জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২১ সালে ময়মনসিংহের তারাকান্দার কলেজ শিক্ষার্থী ইকবাল হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই নারীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী (৬২), তার ভাই মোহাম্মদ আলী (৫২), মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু (৫১) ও শামছুল হক (৪৪); আসিফ রানা নাঈম (২৪), মো. আব্দুল হেলিম (৫১) এবং মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু (১৯)।
এছাড়া অপর দুই আসামি মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পাওয়া গেলে তার বাবা আব্দুর রউফ তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের ৫ দিন পর পলাশকান্দা গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে ইকবালের গলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনার পরের দিন, অর্থাৎ ৬ জুন শাহীনুর আলম ওরফে ইকবালের ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে সন্দেহভাজন একই গ্রামের গোলাম হোসেনের পুত্র আসিফ রানা নাঈম ওরফে রানাসহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সেলিম মিয়া উল্লেখ করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের গোলাম হোসেনের পরিবারের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তারই জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান করলে দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. রফিকুল ইসলাম। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এ এইচ এম খালেকুজ্জামান।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান মামলার বাদী সেলিম মিয়া ও তার পরিবার।