য নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) বার্নহ্যামের পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্টারমারের কার্যালয় পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল রবিবার বলেন, ‘স্টারমার বর্তমানে তার সামনে থাকা রাজনৈতিক বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার জন্য সময় নিচ্ছেন।’
স্টারমার সরে দাঁড়ালে বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্ব পাবেন না কি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত মাসে স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতিবাদে স্বাস্থ্যসচিবের পদ থেকে সরে দাাঁড়ন ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি জানিয়েছিলেন, নেতৃত্বের নির্বাচন হলে তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বিগত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি বড় ধরনের নির্বাচনি বিজয় পেলেও এরপর থেকে সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। ফলে লেবার পার্টির দলীয় আইনপ্রণেতারা পরিস্থিতি পরিবর্তনে চাপ বাড়াতে থাকেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, দুর্বল জনসেবা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট কমানোসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্টারমার সাফল্য দেখাতে পারেননি। এছাড়া কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তও তার জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জেফ্রি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
একদিকে লেবার পার্টি গ্রিন পার্টির কাছে উদারপন্থি ভোটার হারাচ্ছে, অন্যদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে থাকায় নতুন সংকটে পড়েছে দলটি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসার আগেই স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে স্টারমারের ব্যর্থতাই তাকে সম্ভাব্য বিদায়ের পথে নিয়ে এসেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তিনি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছেন: অভিবাসন এবং জ্বালানি। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’
তবে ট্রাম্প গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে এ মন্তব্য করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে কোনো কথপোকথনও হয়নি।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে ট্রাম্প ও স্টারমারের সম্পর্ক ভালো থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা খারাপ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। যুক্তরাজ্য ইরান যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
তবে দেশের ভেতরে নানা সমালোচনার মুখে পড়লেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্টারমার প্রশংসা পেয়েছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ে ইউরোপীয় সমর্থন জোরদারে ভূমিকা রাখা এবং ইরান সংঘাত থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানোর প্রচেষ্টার জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, লেবার পার্টির বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা বার্নহ্যামের পক্ষে থাকলেও কেউ কেউ মনে করেন, স্টারমারের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। লন্ডনের আইনপ্রণেতা নিল কয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একজন নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং এ নিয়ে তৈরি হওয়া গণমাধ্যমের উন্মাদনা আসলেই হতাশাজনক।’
তিনি আরও লেখেন, পরবর্তী নেতা যদি ট্রাম্প, ইরান, ইউক্রেন, পুতিন, মাস্ক, গণমাধ্যমের পক্ষপাত বা অ্যালগরিদমের প্রভাব রাতারাতি বদলাতে না পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও একইভাবে সমালোচনা শুরু হবে।’
৩৭ দিন আগে
বিএসইসির চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও সংস্থাটির চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। টানা ২১ মাস দায়িত্ব পালনের পর ব্যক্তিগত কাজে মনোনিবেশের লক্ষ্যে এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাশেদ মাকসুদ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিএসইসির যে চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন তারা হলেন—মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফউদ্দিন।
সরকার আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। এর ফলে কমিশন এখন শূন্য। আইন অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠন করা হয়।
সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কমিশন পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের মেয়াদে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে মহসিন চৌধুরী ২০২৪ সালের ২ জুন, আলী আকবর ২৮ আগস্ট, ফারজানা লালারুখ ৩ সেপ্টেম্বর এবং সাইফউদ্দিন ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই কমিশনার হিসেবে যোগ দেন।
এ বিষয়ে রাশেদ মাকসুদ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম অস্থির সময়ে তিনি ও তার দল কমিশনের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আইনি কাঠামো ও বাজার শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি জানান, তার নেতৃত্বে গত ২১ মাসে মার্জিন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র এবং হুইসেলব্লোয়ার সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট ও করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ে তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন’ এবং ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন’ নামে দুটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কমিশন কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের বিভিন্ন পদ্ধতি বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাজার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও ইস্যুযারদের স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারী সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কমিশন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে দাবি করেন রাশেদ মাকসুদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
পদত্যাগের ঘোষণায় রাশেদ মাকসুদ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, একটি উদ্যমী ও দক্ষ দল কমিশনে গড়ে উঠেছে, যারা ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
এদিকে, তার পদত্যাগের খবরে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গত কয়েক মাস ধরে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছিলেন। একই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সরকার শিগগিরই নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে সূত্র।
৫৫ দিন আগে
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারায় দীপেন দেওয়ান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
এসব কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে তার বর্তমান পদ থেকে সরে দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন।
চিঠিতে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন দীপেন দেওয়ান।
৫৮ দিন আগে