ফেনীর পরশুরামে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে ফারজানা আক্তার প্রিয়া (১৪) নামের এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেইট-সংলগ্ন কাদের টাওয়ারের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শর্যা জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত প্রিয়া নোয়াখালী জেলার সেবারহাটের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তবে পুলিশ দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও প্রিয়ার মা-বাবা কিংবা কেনো স্বজনের খোঁজ পাননি।
প্রিয়া গত তিন বছর ধরে উপজেলার মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করছেন।
শিক্ষিকা জাহেদা উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন তালুকদারের স্ত্রী। তিনি তার ৮ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে একা থাকেন। তার স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। পুলিশ জাহেদাকে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই বাসার একটি কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে প্রিয়া আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে ‘কে+পি’ লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে প্রিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রিয়ার বাবা-মা দুজনের মধ্যে বিচ্ছেদের পর দুইজন বিয়ে করে নিরুদ্দেশ হন। প্রিয়ার নানি এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই শিক্ষিকার বাসায় কাজে দেন। এর আগেও একবার প্রিয়া শিক্ষিকার বাসা ছেড়ে পালিয়ে গেলে পরশুরাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন জাহেদা। খোঁজ পেয়ে তাকে আবার জোরপুর্বক বাসায় কাজে নিয়ে আসেন তিনি। প্রিয়া মুঠোফোন ব্যবহার করতেন না বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, স্কুল শিক্ষিকা গৃহকর্মীকে বিভিন্ন অজুহাতে বকাবকি করতেন। বুধবার রাতেও বকাবকি করায় বাসা থেকে বের হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত কাদের টাওয়ারের ছাদে ছিলেন।
জাহেদা আক্তার বলেন, প্রিয়াকে একা বাসায় রেখে আমি সকালে স্কুলে চলে যাই। বিকেলে বাসায় এসে অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় টাওয়ারের নিজস্ব কর্মচারীর সহযোগিতায় দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে তার মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ এসে রাত ৯টার দিকে তার মরদেহ উদ্বার করে।
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো আশ্রাফুল ইসলাম বরেন, ধারণা করা হচ্ছে এটা একটা আত্মহত্যা। তদন্ত করে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।