ফরিদপুরে সাত দিন ধরে নিখোঁজ থাকা কবিতা আক্তার নামে এক সাত বছর বয়সী মেয়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে বাখুন্ডা রেল স্টেশন-সংলগ্ন কলাবাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
কবিতা বাখুন্ডা আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা বাকা বিশ্বাসের মেয়ে ছিল। পাঁচ বোনের মধ্যে কবিতা ছিল সবার ছোট। শিশুটি বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে কবিতা নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় শিশুটির মা তাহমিনা বেগম গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্থানীয়রা জানান, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহটি প্রথম দেখতে পান ওই এলাকার বাসিন্দা সোনা শেখ ও দুলাল মিয়া নামে দুই শ্রমিক। তারা বাখুন্ডা রেলস্টেশনের পাশে অবস্থিত কলাবাগানে পড়ে যাওয়া একটি কলাগাছ অপসারণ করতে গিয়ে প্রথমে দুর্গন্ধ এবং তার সূত্র ধরে মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) সদস্যকে জানান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃতদেহের পরণে কোনো পোশাক ছিল না। সালোয়ার দিয়ে শিশুটির মুখ বাধা ছিল। মরদেহটি উপুড় করা অবস্থায় পড়ে ছিল।
গেরদা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাকারিয়া খান জানান, সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকরা কাজ করতে গেলে তারা দেখেন, বাগানে একটি কলাগাছ পড়ে আছে। সেটি অপসারণ করতে গিয়ে তারা গন্ধ পান। পরে মরদেহটি দেখতে পেয়ে তারা আমাকে জানান।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশকে খবর দেই। এরপর নিখোঁজ শিশুর মা ও বাবা ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে শনাক্ত করেন।
মরদেহটি উদ্ধার করেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পীযূষ কান্তি হালদার। তিনি বলেন, মরদেহটি পঁচে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। তা দেখে ধারণা করা যায়, যেদিন শিশুটি নিখোঁজ হয়, ওই দিনই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে গলিত ও বিকৃত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিশুটির পোশাক দেখে তার বাবা-মা তাকে শনাক্ত করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।
তিনি বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।