ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক নারীকে নিজের জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করেছেন এক পুলিশ সদস্য। পৌর এলাকার শিমরাইল সেতুর কাছে ওই নারী নদীতে ঝাঁপ দিলে পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল অমিত হাসানও পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে তাকে উদ্ধার করেন। পরে একটি নৌকার সহায়তায় তাকে তীরে এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শিমরাইল কান্দি এলাকার প্রথম সেতুতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৪ বছর বয়সী ওই নারী বিবাহিত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সেই অভিমান থেকে গতরাতে তিনি সেতু থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন।
এ সময় এক ব্যাচমেটকে নিয়ে ঘুরতে বের হওয়া কনস্টেবল অমিত হাসান বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে ওই নারীকে উদ্ধার করেন তিনি। একটি নৌকার সহায়তায় তাকে নদীর তীরে এনে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী জানান, ওই নারী সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর কনস্টেবল অমিত হাসান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে লাফিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে যান। তিনি ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজ নেন।
ওই নারীর মা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগতসার গ্রামে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
প্রাথমিকভাবে ওই নারী আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিদর্শক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘মেয়েটি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আমাদের এক পুলিশ সদস্য পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে রাত ১২টায় তাকে তার মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’
কনস্টেবল অমিত হাসানের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই নারীকে উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।