চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বালুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—কুমিল্লার সদর দক্ষিণের সদরের বালুবাহী ট্রাকটির চালক আবদুল ওহাব (৪৫), বাসের চালক গাইবান্ধার কামাল (৪০) ও বাসচালকের সহকারী বাগেরহাটের শোভন (৩৫)।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনায় বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, নোয়াখালী থেকে যশোরগামী আল-আরাফা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেন। আহতদের উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার ইউএনবিকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আহত ১৮ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা এই হাসপাতালে চলছে।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।