পিরোজপুর সদর উপজেলায় ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচারক এস এম মনিরুজ্জামান এ রায় দেন।
আসামিরা হলেন: নাজিরপুর উপজেলা চৌঠাই মহল এলাকার মিলন শেখ (২৮), পিরোজপুর সদর উপজেলার অলি গাজী (২৪) এবং নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া এলাকার সাহেব গাজীর পুত্র মারুফ গাজী (২৫) ।
মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য দুই আসামি অলি গাজী ও মারুফ গাজীকে কিশোরীকে অপহরণের দায়ে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
১৩ বছরের কিশোরী ওই ভুক্তভোগী পিরোজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম কদমতলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে কদমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নাজিরপুরের চৌঠাই মহল এলাকায় মামাবাড়ি থেকে পিরোজপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সুযোগ বুঝে অলি গাজী ও মারুফ গাজী তাকে অপহরণ করে কৃষ্ণনগর এলাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে তারা ভুক্তভোগীকে খুলনায় মিলন শেখের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর মিলন বিয়ের নাটক সাজিয়ে কিশোরীটিকে মুসলিম পরিচয়ে গোপালগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি কিশোরীটিকে ২০ থেকে ২২ দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে একপর্যায়ে কিশোরী সুযোগ পেয়ে পাশের বাসা থেকে তার বাবাকে ফোন করলে পুলিশ নিয়ে তার বাবা সেখানে উপস্থিত হয়। পরে তার বাবা বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার দাবি, তার মেয়েকে অপহরণ করে অলি গাজী ও মারুফ গাজী খুলনায় নিয়ে মিলন শেখের হাতে তুলে দেন। মিলন শেখ বিয়ের নাটক সাজিয়ে তার মেয়েকে আটকে রেখেছিলেন। মিলন শেখসহ বাকি ২ আসামির উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট শাজাহান সরদার বলেন, ‘কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার রায় পেয়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি।’