ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে এক নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
চুরি হওয়া নবজাতকটি জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের শামীম মিয়া ও মরিয়ম বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান।
শিশুটির পরিবার জানায়, গত সোমবার প্রসবব্যথা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন মরিয়ম বেগম। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী বোরকা পরিহিত এক নারী অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয়ে মরিয়ম ও তার মায়ের সঙ্গে পরিচিত হন। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন ওই নারী।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, মরিয়মের পেটে ব্যথা অনুভূত হলে সহযোগিতার কথা বলে নবজাতককে কোলে নেন ওই নারী। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে নিয়ে কক্ষের দরজার কাছে যান তিনি। এ সময় মরিয়ম তাকে কক্ষের ভেতরে আসতে বলেন। কিন্তু তার কথা উপেক্ষা করে মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান ওই নারী।
এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পাননি। খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই নারীকে শিশুটি নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।
নবজাতকের নানি মমতাজ বেগম বলেন, দুপুরে ওই নারী এসে অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি আমাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে মরিয়মের পেটে ব্যথা শুরু হলে তিনি শিশুটিকে কোলে নেন। এরপর তিনি মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে চলে যান।
শিশুটির মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম পুত্রসন্তান হয়েছে। ওই নারী প্রতারণা করে আমার শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি আমার বুকের ধনকে ফেরত চাই। সরকার ও পুলিশ যেন দ্রুত উদ্ধার করে আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেয়। ওই নারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’
শিশুটির বাবা শামীম মিয়া বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই। সন্তানকে না নিয়ে হাসপাতাল থেকে যাব না। সরকারি হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি হয়ে যাবে, এটা কী করে হয়? এখানে নিরাপত্তা কোথায়?’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ‘হাসপাতালে সবসময় রোগীদের স্বজনদের অতিরিক্ত ভিড় ও চাপ থাকে। শিশু চুরির খবর আমরা পেয়েছি। পরিবারের লোকজনের অসচেতনতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক আনসার নিয়োজিত থাকলে সুবিধা হয়। সিসিটিভিগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন সিসিটিভি স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে আবেদন করা হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে শিশুটির পরিবার ও আশপাশের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ওই নারীকে শনাক্ত ও শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।