সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে পরিচয়। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেম। প্রেমের পরিণতি দিতে বিয়ে করতে বগুড়া থেকে কুষ্টিয়ায় ছুটে এসে মেয়ের বাড়িতে অনশনে বসেন যুবক। মেয়ে এবং মেয়ের পরিবার একপর্যায়ে বিয়েতে রাজি হলেও ছেলের পরিবার রাজি না হওয়ায় অভিমানে বিষপান করে এখন হাসাপাতালে ভর্তি ওই যুবক।
চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষ উত্তোলন করেছেন। বর্তমানে ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে এখন দুই পরিবারের কেউই ওই যুবকের আর কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকায়।
যুবকের নাম ইলিয়াস সরদার। বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের নিচ্চুনপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর ধরে টিকটক এবং ফেসবুকের মাধ্যমে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ইলিয়াসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকায় এক তরুণীর। দুজনের বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ইলিয়াস চলে আসেন মেয়ের বাড়িতে। এসে বিয়ের দাবি জানালে একপর্যায়ে মেয়ের পরিবার বিয়ে দিতে রাজি হলেও ছেলের পরিবার মানতে নারাজ। উল্টো তার বাবা-মা তাকে বকাবকি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিমানে ওই যুবক বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ইলিয়াস সরদার বলেন, মেয়ে রাজি, আমিও রাজি, মেয়ের পরিবারও রাজি, কিন্তু আমার পরিবার থেকে কেউ আসছে না, তাই বিয়েও হচ্ছে না। আমার বাবা-মা না আসায় আমাদের বিয়ে হচ্ছে না। এখন আমি এখানেই থেকে যাব।
বাবা-মা বকাবকি করার কারণেই যে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, সেকথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।
মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিযূষ কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ১১ মে রাতে ইলিয়াস নামের এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষ বের করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত, তবে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
আজ (বুধবার) সকাল পর্যন্ত ওই যুবকের পরিবার থেকে কেউ হাসপাতালে আসেনি বলেও জানান এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।