চাঁদপুরে ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে নদীতে নামছেন জেলেরা। মেঘনা পাড়ের জেলেপাড়াগুলো এখন মাছ ধরার প্রস্তুতিতে সরগরম। ইতোমধ্যে তারা ইলিশ ধরার সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার পুরানবাজার হরিসভা, পশ্চিম শ্রীরামদী, রণগোয়াল, দোকানঘর, হানারচর, বহরিয়া, ইব্রাহীমপুর, হরিণা ঘাট এবং শহরের উত্তরের আনন্দবাজার ও বিষ্ণুপুর এলাকার জেলেপাড়া ঘুরে জেলেদের ইলিশ ধরার প্রস্তুতি দেখা যায়।
জেলেদের কেউ জাল মেরামত, কেউ নৌকা সংস্কার এবং অনেকে মিলে নৌকা নদীতে নামানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
এর আগে, চাঁদপুরে ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার।
আনন্দবাজার এলাকার জেলে মো. ইসমাইল খাঁ ও মোহাম্মদ হোসেনসহ কয়েকজন জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চললেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন আবার নদীতে নামার জন্য জাল ও নৌকা প্রস্তুত করেছি।
বহরিয়া এলাকার জেলে খোরশেদ আলম এবং লক্ষ্মীপুর এলাকার জেলে আনোয়ার হোসেন গাজী বলেন, নৌকা ও জাল মেরামত করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এখন ইলিশ পাওয়া গেলে ঋণ শোধ করা যাবে।
একই এলাকার জেলে ফারুক গাজী বলেন, আমিও ইলিশ পাওয়ার আশায় ঋণ করে নৌকা প্রস্তুত করেছি। আমার নৌকায় ৭ জন কাজ করেন। ইলিশ পেলে আমাদের সংসার চলবে, না হয় কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। কারণ সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে তাতে সংসার চলে না। নগদ টাকা দিলে কিছুটা উপকার হতো। অন্তত মাস প্রতি জেলেদের বিকাশে ১০ হাজার করে টাকা দিলে কিছুটা পোষাত। আমাদের সরকারের প্রতি আকুল আবেদন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকার আগামীতে এটা নিয়ে যেন ভাবেন।
এদিকে, জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা বলেন, এ বছর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হওয়ায় ইলিশ উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে।
ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান ইউএনবিকে বলেন, আজকের জাটকাই আগামী দিনের বড় ইলিশ। যদি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জাটকা সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে আগামীতে দেশে পৌনে ৬ লাখ টন ইলিশ বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করা যায়।
জেলেদের অবৈধভাবে ইলিশ ধরার ব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় আমরা দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করেছি। যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরেছেন এমন প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে এই অভিযানের ফলে যেমন জাটকা রক্ষা পেয়েছে, তেমনি জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বেড়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার চার মাসে ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি ভিজিএফ চাল দিয়েছে। পাশাপাশি এ বছরই প্রথম জাটকাপ্রবণ এলাকার জেলেদের চালের পাশাপাশি অন্যান্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ওমর ফারুক বলেন, পদ্মা-মেঘনার জাটকাপ্রবণ এলাকার জেলেদের জন্য এবার বিশেষ খাদ্য সহায়তার বরাদ্দ এসেছে। আগে কখনও এ রকম বরাদ্দ আসেনি। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থপনা প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৮ হাজার জেলের জন্য চালের পাশাপাশি বিশেষ খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ এসেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এসব খাদ্য সহায়তা জেলেদের হাতে পৌঁছাবে।
বিশেষ এই খাদ্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে— জনপ্রতি ৫ লিটার সয়াবিন, ১২ কেজি আটা, ১৬ কেজি আলু, ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি লবণ ও ৮ কেজি মসুর ডাল।