গাইবান্ধায় নেশার টাকা জোগাড় করতে ১১ মাস বয়সী মেয়েসন্তানকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগে বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেই সঙ্গে প্রায় দুই মাস পর শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া গ্রামের সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শিশুর বাবা হামিদুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ, মোরশেদা খাতুন ও জেসমিন আকতার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা পৌর এলাকার দক্ষিণ ধানঘরা গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে গত ২২ জুলাই শিশুসন্তান জান্নাতিকে বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে স্ত্রী রোমানা আকতার গাইবান্ধায় আদালতের কাছে তার শিশু সন্তান উদ্ধারের আবেদন করেন। এরপর গত ১৪ আগস্ট বিচারক নিশাত তাজনীন বিষয়টি আমলে নিয়ে ওই শিশুকে উদ্ধারের জন্য গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন।
আদালতের আদেশের সূত্র ধরে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে নামে। পরে তারা গতকাল (রবিবার) রাতে ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া গ্রামের সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় শিশু বিক্রির সঙ্গে জড়িত শিশুটির বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ আজ (সোমবার) সংবাদ সম্মেলনের পর সকালে শিশুটিকে তার মা রোমানার কোলে তুলে দেয়।
মা তার মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে বলেন, ‘আমি এমন বর্বর স্বামীকে চাই না। তার শাস্তি চাই। যে স্বামী তার নিজের কোলের শিশুকে বিক্রি করতে পারে সে অনেক কিছু করতে পারে। সে এখন আমাদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। তাই প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক।’
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফ আল রাজিব জানান, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে শিশু জান্নাতিকে উদ্ধার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।