বন্যার পানিতে গত পাঁচ দিন রেল লাইন ডুবে থাকার কারণে বন্ধ থাকা কক্সবাজার রুটে রেল চলাচল ফের শুরু হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের উদ্দেশে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেছে পর্যটক এক্সপ্রেস।
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ বিস্তীর্ণ জনপদ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন দুর্গত মানুষ।
তবে আগের দিনের তুলনায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত শিশুসহ নিহত হয়েছেন ১২ জন আর আহত হয়েছেন ৫০ জন।
সরকারের পক্ষ থেকে এমপি, মন্ত্রীরা জেলা ও মহানগরীতে ত্রাণ বিতরণ করছেন। নগরীতে ত্রাণ বিতরণকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি হারানো লোকজনকে বিকল্প জায়গায় বসবাসের ব্যবস্থা করবে সরকার।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। সকাল ১০ টার পর আগের চেয়ে বৃষ্টির দাপটও কমেছে।
প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জানায়, বৃষ্টি কমার কারণে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীও।
প্রশাসন সত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ উপজেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক রাস্তা–ঘাট এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানির তোড়ে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। পাহাড়ি ঢলের পানিতে শঙ্খনদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে উপজেলার বিভিন্ন অংশে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে থেকে পানি সরে যাওয়ায় দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম–বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া সত্যপীরের মাজার এলাকায় এখনো সড়কের ওপর পানি থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তবে পানি কমতে শুরু করলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বহু মানুষের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি। বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যাভাব ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন তারা।
এদিকে, আকবর শাহ থানার উত্তর পাহাড়তলী এলাকায় দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, সাঈদ আল নোমান এমপি।
এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সরকার সমিন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বন্যাদূর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য। আমরা দুর্গতদের পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করব।